#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ
#মায়িশা_নুরাইন
#পর্ব_২৫
(কপি করা নিষেধ)
নাওরার ঘুম ভাঙতেই সে বুঝতে পারে কেউ তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে। ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকিয়ে দেখে সে নাফসানের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ। তার সারা শরীরে এক শিহরণ বয়ে যায়। সেদিনও নাফসান রাতে তাকে এভাবেই জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছিলো। নাওরা কোন শব্দ না করে আলগোছে নাফসানের বাহুবন্ধন থেকে সরে যেতে নিলে, নাফসানের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভাঙতেই নাফসান তাকে না ছেড়ে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ গুজে দেয়।
--- " ছাড়ুন না। "
--- " উহু,, আরেকটু থাকো। আমার এখনও ঘুম ভাঙে নি। "
--- " ঘুম না ভাঙলে কথা বলছেন কিভাবে? "
--- " আমি তো স্বপ্নে আছি। যেমন স্বপ্নে এখন তোমায় চুমু খাবো। "
বলেই হটাৎই উঠে নাওরার ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে চুমু দেয়। নাওরা কোন রিয়েকশন দেওয়ারই সুযোগ পায় নি। চুমু দিয়ে নাফসান একটু সরতেই নাওরা আচমকা নাফসানের বাহুতে একটা কি'ল দিয়ে বসে।
--- " অসভ্য বেডা। "
নাফসান নিজের বাহুতে হাত দিয়ে বলে,,
--- " মারলে কেন? তোমার তো সাহস বেশি হয়ে গেছে দেখছি। টিচারের গায়ে হাত তুলেছো তুমি। "
--- " বেশ করেছি। আপনি টিচার হয়ে স্টুডেন্টের সাথে অভদ্রতা করছেন কেন? "
--- " আমি আমার বউকে চুমু দিয়েছি। "
--- " আমিও আমার জামাইকে মে'রেছি। "
--- " বেয়াদব মেয়ে,,,"
বলেই নাফসান তার ঘাড়ে একটা কা'মড় দিয়ে বসে। নাওরা নাফসানের চুল খা'মচে ধরে সরিয়ে দেয়। তারপর ধা'ক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে সে দ্রুত বিছানা থেকে নেমে পরে।
--- " আরেকবার কাছে আসলে খবর আছে, বলে দিলাম। "
--- " একশবার আসবো। কি করবে তুমি? "
বলেই নাফসান উঠতে নিলে নাওরা উল্টো দৌড়ে ওয়াসরুমে চলে যায়। নাফসান নাওরাকে এভাবে দৌড়ে যেতে দেখে হেসে ফেলে।
🌿
নাওরা আজ রাতে সাধারণ ভাত তরকারি রেধেছে। আগে ভাবতো তরকারি রান্না করা অনেক সহজ। শুধু সব সিদ্ধ হলেও তো হয়ে যায়। কিন্তু নিজে রান্না করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছে, কোন কিছুই সহজ নয়।
সব কেমন যেন আধা সিদ্ধ হয়ে আছে। নাওরা একটা আলুর টুকরা মুখে দিয়ে দেখে ওইটাও কেমন কচকচ করছে। তাই মন খারাপ করে নাফসানের কাছেই যায়।
নাফসান তখন উপুর হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। নাওরা গিয়ে নাফসানের হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে।
--- " ও স্যার, উঠুন না। আমি জানি আপনি ঘুমান নি। উঠুন প্লিজ। "
নাফসান অলস ভঙিতে বলে,,
--- " কি সমস্যা? এভাবে টানাটানি করছো কেন? "
--- " স্যার, একটু আসুন না। "
--- " কোথায় আসবো? "
--- " রান্নাঘরে। আপনি কিসব সবজি আনছেন। একটাও ভালো না। সিদ্ধ হয় না তো। "
--- " রান্না পারো না, সেটা বলো। আমার বাজার করার দোষ দিচ্ছো কেন? "
--- " দোষ আপনারই। আমি রান্না পারি। শুধু আপনার আনা সবজিই ভালো না। "
নাফসান আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে। তারপর নাওরার দিকে তাকাতেই নাওরা ইনোসেন্ট ভঙিতে তার দিকে তাকায়। নাফসান ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে রান্নাঘরে গিয়ে দেখে,,
নাওরা তরকারিতে না মসলা ঠিক দিয়েছে, আর না পানি ঠিকঠাক দিয়েছে।
নাফসান বিরক্ত হয়ে বলে,,
--- " তোমার চেহারা টাই শুধু সুন্দর আছে। কিন্তু মুখের ভাষা আর কাজকর্ম, একটাও ঠিক নেই। "
বলে নিজেই রান্না করা শুরু করে। নাওরার মন খারাপ হয়ে যায়। সে রান্না পারে না, এটা তো নাফসান জানেই। তাও তাকে এভাবে অপমান করলো। সে যে চেষ্টা করলো, এটার কোন দাম দিলো না।
তাই সে নিঃশব্দে নাফসানের পিছন থেকে সরে গিয়ে পাশের রুমে বসে থাকে। নাফসান পিছু ঘুরে নাওরার সাথে কথা বলতে নিলে দেখে নাওরা পিছনে নেই। আপাতত নাফসান কিছু না বলে আগে রান্না শেষ করে।
তারপর নিজের রুমে গিয়ে নাওরাকে না পেয়ে পাশের রুমে গিয়ে দেখে নাওরা চুপচাপ শুয়ে আছে। নাফসান মৃদু হেসে নাওরার পিছনে গিয়ে নাওরাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরে। নাওরা তবুও কোন নড়াচড়া করে না। তাই নাফসান তাকে জোড় করে তার দিকে ফিরায়। নাওরা তবুও চোখ বন্ধ করে মুখ ফুলিয়ে থাকলে নাফসান হেসে তার গালে চুমু দেয়। তারপর একে একে কপালে গালে দিয়ে ঠোঁটে চুমু দিতে নিলে নাওরা তাকে ধা'ক্কা দিয়ে সরিয়ে বলে,,
--- " সমস্যা কি আপনার? "
--- " তোমার কি সমস্যা? "
--- " সরুন এখান থেকে। দূরে যান। একদম কাছে আসবেন না। সবসময় খালি অসভ্যতামি করার চেষ্টা করেন৷ "
নাওরা ভেবেছিলো সে রাগ দেখালে হয়তো নাফসান রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে নাফসান চুপচাপ উঠে চলে যায়। নাওরা হতভম্ব হয়ে যায়৷ সে কি একটু বেশী করে ফেললো নাকি। নাফসান নিশ্চয়ই রা'গ করে চলে গিয়েছে। এখন তো সে পিছু পিছু যেতেও ভয় পাচ্ছে।
নাওরা তো নাফসানের রা'গ দেখেছে। এখন যদি রে'গে তাকে মা'রতে আসে!! খালি ঘরে সে নিজেকে বাঁচাবে কিভাবে। পরে আবার ভাবতে থাকে নাহ,, নাফসান তো ভালো ছেলে। কিছুই করবে না বোধহয়। বউ হয় সে,,,
তাই সে ভয়ে ভয়ে নাফসানের কাছে গিয়ে দেখে নাফসান ফোন হাতে নিয়ে বসে আছে। সে ধীরে ধীরে নাফসানের কাছে গিয়ে বলে,,,
--- " স্যার, ভালো আছেন? "
--- "...."
--- " স্যার, রা'গ করেছেন? "
--- "...... "
--- " স্যার,, স্যরি। আর করবো না। "
--- " কি করবে না? "
--- " আর ধাক্কা দিবো না আপনাকে। "
--- " কখন ধাক্কা দিয়েছো আমায়? "
--- " ওই তো, যখন ক-কিস করতে গেলেন। "
--- " কাজটা ঠিক করেছো কি? "
নাওরা মাথা নেড়ে জানায়, সে ঠিক করে নি। তাই নাফসান মনে মনে দুষ্টু বুদ্ধি এনে বলে,,,
--- " তো যেই কাজটা আমায় করতে দাও নি, সেটা এখন নিজে শেষ করো। "
--- " আ-আমি? "
--- " হুম। তুমি করবে। "
--- " না করলে হয় না? "
--- " নাহ, হবে না। দাও তাড়াতাড়ি। "
নাফসান যেভাবে গম্ভীর হয়ে কথা বলছে, তাকে দেখে মনে হচ্ছে সত্যিই সে রে'গে আছে। কিন্তু সত্যি তো সে আসলে মজা করছে নওরার সাথে। নাওরা সত্যি ভেবে সংকোচ নিয়ে এগিয়ে গিয়ে নাফসানের গালে ঠোঁট ছোয়াতেই নাফসান উল্টো চেপে ধরে ঠোঁটে চুমু দেয়।
তারপর নাওরাকে ধরে রেখেই হেসে বলে,,
--- " এখন ঠিক আছে। নিজে তো কাছে যেতে মানা করে এখন নিজেই কোলে বসে আছো। "
নাওরা এতক্ষণে বুঝতে পারে নাফসান এতক্ষণ মজা করছিলো। তাই সে বলে,,
--- " আবারও অভিনয় করলেন। "
--- " তুমিও তো বোকা হলে। আমার বোকা বউটা,,,"
এভাবে তাদের খুনশুটি চলতে থাকলে একসময় নাফসান বলে,,,
--- " নাওরা,, আমি সত্যিই আমার চাচ্চুকে খুঁজে বের করবো। তারপর ওনার শাস্তির ব্যবস্হা করবো। আমি কিন্তু একদম মিথ্যা বলছি না। "
--- " আমি জানি। আপনি আপনার কথা রাখবেন। তাই তো আমি কোন সংকোচ ছাড়াই আপনার সাথে এসেছি। আমিও মামাকে দেখাতে চাই, আমার স্বামী নিজে থেকে আমার বাবা-মায়ের খু'নির শাস্তির ব্যবস্হা করেছে। সে কথা রেখেছে। "
--- " আমায় বিশ্বাস করো নাওরা? "
নাওরা কিছুক্ষণ থেমে বলে,,
--- " হুম, করি। অনেক বিশ্বাস করি। "
--- " কেন করো? তোমার সাথে তো আমার পরিচয় কিছুদিনের। "
--- " জানি না কেন করি। কিন্তু আপনাকে দেখে বাজে লোক মনে হয় না। "
--- " কিন্তু নিজেই তো কথায় কথায় বলো, আমি অসভ্যতামি করি তোমার সাথে। "
--- " তা তো বউয়ের সাথে করেন৷ বিয়ের আগে তো অন্য কারো সাথে কিছু করেন নি। "
--- " শিউর হলে কিভাবে? ভার্সিটির আগে তো আমায় তুমি চিনতে না। "
নাওরা ভ্রু কুচকে বলে,,
--- " আগে থেকেই না আপনি আমায় ভালোবাসতেন? "
--- " কি জানি। মিথ্যেও তো বলতে পারি। "
নাওরা উঠে দাঁড়িয়ে নাফসানের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলে,,
--- " যদি কখনো কিছু জানতে পারি না,,,একেবারে শেষ করে দিবো আপনাকে। আমাকে তো এখনো চিনতে পারেন নি। বুঝিয়ে দিবো এই নাওরা কে!!"
নাফসান হেসে বলে,,
--- " আচ্ছা, বসো আগে। একটা জিনিস দেখাই,,"
--- " কি দেখাবেন? আপনার কোন প্রেমিকার ছবি? "
নাফসানও শয়'তানি হাসি দিয়ে বলে,,
--- " অবশ্যই,, আমার বাচ্চা প্রেমিকার ছবি দেখাবো। "
নাওরা তো বেশি কৌতুহলী হয়ে যায়। নাফসান উঠে গিয়ে আলমারির এক বিশেষ জায়গা থেকে ছোট্ট একটা বক্স বের করে আনে। বক্সটা দেখে নাওরা বলে,,
--- " বাহ বাহ। প্রেমিকার ছবি এত সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছেন৷ এখন আবার বউকে এনে দেখাচ্ছেন?"
--- " আগে খুলে দেখো তো। "
নাওরা মুখ ভেঙচি দিয়ে বক্সটা খুলে তাকে দেওয়া নাফসানের সেই ঘড়িটা দেখতে পায়। ঘড়িটা হাতে নিয়ে বলে,,
--- " আপনার তো সাহস কম না। প্রেমিকার বক্সে আমার ঘড়ি রেখে দিয়েছেন। "
বলেই তাড়াতাড়ি করে ঘড়িটা হাতে পরে নেয়। তারপর বক্সটা হাতে নিয়ে ভিতরে ছোট্ট একটা জিনিস দেখতে পায়। হাতে নিয়ে দেখে ছোট্ট একটা ক্যামেরা। দেখেই সে চিনে ফেলে এটা তার বাবার দেওয়া সেই ক্যমেরাটা, যেটা সে হারিয়ে ফেলেছিলো।
নাওরা ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে নাফসানের দিকে তাকাতেই নাফসান বলে,,
--- " চিনতে পেরেছো? তোমার বাবা দিয়েছিলো নাহ? ফেলে চলে গিয়েছিলে। তারপর থেকে এটা নিজের কাছেই রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম তোমাকে কখনো খুঁজে পেলে এটা গিফট দিবো৷ কিন্তু তার আগেই তো তোমাকেই গিফট হিসেবে পেয়ে গেলাম। তাই আজ আমার বউ হিসেবে তোমার জিনিস ফেরত দিলাম। "
নাওরা অনেক খুশি হয়ে যায়। খুশির ঠেলায় নিজে থেকেই নাফসানকে জড়িয়ে ধরে। তারপর দুজনে মিলে বসে তার ছোটবেলার নিজ হাতে তোলা ছবিগুলো দেখে, অনেক মজা করে। আজকের দিনটার শুরুটা ভয়ঙ্কর হলেও,, শেষটা অনেক সুন্দর ছিলো। নাওরা আজ তার জীবনের কিছু সত্যি জানতে পেরেছে। সাথে একজন বিশ্বস্ত মানুষকে পেয়েছে, যে তাকে সর্বদা আগলে রাখবে। তার চেয়ে ভালো কথা হচ্ছে, নাওরাকে আর তাদের বিয়েটা লুকিয়ে রাখতে হবে না। সে এখন সবাইকে বলতে পারবে,, নাফসান তার স্বামী। তার ভালোবাসা,,,
🌿
আজ বেশ কয়েকদিন পর নাওরা ভার্সিটিতে এসেছে। তাকে দেখে রুপা, রিচি দুজনই চেপে ধরে। কোথায় ছিলো এতদিন সে। তাকে তো ফোন দিয়েও পাওয়া যায় নি।
নাওরা তাদের দুজনকে সব খুলে বললে রুপা বিরক্ত হয়ে বলে,,
--- " তোকে তো আগেই বলেছিলাম, ওই সিয়াম ছেলেটাকে একটুও সুবিধার লাগে না। সবসময় তোর দিকেই তাকিয়ে থাকতো। এখন আবার বিয়ে করতে চলে গিয়েছিলো। ফা'লতু ছেলে একটা। "
রিচিও সাথে তাল মিলায়।
--- " রুপা ঠিক বলেছে রে। আসলেই সিয়াম ভাইও ভালো না। দেখলি না, আমাদের নোট দিলো না, তোকেই দিলো শুধু। ভেবেছিলাম শুধুই ভালোবাসে হয়তো, কিন্তু ভালোবাসলে খারাপ কথা বললো কিভাবে। খারাপ ছেলে একটা,, "
নাওরা নিজেও সম্মতি জানায়। সেদিনের পর মামা তার সাথে একবারও কথা বলে নি। যদিও নাওরার অনেক খারাপ লেগেছে,, তবে তার বিশ্বাস নাফসান নিশ্চয়ই মামার সকল অভিযোগ মিথ্যে করে দিবে। তখন নিশ্চয়ই মামা আবারও তাকে মেয়ের মতো কাছে টেনে নিবে।
তবে মামীর মধ্যে তেমন কোন পরিবর্তন নেই। তিনি নাওরার সাথে আগের মতোই ব্যবহার করেন। যেন মাঝখানে কিছুই হয় নি। তাই নাওরা আর ব্যপারটা ঘাটায় নি। চলুক না, যেটা যেমন চলছে। কোন সমস্যা তো আর হচ্ছে না।
তবে মামী বলেছে,, মামা নাকি সবসময় নিজের ভুলের কথাই ভাবেন। তিনি সিয়ামের সাথে বিয়ে ঠিক করে কত বড় ভুলটাই না করতে যাচ্ছিলেন। যদিও নাফসান সঠিক সময়ে এসে বাঁচিয়ে নিয়েছে। তবুও মামা এখনে নাফসানকে মানেন নি। যদিও নাওরাকে এভাবে বিপদ থেকে বাঁচানোর জন্য একটু মন হালকা হয়েছে।
আসলে কিছু কিছু পরিস্হিতিতে মানুষের আসল রুপ বেরিয়ে আসে।
যেমন সবাই তো আগে ভালো ছিলো। নাফসান আসার ওর হটাৎই লামিয়া তার সামনে শত্রুরুপে ধরা দিলো। আর সিয়ামটারও আসল রুপ প্রকাশ পেলো।
কথায় বলে না, শয়'তানের নাম নিতেই শয়'তান হাজির। ঠিক তেমনি লামিয়ার নাম নিতেই লামিয়া এসে তার সামনে উপস্হিত হয়। নাওরা কোনরুপ রিয়েকশন না দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। তবে লামিয়া প্রচুর রে'গে ছিলো। গতরাতেই নাফসানের বাবা তাদের ফোন দিয়ে বিয়ের ব্যাপারটা না করে দেয়। এর আগে পর্যন্ত লামিয়া ভেবেছিলে নাফসান হয়তো পরিবারের কথায় হলেও বিয়েটা করবে। কিন্তু তা তো হলো না,, উল্টো পারিবারিক রিজেক্টও করে দিলো। লামিয়া এটা আর সহ্য করতে পারে না। তার মতে, সব দোষ নাওরার।
--- " কিছু বলবে লামিয়া? "
লামিয়া তার দিকে রেগে তাকিয়ে থাকতে দেখে নাওয়া একটু অবাকই হয়। সে কি করলো আবার,,সে তো গত কয়েকদিন ভার্সিটিতেও আসে নি।
--- " তোমার এত বড় সাহস হয় কিভাবে? আমার থেকে আমার নাফসানকে কেড়ে নেওয়ার সাহস কোথায় পেলে তুমি? "
--- " তোমার নাফসান? কি হয় ওনি তোমার? আর আমি কোথায় ওনাকে কেড়ে নিলাম? "
--- " অভিনয় করছো? তোমার জন্যই আমার বিয়েটা ভেঙে গেলো। আমাদের বিয়ে সেই কবে থেকে ফিক্সড ছিলো জানো? তোমার জন্য আমাদের বিয়েটা ভেঙে গেলো। আমি কিন্তু ছাড়বো না তোমায়,,, "
--- " সে ধরে রাখতে পারো,, সমস্যা নেই। তবে এটা জেনে রাখো, আমি কিন্তু কিছুই করি নি। "
তারপর লামিয়ার কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,,
--- " যা করার তোমার নাফসানই করেছে। আমার কিছুই করতে হয় নি। "
বলেই নাওরা একটা মুচকি হাসি দেয়। লামিয়া এতে আরও রেগে সেখান থেকে চলে যায়। লামিয়া চলে যেতেই নাওরা হাসতে থাকে। তবে কথা হচ্ছে নাফসানের বাবা কেন বিয়েটা ভাঙলো। নাফসান কি তবে তাদের বিয়ের কথাটা সবাইকে বলে দিলো নাকি!!
🌿
কিছুদিন পরই তাদের ভার্সিটিতে নবীন বরণ অনুষ্ঠান। নাওরা এবার অনেক এক্সাইটেড। সে ভাবছে এবার সে অনুষ্ঠানে শাড়ি পরে আসবে। অনুষ্ঠান নিয়ে তার মাথা ব্যাথা নেই। তার একটাই ভাবনা, সে এবার শাড়ি পড়ে এসে নাফসানকে চমকে দিবে। নিশ্চয়ই নাফসান তার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকবে। এসব ভেবেই নাওরা অনেক খুশি হয়ে যায়।
এর মাঝে নাফসানের মায়ের সাথে নাওরার কয়েকবার কথাও হয়েছে। নাওরাকে বারবার বাসায় যেতে বলেন তিনি। কিন্তু নাওরার অনেক লজ্জা লাগে এখন। আগে তো মেয়ের বান্ধবীর বড় বোন হিসেবে গিয়েছিলো। নাফসান ছাড়া আর কেউ তাদের বিয়ের ব্যপারটা জানতো না। কিন্তু এখন তো মাহমুদা বেগম নিজেই জানেন তাদের বিয়ের কথাটা। তাই তার বেশি লজ্জা লাগে। আগের বার গিয়ে গ্লাস ভেঙে এসেছিলো৷ এবার না জানি আবার কোন গন্ডগোল করে আসে।
চলবে......
(গল্পটা কেমন লাগছে? ভালো লাগছে না নাকি? মানে রিয়েকশন তো একটু কমে গেছে। আমি তো আপনাদের রিয়েক্ট দেখেই বুঝি আপনাদের কেমন লাগছে। তাই ভালো লাগলে একটা রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন। পারলে গঠনমূলক মন্তব্য করবেন সবাই। ❤️)