ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত অনুরাগ

৩৮তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ

#মায়িশা_নুরাইন

#পর্ব_৩৮

(কপি করা নিষেধ)

নাওরা বিছানায় কাচুমাচু করে শুয়ে আছে। নাফসান ফ্রেস হয়ে এসে নাওরার এমন অবস্হা দেখে কিটকিটিয়ে হেসে উঠে। নাওরা রেগে ফোসফোস করতে থাকে। নাফসানের হাসি এখন তার কাছে অসহ্যকর লাগছে।

নাফসানও এখন নাওরার সাথে দুষ্টুমি শুরু করে। এগিয়ে এসে নিজের ভেজা চুল ঝাঁকি দিয়ে পানি নাওরার উপর ছড়িয়ে দেয়। নাওরা রে'গে তেড়ে আসতে গিয়েও পুনরায় শুয়ে পরে। এখন নাফসানের সাথে মারামারি করার এনার্জি আর নেই।

এমনিতেই শরীর ভালো না। তার উপর জামাইয়ের শ'য়তানি হাসিটা যেন আগুনে ঘী ঢেলে দিচ্ছে। নাওরা কিছু করতে না পেরে মুখ ভেঙচি দিয়ে অন্যদিক করে শুয়ে থাকে। আর নাফসান পরম আনন্দে রান্নাঘরে আসে।

সেই সকালে নাওরা এসেছে। এখন দুপুর হতে চললো। রান্নাও করা নেই, খাওয়াও হয় নি। তাই চটজলদি কিছু রান্না করে ফেলতে হবে।

নাফসানের এখন নিজেকে খুব ফ্রেস লাগছে। তাই ফ্রেস মনে রান্না করে ফেলে। তারপর প্লেটে করে খাবার সাজিয়ে রুমে নিয়ে যায়৷

নাওরা শুয়ে শুয়ে নাফসানের ফোন নাড়াচাড়া করছিলো। নাফসানকে দেখেই ফোন রেখে ঘুমানোর ভাব ধরে। মুচকি হেসে নাফসান বিছানার কাছে এসে বসে। প্লেটটা বিছানায় রেখে নাওরাকে ডাকতে থাকে। তবুও নাওরা কোন রিয়েকশন দেয় না। এবার নাফসান কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলে,,,

--- " উঠবে তুমি? নয়তো আমার কিন্তু আরও উপায় আছে তোমাকে উঠানোর। জেগে থেকেও অভিনয় করছো,, "

তবুও নাওরা ঘাওরামি করে শুয়েই থাকে। কোন কথাও বলে না। সে আজকে আর নাফসানের সাথে কথা বলবে না। লোকটা অনেক খারাপ।

হটাৎই পেটের দিকে হাতের ছোঁয়া পেতেই নাওরা ঝাড়া মেরে হাত সরিয়ে দেয়। আবারও হাতে ছোঁয়া পেতেই সে হাত সরিয়ে দিতে গেলে বাঁধা পায়। তার স্বনামধন্য স্বামী তার হাতকে আটকে দিয়েছে।

এবার তার পেটে সামান্য চিমটি দিতেই নাওরা চিল্লিয়ে বলে,,

--- " আর কত ব্যাথা দিবেন? এখনও আপনার মন ভরেনি? "

--- " বেয়াদব মেয়ে। আস্তে কথা বলবে। উঠো এখন। "

--- " উঠবো না৷ "

এবার নাফসান গম্ভীর স্বরে বলে,,

--- " নাওরা, অবাধ্যতা করবে না। সকাল থেকে কিছুই খাও নি। খেয়ে ঔষধ খেতে হবে। "

নাওরা থমথম মুখ করে উঠে বসে বলে,,

--- " ওহহ, আপনার মনে আছে তবে, যে আমার সারাদিন খাওয়া হয় নি? আমি তো ভেবেছি ভুলেই গেছেন আপনি। "

নাফসান মুচকি হেসে বলে,,

--- " ভুলেই গিয়েছিলাম। তোমায় কাঁচুমাচু করে শুয়ে থাকতে দেখে মনে পরেছে। "

--- " আমি কি এজন্য শুয়ে ছিলাম নাকি? আমি তো.."

--- " তুমি তো..কি? হুম? "

নাফসানের চেহারায় দুষ্টুমি ভাব স্পষ্ট আছে। তাই সে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলে,,

--- " খাবার খাইয়ে দেন। হাত দিয়ে খেতে আলসেমি লাগে। "

নাফসান তাকে খাইয়ে দিতে দিতে বলে,,

--- " কথাটা তো শেষ করলে না। বলো শুনি,,"

এটা বলে নাওরার মুখে খাবার তুলে দিতে গেলে নাওরা তার আঙুলে কা'মড় বসিয়ে দেয়।

--- " বিহেভ নাওরা। নয়তো সময়মতো আমিও ছাড়বো না৷ "

--- " আরেকবার কাছে আসতে দিলে তো। জন্মের শিক্ষা হয়ে গেছে। আর সুযোগ নাই আপনার। "

--- " সুযোগ আমি করে নিবো। সবে তো শুরু হলো। "

এভাবে দুষ্টুমি করতে করতে দুজনে খাবার খেয়ে নেয়। তারপর নাওরাকে ঔষধ এনে দিতেই সে কোন প্রশ্ন ছাড়াই খেয়ে নেয়।

নাফসান সব কাজ শেষ করে বিছানায় বসে নাওরাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে। নিজের বুকের উপর নাওরার মাথা রেখে বলে,,

--- " ঘুমাবে আরও? "

--- " উহু,,,"

--- " কি করবে তবে? "

নাওরার মাথায় কিছু একটা আসতেই সে লাফিয়ে উঠে বসে।

--- " চলুন,, বাহিরে ঘুরতে যাই। "

--- " বাহ, সুস্হ হয়ে গেছো দেখছি। তবে কি আরেকবার... "

নাওরা লজ্জা পেয়ে নাফসানকে খা'মচি দিয়ে বলে,,

--- " আপনি কিন্তু অতিরিক্ত খারাপ। "

--- " আই নো। ওকে, কোথায় যাবে? "

--- " আপনি যেখানেই নিয়ে যাবেন, চলুন না। আমার এখন আপনাকে নিয়ে ঘুরতে মনে চাচ্ছে। "

নাওরাকে টেনে এনে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে বলে,,

--- " রাতে যাবো। এখন না। "

নাওরা মাথা তুলে বলে,,

--- " এখন কেন না? "

--- " আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়নি এখনো আমাদের। কেউ দেখে ফেললে তোমাকেই কথা শুনতে হবে। আমি তো এখন আর ভার্সিটিতে নেই। "

আনুষ্ঠানিক বিয়ের কথা মাথায় আসতেই নাওরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে। হটাৎ এমন তাকানো দেখে নাফসান ভ্রু কুঁচকে বলে,,

--- " কি হলো আবার? "

--- " আপনি বিয়ে ছাড়াই আমার সাথে..?"

কথা শেষ না করেই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করা শুরু করে। নাফসান থতমত খেয়ে যায়।

--- " কি শুরু করলে এখন। আমরা বিবাহিত। এইসব আনুষ্ঠানিক বিয়ে ফ্যাক্ট না৷ "

--- " তবুও তো,,,"

নাফসান হেসে বলে,,

--- " এত নেকামী করো কিভাবে তুমি? "

--- " আমি নেকামী করি? "

--- " থাক, আমি কিছুই মনে করছি না। আমার বউ আমার সামনে যত ইচ্ছা নেকামী করতে পারে। সমস্যা নেই,,"

নাওরা মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে। সে তো বলার সময় হুট করেই কথা বলে ফেলে। পরে কি বলেছে মনে পরতেই লজ্জা পায়। হয়তো নাফসান তাকে চরম নির্লজ্জ ভাববে।

হুহ,,ভাবলে ভাবুক। কিছু বলতে আসলেই কথা অফ। তবে আজকে না। আজকে তো ভালো থাকতেই হবে। আগে বাহিরে ঘুরতে যেতে হবে। তারপর পড়াশোনা আছে। অনেক কাজ বাকী। আজকের মতো দিনটা পার হলে তারপর নাফসানের সাথে আর দেখা করবে না।

অসভ্য লোকটা আজ অসভ্যতামির চূড়ান্ত সীমা পার করে গেছে। লজ্জা ভাব দেখিয়ে আর কোন সুযোগ দেওয়া যাবে না।

আজকের মতো দিনটা কোনরকমে পার হোক। তারপর বাসায় গিয়ে লজ্জায় রুম থেকেই তিন-চার দিন বের হবে না।

--- " কি ভাবছো? "

--- " তিন-চার দিন রুম থেকে বের হবো না ভাবছি। "

--- " কেন? "

নাওরা আনমনে কথাটা বলে ফেলতেই বুঝে সে আবারও ব্লান্ডার করে ফেলেছে। মুখে হাত দিয়ে নাফসানের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকায়। নাফসান এতক্ষণ ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকলেও নাওরার চেহারা দেখেই কারণ বুঝে ফেলে। সাথে সাথেই হেসে ফেলে। আর নাওরা লজ্জায় মুখ লুকিয়ে শুয়ে পরে।

🌿

জাহাঙ্গীর সাহেবের হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট চলছে। ওনার শরীরে অনেক আঘাতের পাশাপাশি পেটের কাছে ছু'ড়ির আঘাতও আছে। যেন কেউ ওনাকে মে'রে ফেলতে চেয়েছিলো। তবে সৌভাগ্যক্রমে ওনি বেঁচে যান।

বাহিরে করিডোরে লামিয়া টেনশনে পায়চারি করছে। এতক্ষণ কান্না করে চোখ-মুখের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছে। তার সাথে তাদের ক্লাসের একটা ছেলে ফ্রেন্ড আছে। সেই সর্বপ্রথম লামিয়াকে তার বাবার খবর দিয়েছে।

বর্তমানে বাবা সুস্হ আছে শুনে লামিয়া একটু শান্ত হয়েছে। তবুও বাবার সাথে দেখা করে কথা না বলা পর্যন্ত সে শান্তি পাবে না। হয়তো এমন বিপদেই মানুষের মূল্য বুঝা যায়।

এইতো, আজ সকালেও বাবার সাথে সে খারাপ ব্যবহার করেছে। বাবা তাকে আজও শাহেদ খানের ব্যপারে সাবধান হতে বলছিলো। অথচ সে এই নিয়ে বাবার সাথে কত রা'গারাগি করলো। আর এখন বাবা কিনা হাসপাতালে পরে আছে।

আর শাহেদ আঙ্কেলের কোন খবর নেই। কাছের মানুষ হিসেবে ওনার কথাই তার মাথায় এসেছিলো প্রথমে। কতবার ফোন দিয়েছে ওনাকে। একবারও ফোনটা ধরলো না।

শেষে রাশেদুল খানকে ফোন দেয়। কারণ তার বাবার ট্রিটমেন্টের জন্য টাকার প্রয়োজন। আর বাবা তার সকল একাউন্ট বন্ধ করে রেখেছে। যাতে সে এই টাকার মাধ্যমে ক্লা'বে না যায়। তবে আড়ালে সে শাহেদ খানের মাধ্যমে ঠিকই ক্লা'বে যেত। এসব নিয়েও বাবা তাকে অনেক সতর্ক করেছেন। তবুও সে মানে নি।

রাশেদ খানের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকায় তিনি আসতে পারেন নি। তবে নাশিত এসেছিলো। এতক্ষণ থেকে সব ট্রিটমেন্টের ব্যবস্হা করে দিয়েছে। তারপর ওর বাবার সুস্হতার খবর শুনে গিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নাশিতকে বেরিয়ে যেতে হয়েছে। যাওয়ার আগে অবশ্য লামিয়ার সাথে থাকা ছেলেটাকে সব বুঝিয়ে দিয়েছে। সে এখানেই এখন লামিয়ার সাথে রয়েছে।

লামিয়াদের আপন বলতে পরিবারের আর কেউ নেই। তার আর তার বাবার ছোট্ট পরিবারে শাহেদ খানই ছিলো। তিনি এর আগে বিদেশেই ছিলেন। বছর খানেক আগেই দেশে আসেন। লামিয়া ওনাকে নিজের চাচা হিসেবেই জানতো। তবে পরে জানতে পারে তিনি তার আসল চাচা নয়। তবুও সে চাচার থেকে কম ভালোবাসে নি। আর এই লোকটাই নাকি তার বিপদের দিনে স্বান্তনা দেওয়ার জন্যও সাথে নেই।

🌿

সন্ধ্যার পর নাফসান নাওরাকে নিয়ে বাহিরে ঘুরতে আসে। আজ তারা বাহিরেই ডিনার করবে। রেস্টুরেন্টে বুকিং দিয়ে রেখেছে। আগে নাওরার ইচ্ছে মতো ঘুরাঘুরি করে ডিনার করে পরে বাসায় যাবে। আজকের দিনটা শুধু নাওরার জন্যই তুলে রাখা হয়েছে। তাই তো নাওরা আসার পর সে তার অফিসের কোন কাজ নিয়েও বসে নি। অবশ্য সেই সুযোগটাই পায় নি।

সেইদিনের মতো আজও নাওরা নাফসানের কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প করছে। পার্কের এই সময়টায় মানুষের তেমন কোন ভীর নেই। আশেপাশে যারা আছে, তারা তাদের মতোই কাপল। সবাই নিজেদের মধ্যেই ব্যস্ত।

নিরবতা ভেঙে নাওরা বলে,,

--- " শুনছেন? "

--- " জ্বি ম্যাডাম। শুনছি,,"

--- " আচ্ছা, আপনি তো বলেছিলেন আপনি আমায় সেই ছোটবেলায় দেখেছিলেন। তবে বড় হওয়ার পর আমায় চিনলেন কিভাবে? "

--- " হুমম, গুড কুইশ্চেন। তবে তোমার মতো অবাধ্য মেয়েকে চেনা ততটাও কঠিন ছিলো না। কারণ তুমি বড় হলেও তোমার অভ্যাসগুলো বদলায়নি একদম। "

--- " কোন অভ্যাস? "

--- " যেমন তোমার গোলাপ ফুল পছন্দ। এখনো তাই আছে।"

--- " এইই, আপনাদের বাড়ির ছাদে নাকি আপনি গোলাপ গাছ লাগিয়েছেন? আমার জন্যই কি? "

--- " তোমার জন্য লাগাতে যাবো কেন? আমার পছন্দ তাই লাগিয়েছি। "

--- " কিন্তু আপনার তো জারবেরা ফুল পছন্দ। "

--- " তুমি কিভাবে জানলে? "

--- " হেহে, সিক্রেট। বলা যাবে না। "

নাফসান চোখ সরু করে বলে,,

--- " বাই এনি চান্স, তুমি কি আমার পার্সোনাল জিনিসপত্র হাতিয়েছো নাকি? সবই তো জানো তবে,,, "

--- " এই, পার্সোনাল মানে কি হ্যাঁ? আপনার এখনো কোন পার্সোনাল বলতে কিছু আছে নাকি? ওসবে এখন আমার অধিকারও আছে। আমি আপনার ডায়রি থেকেই সব জেনেছি। "

--- " কি জেনেছো? "

--- " এটা, যে আপনি আমার সেই কলেজ লাইফ থেকে আমার পেছনে পরে আছেন। বড্ড ধুরন্ধর লোক আপনি। এত কিছু হলো, আর আমি জানতেও পারি নি। "

--- " জানলে বুঝি সব ঠিকঠাক হতে দিতে। যা অবাধ্য তুমি, না জানিয়েই ভালো করেছি আমি। দেখা যেতো আনার সব প্ল্যানে পানি ঢেলে দিতে। "

--- " আমার অধিকার থেকে আমায় বঞ্চিত করেছেন আপনি। একা একাই বেশী ভালোবাসলেন আপনি। আমায় সুযোগটা দেন নি। "

--- " নিজের অধিকার তো ঠিকই বুঝে নিতে পারো। শুধু আমার অধিকার আমি আদায় করে নিতে গেলেই বাহানা শুরু করো। "

--- " এহহ, তাতেই বুঝি মেনে নেন আপনি? সেই তো আদায় করেই ছাড়েন। "

বলেই লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফেলে। রাতের অন্ধকারের তার লজ্জারত মুখটা হয়তো নাফসান দেখতে পারছে না। তবে ঠিকই সেটা অনুভব করতে পারছে।

আজকের এই দিনটা খুবই স্বচ্ছ। কিছুদিন আগেও যেখানে নাওরাকে ভয়-সংকোচ নিয়ে চলতে হতো। আজ সে সেখানে নিশ্চিন্তে স্বামীর সাথে ঘুরতে পারছে। যদিও এখনো একটু সমস্যা আছে। যেহেতু তাদের আনুষ্ঠানিক বিয়েটা হয়নি। তাই নাফসানের কোন স্টুডেন্ট তাদের একসাথে দেখে ফেললে ঝামেলা হয়ে যাবে।

টিচার মানুষদের এই একটা বড় সমস্যা। চারদিকে স্টুডেন্টদের ছড়াছড়িতে শান্তি মতো প্রেমটাও করতে পারে না।

নাফসান যতই ভার্সিটির চাকরি ছেড়ে দিক, তবুও তো সে একজন শিক্ষক। শিক্ষকরা চাকরী ছেড়ে দিলেও তারা শিক্ষকই থাকে। তাদের সম্মানের কোন পরিবর্তন হয় না।

নাওরা তো ভাবে, যখন তাদের বিয়েটা সমাজে পরিচিতি পাবে। তখন সবাই তাকে বলবে, এ হচ্ছে নাফসান স্যারের বউ। এ এক অন্যরকম প্রাপ্তি।

--- " আচ্ছা স্যার, আপনার কাছে কোনটা ভালো লাগে এখন। আগের সেই শিক্ষকতা করা। নাকি এখন বিজনেসে জয়েন করা। "

নাফসান কিছুটা ভেবে বলে,,

--- " দুটোই দুইরকম। শিক্ষকতায় এক আলাদা সম্মান ছিলো। আর বিজনেসটা হচ্ছে নিজেদের। এটা অন্যরকম প্রশান্তির। "

তারা দুজনে বাহিরের এই স্নিগ্ধ পরিবেশে একটা সুন্দর মুহুর্ত কাটায়। তারপর দুজনে মিলে ডিনারের জন্য যায়৷ এর মাঝে নাফসান কয়েকবার তাকে জিজ্ঞাসা করে ফেলেছে, তার খারাপ লাগছে কিনা। ব্যাথা আছে কিনা। নাওরা লজ্জা পেলেও নাফসানের কেয়ারিং বিহেভ দেখে অনেক মুগ্ধও হয়।

সত্যি বলতে এভাবে সারাদিন নাফসানের সামনে একাকী থাকতে তার অনেক লজ্জা লাগছিলো। তাই তো নিজে থেকে বাহিরে ঘুরতে আসার কথা বলেছে। যাতে একটু লজ্জা থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়া যায়৷ সেই রাতে তে আবার একসাথেই থাকবে। তবে দুজনে মিলে এখন একটা সুন্দর মুহুর্ত অনুভব করতে পারছে।

🌿

বাহিরে ঘুরাঘুরি করে ডিনার করে এসে নাওরা ক্লান্ত হয়ে পরে। কোনরকমে ফ্রেস হয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পরে। নাফসান তার কাহিনী দেখে বলে,,

--- " কি হলো? পড়তে বসবে না? "

--- " অনেক ক্লান্ত লাগছে স্যার। কিভাবে পড়বো এখন? "

নাওরাকে সত্যিই ক্লান্ত লাগছে। তাই নাফসান আর জোর দেয় না। চুপচাপ মেইন লাইট অফ করে ড্রীম লাইট অন করে এসে নাওরার পাশে শুয়ে পরে। নাওরা চোখ বন্ধ করে ছিলো অজুহাত দেখানোর জন্য। তবে লাইট অফ হতেই সে লাফিয়ে উঠে বলে,,

--- " ও স্যার, পড়বো না? যে জন্য আসলাম, সেটাই তো হলো না। "

নাফসান তাকে হেঁচকা টানে নিজের কাছে এনে জড়িয়ে ধরে। তার নিজেরও এখন শিক্ষকতা করার মুড নেই। তবে মুখে বলে,,

--- " সমস্যা নেই। পরীক্ষার তো এখনো কিছু সময় বাকী। অন্য একদিন আবার এসো। আবারও পার্সোনালি টিউশনি করিয়ে দিবো। "

নাওরা নাফসানের থেকে সরার জন্য মোচড়া মোচড়ি করতে থাকে।

--- " অসভ্য লোক,, ছাড়ুন আমায়। আমি আর পড়বো না আপনার কাছে। "

অথচ নাফসান আরও শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরে হেসে ফেলে।

--- " ঠিক আছে, পড়তে হবে না। আমার কাছে নোট করা আছে। সেটা একটু পড়লেই বুঝতে পারবে। "

--- " কিহহ,,আপনার কাছে নোট করা আছে?? "

--- " হুমম, তোমার জন্যই তৈরি করে রেখেছিলাম৷ জানতাম তোমার লাগবে। "

--- " অসভ্য লোক। আগে থেকেই নোট থাকলে আমাকে আসতে বললেন কেন? নোটটা দিয়ে দিলেই তো হতো। "

নাফসান তার ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিয়ে বলে,,

--- " তবে তো আজকেই এই সুন্দর মুহুর্তটা পেতাম না। "

--- " আ-আপনার বুঝি প্ল্যান করা ছিলো। "

--- " না বলবো না। "

নাওরা অবাক হয়ে যায়। কত বড় অভিনেতা তার জামাই। নাফসানকে সে ঠেলে সরিয়ে দিতে গেলে নাফসান বলে,,

--- " আরে, আর কিছুই করবে না তো। আজকের মতো তোমার ছুটি। ঘুমাও এখন। "

নাওরা লজ্জা পেয়ে চুপ হয়ে যায়। সত্যিই অনেক অসভ্য। অথচ আগে ভেবেছে ওনার মতো সভ্য বোধহয় আর কেউ নেই। আর এই একদিনে তার সকল রুপ প্রকাশ করে দিলো। অসভ্য জামাই তার,,,

চলবে,,,,

(সম্পূর্ণ নাফসান-নাওরাময় পর্ব ছিলো। তবে মাঝখানে লামিয়া ঢুকে গিয়েছিলো। ওর মাঝখানে ঢুকে পরার স্বভাবটা যাবে না বোধহয়। বিয়ে করতে না পেরে নাওরার সুন্দর মুহুর্তে ঢুকে পরে খালি।

যাই হোক,,সবাই সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করবেন কিন্তু। নয়তো কাপলদের মধ্যে ঝামেলা লাগিয়ে দিবো। 😐)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন