ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত অনুরাগ

১৯তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ

#মায়িশা_নুরাইন

#পর্ব_১৯

(কপি করা নিষেধ)

--- " তোদের কখনো আ'ক্কেল হবে না সাফিয়া? এই দুপুরবেলা কেউ পার্কে আসে? এমনিতেই দুপুরে মানুষজন কম থাকে, জানিসই তো। "

নাওরার ব'কুনি খেয়ে সাফিয়া মাথা নিচু করে থাকে৷ নাওরার ব'কা দেওয়া যুক্তিযুক্ত। তারাই তো ভুল করেছে। এমনিতেই সাফিয়ার বাড়ি ফিরতে দেরী হচ্ছে শুনে টেনশন হচ্ছিলো। সাফিয়া তো কখনোই এমন দেরী করে না।

--- " স্যরি আপু। আর হবে না এমন। "

সাফিয়ার কথা শুনে পাশ থেকে নাহিল ইলার মাথায় একটা চা'পড় দিয়ে বলে,,

--- " দেখছিস তো একজন স্যরি বলছে। তোর মুখ নেই? তুই বলিস না কেন? "

ইলাও মাথায় হাত দিয়ে মাথা নিচু করে স্যরি বলে।

--- " আপু, সাফিয়ার কোন দোষ নেই। আমিই জোড় করেছিলাম, তাই এসেছে। আর বকবে না প্লিজ, পরে আমার সাথেও কথা বলবে না। আমিও স্যরি আপু। "

--- " আর কখনো এমন কাজ করবে না তোমরা। তোমরা তো কখনো এভাবে কোথাও যাও নি, তাই তো বেশি টেনশনে পরে গিয়েছিলাম আমরা। নাহিল ভাই এসেছিলো বলেই তো বেঁচে গেলে তোমরা। "

তারা দুজনেও তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তখন সেই ছেলেগুলো অনেকক্ষণ ধরে তাদের নিয়ে মজা করছিলো। কলেজ ড্রেস পড়া ছিলো বলে বেশি মজা করছিলো। সাফিয়া, ইলা দুজনেই অনেক আনকমফোর্টেবল ফীল করছিলো। তারা কোন উত্তর না দিয়ে নিজেদের মতোই বসে ছিলো। যেহেতু খাবার অর্ডার দিয়ে ফেলেছে, তাই উঠে চলে যেতেও পারছিলো না। ছেলেগুলো শুধু কথা বলাতেই থেমে থাকে নি,,, কাছে ঘেঁষতেও এসেছিলো।

তখনই ইলা সামনে নাহিলকে তাদের দিকেই আসতে দেখে ভয় পেয়ে যায়। নাহিল এসেই সেই ছেলেটিকে ধরে আগে ইচ্ছে মতো পি'টায়। তার বোনকে টাচ করার চেষ্টা করেছে। নাহিলের সাথে কিছু বন্ধুও ছিলো তার। তারা সংখ্যায় বেশি দেখে সেই বখাটেগুলো কিছুই করতে পারে না। তাড়াতাড়ি করে লেজ গুটিয়ে পালায় শুধু।

নাহিল রে'গে ইলার দিকে তাকিয়ে বকা'বকি করতে গেলে পাশে সাফিয়াকে দেখে বলে,,

--- " আরে বাহ, তুমিও সাথে আছো দেখছি। যেই মেয়ে উঠতে বসতে খালি পরে যায়, নিজেকেই সামলাতে পারে না। সে এসেছে কলেজ থেকে পার্কে ফুচকা খেতে। "

সাফিয়া তো এমনিতেই শান্ত স্বভাবের মেয়ে। নাহিলের এমন খোঁচানো মার্কা কথা শুনেও কিছুই বলে না। নাহিল তারপর ইলার দিকে তাকিয়ে বলে,,

--- " তুই বাসায় চল। তারপর তোকে মজা দেখাচ্ছি। খাওয়াচ্ছি তোকে ফুচকা। "

ইলা এমনিতে হলে নাহিলের কথার পাল্টা উত্তর করতো। কিন্তু এখন তাদেরই দোষ, তাই কিছুই বলতে সাহস পায় না৷ তাদের কথার মাঝেই নাওরা সেখানে উপস্হিত হয়। সাফিয়াই তখন নাওরাকে ফোন দিয়ে আসতে বলেছিলো। নাওরা এসেই দুজনকে কিছু কথা শুনায়।

নাওরার কথার মাঝে নাহিল একদম চুপচাপ ছিলো। যতই হোক, ভাবী হয় তার। একটু তো সম্মান দিতেই হয়।

সবশেষে সেখান থেকে চলে যাওয়ার কথা উঠলে, নাওরা নিজেও একটু থেমে যায়। এভাবে ফুচকা সামনে রেখে চলে যাওয়াটা অনেক কষ্টকর। তাই নিজেই এবার মিনমিন করে বলে,,,

--- " নাহিল ভাইয়া, বলছিলাম কি,,,এসেছি যখন ফুচকাটা খেয়েই যাই? "

নাওরার কথায় ইলা মিটমিটিয়ে হেসে দেয়। এখন ভাইয়া কি করবে? একটু আগেই তো তাকে বললো আর ফুচকা খেতে দিবে না। এখন নাওরা আপু খেলে তো সেও বাদ যাবে না।

--- " হ্যা রে,নাহিল। মেয়ে মানুষ ফুচকা রেখে যেতেই পারে না। "

নাওরা দেখে নাহিলে পাশে হাসিমুখ করে সিয়াম দাড়িয়ে আছে। সিয়ামকে দেখে নওরা বলে,,

--- " সিয়াম ভাই, আপনি এখানে? আগে খেয়াল করি নি আমি। "

--- " খেয়াল করবে কিভাবে? যেই রণ'চন্ডী রুপে ছিলে তখন৷ "

নাওরা ভাবতে থাকে আসলেই কি সে বেশি রে'গে গিয়েছিলো নাকি। হয়তোবা,,এমনিতেই তো নাফসানের সাথে রে'গে তার মেজাজ ভালো নেই। আজকে সারা ক্লাসে একবারও নাফসানের দিকে তাকায়ই নি। দু-একবার চোখে চোখ পরলেও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। কথাই বলবে না লোকটার সাথে। যেদিন সব নিজে থেকে স্বীকার করে মর্যাদা দিয়ে বাসায় তুলবে, সেদিনই সব মেনে নিবে সে। তারও তো মান-সম্মান বলে কিছু একটা আছে। বউ হয়ে জামাইয়ের উপর কাঠি না ঘুরালে চলে নাকি!!!

শেষে নাহিল বাধ্য হয়ে সবার জন্য ফুচকা অর্ডার দেয়। যদিও টাকাটা সিয়াম দিয়েছে। নাওরা নিজেই দিতে চেয়েছিলো। তবে সবাইকে রেখে সিয়াম বিল দিয়ে চলে আসে। নাহিল সিয়ামকে সবসময়ই পর্যবেক্ষণ করছিলো। বন্ধুটা অনেক বড় ভুল করছে জেনেও বাধা দিতে পারছে না। কি বলবে সে, তার ভাই-ই তো এখনে কিছুই প্রকাশ করে নি। ভাইয়ের জানানোর অপেক্ষায় বসে আছে সে।

🌿

মাঝখানে দুই দিন পার হয়ে যায়। নাওরার সাথে নাফসানের কোন কথা হয় না৷ কথা হয়না বললেও ভুল হবে,, কথা হয় তো, ক্লাসে। নাফসান প্রশ্ন করে, আর নাওরার উত্তর দেওয়া লাগে। এর বাহিরে কোন কথা নেই তাদের। নাওরা তো নিজ থেকে আর ফোন দেয় না। নাফসানও দেয় না। এতে নাওরার আরও অভিমান হয়েছে। সে তো সেইদিন রে'গেই ফোন কেটে দিয়েছিলো। নাফসান কেন তারপরও তার মান ভাঙানোর চেষ্টা করলো না।

একদমই ভালোবাসে না তাকে। শুধু শুধুই বিয়ে করেছে অভিনয় করে। নাওরা তো ধরে নিয়েছিলো নাফসান তাকে ভালোবাসে। তবে কেন সেটা কাজে প্রকাশ করে না। কেন অন্যান্য প্রেমিকদের মতো ফোন দিয়ে খবর নেয় না? কেন একটু দেখা করতে চায় না? কেন একটু ভালো করে কথা বলে না?

ভালোবাসা বলতে তো নাওরা এসবই বুঝে। তারা তো মেরিড এখন। কেন তাদের বিয়ের ব্যপারটা প্রকাশ করে বাসায় তুলে নিছে না। নাওরা যে এখন বড্ড অপরাধবোধে ভুগে। মামা-মামী জানলে যে অনেক কষ্ট পাবে।

নাফসান যদি কখনো তার ভালোবাসাটা প্রকাশ করতো, তবে নওরা হয়তো নিশ্চিন্তে মামা-মামীকে তাদের বিয়ের কথা জানিয়ে দিতো। মামা-মামীকে বলতে পারতো তার একটা নিশ্চিন্ত আশ্রয়স্হল আছে। যার সাথে তার বিয়ে হয়েছে, লোকটা তাকে ভালোবাসে। সে সুখে থাকবে সেখানে।

🌿

--- " নাওরা, তোমার সাথে আমার একটু কথা ছিলো। "

নাওরা মাত্রই বান্ধবীদের নিয়ে ক্যান্টিনে এসে বসেছে। তখনই সিয়াম এসে সেখানে উপস্হিত হয়।

--- " জ্বি, বলুন ভাইয়া। "

সিয়াম একবার রুপা, রিচির দিকে তাকিয়ে বলে,,

--- " মানে, একটু আলাদা কথা বলা যাবে? একটু পারসোনাল কথা। "

রুপা, রিচি তাকে ইশারায় না করে। তারা আগেই বুঝতে পারছে সিয়ামের হয়তো নাওরার প্রতি কোন ফিলিংস আছে। হয়তো প্রোপোজ করবে। নাওরা নিজেও ব্যপারটা আন্দাজ করতে পারে। তবে এখন কিভাবে না করবে বুঝতে পারছে না।

হটাৎই সামনে তাকিয়ে নাহিলকে হন্তদন্ত হয়ে কোথাও যেতে দেখে নাওরা অবাক হয়। সিয়ামকে একটু অপেক্ষা করতে বলে নাওরা নাহিলের কাছে যায়।

--- " ভাইয়া, কি হয়েছে? এভাবে তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছেন? "

--- " আরে, তুমি ভার্সিটিতে এখনো? যাও নি ভাইয়ার কাছে? আমি আরও ভেবেছি তুমি হয়তো ফ্ল্যাটে আছো। "

নাওরা চমকে যায় নাহিলের কথায়৷ চিন্তিত হয়ে বলে,,

--- " কেন? কিছু হয়েছে কি? "

--- " আরে, ভাইয়া অসুস্হ। জ্বর আসছে নাকি। ভাইয়ার জ্বর আসলে একদম কাহিল হয়ে পরে। কিছুই করতে পারে না। "

নাওরা নিজেও ভয় পেয়ে যায়। তাই তো আজ নাফসান ভার্সিটি আসে নি।

--- " ভাইয়া, আমিও যাবো। "

--- " তো চলো। তাড়াতাড়ি আসো। "

নাওরা তাড়াতাড়ি এসে রুপা, রিচিকে বলে চলে যেতে নিলেই সিয়াম আটকায়।

--- " নাওরা, তোমার সাথে কথা আছে বললাম যে। কোথায় চলে যাচ্ছো? "

--- " ভাইয়া, আজকে না। প্লিজ আর্জেন্ট পরে গেছে। আমি চললাম। "

বলেই সিয়ামকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে যায়। সিয়াম মুখ কালো করে সেখানেই দাড়িয়ে থাকে। সে তো আজ নাওরাকে সব জানাতে চেয়েছিলো। পারলো না জানাতে।

মন খারাপ করেই চলে যেতে নিলে দেখে নাওরা নাহিলের সাথে কোথাও যাচ্ছে। তাদের একসাথে দেখে সিয়াম অবাক হয়। নাওরা কেন নাহিলের সাথে বেরিয়ে গেলো। তার বিষয়টা একদমই পছন্দ হয় না। তার সব জানতে হবে। আর সুযোগ দেওয়া যাবে না। দরকার পরলে নাওরাকে না জানিয়েই সোজা বাসায় প্রস্তাব নিয়ে যাবে। একেবারে আংটি পড়িয়ে বিয়ে ঠিক করে পরে আসবে।

🌿

নাহিলের কাছে থাকা ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে তারা বাসায় প্রবেশ করে। দুজনেই গিয়ে দেখে নাফসান কম্বল গায়ে জড়িয়ে শুয়ে আছে। শরীরে কাপুনি স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। নাওরা কপালে হাত দিয়ে দেখে অনেক জ্বর শরীরে। নাফসানের কপালে রাখা তার হাতটাও যেন জ্ব'লে যাচ্ছে। নাওরা অস্থির হয়ে বলে,,

--- " ভাইয়া, ওনার মাথায় পানি দিতে হবে। নয়তো জ্বর মাথায় উঠে গেলে বিপদ হয়ে যাবে। "

কিন্তু নাফসানের এই অসুস্হ শরীর নিয়ে ওয়াসরুমে নেওয়াও অসম্ভব। জ্বরের ঘোরে শরীর একদম ছেড়ে দিয়েছে। এখন তার কাছে কে এসেছে, কি বলছে, কোন হুশ নেই তার।

নাহিল ওয়াসরুম থেকে বালতি করে পানি নিয়ে আসে। নাওরা ততক্ষণে কোনরকমে বোরখা হিজাব খুলে ওরনার মতো করে গায়ে জড়িয়ে নেয়। নাহিল বালতি করে পানি নিয়ে আসতেই নাওরা নাফসানের পাশে বসে মাথায় পানি দিয়ে দিতে থাকে।

নাফসানের এসবের কোন হোশ জ্ঞান নেই। একরকমে বিছানায় পরে আছে। তার আশে পাশে কি হচ্ছে, কোন খেয়াল নেই তার।

নাওরা পানি দেওয়া অবস্হাতেই হটাৎই বাসায় নাফসানের মা মাহমুদা বেগম এসে উপস্হিত হন। ওনাকে এই সময় দেখে নাওরা চমকে যায়। নাওরা আগে একদমই ভাবে নি, ছেলের অসুখে যে মা এভাবে চলে আসবে। ওর খেয়ালই ছিলো না।

আসলে প্রায়দিনই নাহিল ডিপার্টমেন্টে গিয়ে নাফসানের সাথে দেখা করে আসে। আজও গিয়ে নাফসানকে না পেয়ে ফোন দিতেই নাফসান জানায় তার শরীর ভালো নেই। তারপর বারবার ফোন দিতে থাকলেন নাফসান না ধরতেই নাহিল বুঝে ফেলে। তাই আগেই মা-কে ফোন দিয়ে সেও বেরিয়ে পরেছিলো। পথে নাওরার সাথে দেখা হওয়ায় সাথে করে নিয়ে এসেছে৷ মা-ও যে আসছে, সেটা তার মাথাতেই ছিলো না।

মাহমুদা বেগম এসেই আগে ছেলের কাছে দৌড়ে আসেন। ছেলের গায়ে হাত দিয়ে এত জ্বর দেখে মাথা খারাপ হয়ে যায়। নাফসানের তেমন অসুখ হয় না। তবে যখন হয়, তখন সিরিয়াস হয়ে যায়। এটাই বড় টেনশন। কতো করে বলেছে ছেলেকে বাসাতেই থাকার জন্য। নাফসানই জেদ করে এভাবে একাকী থাকা শুরু করেছে। এখান থেকেই নাকি ভার্সিটি যাতায়াত বেশি সুবিধা।

মাহমুদা বেগমকে দেখে নাওরা মাথায় পানি দেয়া থামিয়ে দিতেই তিনি নাওরাকে একটা ধমক দিয়ে বলে,,

--- " পানি দেওয়া বন্ধ করেছো কেন? পানি দিতে থাকো, আমি নাফসানের শরীর মুছিয়ে দিচ্ছি। "

নাওরা চমকে গেলেও আপাতত কিছু না ভেবে আবারও পানি দিতে থাকে। আগে নাফসানের সুস্হতা জরুরি। পরে বাকি সব দেখা যাবে।

নাওরা বেশ যত্ন সহকারে চোখ-মুখ ভিজিয়ে পানি দিতে থাকে। এটা সে বেশ ভালোই পারে। বাসায় কারও জ্বর আসলে এই কাজটা নাওরাই করে।

মাথায় বেশ অনেকক্ষণ পানি দেওয়ায় নাফসানের জ্বর কিছুটা কমে আসে। মাহমুদা বেগম নাফসানের কম্বল সরিয়ে হাতে, গলায় যতটুকু সম্ভব পানি দিয়ে মুছিয়ে দিতে থাকে। একটু গোছল করাতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এমন দামড়া ছেলেকে টেনে গোছল করানো সম্ভব না।

ছেলে বড় হয়েছে, মা চাইলেই সব পারেন না এখন। নাহিলকে বলতে সে চেষ্টা করেও পারে না। তাই আপাতত জ্বর কমলেই হবে।

🌿

অনেকক্ষণ পর নাফসানের জ্বর কমতেই তার হোশ আসে। মায়ের কথা শুনে বুঝতে পারে মা এসেছে। তবে মা ছাড়াও আরও একজনের উপস্হিতি অনুভব করতে পারছে। কোন রকমে চোখ খুলে পাশে নাওরাকে দেখে মুখে হাসি ফুটে উঠে। ভেবেছিলো নাওরা হয়তো জানেই না। সে ছাড়া জানানোর কে আছে?

নাফসানকে একটু হুশে দেখে মাহমুদা বেগম নাহিলকে বলেন ধরে নিয়ে একটু গোছল করিয়ে আনতে। তাহলে জ্বরটাও কমবে, শরীরেও আরাম পাবে। ততক্ষণে তিনি নাওরাকে নিয়ে রুমের বাহিরে যান।

নাওরা তো ভয়ে ভয়েই মাহমুদা বেগমের পিছু পিছু ঘুরছে। মহিলাকে আজ এমন অন্যরকম লাগছে কেন? তার সাথে তো কোন কথাই বলছে না। আবার তাকেই সাথে নিয়ে ঘুরছে।

নাওরার ভাবনার মাঝেই হটাৎ মাহমুদা বেগমের কন্ঠ শুনে নাওরা চমকে উঠে।

--- " বাসায় কি কিছু রান্না করা আছে? "

নাওরা মিনমিন করে উত্তর দেয়,,

--- " আমি জানি না আন্টি। "

--- " রান্নাঘরের কোথায় কি আছে জানো কিছু? "

নাওরা আবারো না-বোধক উত্তর দেয়। এতে মাহমুদা বেগম মুখ কুঁচকে নিজেই সব নামিয়ে রান্নার বন্দোবস্ত করতে থাকে। বাসায় রান্না করা কিছুই নেই। নাফসান বোধহয় সকালেও খায় নি কিছুই। না খেয়েই এভাবে বিছানায় পরে ছিলো।

অপরদিকে নাওরা ভাবছে, নাফসানের মা কি তাকে চিনতে পারে নি নাকি। এভাবে নাফসানের ফ্ল্যাটে নাফসানের পাশে তাকে দেখেও কোন রিয়েকশন দিচ্ছে না। নাওরা তো কিছুটা ভয়েই কাচুমাচু করে দাড়িয়ে থাকে।

তাকে ওভাবেই দাড় করিয়ে রেখে মাহমুদা বেগম নিজেই হালকা পাতলা কিছু ছেলের জন্য রান্না করেন। ছেলেকে খাইয়ে ঔষধ খাওয়াতে হবে। রান্না শেষে আবারো নাওরাকে সাথে নিয়ে রুমে যায়৷

নাহিল ততক্ষণে ভাইকে গোছল করিয়ে বিছানায় এনে বসিয়েছে। যদিও নাফসান একাই সব করেছে, নাহিল শুধু সাহায্য করেছে।

মা রুমে এসে নাওরার হাতে খাবারটা ধরিয়ে দিয়ে বলেন,,

--- " যাও, আমার ছেলেকে খাইয়ে দাও। ওর অসুস্থ শরীর, একা খেতে পারবে না। "

নাওরা ভয়ে ভয়ে বলে,,

--- " আ-আমি যাবো? "

--- " তোমাকেই তো বলেছি যেতে। যাও তাড়াতাড়ি, নাফসানকে ঔষধ দিতে হবে। "

নাওরা সংকোচ নিয়েই খাবার নিয়ে নাফসানের পাশে বসে। মাহমুদা বেগম একটা স্যুপ বানিয়েছেন, সেটাই খাইয়ে দিতে হবে। নাফসানের জ্বর কমতেই সে সব বুঝতে পারছে। নাহিলের থেকেই জেনেছে, নাহিলই নাওরাকে নিয়ে এসেছে।

সে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে বউ-শ্বাশুরির কাহিনী দেখছে। মুখে তার মৃদু হাসি। যেন এসব দেখে সে পরিতৃপ্তি পাচ্ছে।

নাওরা ভয়ে ভয়েই নাফসানকে খাইয়ে দিতে থাকে। নাফসান মৃদু হাসি নিয়েই আরাম করে খেতে থাকে। নাফসানকে হাসতে দেখে নাওরা চোখ পাকিয়ে তাকায়। তাকে বিপদে ফেলে দিয়ে এখন হাসছে। কত খারাপ একটা লোক। এভাবেই তো সর্বদা তাকে বিপদে ফেলে দিয়ে নিজে আরামে বসে থাকে।

অবশ্য এখন আরামে নেই। অসুখ নিয়ে বসে আছে। নাওরা ভেবেছিলো আর কথাই বলবে না নাফসানের সাথে। আর এখন বসে বসে সেবা করতে হচ্ছে। তাকে অবলা নারী পেয়ে শ্বাশুড়ি-জামাই মিলে ইচ্ছে মতো ঘুরাচ্ছে।

একদিকে শ্বাশুড়ি জোড় করে ধরে তাকে দিয়ে জামাইয়ের সেবা করাচ্ছে, অপরদিকে জামাই বসে বসে মিটিমিটি হাসছে। এরা মা-ছেলে এমন রহস্যময় কেন? নাওরা একদমই বুঝতে পারে না এদের,,,,,

চলবে.....

( মনে শান্তি নেই একদম। ১৬ তারিখ এক্সাম আছে। কত কাজ বাকী,, কিছুই করি নি এখনও। সব না শেষ করা পর্যন্ত শান্তি হবে না। গল্পের পর্বগুলো ছোট মনে হলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এর চেয়ে বেশি লিখতে পারছি না। আর সবাই গঠনমূলক মন্তব্য করবেন প্লিজ। ❤️)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন