কলে আধীর বলে...
বাবা আমি পৌছিয়েছি,,এখন রাখি নামাযে যাবো...
আব্ররার মির্জা কিছু বললেন না।হৃদয় ৫ মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়,পরনে কালো পাঞ্জাবি আর সাদা পেন্ট,, হৃদয়ের গঠন (লম্বা ছয় ফুট,গায়ের রং উজ্জাল ফর্সা,কালো ঘন চুল,বাম গালে ছোট একটা তিল,চাপ দাড়ি নেই) দুই জনে মসজিদে চলে যায়,রুহানা বেগম সকালে উঠে রান্না করায় ব্যাস্ত, শফিক শিকদার প্রতিদিনের মতো হাতে খবরের কাজ নিয়ে আর রুহি এই সময় টা পড়াশোনা করে,,কিছু ক্ষন পর আধীর আর হৃদয় বাসায় ফিরে,আধীর শফিক শিকদারকে সালাম দেয়,, খবরের কাজ থেকে চোখ ফিরিয়ে শফিক শিকদারও সালামের জবাব নেন,আধীরের পাশে হৃদয়কে দেখে একটু অবাক হন,,শফিক শিকদার আধীরের দিকে তাকিয়ে বলেন...
তুমি আসতে না আসতেই,, আমার ছেলে টার উন্নতি করে দিলে বাবা..আমি কত করে বলি নামায পর কিন্তু তিনি একটা কথাই বলেন সারা জী'বন,আজ না কাল,,
আধীর শান্ত কন্ঠে শুধালো..
আমার সাথে চলতে হলে নামায পরতেই হবে,,এটা বাধ্যতামূলক.. চাচ্চু
হুম দেখো তুমি যদি একটু ঠিক করতে পারো...
জ্বি চাচ্চু!
হৃদয় মুখ ফুলিয়ে দায়িরে আছে তার আর এখানে কথা বলা যাবে না,,তাহলে দু জনে মিলে ধো'লাই শুরু করবে,বাবাকে নয় সামলাতে পারবে কিন্তু আধীর কে,,কখনই না,,আধীরের মুখের উপর একটা কথাও বলতে পারে না,,শফিক শিকদারের পাশে বসে আধীর,কাজের মেয়ে টা হৃদয়, আধীর আর শফিক শিকদারকে কফি দিয়ে যায়,,আধীর ব্লাক কফি খায় হৃদয় তা আগেই বলে রেখেছে তার মাকে,হৃদয় ব্লাক কফি খেতে পারে না,আর শফিক শিকদার চা ছাড়া চলে না,,কিছু ক্ষণ পর রুহি নিচে নামে,,ড্রয়িং রুমে আধীর কে দেখে রুহির মনে শীতল হাওয়া বয়ে যায়,,কেমন যেনো লাগলো তার কাছে...বুঝতে পারলো না,,নিসপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আধীরের পানে,,হৃদয় রুহিকে খেয়াল করে ডেকে উঠে...
এই রুহি! কি হয়েছে
রুহির ধ্যান ভাঙ্গল,, চোখ অন্য দিকে সরিয়ে নেয়,,ধীরে ধীরে বাবার পাশে এসে বসে রুহি,,আধীর নিজের মতো ফোন ইস্টল করছে..কিছু সময় গেলে আধীরের ফোনে কল আসে,,বসা থেকে উঠে দারায়,,পাশ কেটে কল টা রিসিভ করে সালাম দেয়,,
অপর পাশ থেকে সালামের উওর নিয়ে বলে উঠে..
সকালের নাস্তা করেছো..?
বাবার কন্ঠে আধীরের একটু শান্তি লাগলো..শীতল কন্ঠে শুধায়..
না! তুমি করেছো
হুম,হালকা..! তা কি করবে ভাবছো..
আধীর গম্ভীর কন্ঠে বলে..
কিসের?
ফ্লাট কিনবে নাকি বাসা তৈরি করবে?
আজ ফাল্ট দেখতে যাবো,,তারপর ওখানে থেকে বাসার কাজ শুরু করবো?তুমি কি বলো
আব্ররার মির্জা কিছু ভেবে আবার বললেন..
তেমাকে খুজতে হবে না,,আমি এখান দেখে সব করে রেখেছি,,ঠিকানা মেইল করে দিবো তুমি শুধু চলে যেওয়ো,আর হ্যা কিছু করার আগে অবশ্যই আমাকে বলবে.!
ঠিক আছে বাবা!তুমি মেইল করে দিয়ো আমি চলে যাবো?
আচ্ছা! সাবধানে থেকো কেমন
আচ্ছা! নিজের খেয়াল রেখে, আর আম্মু কেউ বলো ভালে আছি!
ঠিক আছে। আল্লাহ হাফেজ
আল্লাহ হাফেজ
________________
সকালের নাস্তা করছে?পাশে বসা শফিক শিকদার, রুহি আর হৃদয়, আর খাবার পরিবেশন করছে রুহানা বেগম,,নিজের সন্তানের মতো করে যত্ন নিচ্ছে আধীরের,,আধীর খাবার থেকে চোখ সরিয়ে শফিক শিকদার আর রুহানা বেগমের উদ্দেশ্য বলেন...
চাচ্চু,আম্মা আমি আজ চলে যাবো?
রুহানা বেগম, রুহি,শফিক শিকদার,হৃদয় খাবার রেখে আধীরের দিকে তাকালো,,আধীর কথা টা বলে নাথা নিচু করে রেখেছে.. রুহানা বেগম বিচলিত কন্ঠে শুধালেন..
কি বলছো বাবা!আজ চলে যাবে মানে?
আধীর মাথা তুলে তাকালেন,,শান্ত সরে বললেন,,বাবা আমার জন্য ফাল্ট কিনে রেখেছেন,,
শফিক শিকদার চাপা সরে বললেন..
তা আমাদের বাসায় থাকলে কি হবে শুনি,,তুমি তো আমাদের আর একটা ছেলে..
হৃদয় কিছু বলছে না,,রুহি প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে মাথাও তুলছে না..
আধীর মলিন হেসে বলে..
আসলে আমার একটা কাজ আছে, আর ফাল্ট টা এখান থেকে কাছেই চিন্তা নেই,আমি আসবো মাঝে মাঝে..
রুহানা বেগম মন খারাপ করে বললেন..
তুমি একা থাকবে কি খাবে না খাবে,,কিভাবে চলবে..
আমাকে নিয়ে টেনশন করবেন না আম্মা আমি সব সামলিয়ে নিবো..!
হৃদয় চাপা কন্ঠে বলে..
তুই যে আজ যাবি কই আমাকে তো বললি না একবারও
আধীর হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে বলে..আমি কিছু জানতান না বাবাই সব ঠিক করে আমাকে বলেছে..
শফিক শিকদার বলেন..
কোনো রকম প্রবলেম হয়ে,,আমাকে জানাবে..ঠিক আছে
ঠিক আছে চাচ্চু..
রুহি খুব কষ্ট করে প্লেটের খাবার শেষ করে উঠে দারালেন..রুহানা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন..
কিরে এতো তাড়াতাড়ি উঠলি যে
আসলে কলেজে আজ একটা পরীক্ষা আছে আম্মু,,তাই আজ একটু ফাস্টলি যেতে হবে.. রুহানা বেগম আর কিছু বললেন না।আধীরও খাবার শেষ করলো,হৃদয় আর শফিক শিকদার একটু কথা বললেন,আধীর ফ্রেশ হয়ে রেডী হয়ে নিলো,,লাকেজ টা গুছিয়ে নিলে,,খাবার শেষ করে হৃদয় আধীরের রুমে আসলেন,শফিক শিকদার অফিসে চলে গিয়েছেন,,হৃদয় আজ অফিসে যাবে না,,নিজেদের অফিস,ব্যাবসা,,হৃদয় পড়াশোনা শেষ করে বাবার সাথে অফিস দেখাশুনা করেন! আধীর বেডের উপর বসে ফোন ইস্টল করছে,পাশে এসে হৃদয় বসে,,আধীর চোখ বাকা করে তাকায়,,হৃদয়ের মন খারাপ,,কিছু বলছে না চুপচাপ বসে আছে। আধীর ফোন টা রেখে হৃদয়ের কাধে হাত রেখে বলে...
মন খারাপ করছিস কেনো,, তুই আমার সাথে নয় থেকে গেলি কি বলিস?
হৃদয় মুখ গোমড়া করে বলে..
না থাকবো না!
আধীর বলে..
কেনো?
হৃদয় সেম ভাবেই বলে..
এমনি
আধীর মিটিমিটি হেসে বলে..
আচ্ছা পরের টা পরে দেখা যাবে...চল আমাকে দিয়ে আয়
হৃদয় ভু-কুচকিয়ে বলে..
কেনো তুই কি পথ চিনিস না
হৃদয়ের কথা শুনে আধীর ডং করে বলে...
তাই বলে দিয়ে আসবি না
আধীরের ডং দেখে হৃদয় ফিক করে হেসে দেয়,,সাথে আধীরও,হৃদয় আধীরকে জরিয়ে ধরে,,তারপর সবার থেকে বিদায় নিয়ে আধীর আর হৃদয় বের হয়..বাবার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী মিনিট বিশ পর একটা বাসার সামনে আসে,, বাসার ভিতরে প্রবেশ করে বাড়ি ওয়ালার কাছে থেকে চাবি নিয়ে নিজের ফ্লাটে প্রবেশ করে...
চলবে....
(বেশি বেশি লাইক কমেন্ট সেয়ার করুন প্লিজ,, গল্পটা ভালো লাগলে বলবেন,,নিজেদের মতামত জানাবেন দয়া করে..কোনো রকম ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 😌🙏)