ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত অনুরাগ

১৩তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ

#মায়িশা_নুরাইন

#পর্ব_১৩

(কপি করা নিষেধ)

--- " স্যার,, একটা সমস্যা হইছে,,,"

--- " কি সমস্যা? "

--- " যদিও দোষটা আপনার। কি পড়াইছেন, বুঝি নাই কিছুই। "

--- " মনোযোগ দিও না ক্লাসে। তাহলেই হবে। "

--- " এখন কি করবো বলেন না। "

--- " ঘুমাও গিয়ে। তোমার পরীক্ষা খাতায় আমি লিখে দিবো নি। "

নাওরা উৎফুল্ল হয়ে বলে,,

--- " সত্যি স্যার? আপনি এত সুইট কেন? "

--- " বে'য়াদব মেয়ে। কালকে ক্লাস শেষে বসবে,, বুঝিয়ে দিবো। "

নাওরা প্রথমে রাজি হয়ে গেলেও পরে আবার মানা করে দেয়।

--- " না স্যার, ভার্সিটিতে হবে না। "

--- " কেন? "

--- " আপনাকে একটা কথা বলা হয় নি। আপনার ফেভারিট স্টুডেন্ট আমাকে আজেবাজে কথা বলেছে। "

--- " কে বলেছে? কি নিয়ে? "

--- " কে আবার,,লামিয়া। আপনার পছন্দের ছাত্রী। আমাকে আপনার গাড়িতে দেখে নিয়েছিলো। তারপর থেকেই আমাকে বলে আপনার সাথে আমার নাকি সম্পর্ক আছে। "

--- " মিথ্যে তো বলে নি। "

--- " হ্যা। আপনার পছন্দের মানুষ তো কখনোই মিথ্যে বলতে পারে না। সবসময় সত্যি কথাই বলে। "

--- " তো তুমি মিথ্যে বলো কেন? "

--- " কারণ আমি যে আপনার পছন্দের না। তাই তো বিয়ের পরও ডিভোর্স দিয়ে দিতে চাচ্ছেন। "

--- " এইতো ঠিক ধরেছো তুমি। এতদিনে একটা সত্যি কথা বলেছো তুমি। "

নাওরা একটু থেমে বলে,,

--- " স্যার, এরপর আপনি কাকে বিয়ে করবেন? "

--- " যাকে আমার পছন্দ হবে। "

--- " আপনার কেমন মেয়ে পছন্দ? "

--- " অবশ্যই তাকে আমার সব কথা শুনতে হবে, তর্ক করতে পারবে না। পড়াশোনায় ভালো হতে হবে। আর সংসারী হতে হবে। "

--- " আমার মধ্যে কি এসব কিছুই নেই? "

--- " তোমার কি মনে হয়? "

নাওরা কথা বন্ধ করে ভাবতে থাকে। নাফসান তো যা যা বললো সবই তার স্বভাবের বিপরীত। যেন ইচ্ছে করেই এসব বললো,,বুঝাতে চাইলো নাওরাকে সে চায় না। অবশ্য নাওরার মাঝে এসব সাধারণ গুনগুলোও নেই। সে তো সংসারী মেয়েও না।

--- " কি বুঝলে? "

--- " বুঝলাম যে আমি আপনার পছন্দের একদম বিপরীত। "

--- " একদম ঠিক। "

--- " তাহলে আমাকে সেদিন চ-চুমু খেলেন কেন? "

--- " ইচ্ছে হয়েছে তাই। "

--- " এটা ঠিক না। আপনি আমার অনুভূতি নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। "

--- " তোমার আবার কিসের অনুভূতি? "

--- " আপনার মতো অনুভূতিহীন নই আমি। আমার এসব ভালো লাগছে না আর। "

--- " কি সব? "

--- " আ-আমার আপনাকে আর ভালো লাগে না। ভেবেছিলাম বিয়ে হয়েছে, সব ঠিক হবে। কিন্তু না,, আপনি একটুও ভালো না। আমার জীবনটা ধ্বং'স করে দিচ্ছেন আপনি। না নিজের পরিবারে জানিয়েছেন, আর না আমাকে ছেড়ে দিচ্ছেন। শুধু আপনার জন্য আমাকে কথা শুনতে হয়। "

--- " কে কি বলেছে তোমায়? "

--- " এত কিছু আপনাকে বলবো কেন? কোন সমাধান দিতে পারবেন না তো। ছেড়ে দেওয়ার হলে ছেড়ে দিন। আমি তাড়াতাড়ি বিয়ে করে অন্য কোথাও চলে যাবো। "

--- " সাহস তোমার অনেক বেড়ে গেছে। "

--- " সাহস আমার আগে থেকেই আছে। আচ্ছা, এই বিষয় বাদ। আমার পড়াশোনা? "

--- " তোমার ফিউচার স্বামীকেই বলো বুঝিয়ে দিতে। আমাকে আর ফোন দিবে না। "

বলেই নাফসান ফোন কেটে দেয়। নাওরা তো হতভম্ব হয়ে যায়। কি হলো এটা! নাফসান কি রাগ করলো নাকি? উহু,, রাগ করার মতো তো কোন কারণ নেই। নাফসান যদি আবার বিয়ে করতে পারে,,তবে নাওরা কেন পারবে না। নাফসান ছাড়াও নাওরার চলবে। দরকার নেই তার,,অন্য কারও কাছ থেকে নাওরা বুঝে নিবে। নেহাত টিচার স্বামী বলে এভাবে পিছু পিছু ঘুরছিলো। নাফসান না মানলে তারও দরকার নেই। নাওরার মানুষের অভাব নাকি, হাহ।

নাওরা আর ফোন দেয় না নাফসানকে। কিছুক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকে। নিজে নিজে বুঝার চেষ্টা করতে থাকে। এমন না নাওরা পড়াশোনা পারে না। সমস্যা কিছু টপিকের,, অনেক কঠিন ওগুলো। আরও ক্লাসে মনোযোগ দেয় নি। সব ভুলে গেছে। আবার নাকি এই টপিকে এক্সাম নিবে,, গোল্লা পাবে নাওরা। বই সামনে নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে।

মামী রাতের খাবারের জন্য ডাকতেই নাওরা বই রেখে উঠে যায়। আর লাভ নেই, পড়া বুঝবে না। এর থেকে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়া ভালো। অন্তত ঘুম ভালো হবে।

🌿

আজকে ভার্সিটিতে রুপা, রিচি আসে নি। নাওরা একাই এসেছে। ভেবেছিলো ক্লাসে কারও সাথে ওই টপিক নিয়ে আলোচনা করবে। কিন্তু বান্ধবী ছাড়া ক্লাসে ভালো লাগছে না। তবে এবার যেহেতু এসে গেছে, ক্লাস করেই যাওয়া ভালো।

ক্লাসে বসে নাওরা ঝি'মাচ্ছে। একটু আগে একটা ক্লাস শেষ হলো। তখনই পাশে থেকে লামিয়াদের গ্রুপের কথা কানে আসে। কানে নাফসানের নাম আসতেই নাওরা কান খাড়া করে শুনতে থাকে।

লামিয়ার বান্ধবী বলে,,

--- " কি বলছিস? তোর বাবার বন্ধুর সেই ছেলেটাই নাফসান স্যার? "

লামিয়া একটু লজ্জা ভাব নিয়ে বলে,,

--- " হ্যা রে। বাবা বারবার বিয়ের কথা বলছিলো। আমি তো রাজি হচ্ছিলাম না। গত রাতে ছেলের ছবি দেখেই তো আমি অবাক হয়ে যাই। বাবার বিজনেস পার্টনার সাথে বন্ধু রাশেদুল আঙ্কেলের মেঝো ছেলেই আমাদের নাফসান স্যার। "

--- " এই স্যার কি জানে এই বিষয়ে? "

--- " হয়তো জানে। না জানিয়ে তো বিয়ের কথা বলার কথা না। "

--- " হ্যা, স্যার নিশ্চয়ই জানে। এমনিতেও স্যার তোকে পছন্দ করে। সেটা তো আমরা সবাই জানি। "

লামিয়া বান্ধবীদের কথা শুনে আরও লজ্জা পেতে থাকে। নাওরা অন্যদিকে ফিরে তাদের কথা শুনছিলো। যাতে তারা না বুঝে যে নাওরা তাদের কথা শুনছে। নাওরা ভাবে এইজন্যই স্যার তাদের বিয়েটার ব্যপারে কাউকে জানাতে চাইছিলো না। কারণ ওনার তো বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। কত্ত বড় খা'রাপ লোক একটা। আগেই জানিয়ে দিলে কি হতো! নাওরা তো কখনো বাধা দেয় নি ওনাকে।

অজান্তেই নাওরার মনটা খা'রাপ হয়ে যায়। তাকে এভাবে ধোঁ'কা দিলো কেন? সে তো নিজ ইচ্ছায় বিয়েটা করে নি। বাধ্য হয়ে করেছিলো। তারপর হয়তো একটু ছেঁ'চড়ামি করে ফেলেছে। চেয়েছিলো বিয়েটা টিকিয়ে রাখতে। তবে নাফসান তাকে আগেই জানিয়ে দিলে সে এমন ভাবনা কখনোই ভাবতো না।

নাফসানকে এখনো নাওরা বুঝতে পারে না। ক্লাসের ভিতরে এমন ভাব করে যেন নাওরাকে চিনেই না। আবার বাহিরে যেভাবে কথা বলে, মাঝে মাঝে মনে হয় নাওরাকে মেনে নিয়েছে। পরক্ষণেই আবার তা অস্বীকার করে। নাহ,,এসব আর মেনে নেওয়া যাবে না।

নাওরা এসবই ভাবছিলো,, তখনই লামিয়া তার সামনে এসে দাঁড়ায়। নাওরা ক্লাসের জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে ছিলো। লামিয়া সামনে আসতেই নাওরা বলে,,

--- " কি হয়েছে? কিছু বলবে? "

--- " এমন ভাব করছো যেন কিছুই শোন নি,,,"

--- " কিসের কথা বলছো? "

--- " স্টপ ইয়োর ড্রামা। শুনেছোই তো নাফসান আমার ফিয়ন্সে। সো নাফসানের থেকে দূরে থাকবে। "

--- " বাহ, একদিনেই নাফসান স্যার থেকে শুধু নাফসান হয়ে গেলো,,,"

--- " হ্যা হয়েছে। দুদিন পরে আমাদের বিয়ে হবে। তখন তো নাফসান বলেই ডাকবো। আর সব তো শুনেছোই তুমি। "

--- " শুনানোর জন্যই তো ওভাবে বলেছো। "

--- " তো এটা নিশ্চয়ই বুঝেছো কেন বলেছি? ভদ্র মেয়ের মতো নাফসানের থেকে দূরে থাকবে। "

--- " আমার ঠেকাও পরে নি তোমার কোন জিনিসের দিকে তাকাতে। নিজের জিনিস নিজে সামলে রাখো গিয়ে। আমাকে বলতে আসবে না। "

--- " তোমাকেই তো বলতে হবে। তোমার মতো মেয়েকে আমার চেনা আছে। পড়াশোনা না করে স্যারদের পিছু পিছু ঘুরে পরীক্ষায় ভালো করতে চাও। স্যারদের একটু ইশারা পেলে তো নিজেদেরকেও....... "

--- " স্টপ লামিয়া। তুমি কিন্তু এখন অতিরিক্ত বলে ফেলছো। নিজের লিমিটে থেকে কথা বলবে। "

--- " ভুল তো কিছু বলি নি। আমরা সবাই জানি তুমি কেমন ক্লাসে অমনোযোগী থেকে তারপর স্যারের পিছু পিছু ঘুরো। এসব কেন করো তা আমাদের সবারই জানা আছে। "

--- " আমি কেমন সেটা আমি ভালোই জানি। কোন অন্যায় করছি না আমি। তোমার কাছ থেকে নিজের চরিত্রের সার্টিফিকেট চাই নি। তাই তোমার ভাবনাগুলো তোমার কাছেই রেখে দাও। "

--- " এই মেয়ে,,তোমার সাহস....."

নাওরা এবার রে'গে বলে,,

--- " এই মেয়ে কি? আমার একটা নাম আছে। নাম ধরে কথা বললে বলবে, নয়তো দরকার নেই। সরো সামনে থেকে। "

বলেই নাওরা নিজের ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যায়। অপরদিকে লামিয়া সেখানে রা'গে দাড়িয়ে থাকে। তার মুখের উপর এভাবে কথা বলায় এটা তার ইগোতে লেগেছে। ভেবেছিলো নাওরা মেয়েটা হয়তো সহজ-সরল হবে। কিন্তু এভাবে যে তাকেই উল্টো কথা শুনিয়ে যাবে ভাবে নি।

🌿

নাওরা ব্যাগ নিয়ে ক্লাস থেকে বের হতেই নাফসানের সাথে দেখা হয়। নাওরাকে এভাবে চলে যেতে দেখে নাফসান বলে,,

--- " ক্লাস না করে কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

নাওরা নাফসানের দিকে একটা রা'গান্বিত চাহনি দিয়ে কিছু না বলেই চলে যায়। নাফসান পিছু ফিরে নাওরার দিকে তাকায়, যে কি না কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা চলে যাচ্ছে। নাফসান ভ্রু কুচকে ভাবে কি হলো। কেউ কিছু বলেছে নাকি আবার!!!

নাফসানের ক্লাস ছিলো এখন। তাই আর কিছু না ভেবে নাফসান ক্লাসে চলে যায়। অ্যাটেন্ডেন্সের সময় নাওরার নাম ডাকতেই তাকে অনুপস্থিত দেখালে,,লামিয়া হটাৎই বলে,,

--- " ভালো হয়েছে। ক্লাসে বসে থেকে অন্যদের ডিস্টার্ব করার থেকে ক্লাসে না থাকাই ভালো। "

নাফসান কিছুই বলে না। চুপচাপ ক্লাস করানো শুরু করে। সে ভালো করেই জানে,,নাওরা ক্লাসে অমনোযোগী থাকলেও নিজের বান্ধবী ছাড়া অন্য কাউকে ডিস্টার্ব করে না। বসেই তো পেছনের দিকে। লামিয়ার কথা শুনেই বুঝা যাচ্ছে,, নাওরার সাথে তার আবারো ঝামেলা হয়েছে। তবে স্যার হিসেবে এসব নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। বরং নাওরার সাথে পরে আলাদা করে কথা বলে নিবে।

🌿

নাওরার কিছুই ভালো লাগছে না। ক্লাস থেকে বেরিয়ে কোথায় যাবে বুঝতে পারছে না। এখন বাসাতেও যেতে মন চাচ্ছে না। তাই ভাবলো এভাবে রা'গ করে বসে থাকা ঠিক হবে না। রা'গ করার কি আছে। যেটা তার, সেটা তারই থাকবে। কেউ চাইলেই নিয়ে যেতে পারবে না। আবার যেটা তার নয়, সেটা হাজার চেষ্টা করলেও নিজের করে রাখতে পারবে না।

তবে এটা ঠিক, মাঝে মাঝে নিজে থেকে কিছু ছেড়ে দিতে হয় সবার ভালোর জন্য। জোড় করে কোন কিছু ধরে রাখার ফলাফল কখনোই ভালো হয় না।

তাই নাওরা একটা বড় করে শ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে। এখন মনে হচ্ছে লামিয়ার সাথে রাগ করে এভাবে ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসা ঠিক হয় নি। এমনিই নাফসানের সাবজেক্টে সে একটু দূর্বল। তার উপর আজকের ক্লাসটাও মিস গেলো। এখন তো আর ক্লাসে যাওয়া ঠিক হবে না। তাই ভাবলো একটু লাইব্রেরিতে গিয়ে বসে বই দেখবে।

তাই আর কিছু না ভেবে সোজা লাইব্রেরিতে চলে যায়। গিয়ে দেখে চারদিকে বেশ স্টুডেন্ট আছে। সবাই নিঃশব্দে পড়ছে। নাওরা নিজের প্রয়োজনীয় বইটা খুঁজে নিয়ে একটা খালি সীটে গিয়ে বসে। বই উল্টেপাল্টে নিজে থেকে আবারও বুঝার চেষ্টা করতে থাকে।

এভাবে বসে থাকতে থাকতে কিছু সময় পার হয়ে যায়। হটাৎ বুঝতে পারে তার সামনের সীটে কেউ এসে বসেছে। মাথা তুলে তাকাতেই দেখে নাহিলের সেই বন্ধুটা এসে বসেছে। নাওরা তো নামটাও ভুলে গিয়েছে। এখন কথা বলবে কি না ভাবতে থাকে। তখনই সিয়াম নিজে থেকেই বলে,,

--- " কেমন আছো নাওরা? "

--- " জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো ভাইয়া। আপনি আমার নামটাও মনে রেখেছেন। "

--- " কেন, তুমি কি আমার নাম ভুলে গিয়েছো নাকি? "

--- " আব.. না মানে,,,"

নাওরাকে আমতা আমতা করতে দেখে সিয়াম হেসে ফেলে৷ হেসেই বলে,,

--- " আরে সমস্যা নেই। লেট মি ইনট্রুডিউস মাইসেল্ফ এগেইন। মাইসেল্ফ সিয়াম শেখ, ইংলিস ডিপার্টমেন্ট। "

--- " জ্বি ভাইয়া, মনে পরেছে। নাহিল ভাইয়ার ফ্রেন্ড তো আপনি। "

--- " এইতো মনে পরেছে। তা তুমি নাহিলকে কিভাবে চিনো? "

--- " আসলে নাহিল ভাইয়ার ছোট বোন ইলার সাথে আমার ছোট বোন পরে। ওভাবেই আরকি,,,"

নাওরা সম্পূর্ণ খোলাসা করে কিছুই বলে না। এভাবে অপরিচিত কারও সাথে সব শেয়ার করার কোন মানে নেই।

--- " আচ্ছা। এই সময় লাইব্রেরিতে কি করছো? ক্লাস নেই তোমাদের? "

--- " আছে। আমি করি নি। এখানে বসে বই পড়ছি। "

--- " কি পড়ছো দেখি?

সিয়াম নিজে থেকে নাওরার বইটা টেনে নিয়ে বলে,,

--- " আরে এটা তো খুব সহজ। আমাদের কোর্স সাবজেক্ট এটা। "

--- " আপনি পারেন এটা? "

--- " আরে পারবো না কেন? তোমার কি এটাতে প্রবলেম? "

সিয়ামের কথা শুনে মনে হচ্ছে এই টপিক অনেক সহজ। সিয়ামের কোর্স সাবজেক্ট এটা,,আর নাওরার মেইন সাবজেক্ট। তাও নাওরা এই সহজ বিষয় বুঝছে না। অবশ্য নাফসানের ক্লাসে মনোযোগ দিলে সে বুঝতো। নাফসান অনেক ভালো করে বুঝিয়ে পড়ায়। নাওরা নিজেই মনোযোগ দেয় না।

সিয়ামের কথায় নাওরা একটু কাচুমাচু করে বলে,,

--- " আসলে ক্লাসে মনোযোগ দিই নি সেদিন। তাই এইটুকু বুঝতে পারছি না। "

--- " আরে এভাবে বলার কি আছে। আমরা সিনিয়ররা তো আছিই জুনিয়রদের সাহায্য করার জন্য। সো নো টেনশন। চলো আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি। "

নাওরা রাজি হতেই সিয়াম তাকে পড়া বুঝিয়ে দিতে থাকে। তারা এক খালি জায়গায় বসেছিলো। তাই অন্য কারও অসুবিধাও হয়নি। বেশ অনেকক্ষণ সময় ধরে সিয়াম নাওরাকে পড়া বুঝিয়ে দেয়। নাওরা এর মাঝে যত প্রশ্ন করেছে, সবকিছুর উত্তরও দিয়ে দিয়েছে। নাওরা খুব খুশি হয়ে যায়। নাফসানের সাহায্য ছাড়াই সে পড়া বুঝে নিলো। নাফসানকে দেখিয়ে দিবে তার আর দরকার নেই। তাকে সাহায্য করার মানুষের অভাব নেই।

নাওরা সিয়ামের থেকে পড়া বুঝে নিলেও তার মন ছিলো নাফসানের দিকে। সে ভাবছে নেক্সট পরীক্ষায় এই টপিকে ভালো মার্ক পেয়ে নাফসানকে দেখিয়ে দিবে। আর ওই লামিয়া শা'কচুন্নিকেও দেখাতে হবে,, সে পড়াশোনা না করে ভার্সিটিতে চান্স পায় নি।

সিয়ামের সাথে পড়া বুঝতো গিয়ে দেরী হয়ে যায় তাদের। নাওরা তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ গুছিয়ে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে পরে। তার সাথে সিয়ামও বেরিয়ে পরে। নাওরা সিয়ামকে বিদায় জানিয়ে ভার্সিটি গেইটের কাছে চলে যায়।

ভার্সিটির পার্কিংয়ে নাফসানের গাড়ি দেখে নাওরা অবাক হয়। এখনো স্যার ভার্সিটিতেই আছেন৷ কিন্তু ক্লাস তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। নাওরা না ভেবে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ততক্ষণে সিয়াম নিজের ক্লাস থেকে ব্যাগ নিয়ে চলে এসেছে।

আজ নাহিল ভার্সিটি আসে নি,, তাই সে এমনিই ঘুরাঘুরি করছিলো। লাইব্রেরির সামনে দিয়ে এমনিই যাওয়ার সময় হটাৎই নাওরাকে বই নিয়ে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়। নাওরা একাই বসে ছিলো,, এটাই সুযোগ নাওরার সাথে কথা বলার। তাই সেই সুযোগটাই সে কাজে লাগায়। আর সফলও হয়। পড়াশোনার মাধ্যমে হলেও নাওরার সাথে সে কথা বলতে পেরেছে।

🌿

নাফসান ভেবেছিলো নাওরা হয়তো ক্লাস শেষে আসবে পড়া বুঝতে। তাই সে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিলো। তবে নাওরা আর আসে না। নাফসান ভাবে নাওরা হয়তো তখনই বাসায় চলে গিয়েছে। তাই আর না ভেবে বাসার যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পরে। অন্যান্য শিক্ষকরাও চলে গিয়ে এতক্ষণে।

নাফসান আশেপাশে কোথাও না তাকিয়ে সোজা পার্কিংয়ে তার গাড়ির কাছে চলে যায়। গাড়িতে উঠে বসবে, তখনই সামনে নাওরাকে চোখে পরে। এই সময়ে নাওরাকে দেখে নাফসান অবাক হয়ে যায়। নাওরা যায় নি এখনো, তবে কোথায় ছিলো এতক্ষণ। তার কাছেও তো যায় নি। আশেপাশে তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তাই নাফসান সোজা নাওরার দিয়ে এগিয়ে যেতে নেয়। এই সময় এখানে কি করছে সে। কোথায় ছিলো, কি হয়েছে সব জানবে সে।

কিন্তু তখনই নাওরার পাশে একটা ছেলে এসে দাঁড়ায়। নাওরাকেও বেশ হেসে কথা বলতে দেখে সে। নাওরাকে তো আগে কখনো কোন ছেলের সাথে কথা বলতে দেখে নি সে। নাফসান থমকে দাঁড়ায় ওখানেই। নাফসানের চোখের সামনে নাওরা সেই ছেলেটির সাথে চলে যায়। নাফসান গাড়িতে উঠে স্টিয়ারিং-এ মাথা ঠেকিয়ে বসে থাকে। গত রাতেই ফিউচার স্বামীর কথা বলে আজই অন্য ছেলের সাথে বেরিয়ে পড়লো। ফিউচার নিয়ে ভাবতে গিয়ে প্রেজেন্টটাই ভুলে যাচ্ছে। মেয়ের সাহস অনেক বেড়ে গেছে,,সাহস কমানোর ব্যবস্হা করতে হবে।

🌿

নাওরা দাড়িয়ে থাকতে থাকতে সিয়াম ব্যাগ নিয়ে চলে এসেছিলো। নাওরাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,,

--- " কোনদিকে যাবে? বাসা কোথায় তোমার? "

নাওরা ঠিকানা বলতেই সিয়াম বলে,,

--- " আরে,, ওইদিকে তো আমারও বাসা। চলো একসাথে যাই তবে। "

নাওরার একাকী চলাচল করে অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন বরং সাথে কেউ থাকলে আরও অস্বস্তি হয়। তবে সরাসরি তো কাউকে এভাবে বলা যায় না। তাই সংকোচ নিয়ে হলেও সে রাজি হয়। এমনিতেও গাড়ি পাচ্ছে না, কোন ছেলে মানুষ সাথে থাকলে সুবিধা হবে। যদিও নাওরা তেমন স্বস্তি পাচ্ছে না,,তবুও কিছুই করার নেই।

তবে সিয়াম সাথে থাকায় নাওরার একটু উপকার হয়েছে। সে শুধু একপাশে দাড়িয়ে ছিলো। সিয়াম নিজেই গাড়ি এনে দুজনে উঠে পরে। তবে নাওরা একবারের জন্যও তার পাশে দাড়িয়ে থাকা গাড়িটা খেয়াল করেনি। তবে হয়তো দেখতে পারতো কেউ তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সেই চাহনিতে কোন ভালোবাসা নয়, বরং রা'গ প্রকাশ পাচ্ছে।

চলবে......

( সামনের কিছুদিন আমি একটু ব্যস্ত থাকবো। তাই দয়া করে কেউ বড় পর্ব দিতে বলবেন না প্লিজ। আমি গল্প দিবো অবশ্যই,, তবে সবসময় যেমন দেই,,ততটুকুই দিবো। বড় পর্ব দিতে পারবো না। আজকের পর্ব কেমন হয়েছে,,জানাবেন। সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। ❤️)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন