ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত অনুরাগ

২৬তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ

#মায়িশা_নুরাইন

#পর্ব_২৬

(কপি করা নিষেধ)

--- " মামী, যাবো আমি? "

--- " বিয়ের আগে আমাকে জিজ্ঞাসা করে নিয়েছিলি? এখনো করতে হবে না। সাফিয়া যেতে চাইলে নিয়ে যা। "

নাওরার মনটা খারাপ হয়ে যায়। সে যতটাই আগের মতোই ব্যবহার করুক না কেন, এখন যে মামা-মামীর মধ্যে তাকে নিয়ে অন্যরকম ভাবনা এসেছে৷ সেটা সে চাইলে মন থেকে বের করে দিতে পারবে না৷

নাফসানের মা তাকে যেতে বলেছে, এটা মামীকে জানানোর পর মামী কিছুই বলে নি৷ হয়তো মামীও বিশ্বাস করে নাফসানদের সম্পূর্ণ পরিবারটাই ভালো না।

নাওরা আর কিছুই বলে না। খুশি মনে মামীর সাথে একটু কথা বলতে এসেছিলো। কিন্তু মামীর এমন উত্তর শুনে সে মন খারাপ করে রুমে চলে যায়।

মামী বিষয়টা বুঝতে পারলেও কিছুই বলেন না। কি বলবেন তিনি,, যেখানে নাওরার মতো মেয়েদের বাবা-মায়ের খু'নের কথা শুনে সেই পরিবারের উপর যেমন বিতৃষ্ণা হওয়া উচিত। সেসবের কিছুই নাওরার মাঝে দেখা যায় না। উল্টো নাফসানের চাচা খু'নি শুনে উল্টো সেই নাফসানের সাথেই সেদিন চলে গেলো। এখন সেই পরিবারেরই আবার যেতে চাইছে। নাওরার মাঝে এসব বোধবুদ্ধিই হয় নি নাকি!!

যখন নাওরার বাবা-মা মারা যায়, তখন নাওরা বেশ ছোট ছিলো। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে বলে অনেক আদরে বড় হয়েছে। কখনো চারপাশে কি হচ্ছে, এসবে তার কোন খেয়াল ছিলো না। সে তার নিজের মতোই খেলাধুলায় মত্ত থাকতো।

তবে তার বাবা-মায়ের মৃ'ত্যুর পর প্রথম কয়দিন অনেক কান্না করেছে। তারপর হটাৎ চুপচাপ হয়ে গেলো। কয়েক মাসের মাঝেই সে স্বাভাবিক হয়ে সবার সাথে থাকা শুরু করলো।

হয়তো ছোট ছিলো বিধায় সবকিছু সহজেই ভুলে গিয়েছিলো। তবে এখন তো বড় হওয়ার পরও কেন তার মাঝে কোন রিয়েকশন পাওয়া যায় না। কি যে করতে চাচ্ছে মেয়েটা,, কে জানে!

🌿

--- " স্যার, আমি যদি আপনার সাথে থাকি। আপনার কোন সমস্যা হবে? "

--- " মানে? কি হয়েছে হটাৎ? আমার সাথে থাকবে মানে? "

--- " আপনি এমন রিয়েকশন দিলেন কেন? আজকাল আপনি আমায় আপনার ফ্ল্যাটে যেতে বলেন না। আবার এখন আমার থাকার কথা শুনে এমন কথা বলছেন কেন? আমায় আর ভালো লাগে না? "

--- " আজব মেয়ে তো তুমি!! আমি তো শুধু কারণটাই জিজ্ঞাসা করলাম। "

--- " কেনো জিজ্ঞাসা করবেন। আপনার তো আমার আসার কথা শুনে আরও খুশি হওয়া উচিত ছিলো। আর আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি আরও বেজার হয়েছেন। "

--- " আরে বাবা, ঠিক আছে। থাকবে তুমি। আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু কেন হটাৎ এই কথা বললে, সেটাই তো জিজ্ঞাসা করলাম। "

--- " যাবো না আমি। আর আপনার সাথে কথাও বলবো না। মনটা খারাপ ছিলো, আপনি আরও খারাপ করে দিলেন। "

বলেই নাওরা ফোন কেটে দেয়। নাফসান মাথায় হাত দিয়ে বসে। নাওরা আজকাল কথায় কথায় অভিমান করে। শুধু তার সাথেই না, সবার সাথেই এমনটা করে। সেদিনও বলছিলো কি নিয়ে সাফিয়ার সাথে কথা বলা অফ করে দিয়েছিলো। মামার সাথে তো কথা হয়-ই না,,,মামীর সামান্য কথাতেই মন খারাপ করে ফেলে।

নাফসান ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে দেখে রাত দশটা বাজে। এই রাতে তার সাথে অভিমান করে নাওরা ফোন বন্ধ করে বসে আছে। নাফসানের আর এভাবে ভালো লাগছে না। তাই সে সোজা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরে নাওরার বাসায় যাওয়ার জন্য। আগে তো বাসায় যাওয়া যাক,, পরের বিষয় পরেই সামলানো যাবে।

🌿

নাওরা ফোন বন্ধ করে জানালার ধারে বসে ছিলো। মামী এসে রাতের খাবারের জন্য ডেকে গেলেও সে যায় নি। দরজা আটকে রুমে বসে আছে।

কিছুক্ষণ পর দরজায় ক্রমাগত ধা'ক্কায় নাওরার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে তো বলেছেই সে খাবে না, তবুও এত ডাকাডাকির কি আছে!!

তবে দরজা ধা'ক্কানোর শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে দরজা খুলতেই দেখে মাহরু এতক্ষণ শব্দ করছিলো। মাহরুকে দেখেই নাওরা একটা জোড়ে ধ'মক দেয়। হটাৎ ধ'মকে মাহরু ভয়ে চমকে উঠে কান্না শুরু করে। সে তো খুশি মনেই নাওরাকে ডাকতে এসেছিলো। নাওরা যে এভাবে তাকে ব'কা দিবে, সে ভাবে নি।

মাহরুর কান্না শুনে রুবিনা বেগম ভাবেন, হয়তো কোথাও পরে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে। তাই দৌড়ে এসে মেয়েকে দাড়িয়ে কান্না করতে দেখে এসে কান্না থামানোর চেষ্টা করেন। তবে অবাক হন এটা দেখে, যে নাওরা কোন প্রতিক্রিয়াই দেখাচ্ছে না। অথচ মাহরু একটু কান্না করলেই নাওরা আগে এসে সামলানোর চেষ্টা করতো।

--- " কি হয়েছে নাওরা? মাহরু কান্না করছে কেন? "

--- " আমি ধ'মক দিয়েছি তাই। এখন কি এইজন্য আমাকে ব'কবে তুমি? আমি তো ভুল করেছি, ব'কো আমায় এখন। "

রুবিনা বেগম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। আজকাল নাওরা এমন করছে কেন? তিনি তো কিছুই বলেন নি। তাও এমন ব্যবহার।

হটাৎ দরজার কলিং বেলের শব্দ শুনে তিনি মাহরুকে কোলে নিয়ে চলে যান। তিনি গিয়ে দেখেন সাফিয়া ইতোমধ্যে দরজা খুলে দিয়েছেন। সায়েদ ইসলাম তখন ড্রয়িং রুমে বসে ছিলেন।

দরজা দিয়ে নাফসানকে প্রবেশ করতে দেখে সায়েদ ইসলাম উঠে দাড়ান।

--- " তুমি এত রাতে? আমাদের বাসায় কেন এসেছো? "

নাফসান নম্রতার সহিত বলে,,

--- " আমি একটু নাওরার ব্যপারে আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি। "

নাওরার কথা শুনে সায়েদ ইসলাম চুপ হয়ে যান৷ কিছু না বলে চুপচাপ বসে পরেন। রুবিনা বেগম মাহরুকে তার বাবার পাশে বসিয়ে নাফসানকে বসতে বলে। তারপর নাফসানের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্হা করতে গেলে নাফসান আটকায়। সে জানায়,,

--- " কিছুই করবেন না মামী। আপনারা অনুমতি দিলে আমি নাওরাকে নিয়ে একটু বাহিরে বেরুতে চাই। "

সায়েদ ইসলাম থমথমে কন্ঠে বলেন,,

--- " আমাদের অনুমতির কি আছে? সবক্ষেত্রে তো আর আমাদের অনুমতির প্রয়োজন হয় নি। "

নাফসান একটা শ্বাস ফেলে বলে,,

--- " আমি জানি আপনি আমার উপর অনেক অসন্তুষ্ট। তবে আজ জানাচ্ছি,, আমাদের সেই বিয়েতে নাওরার কোন হাত ছিলো না। বরং আমিই ইচ্ছে করে একটা কাহিনী করে নাওরাকে বিয়ে করেছি। যদিও পরে সে আমাদের এই বিয়েটা মেনে নিয়েছে। নাওরা সত্যিই কিছুই জানতো না এসব নিয়ে। আমার ধারণা সে আপনাদের এসব কিছুই জানায় নি। তাই আমিই জানাচ্ছি আপনাদের। "

সায়েদ ইসলাম আর রুবিনা বেগম দুজনেই অবাক হয়ে যান। সত্যিই তো নাওরা তাদের কিছুই বলে নি। আর বলবেই বা কিভাবে,, সেদিনের পর থেকে তো কেউই নাওরার সাথে প্রয়োজন ব্যতীত কথা বলে নি। নাওরা নিজেও নিজেকে ঘরে বন্ধি করে রাখে। একপ্রকার নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে রাখা যাকে বলে।

নাফসান তাদের অবাক দৃষ্টি দেখেই বুঝে যায় সে যা ভেবেছে তাই হয়েছে। আসলেই ওনারা কিছুই জানে না এই বিষয়গুলো নিয়ে। সে আবারও বলে,,

--- " আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নাওরা আজকাল একটু অন্যরকম ব্যবহার করছে। কেননা আমার সাথেও একই ব্যবহার তার। কথায় কথায় মন খারাপ করে ফেলে। আমাদের যতই বিয়ে হোক, আমি কিন্তু নাওরার সাথে থাকি না। কিন্তু আপনারা ওর গার্ডিয়ান,, আপনাদের এসব বেশি খেয়াল হওয়ার কথা। আমার কথায় আপনারা কিছুই মনে করবেন না প্লিজ। আমার এই কথা বলার একটাই কারণ,, সে আজ আমাকে বলেছে সে আমার ফ্ল্যাটে শিফট হতে চাচ্ছে। "

নাফসানের শেষ কথাটা শুনে তারা চমকে উঠেন৷ তবে কি তারা অনেক খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছে নাওরার সাথে, যে নাওরা এখন তাদের সাথে থাকতেও চাচ্ছে না৷

সায়েদ ইসলাম রুবিনা বেগমের দিকে রা'গী দৃষ্টিতে তাকালে তিনি মাথা নিচু করে ফেলেন৷ যেহেতু এই বিয়ের উপর নাওরার কোন হাত ছিলো না, সেক্ষেত্রে তাদের এমন ব্যবহার নাওরার মনে আঘাত হেনেছে৷

সায়েদ ইসলাম কিছুক্ষণ নিরব থেকে বলেন,

--- " তুমি কি করতে চাও এখন? "

--- " আমি এখনি নাওরাকে সাথে নিতে চাচ্ছি না। আমার মায়ের সাথে কথা হয়েছে। ওনি চান পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে দিতে। তবে অবশ্যই আগে শাহেদ খানকে আমি খুঁজে বের করবো, তারপর যা হওয়ার হবে। "

সাহেদ ইসলামের মুখ দেখে মনে হচ্ছে, তিনি হয়তো নাফসানের কথায় কনভিন্স হয়েছেন। তাই তিনি বলেন,,

--- " ঠিক আছে। এইবারের মতো তোমাকে সুযোগ দিচ্ছি। আশা করছি তুমি তোমার কথা রাখবে। "

নাফসান একটা প্রশান্তির হাসি দিয়ে বলে,,

--- " জ্বি। তাহলে নাওরাকে একটু নিয়ে যেতে পারি? "

--- " নিয়ে যাও। তবে রাতে মধ্যে বাসায় দিয়ে যাবে। "

--- " জ্বি মামা,,অবশ্যই দিয়ে যাবো। "

নাফসনা ভাবতে থাকে,,এই সায়েদ ইসলাম সত্যিই নাওরার মামা হয়েও সম্পূর্ণ বাবার দায়িত্ব পালন করছেন৷ নাওরা সত্যিকারের আপনজন খুঁজে পেয়েছে।

নাফসান উঠতে গিয়েও মাহরুর হাতে দুইটা বড় চকলেটের প্যাকেট দেয়। বলে,,

--- " সাফিয়া আপুকে সাথে নিয়ে খাবে। কেমন? "

মাহরু খুশি হয়ে দৌড়ে সাফিয়ার কাছে চলে যায়৷ নাওরা বলেছিলো মাহরু কেমন চকলেট পা'গল, ঠিক তার মতোই। তবে সাফিয়া শান্তশিষ্ট হলেও, সে-ও চকলেট অনেক পছন্দ করে। দুইবোন প্রায়ই এসব নিয়ে কাড়াকাড়ি করে। তাইতো সে দুজনের জন্যই এনেছে। তবে আসার সময় বাসার সবার জন্যই কিছু ফলমূল এনেছে। হটাৎ এমন রাতে আসায় বেশি কিছু করতে পারে নি।

🌿

রুবিনা বেগম নাফসানকে নাওরার রুম দেখিয়ে চলে যান। নাফসান রুমে গিয়ে দেখে নাওরা হাঁটুতে মুখ গুজে বসে আছে। সে নিঃশব্দে গিয়ে নাওরার মাথায় হাত রাখতেই নাওরা চমকে মাথা তুলে তাকায়। সামনে নাফসানকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।

--- " এখনো অভিমান করে আছো? দেখো এই তোমার জন্য এত রাতে চলে এলাম। মুখ ঘুরিয়ে থেকো না প্লিজ। "

নাওরা মৃদু স্বরে বলে,,

--- " এসেছেন কেন? আমি কি বলেছিলাম আসতে? লাগবে না আপনাকে। চলে যান। "

--- " সত্যিই চলে যাবো? "

নাওরা এক পলক নাফসানের দিকে তাকিয়ে আবার মুখ ঘুরিয়ে নেয়। কিছুই বলে না।

--- " উঠো, তৈরি হয়ে নাও। বাহিরে যাবো আমরা,,,"

নাওরা অবাক হয়ে বলে,,

--- " এই রাতে?? "

--- " হুম, উঠো। চলো একটু শান্ত বাতাসে ঘুরে আসি। "

নাওরার মন একটু খারাপ থাকলেও এত রাতে নাফসানকে এভাবে তার জন্য আসতে দেখেই মন ভালো হয়ে গিয়েছিলো। এখন বাহিরে যাওয়ার কথা শুনে আর দ্বিমত করে না৷ এমনিতেও এভাবে রাতে ঘুরতে যাওয়ার তার অনেক শখ ছিলো। তাই সে চুপচাপ উঠে তৈরি হতে চলে যায়।

🌿

নাওরা তৈরি হয়ে বাহিরে আসতেই দেখে মাহরু নাফসানের সাথে বসে আছে। নাফসান তখনই রুমের বাহিরে চলে এসেছিলো। মাহরুকে খুশি মনে চকলেট খেতে দেখে নাওরার একটু খারাপ লাগে। সেই তো একটু আগে মেয়েটাকে কাঁদিয়ে দিয়েছিলো। এখনো চোখে-মুখে কান্নার ছাপ আছে।

তবে নাওরাকে দেখেই মাহরু দৌড়ে এসে বলে,,

--- " আপু আপু,,ওই ভাইয়াটা চকলেট দিয়েছে। দেখছো, ভাইয়াটা কত ভালো। "

নাওরা হেসে মাহরুর কপালে একটা চুমু দিয়ে দেয়। তারপর মামা-মামীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই মামা বলেন,,

--- " বেশী রাত করিস না। চলে আসবি তাড়াতাড়ি। "

নাওরা মাথা নেড়ে জানায় সে চলে আসবে। প্রথমে তার মাথায় না আসলেও পরে ভাবে,, নাফসানকে দেখেও মামা এতটা স্বাভাবিক কেন? তিনি কি তবে সব মেনে নিয়েছেন নাকি? কিন্তু নাওরা এইটুকুতেই খুশি,, তার মামা তার সাথে কথা বলেছে, ঠিক আগের মতো। তারপর মামীর দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,,

--- " মামী ঘুমিয়ে পরো না। আমি চলে আসবো কিন্তু। "

--- " না আসলেও পি'টিয়ে বাড়ি আনবো। এখনি কোথাও পাঠাচ্ছি না আমাদের মেয়েকে। "

নাওরা অনেক খুশি হয়ে যায়। মামীই তো একটু আগে রুমে গিয়ে তাকে বোরখা পড়তে না করলো। স্বামীর সাথেই তো বেরুচ্ছে, তাই থ্রী-পিচটাই সুন্দর করে পরে নিয়েছে।

অন্তত নাফসানের সাথেও আজ তারা ভালো ব্যবহার করেছে। তাই নাওরা আজ খুব খুশী। নিশ্চয়ই খুব শীঘ্রই সব ঠিক হয়ে যাবে। হ্যা, তাদের বিয়ের কথা শুনে তারা সাময়িক মন খারাপ করেছিলো। কিন্তু যখন সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে,, তার বাবা-মায়ের খুনির শাস্তি হবে। তখনই নাওরার জীবনে শান্তি নেমে আসবে,,,,

চলবে,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন