#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ
#মায়িশা_নুরাইন
#পর্ব_১৮
(কপি করা নিষেধ)
মাঝখানে পেরিয়ে যায় বেশ কয়েকদিন। সময় পেরিয়ে গেলেও নাওরার কোন পরিবর্তন হয় নি। সে আগের মতোই আছে। প্রায়ই নাফসানকে ফোন দিয়ে জ্বা'লানো এখন তার প্রিয় কাজের একটা। এটা ছাড়া যেন তার ভালোই লাগে না। তবে নতুন একটা কাজ পেয়েছে সে,, বসে বসে চিন্তা-ভাবনার কাজ। প্রায়ই বসে সে আগের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে। বাবা-মায়ের সাথে কাটানো দিনগুলো কতই না মধুর ছিলো৷ হয়তো সব কিছু মনে নেই তার৷ তবে কিছু কিছু জিনিস তার মনে আছে। মনে আছে তার জন্মদিনে মায়ের হাতের বানানো কেকের কথা, তাদের সাথে কাটানো সুন্দর মুহুর্তের কথা।
তার কোন জন্মদিনেই বাহিরের কাউকে জানানো হতো না। বাসায়ই তারা তিনজন মিলে কেক কেটে আনন্দ করতো। তবে একবার বোধহয় একটু ডিফরেন্ট কিছু হয়েছিলো৷ বাসায় আরো কিছু মানুষ ছিলো সেদিন। তার কততম জন্মদিন ছিলো সেটা, মনে নেই। তবে অনেক মজা করেছিলো সে সেদিন।
নাওরার বাচ্চা মনের একটা ইচ্ছে ছিলো, টিভিতে দেখা ফুলের তোড়া কেউ দিবে তাকে। তার সেই জন্মদিনে সে পেয়েছিলো। কে দিয়েছিলো ভুলে গেছে। বেশ কিছু গোলাপ আর জারবেরা ফুলের তোড়া। জারবেরা ফুলটাকে তখন না চিনলেও গোলাপ ফুল দেখে খুব খুশি হয়েছিলো সে। মায়ের সাহায্যে সেই ফুলগুলো তাজা রাখার জন্য পানিতে ভিজিয়ে রেখেছিলো। প্রতিদিনই সেই ফুলগুলো দেখতো, আর খুশি হয়ে যেতো।
তার খুশি দেখে তারপর তার বাবা প্রায়দিনই তার আর তার মায়ের জন্য গোলাপ ফুল নিয়ে আসতো। আর নাওরা দুটো ফুল নিয়েই পানিতে ভিজিয়ে রাখতো।
আবার বাবার ছুটির দিন তারা তিনজন বাহিরে ঘুরতে যেতো। মায়ের কাছ থেকেই প্রথম ফুচকা চিনেছে সে। তারপর থেকে মায়ের পাশাপাশি তারও পছন্দের খাবার হয় সেটা।
এমনই বিশেষ কিছু কিছু কথা তার মনে পরে। তার বাচ্চা মনে যেই জিনিসগুলো বিশেষ লেগেছিলো, সেগুলোই মনে আছে তার। মনে আছে ছোটবেলার কিছু মা'রামারির কথা, দুষ্টুমির কথা। এসব ভেবেই নাওরা মনের অজান্তেই হেসে উঠে।
সাফিয়া রুমে এসে নাওরাকে হাসতে দেখে বলে,,
--- " এভাবে হাসছো কেন আপু? "
--- " একটা কথা মনে পরলো। জানিস, ছোটবেলায় একবার একটা মেয়েকে আমি যা মা'ইর দিয়েছিলাম। মেয়েটা কানতে কানতে শেষ। "
--- " এ বাবা। তুমি তো বেশ দুষ্টু। তো মে'রেছিলে কেন? "
--- " আমার আব্বু আমাকে একটা ছোট্ট ক্যামেরা কিনে দিয়েছিলো। আমি ক্লাসে সেটা নিয়ে বান্ধবীদের দেখিয়েছিলাম। তো ওই মেয়েটা বলেছিলো, আমার বাবার টাকা নেই। তাই পঁচা জিনিস কিনে দিয়েছে। আরও কি যেন বলেছিলো। তাই মা'ইর দিয়েছিলাম। "
--- " একটা ক্যামেরার জন্য মেরেছিলে? "
--- " আরে ওটা সাধারণ খেলনা ক্যামেরা না তো। সত্যিই ছবি উঠতো। কিন্তু ক্যামেরাটা হারিয়ে ফেলেছি রে। বাবার দেওয়া একটা উপহার ছিলো। "
নাওরাকে একটু মন খারাপ করতে দেখে সাফিয়ারও খারাপ লাগে। তাই কথা ঘুরাতে বলে,,
--- " আচ্ছা আপু,, ওসব বাদ। আগে বলো বেয়াইন যেন কাকে বলে? "
--- " বউয়ের বোনদের তো ছেলের ভাইরা বেয়াইন বলে ডাকে দেখেছি। কেন রে? "
সাফিয়া ভাবুক ভঙিতে বলে,,
--- " তো ইলার ছোট ভাইয়া আমাকে বেয়াইন বললো কেন? তোমার তো বিয়েই হয়নি এখনো। বুঝলাম না,,,"
নাওরা এবার থতমত খেয়ে যায়। নাহিল কি তাকে বাঁ'শ দেওয়ার চেষ্টা করছে নাকি? বড়ভাই বিয়ে করে এখনো ফ্যামিলিতেই জানালো না। ছোট ভাই এসে তারই ফ্যামিলিতেই জানিয়ে দিচ্ছে।
সাফিয়া কৌতুহল নিয়ে নাওরার দিকে তাকাতেই নাওরা বলে,,
--- " এটা আগে বল, ইলার ভাইয়ের সাথে তোর দেখা কোথায় হলো? "
--- " ওনি আসছিলো ইলাকে নিতে। আমাকে দেখেই বলে,, বেয়াইন, কেমন আছেন? আমি তো বেয়াইন বুঝি নাই। শুধু ভালো-মন্দ কথাই বলেছি। "
--- " ওহহ,, আমিও বুঝি না এসব। এমনি বলছে হয়তো। এত ভাবার দরকার নেই। "
সাফিয়া ভদ্র মেয়ে বলে তেমন মাথা ঘামায় না এটা নিয়ে। নিজের রুমে যাওয়ার আগে বলে যায়,,
--- " আব্বু তোমাকে ডাকতে বলেছিলো। কি যেন বলবে বললো। "
--- " আচ্ছা, তুই যা। আমি আসতেছি। "
সাফিয়া চলে যেতেই নাওরা কিছুক্ষণ একাকী বসে থাকে। মাঝে মাঝে এভাবে একাকী বসে থাকতেও ভালো লাগে। রাজিয়া বেগমরা চলে যাওয়ার পর থেকে নাওরা স্বস্তি পেয়েছে। আজকার সে চেষ্টা করছে একটু রান্না-বান্না শিখতে। নাওরা একদম যে রান্না পারে না, তা নয়। করে নি কখনো, করলে নিশ্চয়ই পারবে। মামী তো তাকে পুরো মায়ের মতো আদর দিয়ে বড় করেছে। রান্না করতে দিতে চায় না। তবুও নাওরা জোর করে আজকাল রান্নাঘরে যায়।
তার তো এখন বিয়ে হয়েছে। শ্বাশুড়ি যদি তাকে পছন্দ না করে, তবে কি হবে। তার তো এসব বেসিক জিনিস শিখে রাখা উচিত।
🌿
--- " মামা, ডেকেছিলে নাকি? "
--- " ও হ্যা। বোস এখানে। পড়াশোনা কেমন চলতেছে? "
--- " আলহামদুলিল্লাহ ভালো মামা। "
--- " আচ্ছা নাওরা। বনিতা না করে সরাসরিই বলি তবে। "
মামার কথায় নাওরার কেমন যেন বেড ফিলিংস হচ্ছে। তাই একটু নড়েচড়ে বসে সে।
--- " আমার একজন কলিগ, এই এলাকাতেই থাকে। তার ছেলে, পড়াশোনা করছে এখনো। তবে ছেলে ভালো, আমার সাথেও দেখা হয়েছে। কথাও বলেছি। সবই ভালো, সম্পত্তিও আছে বেশ ভালো। "
--- " এসব আমাকে বলছো কেন মামা? "
বলেই নাওরা মামীর দিকে তাকাতেই মামী বলেন,,
--- " দেখ নাওরা, বড় হচ্ছিস তো। মেয়ে বড় হলে বাবা-মায়ের একটা চিন্তা থাকে। এখনি তো তোকে বিয়ে করতে বলছি না। অন্তত ছেলের সাথে একটু দেখা করতে পারিস তো৷ "
নাওরা যেন আকাশ থেকে পড়লো। ও তো একদমই ভাবে নি এত তাড়াতাড়ি তার বিয়ের কথা উঠবে। কিন্তু সে তো বিবাহিত। এটা মামা-মামীকে জানাবে কিভাবে। এতদিন সে তেমন চিন্তা করেনি এসব নিয়ে।
নাফসানের প্রতি তার বিশ্বাস আছে। সময়মতো নাফসান সব জানাবে। কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে আরও দেরী করলে বড় বিপদ হয়ে যাবে। কি করবে সে এখন। মামা-মামীকে কিভাবে কি বলবে। ওরা জনালে তো খুব কষ্ট পাবে।
নাওরা মাথা নিচু করে বলে,,
--- " কিন্তু মামী, আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। "
--- " এখনই করতে বলি নাই তো। শুধু কথা বলে দেখিস। আসলে তোর মামার একদম কলিগও না,, অফিসের সিনিয়র। যেহেতু নিজে থেকে প্রস্তাব দিয়েছে, সরাসরি না করা যায় না। "
নাওরা মামার পরিস্হিতিও বুঝতে পেরেছে। কিন্তু সে তো বিয়ে করতে পারবে না। যেখানে বিয়েই করবে না, সেখানে ছেলের সাথে কথা বলতে যাবে কোন দুঃখে। আচ্ছা, নাফসান জানলে কি করবে! কোন স্বামীই তো নিশ্চয়ই বউয়ের আবার বিয়ের কথা মানতে পারবে না।
হটাৎই নাওরার মনে হয়, একটু নাফসানের সাথে দুষ্টুমি করলে কেমন হয়। যেহেতু ব্যপারটা নাফসানকে জানাতেই হবে,, একটু দুষ্টুমি তো করাই যায়।
🌿
রুমে এসেই নাওরা দরজা আটকে নাফসানকে ফোন দেয়। বেশ কিছুক্ষণ পর নাফসান ফোন রিসিভ করতেই নাওরা বলে,,
--- " হুম হুম, এভাবেই থাকুন। আমি আরেকটা বিয়ে করে নিচ্ছি। আপনাকে আর ফোন দিয়ে এভাবে ডিস্টার্ব করবো না। "
--- " এসব বলার জন্য ফোন দিয়েছো? "
--- " বাহ, আমার কথাও এখন আপনার পছন্দ হচ্ছে না। তাহলে এখনো বিয়ে নিয়ে আটকে রেখেছেন কেন? ছেড়ে দিন না আমায়। "
--- " তোমাকে আটকে রাখলাম কোথায়? ছেড়েই তো দিয়েছি। তাই তো টিচার হাসবেন্ড থাকা স্বত্তেও অন্য ছেলের থেকে পড়া বুঝতে যাও, নোট নিতে যাও। "
নাফসানের কথায় নাওরা থমকে যায়। মনে পরে গতকালও সিয়ামের সাথে তার দেখা হয়েছিলো৷ সে এড়িয়ে যেতে চাইলেও সিয়ামই দৌড়ে এসে তাকে নোট দিয়েছিলো। নাফসান কি কোনভাবে জেনেছে সেটা?
--- " আসলে ওই সিয়াম ভাইয়া...... "
--- " দরকার নেই বলার। আগে যখন বলার প্রয়োজনবোধ করো নি,, আর বলতেও হবে না। "
--- " ওয়েট,, আপনি কি জেলাস হয়েছেন? "
--- " একদমই না। আমি আবার জেলাস হতে যাবো কেন? আমার বিয়ে করা একমাত্র বউ যেখানে ইচ্ছে, যার সাথে ইচ্ছে ঘুরুক। আমার কি তাতে? "
নাফসানের কথা শুনে নাওরা জোড়ে হেসে দেয়। বাহ, নাফসানও তবে জেলাস হয়। ইসস, এসময় নাফসানের সামনে থাকতে পারলে ভালো হতো। দেখতে পারতো জেলাস নাফসানকে দেখতে কেমন লাগে।
--- " মামা আমার বিয়ে ঠিক করেছে। "
নাওরার কথায় নাফসান অবাক হয়ে যায়৷
--- " কি বললে? কার বিয়ে? "
--- " আমার বিয়ে। আচ্ছা, একটা কালার চুজ করুন তো। বিয়ের কার্ডের জন্য। প্রথম কার্ডটা আপনাকেই দিবো আমি। "
--- " মজা করছো আমার সাথে? "
--- " উহু,, একদম সিরিয়াস আমি। আপনার সাথে সংসার করার কোন ইচ্ছে নেই। বিয়ে করে এখনো পরিবারে জানাতেই পারলেন না। আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন আপনি। হয় কিছু করুন, নয়তো ছাড়ুন৷ আমার আর এসব ভালো লাগছে না। "
--- " ছেলেটা কে? "
--- " জানি না। "
--- " তাড়াতাড়ি জেনে জানাবে আমাকে। "
--- " পারবো না। নিজে জেনে নিবেন। যে কয়দিন আপনার বউ আছি, সকল দায়িত্ব আপনার। "
নাফসান দাঁতে দাঁত চেপে বলে,,
--- " হুম, যত অভিনয় করার করে নাও। যখন নিজের কাছে নিয়ে আসবে, তখন সব কিছুর উসুল তুলবো আমি। "
নাওরার মেজাজও এবার খারাপ হয়ে যায়। সে কিছুটা উচ্চস্বরে বলে,,
--- " রাখুন আপনার কথা। আপনার মাথায় যে কি চলছে বুঝি না। কাহিনী করে বিয়ে করেছেন, ভালো কথা। মেনে নিয়েছি। এখন পরিবারে জানাচ্ছেন না কেন? আমাকে কি পুতুল পেয়েছেন? যেভাবে ইচ্ছে ঘুরাচ্ছেন শুধু। আমার জায়গায় অন্য কোন মেয়ে থাকলে এসব সহ্য করতো না৷ শুধু আমি বলেই এতটা কাহিনী করতে পারছেন আপনি। কিছু করছেন না কেন? এমনিতে নিজের মুখে জানিয়ে মামা-মামীকে কষ্ট দিতে চাচ্ছি না আমি৷ আমাকে এত বিপদে ফেলে রাখছেন কেন? "
নাফসান চুপচাপ সব শুনে যায়৷ কোন উত্তর দেয় না। নাফসানের এই চুপ থাকা নাওরার মাথায় আ'গুন ধরিয়ে দেয়। তাই সে রে'গে ফোন কেটে দেয়। আর কথা বলবে না সে। কি পেয়েছে তাকে।
নাওরা নিজের সাথেই নিজে বলে,,
~~ মানছি, আমিও মজা করছি এতদিন। লুকিয়ে বিয়ে করে একটা অন্যরকম ফীল হচ্ছিলো। কারণ যার সাথে বিয়ে হয়েছে, তাকে ভালোবাসে ফেলেছি।
হ্যা, নাওরা এখন নাফসানকে ভালোবাসে। সে ভালোবেসে একটা সুখের সংসার করতে চায় এখন। তবে কেন যেন নাফসানকে আজকাল রহস্যময় লাগে তার কাছে। কি চাচ্ছে লোকটা। কেমন যেন একটা অদৃশ্য শিকলে তাকে বন্ধি করে রেখেছে। না দূরে ঠেলে দিচ্ছে, আর না কাছে টেনে নিচ্ছে। এমন করছে কেন? নাওরা তো একটা স্বাভাবিক জীবনে বাঁচতে চেয়েছে। কিন্তু হটাৎই এখন তার জীবনটা কেমন যেন হয়ে গেছে। আজ তো তার মনে ভয় ঢুকে গিয়েছে। উহু,, আর এসব মানা যাবে না। এখন তাকেই কিছু একটা করতে হবে,, যাতে নাফসান নিজে থেকেই সব প্রকাশ করে।
🌿
--- " তোমরা সামান্য একটা মানুষের খবরটাও আমাকে দিতে পারছো না। আর কত সময় লাগাবে খুঁজে বের করতে। "
--- " স্যার, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমরা ওনার খবর পেলেই জানাবো। তবে মনে হচ্ছে না, তিনি দেশে আছেন। হয়তো দেশের বাহিরে চলে গেছেন। "
--- " বাহিরে গেলেও খুঁজে বের করতে হবে। তাড়াতাড়ি খবর জানাও আমায়। আমার হাতে সময় নেই আর। শিহাব খানকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, খুঁজে বের করতে হবে। "
--- " জ্বি স্যার। আমর আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। খোঁজ পেলেই জানাবো আপনাকে।
ফোন কেটে যেতেই নাফসান মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে। দিনদিন সব আরো ঝামেলাযুক্ত হয়ে যাচ্ছে। শিহাব খানের খোঁজ পেলেই নাফসান সব কিছুর সমাধান করতে পারতো। সব দিক দিয়েই চাপে পড়ে গেলো সে। এখন এই প্ল্যানে কাজ না করলে, জোর করে হলেও নাওরাকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে হবে। তার আগে অন্য কোনভাবে নাওরা সব জানতে পারলে বিপদ হয়ে যাবে। যেভাবেই হোক, নাওরাকে আগে নিজের কাছে আনতে হবে। সে নিজেই সব জানাবে নাওরাকে। নাওরা বুঝবে নিশ্চয়ই। কষ্ট পেলে নিজে নাওরার সকল কষ্ট লাগব করবে। এটা ছাড়া নাওরাকে আর কোন কষ্ট পেতে দিবে না। যথাসাধ্য চেষ্টা করবে নাওরাকে সুখী জীবন দেওয়ার।
🌿
--- " বাবা, বলেছো তুমি নাওরার মামাকে? কি বলেছে ওনারা? নাওরাকে জানিয়েছে আমার কথা? "
--- " আরে বাবা, এত পা'গল হয়ে যাচ্ছিস কেন? সায়েদ ইসলামকে বলেছি সব। মনে হয় না ওনার কোন আপত্তি আছে। "
--- " অনেক ধন্যবাদ বাবা। "
--- " আমার একমাত্র ছেলে তুই। তোর সুখের জন্য আমি সব করতে পারবো। "
বাবার কথায় সিয়াম খুব খুশি হয়ে যায়। পারিবারিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া শেষ। এখন সে সরাসরি নাওরার সাথে কথা বলবে। বলবে সে নাওরাকে কতটা ভালোবেসে ফেলেছে। নাওরা নিশ্চয়ই তার মামার কথা ফেলতে পারবে না। নাওরার বিষয়ে সকল খবরই নিয়েছে সে। যারা এতদিন ধরে তাকে পেলে বড় করলো, তাদের জন্য হলেও তো সে বিয়েতে রাজি হবে।
সিয়ামের মনে পরে,, সেদিন সে নাফসানের সাথে নাওরাকে কতটা খুশি দেখেছিলো। সে তো গিয়েছিলো নাওরার সাথে দেখা করতে। তখনই নাফসানের সাথে নাওরাকে দেখে অবাক হয়ে যায়৷ তাদের দেখে কোনভাবে টিচার-স্টুডেন্ট মনে হয় নি। উহু, তাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক হওয়ার আগেই সিয়াম নাওরাকে বিয়ে করে নিবে।
ভেবেছিলো আগে পড়াশোনা শেষ করে তারপর বিয়ের প্রস্তাব দিবে। কিন্তু না, এখন আর এসব ভাবার সময় নেই। আগে নাওরাকে বিয়ে করে, পরে যা করার করা যাবে। বাবা তো বলেছেই নাওরাকে তার হাতে তুলে দিবে। এখন নাওরা রাজি না হলেও রাজি করিয়ে নিবে। যেকোনভাবেই নাওরাকে নিজের করে নিবে।
🌿
--- " এই সাফিয়া, ফুচকা খাবি? "
--- " ফুচকা কোথায় পেলি? আমাদের কলেজের সামনে তো ফুচকার স্টল নেই। "
--- " সামনের পার্কে চল। ওখান থেকে খেয়ে আসি। "
--- " একদম না ইলা। তোর গাড়ি এসে ওয়েট করছে। যেতে হবে না কোথাও। "
--- " প্লিজ সাফি, চল না। কতদিন কোথাও যাই না। চল না যাই। "
সাফিয়া অনেকবার না করলেও শেষে ইলার অনুরোধে যেতে রাজি হয়। সবসময় বাড়ির গাড়ি করে বাসা-কলেজ যেতে যেতে ইলা হাঁপিয়ে গেছে। বাসায় তিনটা ভাই থাকা স্বত্তেও তাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যায় না।
আর সাফিয়া নিজে থেকেই কোথাও ঘুরতে যায় না। আজ ইলার কথা নিজের মাঝেও একটা সুপ্ত বাসনা জাগে। তাই তো শেষে রাজি হয়ে যায়।
ইলা তার ড্রাইভার আঙ্কেলকে লুকিয়ে সাফিয়াকে নিয়ে পার্কে চলে যায়। এভাবে লুকিয়ে আসায় দুজনই এমন খুশি, যেন বিশ্বজয় করে ফেলেছে। দুজনই গিয়ে একটা স্টলের সামনে বসে ফুচকার অর্ডার দিয়ে বসে গল্প করতে থাকে।
তখনই সেই স্টলের সামনে কিছু ছেলে এসে বসে। ছেলেগুলোকে দেখেই তারা দুজনই ভয় পেয়ে যায়। দেখেই বুঝা যাচ্ছে বখাটে সবগুলো। এভাবে কলেজ ড্রেসে তাদের পার্কে আসতে দেখে উল্টোপাল্টা কথা বলা শুরু করে।
--- " কি গো সুন্দরীরা,, একাই এসেছো, নাকি সাথে কেউ আছে? "
ভয়ে তারা কোন উত্তর দিতে পারে না। এমনিতে নিরিবিলি জায়গা পেয়ে তারা একপাশে বসেছে। আর ছেলেগুলো তাদের একা পেয়ে দিনে-দুপুরে এসে ইভ'টিজিং শুরু করে দিয়েছে। ইলা ছেলেদের কিছু বলতে নিলেও সাফিয়ার জন্য বলতে পারে না। নিজেও একটু একটু ভয় পাচ্ছে। একেতে তারা দুজন একাই এসেছে,, তার উপর বাড়ির কেউ জানে না। সাফিয়া তো মনে মনে ভাবছে, কোন ভাবে এখান থেকে আজ চলে যেতে পারলে আর জীবনেও পার্কে একা আসবে না। আর ইলা ভাবছে, তার ভাইয়েরা এসব জানতে পারলে, তার খবর করে ছাড়বে।
চলবে........
(সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন প্লিজ। আর গল্পটা কেমন লাগছে জানাবেন। ❤️)