#অপ্রত্যাশিত_অনুরাগ
#মায়িশা_নুরাইন
#পর্ব_৩৯
(কপি করা নিষেধ)
নাফসান সকালে উঠে নাস্তা খেয়ে তৈরি হয়ে নেয়। নাওরাকে সাথে করে নিয়ে একসাথে বের হবে। আগে ওকে বাসায় নামিয়ে তারপর নিজে কোম্পানিতে যাবে। নাওরাকে সকালে তুলতে গিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। অনেক কষ্টে তুলে নাস্তার খেতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে তৈরি হচ্ছিলো। তখনই বাবার ফোন আসে।
বাবার সাথে কথা বলে নাওরাকে তাড়াতাড়ি তৈরি হতে বলে। নাওরা গিয়ে আগে নাফসানের দেওয়া নোটগুলো ব্যাগে ঢুকায়। নয়তো ভুলে গেলে আবার এসে নিয়ে যেতে হবে।
নাওরা তৈরি হতেই নাফসান তাকে নিয়ে বেরিয়ে পরে। তবে নাফসান তাদের বাসার দিকে গাড়ি না নেওয়ায় নাওরা বলে,,
--- " কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন এখন? আমায় না বাসায় নামিয়ে দিবেন? "
--- " অন্য একটা কাজ আছে এখন। "
--- " আমি তো বলেছিলামই একাই চলে যাই। যেতে দিলেন না কেন? "
--- " তোমাকে নিয়েই যাবো বলে। "
--- " আরে কোথায় নিচ্ছেন বলুন না। আমায় সেখানে কি দরকার? "
--- " গেলেই দেখতে পারবে। "
--- " বাই এনি চান্স, আপনি কি আমায় আপনাদের কোম্পানিতে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন নাকি? "
--- " নো ওয়ে। ওত মানুষের সামনে আমার বউকে নিয়ে যেতে চাই না। "
--- " আমিও যেতে চাই না। "
এভাবে টুকটাক কথা বলতে বলতে তারা হাসপাতালের সামনে চলে আসে। হাসপাতাল দেখে নাওরা বলে,,
--- " হাসপাতালে কেন? কারও কিছু হয়েছে? "
নাফসান কোন কথা ছাড়াই নাওরাকে হাতে ধরে ভিতরে নিয়ে যায়। কিছুটা ভিতরে গিয়ে এক জায়গায় লামিয়াকে কান্না করতে দেখে। পাশে তাদের ক্লাসের রাকিব দাড়িয়ে লামিয়াকে স্বান্তনা দিচ্ছে।
এভাবে এখানে লামিয়াকে কান্না করতে দেখে নাওরা অবাক হয়। নাফসানের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালে সে বলে,,
--- " জাহাঙ্গীর আঙ্কেল মানে লমিয়ার বাবার এ'ক্সিডেন্ট হয়েছিলো গতকাল। এখনো হাসপাতালে ভর্তি। "
নাওরা আঁতকে উঠে বলে,,
--- " এখন কেমন আছেন উনি? "
--- " এখন সুস্হ আছেন। বাবা ফোন দিয়েছিলো সকালে৷ বললো তোমায় নিয়ে দেখা করে যেতে। আঙ্কেল তোমার সাথে কথা বলতে চান। "
--- " আমার সাথে কেন? "
--- " জানি না আমি। এখন যাবে দেখা করতে? "
--- " আপনি আগে যান। আমি লামিয়ার সাথে কথা বলে আসি। "
--- " আর ইউ শিউর? "
--- " অবশ্যই। আপনি যান তো,,"
নাফসান কেবিনে যেতেই নাওরা কান্নারত লামিয়ার দিকে এগিয়ে যায়। রাকিব তাকে দেখেই বলে,,
--- " আরে নাওরা, তুমি এখানে? "
--- " হুমম,,কি হয়েছে লামিয়ার? আঙ্কেল তো এখন সুস্হ আছে শুনলাম। কান্না করছে কেন? "
রাকিব একবার লামিয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর নাওরাকে জানায়,,
--- " আঙ্কেলের জ্ঞান আসার পর থেকে একবারও লামিয়ার সাথে দেখা করেন নি। কথা বলা তো দূরের কথা।
--- " আপনি কখন থেকে এখানে আছেন? "
--- " আমি লামিয়ার সাথেই ছিলাম গতকাল থেকে। "
--- " ও খেয়েছে কিছু?
--- " রাতে খেয়েছিলো। সকালে আর খায় নি। সেই কখন থেকে কান্না করেই যাচ্ছে। থামাতে আর পারছি না। "
--- " আপনিও তো বোধহয় খান নি কিছু। গিয়ে খেয়ে লামিয়ার জন্যও কিছু নিয়ে আসবেন। আমি এখানেই আছি। "
রাকিবকে পাঠিয়ে দিতেই নাওরার ফোন আসে। দেখে মামী কল দিয়েছে। সে রিসিভ করতেই মামী বলে,,
--- " কিরে কখন আসবি তুই? "
--- " মামী, একটু দেরী হবে। আসলে আমার একটা ফ্রেন্ডের বাবা হাসপাতালে ভর্তি। এখানে এসেছি,, "
--- " একা একাই গিয়েছিস? "
--- " নাহ, স্যার আছেন সাথে। তুমি টেনশন করো নাহ। আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো। "
--- " আচ্ছা, রাখলাম তবে। "
নাওরা কথা বলে লামিয়ার পাশে গিয়ে বসে। কিছুই বলে না। তবে লামিয়ার কান্নায় বিরক্ত হয়ে একসময় বলে,,
--- " আর কত কান্না করবে শুনি? মানে মানলাম বাবা কথা বলছে না৷ তাই এভাবে কান্নার কি আছে। গিয়ে ওনাকে মানানোর চেষ্টা করো। নিশ্চয়ই কম কষ্ট দাও নি ওনাকে,,, "
লামিয়া এবার ভাঙা গলায় বলে,,
--- " বাবা কি আমায় ক্ষমা করে দিবে? "
--- " অবশ্যই দিবে। বাবা হয় তোমার। হয়তো একটু দেরী হতে পারে। ততক্ষণ তোমায় ধৈর্য্য ধরে বাবার পাশেই থাকতে হবে। এভাবে দূরে এসে ভ্যা ভ্যা করলে হবে না তো। "
--- " বাবা আমার দিকে একটু তাকিয়েও দেখে নি। "
--- " সব ঠিক হয়ে যাবে। ওনি একটু অভিমান করেছে। মান ভাঙলেই দেখবে তোমায় কাছে টেনে নিয়েছে। বাবারা কখনোই মেয়ের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতেই পারেন না। "
তবুও লামিয়া একটু ভয় পাচ্ছে। কারণ তখন তাকে দেখে বাবা একদমই কথা বলতে চাচ্ছিলো নাহ। একটু রাগ দেখাতে গিয়ে নিজেই কষ্ট পাচ্ছিলো। তাই লামিয়া ভয়েই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পরেছিলো।
এবার নাওরা ওর হাত ধরে টেনে কেবিনের ভিতরে নিয়ে যেতে চায়। নাফসান এখনো ভিতরেই আছে।
--- " চলো একসাথেই ভিতরে যাই। "
তবে লামিয়া ওকে থামিয়ে দিয়ে বলে,,
--- " আব,,তুমি আগে যাও। আমি একটু ফ্রেস হয়ে আসি। "
--- " ওকে, তাড়াতাড়ি আসবে কিন্তু। "
লামিয়া মাথা নাড়তেই নাওরা ওকে রেখেই কেবিনের ভিতরে যায়। নাফসান তখনও ওনার সাথে কথা বলছিলো। হয়তো কিভাবে কি হয়েছে, সেগুলোই জানার চেষ্টা করছে।
নাওরা এগিয়ে যেতেই নাফসান ওনার সাথে নাওরার পরিচয় করিয়ে দেয়। নাওরাকে দেখে ওনি নিজের হাত বাড়িয়ে দেন। নাওরা ওনার হাত ধরেই পাশে বসে।
ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করার পর হটাৎই ওনি নাওরার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকেন।
--- " নাওরা মা, আমায় ক্ষমা করে দাও। আমি আমার মেয়েটাকে মানুষ করতে পারলাম না। ওর জন্যই তোমার কত বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। "
নাওরা অস্হির হয়ে বলে,,
--- " এভাবে বলবেন না আঙ্কেল। আপনার কোন দোষ নেই এখানে। প্লিজ এসব কথা বলবে না। "
--- " আসলে কি বলবে বলো। আমার লাইফের সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো সেই শাহেদ নামক মানুষটাকে বাঁচানো। সেটারই প্রতিদান পাচ্ছি বোধহয়। আমার সাথে আমার মেয়েটারও জীবনটা ধ্বংস করে দিলো। "
নাওরা শাহেদ খানের কথা শুনে অবাক হয়। তার মানে লোকটা লামিয়াদের বাসাতেই ছিলো। আর সেখানে থেকে তাদেরও ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
আবার নাওরা এটা ভাবতেও অস্বস্তি হচ্ছে, কারণ লামিয়াকেও তো সে আঘাত করেছিলো। লামিয়ার জন্য আঙ্কেল ক্ষমা চাইছে। তাহলে নাওরা এখন করবে কি,,,
--- " আঙ্কেল, লামিয়ার সাথে একটু কথা বলবেন না? আপনার মেয়ে অনেক কান্না করছে বাহিরে। "
--- " কি কথা বলবো বলো? মেয়েটা আমায় বিশ্বাসই করে না। উল্টো শাহেদের কথায় চলে নিজের জীবনটাও ধ্বংস করে ফেলছে। আমি বাবা হয়েও তাকে আটকাতে পারছি না। ওর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমার কষ্ট হয় বেশী। "
--- " এখনো অনেক সময় আছে আঙ্কেল। আপনিই পারবেন ওকে ভালো জীবনে ফিরে আনতে। লামিয়া নিশ্চয়ই নিজের ভুলগুলোও বুঝতে পারছে। তার কান্নাটাই সব প্রমাণ করে দিচ্ছে সে কতটা অনুতপ্ত। "
--- " আচ্ছা, ওর সাথে কথা বলে নিবো পরে। তবে তোমায় একটু সতর্ক থাকতে হবে মা। শাহেদ খান কিন্তু এখন তোমার পেছনে পরেছে। আমি নাফসানকেও বলেছি সব। তোমাকেও বলছি, সাবধানে থাকবে। "
নাওরা একটু ভয়ে নাফসানের দিকে তাকাতেই সে ইশারায় তাকে শান্ত হতে বলে। সে আছে, সব ঠিক করে দিবে।
সব শেষে তারা দুজন বের হয়ে দেখে লামিয়া এখনো সেভাবেই বসে আছে। রাকিব এসে খাবার খেতে বললেও সে খায় নি। নাওরা এগিয়ে গিয়ে তাকে টেনে এনে বাবার কেবিনে ঢুকিয়ে দেয়। লামিয়া ধীরে ধীরে বাবার দিকে এগিয়ে যায়। ওনি চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলো।
লামিয়া গিয়েই বাবার হাত ধরেই ফুঁপিয়ে কান্না করে দেয়। এবার তিনি আর চুপ থাকেন না। মৃদু স্বরে বলেন,,
--- " আর কত কান্না করবি? ম'রিনি তো আমি। এখনো বেঁচে আছি। "
--- " আমায় ক্ষমা করে দাও বাবা। আর তোমার অবাধ্য হবো না আমি। এবারের মতো মাফ করে দাও। "
মেয়ের কান্না বাবার আর সহ্য হয় না। ওনার চোখেও পানি চলে আসে। এবার তিনি কান্নারত মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। বাবার প্রশ্রয় পেয়েই লামিয়া বাবার বুকে হামলে পরে। এতে ওনার পেটের দিকে একটু চাপ পরলেও তিনি তা সহ্য করে নেয়। সন্তান মানুষ করতে গেলে এসব আঘাতকে পাত্তা দিতে নেই।
লামিয়া নিজের ইচ্ছে মতো কান্না করে সব দুঃখ বাবার বুকে ভাসিয়ে দেয়। কেবিনের দরজায় দাঁড়ানো নাওরার দু-চোখ বেয়ে সমানে পানি পরতে থাকে। নাফসান গিয়েছিলো ডাক্তারের সাথে একটু কথা বলতে। এসে নাওরার এমন অবস্হা দেখে দ্রুত এগিয়ে আসে।
--- " কি হয়েছে তোমার? লামিয়া কিছু বলেছে? "
নাওরা দুদিকে মাথা নাড়ায়। আসলে তাদের বাবা মেয়ের ভালোবাসা দেখে সে ইমোশনাল হয়ে গেছে। সে তো বড় হয়ে বাবার ভালোবাসা পায় নি। তাই না চাইতেও এখন লামিয়াকে তার হিংসা হচ্ছে। কি সুন্দর বাবার সাথে সুন্দর মুহুর্ত পার করছে। আর সে তো বাবা-মা দুজনের ভালোবাসা থেকেই বঞ্চিত হলো।
--- " দেখুন লামিয়াকে। বাবার সাথে মিল হয়ে এখন কি খুশি। অথচ একটু আগেও বোকার মতো বাহিরে বসে কান্না করছিলো। "
--- " সে তো তুমি সাহায্য করেছো বলে তাদের মিল হলো। "
--- " জানেন, এখন আমার বেশ হিংসা হচ্ছে লামিয়াকে দেখে। অনেক কিছু না পেয়েও বড় কিছু পেয়েছে। তার বাবা আছে যে সাথে। বাবা সাথে থাকলে আর কারও দরকার নেই জীবনে। "
নাওরাকে স্বান্তনা দিতে নাফসান বলে,,
--- " তুমি তো দেখছি বরাবরই হিংসুটে। মেয়েটার বাবার সাথে বনিবনা করিয়ে, এখন আবার হিংসেও করছো? "
নাওরা হেসে ফেলে। দূরে দাড়িয়ে রাকিব তাদের এভাবে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। স্যারের সাথে নাওরার কি সম্পর্ক থাকতে পারে! তারা কি প্রেম করছে নাকি!!
হটাৎই নাফসান রাকিবকে দেখে তার কাছে যায়।
--- " কি খবর রাকিব? "
--- " আলহামদুলিল্লাহ ভালো স্যার। আপনি? "
--- " আমিও ভালো। পড়াশোনা কেমন চলছে? "
--- " জ্বি স্যার, ভালোই। "
রাকিবকে একটু আমতা আমতা করতে দেখে নাফসান বলে,,
--- " আমার ওয়াইফ নাওরা। বিয়ে হয়ে গেছে আমাদের। আশা করি উল্টোপাল্টা চিন্তা আসবে না মাথায়। "
রাকিব একটু লজ্জা পেয়ে যায়। সে তো আসলেই উল্টো পাল্টা ভাবছিলো। নাফসান আবারও বলে,,
--- " নাওরার এক্সামের পরেই অনুষ্ঠান হবে। দাওয়াত রইলো তোমার। লামিয়াকে সাথে নিয়ে এসো। যদিও ওদেরকে আলাদাভাবে দাওয়াত দেওয়া হবে। "
রাকিব চমকে উঠে নাফসানের দিকে তাকাতেই নাফসান তার পিঠে হালকা চা'পড় দিয়ে বলে,,
--- " নো প্রবলেম। জানি আমি সব। ক্লাসে কার চোখ কোথায় থাকে, সবই জানি। তবে পড়াশোনায় মনোযোগ দাও আগে। ভালো কিছু করতে পারলে তবেই আগাবে। নয়তো এসবের পেছনে পরে লাইফের বারোটা বাজিও না। "
রাকিব লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে মাথা নাড়ায়। যে সে নাফসানের কথা মতোই চলবে।
অপরদিকে লামিয়া খুশি হয়ে কেবিন থেকে বেরিয়েই নাওরাকে জড়িয়ে ধরে। আচমকা ধা'ক্কায় নাওরা পরতে গিয়েও নিজেকে সামলে নেয়। লামিয়া তো জড়িয়ে ধরেই বলে,,
--- " তোমাকে অনেক ধন্যবাদ নাওরা। সত্যিই ভাবি নি তুমি কখনো আমায় সাহায্য করতে আসবে। "
--- " তোমায় কখন সাহায্য করলাম? আমি এক দুষ্টু মেয়েকে একটু শিক্ষা দিয়েছি। ভালো শিক্ষা আরকি,,"
লামিয়া নাওরাকে ছেড়ে মাথা নিচু করে বলে,,
--- " আমায় ক্ষমা করে দিও নাওরা। আমি অন্যের কথায় চলে তোমায় অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। আসলে সত্যি বলতে নাফসান স্যারের প্রতি আমার কোন ভালোবাসা ছিলো না। তবে একটা জেদের সৃষ্টি হয়েছিলো। যখনই দেখলাম ওনি তোমায় ভালোবাসেন, তখনই জেদের বসে তোমায় আঘাত করে বসলাম। "
নাওরা মৃদু হেসে বলে,,
--- " যাক, স্বীকার তো করেছো। আর আগের কথা যদি বলো, সে তো আমিও সেইম কাজটাই করেছি। "
--- " কিন্তু তোমার তো হাত ভে'ঙে দিয়েছিলাম আমি। "
--- " আর তোমায় আমি পুরো মাসখানেক বিছানায় শুইয়ে রেখেছিলাম। "
এসব মনে করে তারা দুজনেই হেসে উঠে। নাফসান তো দূরে দাড়িয়ে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে থাকে। নাওরা লামিয়ার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পরে। তাকে তো বাসায় যেতে হবে।
🌿
--- " কি নিয়ে এত হাসাহাসি করলে? "
--- " ওই তো আগের কথা নিয়েই আরকি। "
--- " আমি কিন্তু জেলাস হয়েছি। "
--- " এখানে আবার কি নিয়ে জেলাস? "
--- " মেয়েটা তোমায় কিভাবে জড়িয়ে ধরলো। আমিই এখনো এভাবে ধরতে পারলাম না তোমায়। "
--- " অসভ্য লোক। "
নাফসান জোড়ে হেসে দেয়। হটাৎই নাওরা বলে,,
--- " আচ্ছা, শাহেদ খান তো লামিয়াদের সাথে ছিলো। তবে ওনাকে দেখলাম না কেন? "
--- " দেখলে চিনতে? "
নাওরা দুদিকে মাথা নাড়ায়। সে তো আগে কখনোই দেখে নি লোকটাকে। ওর সামনে থাকলেও চিনতে পারবে না।
--- " হয়তো আবারও পালানোর চেষ্টা করছে। এবার পালালে সোজা বিদেশ চলে যাবে। দেশে আর শ'য়তানটার জায়গা হবে না৷ "
--- " কেন? "
--- " কারণ বাবা নিজেই গিয়ে শাহেদ খানের কেইস পুনরায় ওপেন করতে বলেছেন। সব এভিডেন্স পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। তোমার মা-বাবার খুন থেকে শুরু করে, ওনার ব্যবসা, ইলার এক্সিডেন্ট, এখন জাহাঙ্গীর আঙ্কেলকে মা'রার চেষ্টা,,, সব কিছুর প্রমাণ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। এখন আর শাহেদ খান পালিয়েও বাঁচতে পারবে না৷ "
--- " কিন্তু ওনি নিজের পরিবারের উপরও কেন আঘাত করতে গেলেন? ইলা তো নিজের ভাইজি হয়। "
--- " এটাই জানতাম আমরা। তবে সেটাও সত্যি নয়। "
--- " মানে? "
--- " মানে এটাই যে, শাহেদ খান আমাদের আপন চাচা নয়। সৎ চাচা। বাবার সৎ ভাই। সামনে ভালো দেখালেও আড়ালে ছিলো একন কু'ৎসিত লোক। বাবার সকল কিছু হাতিয়ে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু মাঝখানে তোমার বাবা বাধা হয়ে দাঁড়ালে ওনার প্ল্যানে বাধা করে। সে অনুযায়ী ওনাদের সরিয়ে ফেললেও নিজে বাঁচতে পারেন নি। এখন হয়তো প্ল্যান করছে আমাদের গোটা ফ্যামিলিটাকেই সরিয়ে দিতে। "
নাওরা অবাক হয়ে বলে,,
--- " আপনি এতটা সাধারণ ভাবে কিভাবে বলে ফেলছেন সব। আপনার ভয় করছে না? "
--- " উহুম। কারণ সব সাজিয়েই রাখা হয়েছে। খুব দ্রুতই ওনাকে ধরে ফেলা হবে। এন্ড সেটা আমার কথা মতো আমাদের বিয়ের আগেই হবে। "
🌿
নাওরা বাসায় গিয়ে সাফিয়াকে দেখে বলে,,
--- " কিরে, আজ কলেজে যাস নি? "
সাফিয়া কিছু বলার আগেই মামী এসে বলে,,
--- " ওর পড়াশোনা বন্ধ। আমার মেয়ে হয়ে আমাদের বদনাম করে ছাড়বে। এখন থেকে ওর বাহিরে যাওয়াও বন্ধ। "
সাফিয়া অসহায় দৃষ্টিতে নাওরার দিকে তাকায়। নাওরা অবাক হয়ে মামীকে জিজ্ঞাসা করে,
--- " কি হয়েছে মামী? "
--- " কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করছিস? তোর সাথে কথা বলার পর দেখি সে ফোনে কোন এক ছেলের সাথে কথা বলছে। দেখা করবে বলছে। এর আগে একদিন এক ভাবী এসে বলেছে ওকে কোন ছেলের সাথে দেখেছে। শুনেছি কলেজের সামনেও এক ছেলের সাথে কথা বলছিলো। প্রেম করছে আমার মেয়ে। তোর মামা আসুক আজ। দুদিন পর তোর বিয়ে, এর আগে আমাদের মান-সম্মান ডুবতে বসেছে। "
মামী এসব বলে চলে যেতেই সাফিয়া বলে,,
--- " আপু, আমি কি করবো এখন? আমার কোন দোষ নেই আপু। নাহিল ভাই-ই আমায় ফোন দেয়। দেখাও ওনিই করতে আসে। আমি না করলেও আসে। আমার কি হবে আপু। "
নাওরা কিছু একটা করবে বলে সাফিয়াকে স্বান্তনা দিলেও সে নিজেও বুঝতে পারছে না কি করা উচিত। এটা নিয়ে নাফসানের সাথে কথা বলতে হবে,,,
চলবে,,,,,
( একদিন কমেন্টে কোন এক রাকিব আঙ্কেল লামিয়া আন্টিকে চেয়েছিলো। বেচারাকে লাইনে দাড়াতে বলে আজকে দিয়েই দিলাম। আঙ্কেল-আন্টি মিলে সুখে সংসার করুক গিয়ে।
একটা কমেন্টে দেখেছিলাম গল্পের সব ক্লিয়ার করে তাড়াতাড়ি শেষ করে দিতে বলছে। আরেকজন শুধু নাওরা-নাফসানের মধ্যেই গল্পটা রাখতে বলছে। কি করবো এখন??)