#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ
#মায়িশা_নুরাইন
#পর্ব_১১
(কপি করা নিষেধ)
বাহির থেকে কিছু একটা আওয়াজে নাওরার হুশ ফিরে। এতক্ষণ সে নাফসানের বাহুঢোরে আবদ্ধ ছিলো। চমকে নাফসানকে ধা'ক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
--- " আবার কি হলো? "
--- " দূরে থাকুন, অসভ্য লোক। "
--- " কি অসভ্যতামি করলাম আমি? "
--- " করেন নি আপনি? নিজের স্টুডেন্টকে রুমে টেনে এনে চুমু খাওয়াকে অসভ্যতামি বলে না? "
--- " ইউ আর মাই ওয়াইফ নাওরা। "
--- " ওও, তাই নাকি!! জানতাম না তো। কবে থেকে আপনার ওয়াইফ হলাম? "
--- " যেদিন থেকে তোমাকে বিয়ে করেছি আমি, সেদিন থেকে। "
--- " ওটা নকল বিয়ে। মানি না ওই বিয়ে। আমি আসল বিয়ে করবো, তবে আপনাকে আর না। আপনি পুরাতন হয়ে গেছেন। "
--- " করাচ্ছি তোমায় বিয়ে। পা ভে'ঙে তোমায় ঘরে বসিয়ে রাখবো। "
--- " এহহ,, এত ভালোবাসা আগে কোথায় ছিলো? যখনই দেখলেন আমি মনের মানুষ পেয়ে গেছি, তখন আপনার ভালোবাসা উতলে পরছে তাই না? ইউ আর রিজেক্টেড। "
--- " আমার রুমে আমার সামনে বসে আমাকেই রিজেক্টেড বলছো? "
--- " এহহ, রুম কি শুধু আপনার একারই আছে নাকি। যাবো গা আপনার রুম থেকে। থাকুন আপনি আপনার রুম নিয়ে। "
বলেই নাওরা উঠে রুম থেকে চলে যেতে নিলেই নাফসান আবারও তাকে পিছন থেকে আটকায়।
--- " ছাড়ুন আমায়, ধরবেন না আমাকে। আমার স্বামী রা'গ করবে। "
--- " কোথায়, আমি তো রা'গ করছি না। "
--- " আমি আমার ফিউচার স্বামীর কথা বলছি। "
--- " তোমার প্রেজেন্ট, ফিউচার,, এমনকি পাস্ট সবই আমি। অন্য কেউ না, মিস. ঘাওরা। "
--- " এই আপনি কিন্তু আমায় অপমান করছেন। "
নাফসান কিছু না বলে নিঃশব্দে নাওরার হাত থেকে তার হাতঘড়ি খুলে নেয়। নাওরা সেটা দেখে বলে,,
--- " এই আপনি কোন জাতের চোর হ্যা? সেদিন ফোন নিয়েছিলেন আড়ালে, আজ সামনে থেকেই ঘড়ি খুলে নিচ্ছেন। "
--- " উল্টা পাল্টা কথা বলে চেঁ'চাবে না। "
--- " কেন,,সবাই জেনে যাবে আপনি ভদ্রবেশী অভদ্র লোক? "
--- " তার আগে জানবে তুমি স্যারের বাসায় এসে স্যারের রুমে ডুকে বসে আছো। "
--- " হ্যা, আর সেই স্যারটাই আমাকে হাতবন্ধি করে রেখেছে। "
নাফসান নাওরার হাত ধরে একটা নতুন ঘড়ি পড়িয়ে দেয়। নাওরা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে স্কাই ব্লু এন্ড হোয়াইট এর মিশ্রনের একটা ঘড়ি। দুই পাশে হার্ট সিম্বল স্টোন আছে। সিম্পল কাজ হলেও, ঘড়িটা অনেক সুন্দর। নাওরার এমন সিম্পল কাজের জিনিসই পছন্দ। ঘড়িটা তার খুব পছন্দ হয়েছে।
--- " পছন্দ হয়েছে? আমি তেমন পছন্দ করতে পারি না। এটাই ভালো লেগেছে তাই কিনে নিয়েছি। "
--- " খুব সুন্দর এটা। আমাকে দিচ্ছেন কেন? "
--- " আমার ওয়াইফকে দিয়েছি আমি। দেখেছি ভাঙা ঘড়ি পড়ে ঘুরে। "
--- " ওটা ভাঙা না। মাহরুর হাত থেকে পরে গিয়ে যাস্ট গ্লাসটা ফেটে গিয়েছিলো। বাই দা ওয়ে,, ঘড়িটা ভালো তাই নিচ্ছি। তবে আপনি ভালো না,,"
--- " সে তো তুমিও ভালো না। "
--- " আমি কি খারাপ করেছি? যা করার সব আপনি করেছেন? রাস্তা ভুলে ওমন অপরিচিত জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ঝগড়াটাও আমিই করেছিলাম, আর আপনি খা'ম্বার মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। লোকগুলো এসে উল্টাপাল্টা কথা বলে জোড় করে বিয়ে দিলো, আপনিও বিয়ে করে নিলেন। তারপর এসে বললেন বিয়ে মানেন না, ডিভোর্স দিবেন। এখন আবার এসব আলগা পিরিত দেখাচ্ছে। ইউ ফ্রড, সব দোষ আপনার। "
--- " সব আমার দোষ? কাগজে তো তুমিও সাইন করেছিলে, আমি একা না। তারপর কিছুদিন পিছু পিছু ঘুরে এখন বলছো আমি পুরাতন হয়ে গেছি।
একটা কথা মাথায় ভালোভাবে ঢুকিয়ে নাও নাওরা,,বিয়ে যখন একবার হয়েই গেছে,,তোমাকে আর ছাড়ছি না আমি।
--- " আমিই আপনাকে ছেড়ে দিবো। "
--- " চেষ্টা করে দেখতে পারো। "
নাওরা মুখ ভেঙচি দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু রুমের বাহিরে গিয়ে খুশি হয়ে যায়। আবার লজ্জাও পেতে থাকে। ইসস,,ভালোবাসে তবে স্বীকার করতে চাচ্ছে না।
🌿
--- "আপু এখানে কি করছো? তোমাকে খুঁজছি কখন থেকে,,,"
--- " আব..আমিও তো তোমাদের খুঁজছিলাম। সাফিয়ারা কোথায়? "
--- " আর বলো না,,তোমার বোন পরে গেছে। তাড়াতাড়ি চলো না,,,"
--- " সাফিয়া পরে গেছে!! "
বলেই দ্রুত নিচে গিয়ে দেখে সাফিয়া মাথা নিচু করে সোফায় বসে আছে। নাওরা তাড়াতাড়ি গিয়ে সাফিয়ার কাছে গিয়ে বলে,,
--- " কোথায় ব্যাথা পেয়েছিস? "
সাফিয়া নাওরার কাছে ফিসফিসিয়ে বলে,,
--- " ব্যাথা পাইনি। লজ্জা পাইছি বেশী। "
--- " কেনো? "
--- " ওই লোকটাকে দেখো। সেদিনও আমাদের বাসার সামনে ওই লোকটাই আমাকে পরে যেতে দেখেছিলো। আজও সেইম,,,"
নাওরা পিছু ফিরে নাহিলকে দেখেই থতমত খেয়ে যায়। আরে এইটা তো সেই ছেলে, যার সামনে সে নিজেও পরে গিয়েছিলো। নাহিল নাওরাকে দেখেই বলে,,,
--- "এই তোমাকে কোথাও দেখেছি মনে হচ্ছে। কোথায় বলো তো? "
--- " আব.. না ভাইয়া। আপনি ভুল ভাবছেন। আমাকে,,, "
--- "এই মনে পরেছে। তুমি সেই মেয়েটা না। ভাইয়ার ডিপার্টমেন্টের সামনে পরে গিয়েছিলে। আমাকে দেখেই দৌড়ে চলে গিয়েছিলে? "
--- "আ-আমি কেন হবো। ও-ওটা আমি না। "
--- " উহু,,আমি শিউর। ওই মেয়েটা তুমিই ছিলে।৷ এই মেয়েটা তোমার বোন নাকি? দুজনেরই কি এমন পরে যাওয়ার রোগ আছে নাকি? "
তখনই মেহরিন এসে বলে,,
--- কি হয়েছে নাহিল? কি বলছিস ওদের?
--- " আরে ভাবী,,এরা দুই বোনেরই এমন পরে যাওয়ার রোগ আছে। পরে গিয়ে আবার উঠেই সোজা দৌড়,,,"
নাওরা আর সাফিয়া দুজনই লজ্জায় পরে যায়। পাশে দাড়িয়ে রিশা মুখ বাঁকিয়ে তাকিয়ে থাকে। তার এসব একদমই ভালো লাগছে না। ভেবেছিলো নিজের দিকে নাহিলের মনোযোগটা নিতে,,তা তো হলো না। উল্টো সাফিয়া বো'কাটা পরে গিয়ে সব প্ল্যান ভেস্তে দিলো।
রিশা ভাবছে,,এই নাহিল ছোট ছেলে হলে,,বাড়ি মেঝো ছেলে কোথায়?
🌿
নাফসান বাহিরে এত কথা শুনে নিচে নেমে আসে। নাওরা বাসায় আসার পর মাত্রই সে নিচে এলো। নাফসানকে দেখে রিশা হা হয়ে তাকিয়ে থাকে। এই হ্যান্ডসাম ছেলেটিই কি তবে মেঝো ছেলে? ফর্সা গায়ের রং, বেশ লম্বা আছে। একদম পারফেক্ট যাকে বলে।
--- " কি হয়েছে নাহিল? "
--- " ভাইয়া,,এই যে এই পিচ্চি মেয়েটা বাগানে পরে গিয়েছিলো, নিয়ে এলাম। "
--- " ব্যাথা পেয়েছো সাফিয়া? "
--- " ন-না স্যার। আমি ঠিক আছি। "
--- " আমাকে স্যার বলতে হবে না। ভাইয়া বলতে পারো। ইলা, ওদের তোর রুমে নিয়ে যা। সাফিয়ার একটু রেস্ট করা উচিত। "
নাওরা বলে,,
--- " তার দরকার নেই স্যার। আমরা চলে যাবো এখন। অনেকক্ষণ ধরে এসেছি। "
মাহমুদা বেগম তখন রান্নাঘর থেকে আসেন। তিনি বলেন,,
--- " কোন কথা বলবে না। বিকেলের আগে তোমাদের যাওয়া হচ্ছে না। ইলা, সাফিয়া আর রিশাকে রুমে নিয়ে যা। আর নাওরা, আমার সাথে আসো তুমি। কথা আছে। "
নাওরা একটু চিন্তিত হয়ে যায় মাহমুদা বেগমের কথা শুনে। তার সাথে কিসের কথা থাকতে পারে। সে একটু ভয়ে নাফসানের দিকে তাকায়। তবে নাফসান তাকে পাত্তা না দিয়ে সোফায় বসে ফোন দেখতে থাকে। এখানে সবাই আছে দেখে নাওরা কিছু বলতে পারে না। মাহমুদা বেগমের পিছু পিছু চলে যায়।
🌿
--- " রিশা আপু,,আসো আমাদের সাথে। "
--- " তোমরা যাও। আমি আসছি এখনি,, "
--- " ঠিক আছে। "
বলেই ইলা সাফিয়াকে নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। আর রিশা এগিয়ে গিয়ে নাফসানের সাথে সোফায় বসে। রিশার ভাবসাব দেখেই নাফসান বুঝে যায় মেয়ে সুবিধার না। তাই নিঃশব্দে একটু দূরত্ব রেখে বসে।
--- " আপনিই কি নাফসান স্যার। "
--- " হুম। "
--- " স্যার, আমিও আপনাদের ভার্সিটিতেই ভর্তি হয়েছি। "
--- " ভালো। পড়াশোনা করবে ভালোভাবে,, "
--- " বলছি স্যার, আপনার নাম্বারটা দিবেন? একটু পড়াশোনার ব্যপারেই কথা বলতাম। "
নাওরা তার ফোনটা সোফার উপর রেখেই চলে গিয়েছিলো। সেটা নিতে এসে দেখে রিশা নাফসানের পাশে বসে আছে। এটা দেখেই নাওরার মাথা গরম হয়ে যায়।
--- " রিশা, এখানে কি করছো? "
--- " স্যারের সাথে একটু কথা বলছিলাম। "
বলেই তাকে পাত্তা না দিয়ে নাফসানের কাছে আবারও তার নাম্বার নিতে চায়। নাফসান না করতো,, তবে নাওরাকে দেখেই তার মাথায় শয়'তানি বুদ্ধি আসে। সে নাওরার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি দেয়। তারপর নাওরার সামনেই রিশাকে তার ফোন নাম্বারটা দিয়ে দেয়। নাম্বার পেয়েই তো রিশা খুশি হয়ে যায়। এত সহজে যখন নাম্বার দিয়ে দিলো, তাহলে তাড়াতাড়ি পটিয়েও ফেলতে পারবে। তারপর সে খুশি মনে ইলার রুমে চলে যায়।
নাওরা রে'গে নাফসানের দিকেই তাকিয়ে ছিলো। রিশা চলে যেতেই বলে,,
--- " আপনার নাম্বার দিলেন কেনো? "
--- " তোমার কি তাতে? আমি কাকে আমার নাম্বার দিবো, সেটা আমার ব্যপার। "
--- " পরে বিপদে পরলে আমার কাছে আসলে খবর আছে বলে দিলাম। "
বলেই নাওরা সোফা থেকে নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে চলে যায়।
🌿
--- " তোমার ফ্যামিলিতে কে কে আছে? "
--- " আমি আমার মামা-মামীর সাথে থাকি। আর দুইজন মামাতো বোন। বাবা-মায়ের মৃ'ত্যুর পর মামাই আমাকে সাথে রেখেছেন। "
--- " তোমার মা-বাবার কিভাবে মৃ'ত্যু হয়েছিলো? "
--- " এ'ক্সিডেন্টে। আমি তখন ছোট ছিলাম। দশ বছর হবে হয়তো। ফাইনাল পরীক্ষার পর মামার বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তো সেদিন বাসায় চলে যাওয়ার কথা ছিলো। আব্বু-আম্মু এসে আমাকে সাথে করে নিয়ে যায়। সাথে মামাও ছিলো। রাস্তায় মামার সাথে আমি গাড়ি থেকে নেমে একটু দোকানে গিয়েছিলাম। পেছনেই আমাদের সেই গাড়িতে একটা ট্রাক এসে ধা'ক্কা দেয়। "
এসব বলার সময় নাওরার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিলো। মাহমুদা বেগম এসে নাওরাকে সান্ত্বনা দেন। নাওরা কিছুটা ধাতস্হ হতেই তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন,,
--- " সেটা কি সাধারণ এ'ক্সিডেন্টই ছিলো? "
--- " মামা তো তাই বলেছিলেন। পরে তো এই নিয়ে খোঁজখবর করেছিলেন। ট্রাকের ড্রাইভার নাকি ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন, তাই এ'ক্সিডেন্টটা হয়েছিলো।
মাহমুদা বেগম সব শুনে তারপর আর কিছুই বলেন না। নাওরাকে স্বাভাবিক করতে অন্য প্রসঙ্গ তুলে গল্প করতে থাকেন। নাওরা এখন আর তেমন কষ্ট পায় না। বাবা-মায়ের হায়াত ওই পর্যন্তই ছিলো, তাই তারা চলে গেছেন। এখন শুধু সে দোয়া করে, যাতে বাবা-মা ওপারে ভালো থাকেন।
🌿
--- " ইলা, আমার ল্যাপটপটা কোথায় রেখেছিস? "
নাহিল ইলার রুমে এসে দেখে সবাই বসে ল্যাপটপে মুভি দেখছে। রিশা বাড়ান্দায় বসে ফোন দেখছে। এভাবে একসাথে চি'পকে বসে মুভি দেখতে তার ভালো লাগে না।
নাহিলকে দেখেই সাফিয়া লজ্জায় গুটিয়ে বসে। নাহিল বলে,,
--- " এই মেয়ে,,আমাকে দেখে তখন ওভাবে পালাতে গিয়েছিলে কেন? আমি কি কিছু বলেছি নাকি? "
সাফিয়া শুধু না-বোধক মাথা নাড়ায়।
--- " ব্যাথা পেয়েছো? "
সাফিয়া আবারও মাথা নাড়ায়।
--- " কথা বলতে পারো না? "
--- " ব্যাথা পাই নি। "
--- " দেখে-শুনে চলবে সবসময়। হুটহাট খালি রাস্তায় পরে যাও। "
ইলা সাফিয়াকে জিজ্ঞাসা করে ,,
--- " মানে? আর কোথায় পরে গিয়েছিলি তুই? "
--- " আমাদের বাড়ির সামনে। "
--- " ভাইয়া, তুমি দেখলে কিভাবে সাফিয়াকে পরে যেতে? "
--- " ওখানে আমার বন্ধুর বাসা। ওইদিকেই গিয়েছিলাম সেদিন, তখনই দেখেছি। "
--- " আচ্ছা, যাও এখন। আমরা মুভি দেখছি। পরে দিয়ে দিবো। "
নাহিল আর কথা বাড়ায় না। সাফিয়ার দিকে এক পলক তাকিয়ে চলে যায়।
🌿
বিকালে নাফসানের বাবা, বড় ভাই আসতেই তাদের সাথে দেখা হয়ে যায়। রাশেদুল খানের আজ বাসায় থাকারই কথা ছিলো। তবে জরুরি কাজে ওনাকে চলে যেতে হয়েছিলো৷ মিষ্টি তার বাবার সাথেই গিয়েছিলো আজ।
নাশিত এসে নাওরাকে দেখে নাফসানের কাছে গিয়ে বলে,,
--- " তোর স্টুডেন্ট এখানে কেন? "
--- " আম্মু আসতে বলেছিলো ওদের। "
--- " তাই বুঝি তুই আজ তোর বাসায় চলে যাস নি। "
--- " যা ভাবো তুমি,,,"
--- " তাহলে ঠিক ধরেছি আমি? "
নাফসান আর উত্তর দেয় না। নাশিত ধরে নেয় নাওরাকে নাফসান পছন্দ করে। তাই সে ভাবে বাবা-মায়ের সাথে পরে এই ব্যাপারে কথা বলবে না হয়। মিষ্টিকে নাফসানের কাছে বসিয়ে নাশিত রুমে চলে যায়।
নাফসান মিষ্টিকে কোলে নিয়ে বসে ফোন দেখছে। নাওরা দেখে মিষ্টিকে খুব সুন্দর করে কোলে রেখেছে নাফসান। এটা দেখেই তার খুব ভালো লাগে। একজন পুরুষ মানুষের বাচ্চা কোলে নেওয়া দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। তারা খুব যত্নে একটা বাচ্চাকে কোলে নেয়।
নাওরা ভাবতে থাকে তাদের সন্তানকে নাফসান কতটা আগলে রাখবে। কল্পনাও করতে থাকে এসব নিয়ে। হটাৎই সাফিয়ার ধা'ক্কায় তার হুশ ফিরলে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। কি ভাবছিলো সে,,তাদের বাচ্চার কথা!
নাফসানের দিকে তাকিয়ে দেখে নাফসানও তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নিজের ভাবনা মনে পরলে লজ্জায় সে মাথা নিচু করে ফেলে। নাফসান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে ভাবে, নাওরা আবার কি হলো!
নাফসান তো আর জানে না,,নাওরা তাদের বিবাহিত জীবন নিয়ে কত কি কল্পনা করে নিজেই লজ্জায় লাল হয়ে যায়,,,,,,,
🌿
রাশেদুল খান ফ্রেস হয়ে নিচে আসতেই নাওরার সাথে দেখা হয়। মাহমুদা বেগম ওনার সাথে নাওরার পরিচয় করিয়ে দেন৷
--- " আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল। আমি ইলার বান্ধবী সাফিয়ার বোন। "
--- " ওয়া আলাইকুম আসসালাম। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ মা। আমার মেয়েটাকে সাহায্য করার জন্য। "
--- " এভাবে বলবেন না আঙ্কেল। ইলা আমার ছোট বোনের মতো। "
কথা বলার এক পর্যায়ে যখন নাওরার বাবার কথা উঠে তখন রাশেদুল ইসলাম জিজ্ঞাসা করেন,,
--- " তোমার বাবার নাম কি? "
--- " জ্বি,, জাহিদ ইসলাম। "
--- " জাহিদ..."
নামটা শুনে ওনি একটু থমকে গেলেও আর কিছুই বলেন না। নাওরাদের চলে যাওয়ার সময় হলে নাফসান উঠে দাড়ায়।
--- " চলো, আমি বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসি। "
--- " না স্যার। লাগবে না, সৈকত ভাইয়া আসবে বলেছিলো। "
নাফসান এবার সরাসরিই জিজ্ঞাসা করে,
--- " কে সৈকত? "
--- " রিশার বড় ভাই। "
--- " আসতে না করে দাও। তোমার স্যার হিসেবে তোমাদের পৌছে দেওয়া আমার দায়িত্ব। "
--- " আচ্ছা স্যার। "
মুখে এটা বললেও মনে মনে বলে,,
~~ " জামাইয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারে না,,,আসছে স্যারের দায়িত্ব দেখাতে। নিজে জেলাস বললে কি হয়। ভালোবাসা স্বীকার করছেন না তো,,,আমিও আপনাকে দিয়ে স্বীকার করিয়েই ছাড়বো। নয়তো আমার নামও নাওরা না,হুহ,,,
চলবে,,,,,,
(আজকের পর্বে সবাই মন্তব্য করবেন প্লিজ। কিছু ভুল ত্রুটি হলে জানাবেন।)