ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত অনুরাগ

১৪তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ

#মায়িশা_নুরাইন

#পর্ব_১৪

(কপি করা নিষেধ)

নাফসান বাসায় গিয়েই চিত হয়ে শুয়ে পরে। কিছুই ভালো লাগছে না তার। বাহির থেকে এসে ফ্রেসও হয় নি। ক্ষুধা লাগছে, খাবারও রান্না করা নেই। এই মুহুর্তে কিছুই করতে মন চাইছে না তার।

শুয়ে থাকতে থাকতে নাফসানের অনেক আগের একটা কথা মনে পরে। একদিন সে তাদের গেস্ট হাউসের বাগানে হাটাহাটি করছিলো। তখনই বাচ্চা একট মেয়ে এসে তাকে বলেছিলো,,

--- "ও চশমা পড়া ভাইয়া, আমাকে ওই ফুলটা দিবে? আমি ধরতে পারছি না। "

নাফসান পিছু ফিরে দেখে একটা বাচ্চা মেয়ে গাছ থেকে একটা ফুল নেওয়ার জন্য লাফাচ্ছে। কিন্তু ফুল পর্যন্ত তার ছোট ছোট হাত যাচ্ছে না।

নাফসান নিঃশব্দে ফুলটা ছিঁড়ে মেয়েটার হাতে দিতে সে কি খুশি! ফুলটা নিয়েই সে দৌড়ে বাসায় চলে যায়, আর কিছুই বলে না।

তারপর আবার অনেকদিন পর মেয়েটিকে নাফসান দেখেছিলো। মেয়েটির ছোট্ট চুলগুলো দুই পাশে ঝুঁটি করে রাখা ছিলো৷ খুব কিউট লাগছিলো মেয়েটিকে। ইলা তখন খুব ছোট। ইলার সাথে মেয়েটিকে বসিয়ে রেখেছিলো। বাচ্চা মেয়েটিও ইলার সাথে খেলা করছিলো। আর নাফসান দূর থেকে এক দৃষ্টিতে দুই বাচ্চার বাচ্চামো দেখছিলো। এক অন্যরকম মুগ্ধতা কাজ করছিলো তার মাঝে।

নাফসান ক্লান্ত শরীরটাকে টেনে তুলে বাড়ান্দায় রাখা চেয়ারটায় বসে। ভাবছে, নাওরাকে কি সে বেশী সুযোগ দিয়ে ফেললো নাকি। সে তো চায় নি অন্যান্য হাসবেন্ডের মতো সংসারে বেঁধে রাখতে চায় নি। তবে এখন মনে হচ্ছে এতটা ছাড় দেওয়া ঠিক হয়নি। বেশি সাহস হয়ে গেছে মেয়ের। জামাই থাকা স্বত্ত্বেও অন্য ছেলে নিয়ে ঘুরছে, বাহ।

ভাবতে ভাবতে নাফসান নাওরার ফোনে কল দেয়। এতক্ষণে তো বাসায় চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু নাওরার ফোন বন্ধ পায়। কোথায় নাওরা, এখনো কি সেই ছেলেটার সাথেই আছে?? এভাবে একাকী অন্য ছেলের সাথে যেতে দেওয়া ঠিক হয়নি হয়তো।

নাফসান পরপর কয়েকবার ফোন দেয়। তবে আগের মতোই ফোন রিসিভ হয় না। নাফসানের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। নিজেকে শান্ত করতে বিছানার উপর ফোনটা ফেলে ফ্রেস হতে চলে যায়।

🌿

নাওরার গাড়িতে বসে মনে পরেছে সে তো নাফসানের গাড়িটা দেখেও একটু ওয়েট করে নি। পরেই ভাবে অন্যের হবু স্বামীর জন্য ওয়েট করার কি আছে।

বাসে করে যাওয়ার সময় নাওরা ইচ্ছে করেই এমন একটা সীটে বসে যেখানে আগে থেকেই একজন মেয়ে বসে ছিলো। তাই সিয়ামকে অন্য সীটে একাকী বসতে হয়। তবে ভাড়াটা সিয়াম নিজেই দিয়ে দিয়েছিলো। যদিও সেটা নাওরার একদমই পছন্দ হয় নি।

বাসায় পৌছে দেখে সিয়ামদের বাসা তাদের দুই বিল্ডিং পরেই। প্রতিবেশি বলা যায়। সিয়াম সেটা দেখেই বলে,,

--- " আরে এত কাছাকাছি থেকেও আমরা একে অপরকে চিনলাম না কেন? "

নাওরা কি বলবে? সে তো কখনোই প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাহিরে বের হয় না। তাছাড়া সে যখন ভার্সিটির জন্য বের হয়,,ততক্ষণে হয়তো সিয়াম চলে যায়।

তবে নাওরা উত্তর দেয়,,

--- " আসলে অনেকগুলো রাস্তা তো। তাই হয়তো দেখা হয় না। "

--- " আচ্ছা, এখন তো চিনলামই। এখন থেকে তবে আমরা দুজন......"

সিয়াম কি বলতে চাচ্ছে সেটা নাওরা বুঝে ফেলে। একসাথে যাওয়ার কথাই তো বলবে। তাই আগেই আটকে দিয়ে বলে,,

--- " ভাইয়া, দেরী হয়ে গেছে। আমি আসি এখন। "

বলেই কোন রকমে সিয়ামকে বিদায় দিয়ে নাওরা বাসায় চলে যায়। তার দেরী হওয়া নিয়ে মামী কিছু না বললেও রাজিয়া বেগম বকবক করতে থাকেন। তবে নাওরা তাকে পাত্তা না দিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।

নিজের রুমে রিশাকে বসে থাকতে দেখেই অবাক হয়। রিশা তো এ কয়দিন তার রুমে আসে নি। আজ হটাৎ আসলো কেন!! তখনই রিশার হাতে নাফসানের দেওয়া ঘড়িটা দেখেই নাওরার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি করে গিয়ে রিশার হাত থেকে এক টান দিয়ে ঘড়িটা নিয়ে নেয়।

--- " তুমি এই রুমে কি করছো, রিশা? "

--- " ঘড়িটা কোথায় পেয়েছো তুমি? "

--- " বলার প্রয়োজনবোধ করছি না। "

--- " বলতেই হবে। এত দামী জিনিস কোথা থেকে পেয়েছো তুমি? "

নাওরা কিছু না বলতেই রিশা চি'ল্লিয়ে সবাইকে ডেকে আনে। রুবিনা বেগম বলেন,,

--- " কি হয়েছে রিশা? "

--- " খালামনি, দেখো কোন চো'রকে পালছো তোমরা। ওর ঘরে আমি অনেক দামী একটা ঘড়ি দেখেছি। "

নাওরা অবাক হয়ে যায়। সামান্য একটা ঘড়ির জন্য তাকে চো'র উপাধি দিয়ে দিচ্ছে। কিসের এত দামী জিনিস এটা?

--- " কি বলছো রিশা। নাওরা তোমার বড়, ভালোভাবে কথা বলো। "

--- " সেজন্যই তো বলছি খালামনি। আমি নাহয় সবসময় এখানে থাকবো না। তবে এই চো'রের সাথে থেকে সাফিয়া, মাহরু এসব শিখলে, পরে তোমরা কি বলবে? "

রাজিয়া বেগম বলেন,,

--- " কি হয়েছে বল তো। কি করেছে এই মেয়েটা? "

--- " দেখো, নাওরার হাতে একটা ঘড়ি আছে। দেখতে সাধারণ মনে হলেও বেশ দামী ঘড়িটা। কোথা থেকে পেয়েছে ঘড়িটা, জিজ্ঞাসা করো। ভাগ্যিস রুমে এসেছিলাম, নয়তো তো এসব জানতেই পারতাম না। "

--- " ছি! ছি! রুবিনা, কি মেয়ে পালছিস তুই৷ তোর মান-সম্মান সব শেষ করে দিবে এই মেয়ে।

রুবিনা বেগম নিঃশব্দে নাওরার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে,,

--- " কিসের ঘড়ির কথা বলছে রিশা? কোথায় পেয়েছিস তুই? "

নাওরা মাথা নিচু করে থাকে। নাওরা যদি জানতো এই সামান্য জিনিসেরও দাম বেশী, তবে কখনোই নিতো না সে। এখন তো বলতেও পারবে না সে, যে এটা নাফসান দিয়েছে। তবে এটা নিয়েও কথা শুনাবে। বলবে স্যার কেন কোন কারণ ছাড়া তাকে জিনিস গিফ্ট করবে। এটাও বলতে পারবে না যে সে কিনেছে ঘড়িটা। কারণ এটা জানা কথা, নাওরা কখনোই প্রয়োজন ছাড়া এভাবে টাকা খরচ করে না।

নাওরার এভাবে মাথা নিচু করে থাকা মামীর একদমই পছন্দ হয় না। রিশার কথা মিথ্যা হলে সেটা প্রমাণ করে দিক। নাওরাকে তো তিনিই বড় করেছেন। মায়ের মতোই তো আদর দিয়ে বড় করেছেন। তবে কেন ওনার শিক্ষার এপর এভাবে আঙুল উঠবে।

মামী আবারো জিজ্ঞাসা করে নাওরাকে,,ঘড়িটা কোথায় পেয়েছে সে। তবে নাওরা তখনও কিছুই বলে না। আগের মতোই মাথা নিচু করে রাখে। এবার তিনি প্রচন্ড রে'গে যান। রে'গে গিয়েই তিনি নাওরাকে একটা থা'প্পড় দিয়ে বসেন। নাওরা থা'প্পড় খেয়েই গালে হাত দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে মামীর দিকে তাকায়। উহু, এটা বলবে না যে সে আগে কখনো এমন শাসন পায় নি। তবে আজকে মামী সত্যিই অনেক রেগে আছেন। সেটা নাওরা ঠিকই বুঝতে পেরেছে। তবে তার বলার মতো কিছুই নেই।

--- " এই শিক্ষা দিয়েছি তোকে নাওরা? মানছি আমি তোর মা নই, তবে মায়ের থেকে তো কম আদর দেইনি তোকে। আজ তোর জন্য আমার শিক্ষার উপর আঙুল উঠছে কেন? যদি কোন ভুল না করে থাকিস, তবে নিজেকে ডিফেন্ড করছিস না কেন? "

রিশা বলে,,

--- " ডিফেন্ড করার মতো হলে তো করতো। সত্যিই যে চু'রি করেছে সেটা স্বীকার করছে না। ওই স্যারের বাসায় যাওয়ার আগেও তো এই ঘড়ি ছিলো না। সেখান থেকেই হয়তো...."

রিশার কথা শেষ হওয়ার আগেই রুবিনা তাকে একটা ধ'মক দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়।

--- " তুমি চুপ করো রিশা। অনেক বলেছো তুমি, এখন আমাদের ব্যপার আমাকে সামলাতে দাও। "

--- " তুই আমার মেয়েকে ধ'মকাচ্ছিস কেন? আমার মেয়ে তো ঠিক কথাই বলেছে। জিজ্ঞাসা করলি তো, সঠিক কথা বলে নি কেন? এতেই তো সত্যি প্রমাণ হয়ে গেলো। "

--- " আপা, এখন চুপ করো। বলছি তো আমাদের ব্যপার এটা। তুমি আর কিছুই বলবে না। "

--- " পরের মেয়ের জন্য কিসের এত দরদ তোর, বুঝি না। যেদিন মান-সম্মান সব ডুবাবে, সেদিন টের পাবি৷ "

বলেই মুখ বাঁকিয়ে তিনি মেয়েকে নিয়ে চলে যান। মামী নাওরার দিকে তাকিয়ে দেখে নাওরা আগের মতোই গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে রয়েছে। নাওরাকে এভাবেই রেখে তিনিও চলে যান রুম থেকে। রুমে এখন শুধু নাওরা আর সাফিয়াই আছে। এত কথাবার্তা শুনে মাহরুকে রুমে বসিয়ে সাফিয়া এসেছিলো। এখন নাওরার এ অবস্হা দেখে সাফিয়া কিছুই বলতে পারে না। মা-কে অনেকদিন পর এভাবে রা'গতে দেখেছে। সে নিজেও ভয় পেয়ে গেছে।

নাওরা নিঃশব্দে হাত থেকে ঘড়িটা টেবিলে রেখে ওয়াসরুমে চলে যায়। এতক্ষণ কান্না না করলেও এবার আর নিজেকে সামলাতে পারে না। ওয়াসরুমের দেয়াল ঘেষে ফ্লোরে বসে মুখ চেপে অঝোরে কান্না করা শুরু করে। মামী মেরেছে, সেটা বড় কথা না। তাকে চো'র তকমা দিয়েছে, আর সে ডিফেন্ড করতে পারে নি। নাফসান তার কান্নার কারণ হলো। সামান্য একটা ঘড়ির জন্য তাকে কত বড় অপবাদ পেতে হলো।

বাড়াবাড়ির ফল কখনোই ভালো হয় না। হাসবেন্ড গিফট দিচ্ছে বলে খুশিতে নিয়েছিলো। কিন্তু এর ফলাফল সম্পর্কে কখনোই ভাবে নি। জামাই জামাই বলে বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে নাওরা। এতটা করা উচিত হয় নি। নাফসানের থেকে দূরত্ব রাখতে হবে।

ইসস, কত বড় ভুল করে ফেললো নাওরা। নাফসানের তো বিয়েও ঠিক। এভাবে নাফসানের সামনে এমন বিহেভিয়ার করা ঠিক হয় নি। এসব ভেবে নাওরা মাথা চেপে ধরে।

বাহির থেকে সাফিয়া তাকে ডাকতে থাকে। অনেকক্ষণ ধরে নাওরা ওয়াসরুমে ঢুকে বসে আছে। এবার ফ্রেস হয়ে নাওরা বেরিয়ে আসে। তাকে দেখে মনে হয় এতক্ষণ কিছুই হয় নি। সব একদম স্বাভাবিক।

--- " আপু, ঠিক আছো তুমি? "

--- " কি হবে আমার? একদম ঠিক আছি আমি। শোন খেতে ডাকলে বলিস আমি এখন ঘুমাবো। আমাকে ডাকিস না আর। তুই খেয়ে এসে ঘুমিয়ে পরিস। "

বলেই নাওরা শুয়ে পরে। সাফিয়া শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তবে নাওরাকে কিছুই বলে না। লাইট নিভিয়ে চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

🌿

--- " রুবিনা, নাওরাকে সব না জানিয়ে কি ভুল করছি আমরা? "

--- " আমি জানি না। একবার মনে হয় আমাদের সব বলে দেওয়া উচিত। পরেই মনে হয় নাওরা যদি আমাদের ভুল বুঝে। এমনিই নাওরা আমাদের এখানেও ভালো নেই। যদি আমাদের ছেড়ে চলে যেতে চায়...."

--- " আচ্ছা, নাওরা তো আমাদের ভালোবাসে, তাই না। আমাদের কথা তো ফেলতে পারবে না, তাই না। "

--- " আমি জানি না। আমি আজকে নাওরার গায়ে হাত তুলেছি,,,"

--- " কি বলছো রুবিনা? কি করেছে নাওরা? "

রুবিনা সব বলতেই সায়েদ ইসলাম বলেন,,,

--- " আমাদের নাওরা কোন ভুল করতে পারে না। তোমার সব না শুনে এমন করা উচিত হয় নি রুবিনা। "

--- " আমি কি করবো বলো,,,নাওরা কেন সত্যি কথা বললো না। কেন নিজেকে ডিফেন্ড করলো না। আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি নি। আপা আসার পর থেকে ক্রমাগত নাওরার বিরুদ্ধে কথা বলে। নাওরাও সবসময় নিজেকে ডিফেন্ড করলেও আজ কেন করলো না। তার চুপ থাকাই প্রমাণ করে দিচ্ছে সে আসলেই কোন ভুল করেছে। নয়তো নাওরা এভাবে চুপ থাকার মেয়ে না। "

সায়েদ ইসলাম কি বলবেন বুঝতে পারছেন না। নাওরা ছোট থাকতে মামা বলতে পা'গল ছিলো। তাই তো ছোটবেলায় তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার পর হয়তো সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছে। তবে বড় হওয়ার পর থেকে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এটা স্বাভাবিক, মেয়ে বড় হলে বাবার সাথে একটু দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ছোটবেলার মতো জড়িয়ে ধরে আদর করা যায় না। তাই বলে তো ভালোবাসা কমে যায় না। নাওরা ওনার কাছে নিজের মেয়ের থেকে কোন অংশে কম না। তার বিশ্বাস নাওরা কোন ভুল করে নি। হয়তো কোন কারণে সত্যিটা বলে নি। সময় হলে নিশ্চয়ই বলবে।

🌿

এক ঘুমে নাওরা রাত পার করে দেয়। একটু বেশি সময় ঘুমিয়ে এখন মাথাটা ভারী ভারী হয়ে গেছে। নাওরা উঠে তৈরি হয়ে নেয় ভার্সিটি যাওয়ার জন্য। রুম থেকে বের হয়ে দেখে সবাই খাবারের জন্য বসেছে। নাওরাকে কেউ ডাকে নি আজ। নাওরা নিঃশব্দে খাবারের জন্য বসতেই মামী খাবার দিয়ে দেয়। মামী একটু রান্নাঘরে যেতেই নাওরা খাবার খাওয়া শুরু করে। তখনই সামনে থেকে রাজিয়া বেগম বলে উঠেন,,

--- ঘরে বসিয়ে খাইয়ে খাইয়ে চো'র বানিয়েছে। না জানি কার বাসার কি কি চুরি করে এনেছে আর। "

কথাটা শুনেই নাওরার হাত থেমে যায়। খাবারগুলো ওভাবে রেখেই উঠে পরে। তারপর সাফিয়াকে বলে,,

--- " মামীকে বলিস আমি বেরিয়ে গেছি। আজ একটু দরকার আছে, তাই আগেই চলে যাচ্ছি। "

বলেই কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে পরে। রাজিয়া বেগম সেদিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচি দিয়ে নিজের খাবার খেতে শুরু করেন। সাফিয়া শুধু অবাক হয়ে খালার দিকে তাকিয়ে থাকে। কি সুন্দর অবলীলায় নিজের খাবার খেয়ে চলছেন। আর ওনার কথার জন্য অন্য একজন না খেয়ে চলে গেলো, সেদিকে কোন খেয়ালই নেই। চলেই তো যাবে আজ। তার আগে নাওরার লাইফটা ধ্বং'স করে যাচ্ছে।

মামী এসে নাওরাকে দেখতে পান না। খাবার সেভাবেই রয়ে গেছে। তিনি বোনের দিকে তাকিয়ে দেখে সে আরামে খাচ্ছে। তার আর বুঝতে বাকি থাকে না। যে রাজিয়া বেগমই হয়তো কিছু বলেছেন, যার জন্য নাওরা না খেয়েই বেরিয়ে গিয়েছে। রাজিয়া বেগম আসলেই সবসময় নাওরাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলে। তবে এবারের মতো কোন অপবাদ দেয় নি। নাওরার মনে এই বিষয়টা সত্যিই অনেক এফেক্ট ফেলেছে।

🌿

নাফসান আজ ভার্সিটিতে এসে নিজের ডেস্কে বসতেই একটা বক্স দেখতে পায়। খুবই সাধারণ একটা বক্স। বক্সটা এমনভাবে রাখা, যাতে অন্য কারও চোখে না পরে।

নাফসান বক্সটা হাতে নিয়ে খুতেই নাওরাকে দেওয়া সেই ঘড়িটা খুঁজে পায়। সাথে ছোট্ট একটা চিঠি ছিলো। যেখানে লিখা,,,

~~ দুঃখিত স্যার। আপনার দেওয়া এই দামী উপহারটা আমি নিজের কাছে রাখতে পারলাম না। আমি যোগ্য নই এমন দামী উপহারের। এত দামী জিনিস জানলে কখনোই নিতাম না। তবে আপনি উপহার দিয়েছিলেন, এতেই খুশি আমি। আমার জন্য ভেবেছেন আপনি,, এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার। ~~

চিঠিটা পড়েই নাফসান অবাক হয়। ঘড়িটা নেওয়ার সময় তো নাওরা খুশিই ছিলো। হটাৎ কি এমন হলো, সে ঘড়িটা ফিরিয়ে দিলো। গতরাতে ফোন দিলো, তখন ধরলো না। পরেও তো ফোন ব্যাক করে নি। কোন সমস্যা হলো নাকি,,,,,

চলবে.......

( সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন প্লিজ। আমি কিন্তু সবার কমেন্টই পড়ি। আপনাদের কমেন্টের মাধ্যমেই আমি আমার ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করতে পারবো।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন