ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত অনুরাগ

১০ম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ

#মায়িশা_নুরাইন

#পর্ব_১০

--- " এই নাওরা, কেমন আছো তুমি? "

--- " আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন ভাইয়া? "

--- " ভালো আছি। তো তোমরা নাকি কোথায় যাবা কালকে সকালে? "

--- " জ্বি ভাইয়া। সাফিয়ার বান্ধবীর বাসায় যাবো আরকি। "

--- " আচ্ছা, সকালে তৈরি হয়ে থেকো। আমি অফিসে যাওয়ার সময় নামিয়ে দিবো তোমাদের। "

--- " আচ্ছা। "

সৈকতের সাথে কথা বলে নাওরা নিজের রুমের দিকে যাওয়ার সময় রাজিয়া বেগমের সাথে দেখা হয়।

--- " কি কথা বলছিলে আমার ছেলের সাথে? "

--- " কালকে যে দাওয়াতে যাচ্ছি, ভাইয়া আমাদের নিয়ে যাবে। এটাই বলছিলো,,,"

--- " আমার ছেলেকে কি তোমার বডিগার্ড পেয়েছো নাকি? আমার ছেলে কেন তোমাকে নিয়ে যাবে? "

--- " আমি না, আমরা। সাফিয়া আর আপনার মেয়ে রিশাও সাথে থাকবে। আর ভাইয়া নিজে থেকে রাজি হয়েছেন, জোর করা হয়নি তাকে। "

--- " তো ওই বাড়িতে যেতেই হবে কেন? তুমি কি এসব ছেলেদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসে থাকো নাকি? স্যার বলেছে তাই যেতে হবে কেন? "

--- " আপনি ভালোভাবে কথা বলুন আন্টি। আমি কোন খারাপ কাজে যাচ্ছি না। দাওয়াত দিয়েছে, তাই দাওয়াত রক্ষায় যাচ্ছি। "

--- " হ্যা, আর কোথায় কি করতে যাও কে জানে। রুবিনার কিসের এতো ঠেকা পরেছে অন্যের সন্তান মানুষ করার,,কিছু হলে পরে রুবিনার দোষ হয়ে যাবে। "

এসব বলতে বলতেই রাজিয়া বেগম চলে যান। নাওরার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। এমন কেন ওনি, কি দোষ নাওরার। শুধু শুধু কথা শুনাবে এভাবে। প্রথম প্রথম অনেক কষ্ট পেতো নাওরা, প্রচুর কান্না করতো। কয়েকবার ভেবেছিলো মামার বাড়ি থেকে চলে যাবে। কিন্তু যাবেই বা কোথায়। দাদার বাড়িতে কেউ রাখে নি তাকে। তার জন্যই নাকি তার বাবা-মা মা'রা গেলো। সন্তান হারিয়ে দাদীও সাথে রাখলো না। মামা-মামী তো কম ভালোবাসা দেয় নি। তবুও কিছু কিছু মানুষের কথায় খুব খারাপ লাগে। নিজেরও কিছু নেই যে একাকী থাকবে। এখন যাও এক জামাই আছে,,,কি যে করতে চায় কে জানে। ভালোবাসি বলে না, আবার ছাড়তেও চায় না। একপ্রকার জীবনের সাথে বেঁধে রেখেছে। নাফসানের প্রতি নাওরার মাঝে মাঝে প্রচুর রাগ হয়। একটু ভালোবেসে কাছে টেনে নিলে কি হয়। অন্তত নাওরা বলতে পারবে সে নিজের সংসারে আছে। অন্য কারও সংসারে বাড়তি মানুষ হিসেবে পরে নেই।

🌿

--- " ইলা, আসবো আমি? "

--- " আব্বু, তুমি? আসো না রুমে,,জিজ্ঞাসা করছো কেন? "

--- " কি করছিলে? "

--- " পড়ছিলাম আব্বু। বসো না,,কিছু বলবে? "

--- " কেন? এমনি কি আমার মেয়ের কাছে আসতে পারি না আমি? "

ইলা হেসে বলে,,

--- " অবশ্যই পারবে। আমি খুব খুশি হয়েছি তোমাকে দেখে। তোমাকে তো বাসায় থেকেও দেখি না সবসময়। কত কথা বলার আছে জানো? "

মেয়ের খুশি দেখে রাশেদুল খান অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। তার সামান্য উপস্থিতি মেয়েকে কতটা খুশি করে দিলো। আজ তিনি নিজেও মেয়ের সাথে কথা বলবেন। তাই তো বড় ছেলেকে অফিসে রেখেই তিনি তাড়াতাড়ি চলে এসেছেন।

--- " তোমার পায়ের কি অবস্হা এখন। "

ইলা উঠে কিছুটা হেঁটে দেখিয়ে বলে,,

--- " একদম ভালো হয়ে গেছে। আগের মতোই হাঁটতে পারছি আমি, দেখেছো? "

তারপর বাবা-মেয়ে কত কথা বলো। ইলাই বেশি কথা বলেছে। অনেকদিন পর বাবাকে এমন ফ্রি পেয়েছে। প্রতিদিন বাবাকে দেখলেও তেমন কথা বলার সুযোগ থাকে না। আজ যেন সুযোগ পেয়ে কথার ঝুলি খুলে বসেছে।

--- " ইলা একটা কথা জানার ছিলো। "

--- " বলো না আব্বু। "

--- " তোমাকে যে সেদিন একটা গাড়ি ধা'ক্কা দিয়েছিলো, তুমি কি গাড়িতে কাউকে দেখতে পেরেছিলে? "

--- " নাহ আব্বু, একদমই খেয়াল করতে পারি নি। হটাৎই তো এসে ধা'ক্কা দিয়ে চলে গেলো। রাস্তায় পরে গিয়ে শুধু দেখেছি আমার বান্ধবী সাফিয়া আর ওর আপু দৌড়ে এসেছিলো আমার কাছে। গাড়ির কিছুই খেয়াল করতে পারি নি। "

--- " আচ্ছা, ব্যাপার না। তোমার বান্ধবী আর তার আপুকে একবার বাসায় আসতে বলো যে। "

--- " বলেছি তো। কালকেই আসবে ওরা। অনেক ভালো জানো। আপুটাও অনেক ভালো। "

--- " যাক তাহলে তো ভালোই হলো। কালকে তো আমিও বাসায় আছি। দেখা হয়ে যাবে তাহলে। "

--- " তুমি বাসায় থাকবে কালকে? তাহলে অনেক মজা হবে আব্বু। "

এরই মাঝে নাশিত এসে উপস্থিত হয়। তাকে একা রেখে বাবা আগেই চলে আসলো। তাকে কত বাড়তি কাজ শেষ করতে হলো। এসেই মায়ের সাথে কথা বলে রুমে গিয়ে দেখে বাবা নেই। ইলার রুমের সামনে কথা শুনে উঁকি দিয়ে দেখে, বাবা-মেয়ে দুজনে কত কথা বলছে। সে তো অবাক হয়ে যায়। অনেকদিন পর বাবাকে এভাবে দেখলো। ছেলের পিছু পিছু মাহমুদা বেগম এসে নিজেও অবাক হয়ে যান। রাশেদুল ইসলাম তো আজকাল স্ত্রীর দিকেও নজর দিতে ভুলে যান, আজ মেয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলছেন।

রাশেদুল খান দরজায় বউ ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাদেরকেও ডাকেন। সবার কথাবার্তায় নাফসান আর নাহিল এসেও উপস্হিত হয়। নাহিল তো সোজা রুমে ঢুকে বাবাকে বলে,,

--- "এটা ঠিক না বাবা। আমাদের ছেড়ে তোমরা একাই মজা করে ফেলছো। আমি কি পানিতে ভেসে আসছি নাকি? "

নাশিত উত্তর দেয়,,

--- " হ্যা, নালার পানিতে ভেসে এসেছিস। "

এসব নিয়ে সবাই হাসাহাসি করতে থাকে। নাফসান একপাশে দাঁড়িয়ে থেকে এসব উপভোগ করতে থাকে। বাবার প্রতি তার বিশেষ কোন রা'গ নেই। তাদের তো আর টাকার দরকার নেই, দরকার একটু ভালোবাসার, সময়ের। একসময় যখন তাদের বিপদ এসেছিলো, বাবা নিজে কষ্ট করে সব আগের মতো গড়ে তুলেছেন। আর দরকার নেই তো। ওনার দুই ছেলে এখন কর্মক্ষম, আরেক ছেলেও শীঘ্রই পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসায় জয়েন করবে। বাবার তো আর কষ্ট করার দরকার নেই। বাবা এটা বুঝতেই চান না। এখনো মনে করেন, তিনি ব্যবসার হাল ছেড়ে দিলে হয়তো অন্য কেউ আবার এসে সব ধ্বংস করে দিবে। নিজের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ধোঁকা ওনাকে ভিতর থেকে পাথর করে দিয়েছে।

🌿

--- " সাফিয়া, কোথায় তুই। আর কতক্ষণ লাগবে? "

--- " আমার তো সেই কখন হয়ে গেছে। রিশা আপুই তো দেরী করছে। "

--- " রিশাকে তাড়াতাড়ি আসতে বল। দেরী হয়ে যাচ্ছে। "

তারপর রিশা আরও কতক্ষণ লাগিয়ে তৈরি হয়ে আসে। কিসব পড়েছে মেয়ে! একটা টপস আর জিন্স? এসব দেখেই তো নাওরা মাথায় হাত দিয়ে বসে। যেখানে ছোট হয়ে সাফিয়া সুন্দর থ্রিপিছ পড়েছে, নাওরা বোরখা, আর রিশা কিনা এসব ড্রেস। যাচ্ছে স্যারের বাসায়, যেখানে আগে কখনো যায় নি। এসব ড্রেসে অন্যের বাসায় কিভাবে নিয়ে যাবে।

নাওরা নিজের রাগ আর কন্ট্রোল করতে পারে না। এবার রাগ দেখিয়ে রিশাকে ড্রেস চেঞ্জ করে আসতে বলে। নাওরার কথা শুনে রাজিয়া বেগম এসে মেয়ের পক্ষ নেন। এতে নাওরা একপ্রকার রেগেই বলে,,

--- "এসব ড্রেসে আপনার মেয়েকে আমি নিয়ে যাবো না। সে যত দামী ড্রেসই হোক না কেন, এই ড্রেস না পাল্টালে আমি ওকে নিবো না। যাচ্ছি আমার স্যারের বাসায়, আমারও সম্মান বলে একটা জিনিস আছে। "

--- "আমার বোনের বাসায় থেকে আমাকেই কথা শুনাচ্ছো?"

--- " আমি মোটেও আপনাদের কথা শুনাচ্ছি না। আমি ভালো কথাই বলছি। "

নাওরার কথা রাজিয়া বেগমের একদম পছন্দ হয় না। তিনি উল্টো কথা শুনানো শুরু করলে সৈকত এসে থামায়। ছেলের কথায় তিনি একটু চুপ হন। সৈকত পরে ধমক দিয়ে রিশাকে অন্য ড্রেস পরে আসতে বলে। রিশা মুখ কালো করে একটা লং ফ্রক পড়ে আসে। এটা অন্তত আগের ড্রেস থেকে ভালো আছে। একমাত্র মেয়ে বলে, যা চায় তাই কিনে দেন। রিশার ঘরে সাধারণ ড্রেস থেকে ওয়েস্টার্ন ড্রেসই বেশি।

তারপর নাওরা সাফিয়ার হাত ধরে নিয়ে বেরিয়ে পরে। পিছনে সৈকতও বোনকে সাথে নিয়ে বের হয়। সম্পূর্ণ রাস্তা নাওরার মেজাজ গরমই ছিলো। একটা জায়গায় যাওয়ার আগে এমন রাগারাগি করে বের হতে হলো।

🌿

নাফসানদের বাড়ির সামনে গিয়ে নাওরা অবাক হয়ে যায়। এত বড় বাসা কাদের? এটা স্যারের বাসা?

--- " সৈকত ভাইয়া, তুমি ঠিক জায়গায় এনেছো তো? "

--- " অবশ্যই। খান ভিলার নামই তো বলেছো। ওইতো গেইটের পাশে সেটাই লেখা আছে। "

নাওরা এগিয়ে দারোয়ানের সাথে কথা বলতেই জানায় তাদের আসার কথা আগেই বলে দেওয়া হয়েছে। ওরা ঠিক জায়গাতেই এসেছে। এটাই নাফসান স্যারের বাসা।

নাওরা নিশ্চিত হয়ে সৈকতকে হাসিমুখে বিদায় দিয়ে গেইট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। দারোয়ান নিজে তাদের সাথে করে ভিতরে নিয়ে যায়। গেইট থেকে ভিতরে ডুকলে বেশ বড় একটা বাগান আছে। সাফিয়া তো নাওরার পাশাপাশিই ছিলো। তবে রিশা আগে আগে যাওয়া শুরু করে, যেন এই জায়গা তার কত বছরের পরিচিত। না জানি এই মেয়ে কোন বিপদে ফেলে আজ।

নাওরা আশেপাশে তাকেতেই হটাৎই খেয়াল করে একটা রুমের বাড়ান্দায় কেউ দাড়িয়ে আছে। ভালো করে খেয়াল করে দেখে এটা তো নাফসান। নাওরা খুশি হয়ে সবার আড়ালে হাত উঁচিয়ে নাফসানকে হাই দেয়। তবে নাফসান তাকে একদমই পাত্তা না দিয়ে রুমে চলে যায়। নাওরার মুখটা চুপসে যায়। পরেই আবার ভাবে তারা এসেছে দেখে হয়তো তাদের এগিয়ে নিতে আসছে। যতই হোক, বউ প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি এসেছে, জামাই সাথে না থাকলে হয় নাকি!!

নাওরা মৃদু ধমকে রিশাকে সাথে সাথে থাকতে বলে। তবে রিশার চেহারা দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে এটা পছন্দ করছে না। তাকে কেউ শাসন করুক সেটা তার পছন্দ না। বাবা-মায়ের অতি আদরে বড় হয়েছে তো, তাই।

দারোয়ান লোকটা তাদের বাসায় পৌছে দিয়ে আবার চলে যান। কলিং বেল দিতেই মাহমুদা বেগম এসে দরজা খুলেন। নাওরাদের দেখেই তিনি অনেক খুশি হয়ে যান। হাসি মুখেই তাদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে বসায়। নাওরা তো বেশ সংকোচ করতে থাকে। আশেপাশে তাকিয়ে নাফসানকে খুঁজতে থাকে, তবে পায় না। এতে যেন তার অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।

নাফসানের ভাবী মেহরিন অনেক মিশুকে, সেটা সেদিন হাসপাতালে দেখেই নাওরা বুঝে গিয়েছিলো। নাওরার সাথে কেউ হাসিমুখে কথা বললে সে নিজেও ফ্রি হয়ে যায়। তবে নিজে থেকে কারও সাথে কথা বলতে পারে না, সংকোচ লাগে তার। তবে মেহরিনের সাথে সহজেই ফ্রি হয়ে যায় নাওরা। সাফিয়া নিজেও চুপচাপ বসে ছিলো। তাদের আসার খবর শুনেই ইলা দৌড়ে নিচে চলে আসে। ইলাকে দেখে সাফিয়া একটু স্বস্তি পায়। এ কয়দিনে তাদের দুজনের মাঝে বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।

মাহমুদা বেগম এসে নাওরার সাথে কথা বলতে থাকেন। নাওরার প্রচুর লজ্জা লাগছে এখানে এভাবে বসে থাকতে। নাফসান আসছে না কেন, ওনি আসলে তো একটু সাহস পেতো সে। তার সংকোচের বড় কারণ, আর কেউ না জানলেও সে তো জানে, সে এ বাড়িরই বউ।

অপরদিকে রিশা শুধু বসে বসে দেখছে সব। এমন বড় বাড়ি তো আগে দেখেনি সে। মাহমুদা বেগমকে দেখে ভাবছে,,

~~মা এত সুন্দর হলে ছেলে গুলো কত সুন্দর হবে! শুনেছে এ বাড়ির তিন ছেলে একজনের বিয়ে হলেও বাকী দুইজনের তো হয় নি। এক ছেলেকে পটাতে পারলে তো ভালোই হয়।

নাওরা মাহমুদা বেগমের কাছে রিশার পরিচয় করিয়ে দেয় তার বোন হিসেবে। তবে রিশা তো বোন মানতে নারাজ। মুখের উপর ফট করে বলে দেয়,,

--- " আপন বোন না। নাওরা আপু তো সাফিয়াদের বাসায় থাকে। ওর তো বাবা-মা নেই, তাই মামার বাসায় থাকে। আমি সাফিয়ার খালাতো বোন। "

নাওরা কাউকে এখনো বলে নি যে সাফিয়া তার মামাতো বোন। সবসময় পরিচয় দেয় শুধু বোন হিসেবে। মামা-মামীই এটা শিখিয়েছেন। ওরাও কাউকে বললে নিজের তিন মেয়েই বলেন। এখন এভাবে রিশার কথা শুনে নাওরা মাথা নিচু করে ফেলে।

তবে এটা দেখে অবাক হয়, যে মাহমুদা বেগম এটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছেন। বরং মামা-মামীর প্রশংসা করেন নাওরাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসার জন্য। নাওরার এই কথা আগে শুধু নাফসানই জানতো। কারণ বিয়ের দিন তো বলেছিলো তার বাবা-মা নেই। থাকে মামার বাড়িতে। নাফসানও কখনো তাকে এসব নিয়ে কিছুই বলে নি। তাই হয়তো নাফসানের প্রতি তার এক অন্যরকম অনুরাগ আছে। এমন একজনকে স্বামী হিসেবে পেলে যেকোন মেয়ে ভাগ্যবতী হবে।

🌿

তবে নাস্তা খাওয়ার সময় একটা বিপত্তি ঘটে যায়। নাওরা তো শুরু থেকেই একটু নার্ভাস ছিলো। তার উপর সে জুসের গ্লাস হাতে নিতেই পাশ থেকে রিশার ধাক্কায় অসাবধানতায় তার হাত থেকে জুসের গ্লাসটা নিচে পরে যায়। এভাবে অন্য জায়গায় এসে এমন একটা ঘটনা ঘটায় নাওরা ভয় পেয়ে যায়। মাহমুদা বেগম আর মেহরিন দুজনেই সামনে বসে ছিলো। নাওরা কাঁপা কন্ঠে বলে উঠে,,

--- " আ-আমি দুঃখিত আন্টি। আমি বুঝতে পারি নি। কিভাবে যেন হ-হাত থেকে গ্লাসটা পরে ভেঙে গেলো। "

বলেই সে তাড়াতাড়ি করে নিচে বসে গ্লাসের ভাঙা অংশগুলো তুলে নিতে যায়। তবে মেহরিন এগিয়ে এসে তাকে বাধা দেয়।

--- " আরে কি করছো,, তোমাকে কিছু করতে হবে না। তুমি বসে থাকো। "

নাওরাকে ভয় পেতে দেখে মাহমুদা বেগম নিজে এসে নাওরাকে একপাশ থেকে ধরে স্বান্তনা দিতে থাকেন।

--- " কিছুই হয়নি মা। এটা সামান্য একটা ব্যপার। "

--- " না আন্টি। আমার হাত থেকে পরে গিয়ে ভেঙে গেলো। আমি ইচ্ছে করে করি নি এটা। "

--- " আরে মেয়ে, এত নার্ভাস হওয়ার কি আছে। আমি বলছি তো কিছু হয় নি। এখনি মেড এসে এটা পরিষ্কার করে নিবে। "

--- " আমি করে দেই আন্টি। আমার জন্যই তো হলো। "

--- " একদম চুপ। বলেছি তো, এটা নিয়ে না ভাবতে। তোমার পোশাকেও তো জুস পড়েছে। একটু পানি দিয়ে পরিষ্কার না করলে আঁঠালো হয়ে যাবে।

তারপর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,,

--- "ইলা, আপুকে একটু তোমার ওয়াসরুমে নিয়ে যাও তো। ড্রেসটা একটু পরিষ্কার করে নিবে। "

সাফিয়া আর রিশাকেও সাথে যেতে বলে। ইলার রুমেই ওরা বসে গল্প করুক। এরই মাঝে জায়গাটা পরিষ্কার করে নিবে নাহয়। রিশা যেন একটু মনঃক্ষুণ্ণ হয়। ভেবেছিলো নাওরাকে সবার সামনে একটু অপদস্থ করবে, তা তো হলো না। উল্টো নাওরাকে নিয়ে সবাই আরও উতলা হয়ে পরলো।

🌿

ইলা নাওরাকে নিজের রুমের ওয়াসরুমে নিয়ে যায়। তখন রিশা বলে সে একটু তাদের বাগানটা ঘুরে দেখতে চায়। সাফিয়া নাওরাকে ছাড়া কোথাও যেতে চাচ্ছিলো না। তবে রিশার কথার জন্যই ইলা তাদের দুজনকে নিয়ে বাগানে ঘুরতে যায়।

অপরদিকে নাওরা ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে তাদের কাউকে খুঁজে পায় না। নাফসানদের বাসাটা বেশ বড়। বাড়ির ভিতরেই সিড়ি, তার দ্বিতীয় তালায় আছে নাওরা। আশে পাশে অনেক রুম। নাওরা কোন দিক দিয়ে রুমে এসেছে, খেয়ালই করে নি। এখন রুম থেকে বেরিয়ে সাফিয়াদের খুঁজতে থাকে। এমনিতে এসেই একটা গন্ডগোল করে ফেলেছে, খুব খারাপ লাগছে তার। নাওরা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে এটা রিশা ইচ্ছে করেই করেছে। কিসের যে হিংসা কে জানে।

এসব ভাবতে ভাবতে নাওরা সামনের দিকে হেটে যাচ্ছিলো। হটাৎই পাশের একটা রুম থেকে একটু আওয়াজ পেতেই সে থেমে যায়। তখনই পাশের রুম থেকে কেউ তাকে টেনে ভিতরে নিয়ে যায়। নাওরা তো ভয় পেয়ে যায়, কে এভাবে তাকে টেনে নিলো।

চোখ খুলে তাকিয়েই সামনে নাফসানকে দেখতে পায়। নাফসানকে দেখেই একটু শান্তি পায়। পরক্ষণেই খেয়াল করে সে নাফসানের দুই হাতের মাঝে বন্ধি হয়ে আছে।

লজ্জা পেলেও নিজেকে সামলে বলে,,

--- " ও স্যার, আপনি? রুমে বসেও নিচে যান নি কেন?

--- " ছেলেটা কে ছিলো?

--- " কোন ছেলে? আপনাদের বাসায় তো কোন ছেলেকে দেখি নি আমি। "

--- " গাড়ির ছেলেটা কে ছিলো, যার সাথে হেসে কথা বলছিলে। "

--- " ওওও, সেই ছেলে। আমাদের সাথে এসেছিলো যে? "

--- " হুম, কে সে। কি হয় তোমার? "

--- " ওনি তো......বলবো না। আপনাকে কেন বলবো? আপনি আমার কে হন। দূরে সরুন, গরম লাগছে।

বলেই নাফসানকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়।

--- " উফফ, কি গরম। মনে হচ্ছে আগুন জ্ব'লছে কোথাও,,,"

নাওরা কথাটা কিছুটা ঠেস মেরেই বলে। বুঝতেই পারছে আগুনটা নাফসানের মনেই জ্ব'লছে। নয়তো সব রেখে সৈকত ভাইয়ার কথা জিজ্ঞাসা করবে কেন!!

নাওরা আবার বলে,,

--- " আপনি থাকুন, আমি যাই। কেউ দেখে ফেললে বাজে কথা বলবে। আমাদের মধ্যে তো আর কোন সম্পর্ক নেই। এভাবে স্যারের রুমে একাকী আসাটা ভালো নয়। "

নাফসানের কথাই নাফসানকে ফিরিয়ে দিলো সে। নাফসান রে'গে নাওরার দিকে তাকিয়ে ছিলো। নাওরা রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলেই নাফসান আবারো তাকে টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। দাঁতে দাঁত চেপে জিজ্ঞাসা করে,,

--- " তোমাকে আমি একটা প্রশ্ন করেছি, ছেলেটা কে? "

--- " আমি জিজ্ঞাসা করেছি আপনি কে? "

--- " আমি তোমার স্বামী। "

--- " বিয়েটা মানেন নি এখনো। আমিও মানি নি। কোন সম্পর্ক নেই আমাদের। তাই আপনি...... "

এবার নাফসান এক অভাবনীয় কাজ করে। কোন কথা ছাড়াই নাওরার গালে ছোট্ট একটা চুমু দেয়। সাথে সাথেই নাওরা শিউরে উঠে। কথা বলাও বন্ধ হয়ে যায়। একেতে নাফসানের হাতের বাধনেই তার অবস্হা নাজেহাল ছিলো। নিজেকে কোনরকম সাহসী দেখাচ্ছিলো। এখন এই ছোট্ট চুমুর ফলে তার সকল চেষ্টা বিফলে যায়।

নাওরা কাঁপতে কাঁপতে দেয়াল ঘেষে ফ্লোরে বসে পরে। নাফসান সেটা দেখে হেসে দেয়। নাফসান তো জানে, নাওরা নিজেকে সাহসী দেখাতে এমন অভিনয় করছিলো। এখন সব হাওয়া ফুস হয়ে গেছে। সে নিজেও নাওরার সামনাসামনি বসে বলে,,

--- " প্রমাণ লাগবে আরও? আমি তোমার কে হই বুঝেছো? "

নাওরাকে এভাবে দেখে নাফসান হালকা করে জড়িয়ে ধরে। এতে নাওরার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। আগে কখনো কোন ছেলের সংস্পর্শে এভাবে যায় নি। সামান্য হাতে হাত ধরাও হয় নি। আর এখন নাফসানের হটাৎই এমন একের পর এক কাজে নাওরা হতভম্ব হয়ে গেছে।

নাফসান তাকে হালকা জড়িয়ে ধরেই ফিসফিসিয়ে বলে,,

--- "এইটুকুতেই এই অবস্থা হলে, আমার সাথে সংসার করবে কিভাবে? "

চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন