ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি শিউলি ফুলের ঘ্রান

২য় পর্ব

লেখক: মোনালিসা মেহরোজ

#তুমি_শিউলি_ফুলের_ঘ্রাণ (২) 

#মোনালিসা_মেহরোজ 
গভীর ভাবনায় বিভোর থাকতে থাকতেই ধীর পায়ে বিছানায় ছাড়ে মিরা। শুকনো ঢোক গিলে তপ্ত শ্বাস ফেলে তাকায় ছেলের পানে। মুখে আঙুল চেপে ঘুমের মাঝেও শিশুটি কেমন ঠোঁট নাড়াচ্ছে। খিদে পেয়েছে হয়তো! সেই বাড়িতে থাকাকালীন খেয়েছিলো৷ পরে ঘুমের মধ্যে একবার। মিরা আলতো হাতে ছেলেকে বিছানার মাঝ বরাবর শুইয়ে দিয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো। হাতে তুলে নিলো হালকা রঙের আমব্রটারির কাজ করা টু-পিস। সাথে পাতলা ফিনফিনে একখানা ওড়না। 
মিরা ওয়াশরুমে প্রবেশ করে তাকালো আয়নার দিকে। একটু আগের কথা মনে হতেই বুকের ধুকপুকানি বাড়ে ক্রমশ। অজানা শিহরণে কম্পন সৃষ্টি হয় রমণীর মেইলি কায়ায়। সেই অদ্ভুত নামটা এখনো তার মস্তিষ্কের ঘুরপাক খাচ্ছে। সে তো ভুল শোনে নি, তাহলে কেনো পুরুষটি তাকে এহেন নামে সম্মোধন করলো? কেনো ওত কোমল স্বরে শিউলি বলে ডাকলো? মিরা কি একবার জিজ্ঞেস করবে সে কথা? 
ভাবতে ভাবতেই মাথা নাড়ায় মিরা। নাহ্, জিজ্ঞেস করতে যেতে পারবে না। এতে তার অস্বস্তি বাড়বে। রমণী মৃদু শ্বাস ফেলে। ভাবনার জগৎ হতে বেড়িয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে নিজেকে ফ্রেশ করিয়ে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে আনমনে বেড়িয়ে আসে বাহিরে। আর বের হতেই আচমকা কানে ভেসে আসে ছেলের মৃদু কান্নার আওয়াজ। চমকিত হয় রমণী। ঝটপট তোয়ালে একপাশে রেখে দ্রুত ছেলের কাছে এগিয়ে যায়----
—এমা! উঠে গেছে আমার বাবুটা? এই যে মাম্মা এখানে। কাঁদে না সোনা।
—আ...উই.....
শিশুটির কান্নার গতি বাড়ে দ্বিগুণ হারে। মিরা দ্রত ছেলেকে ফিডিং করাতে লাগে বুকে জড়িয়ে। মায়ের বুকের উষ্ণতা টের পেতেই আয়ানের কান্না কমে আসে। হাসে মিরা।এরমধ্যেই দরজায় টোকা পরে। মিরা চমকে ওঠে। বাহির হতে ভেসে আসে তূর্যের গম্ভীর কন্ঠস্বর----
—কোন সমস্যা? কাঁদছে কেনো? 
মিরা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে রয়। কি জবাব দিবে বুঝে উঠতে পারেনা ঠিক। অনেকটা সময় নিয়ে মিনমিনিয়ে আওড়ায়-----
—খিদে পেয়েছে তাই।
—ঠিক আছে। খাওয়ানো হলে নিজেও খেয়ে নিন এসে। আপনার জন্য সারারাত জেগে বসে থাকবো না আমি। দ্রুত করুন।
বলেই গটগট পায়ে ফিরে যায় তূর্য। মিরার মুখটা ছোট হয়ে আসে। ইশশ, নিশ্চয়ই লোকটা বিরক্ত হচ্ছে। সারাদিন কাজ শেষে যেই বাসায় ফিরলো, সেই আজ প্রথম দিন এসেই ঝামেলা বাঁধিয়ে দিলো সে। সারাদিনের ক্লান্তিতে একটু ঘুমিয়ে আরাম করার ফুরসত পাচ্ছে না লোকটা। মিরার খারাপ লাগে বড্ড। ঘরির পানে তাকায় ঘাড় ঘুড়িয়ে। রাত একটা বাজে। আয়ান তখনো চুক চুক আওয়াজ তুলে খাচ্ছে। মিরা ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে। ছেলেটা এখন আর ঘুমাবে না। পুরোটা সময়'ই তো ঘুমিয়ে কাটয়েছে। এখন রাত জেগে নিশ্চিত মাকে জ্বালাতন করবে! শেষ রাতের দিকে হয়তো ঘুমুবে আবার।
ছেলের খাওয়া শেষ হলে তাকে বুকে আগলে ধীর পায়ে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে আসে মিরা। ছোট্ট বসার ঘরের একপাশে ডাইনিং টেবিল। তার সামনেই ছোট্ট কিচেন। তূর্য তখন বসে আছে টেবিলে। আপনমনে চামচের সাহায্যে খাবারের শেষ লোকমাটা মুখে পুরে উঠে দাঁড়ায়। টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে পিছু ফিরে নিগুর দৃষ্টিতে তাকায় পিছনে বুকে নিজ সন্তান আগলে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীটির পানে। মিরা মাথা নুইয়ে নিলো। আয়ান মায়ের ওড়না চেপে মুখে গুঁজে বড়বড় আঁখিপল্লব মেলে তাকিয়ে আছে সামনের দীর্ঘ দেহির পুরুষটির পানে।
মিরার দিক হতে চোখ সরিয়ে তূর্যের নজর শিশুটির পানে যেতেই আচমকা দৃষ্টি তার স্থির হয়ে আসে। গলে যায় মনের ভাবনাগুলো। শিশুটি যখন প্রথম পৃথিবীর বুকে এসেছিলো সেদিনও সে বাড়ি ছিলো না। আয়ান জন্মের তিনদিন বাদে সে তাকে প্রথম দেখেছিলো এবং চাচ্চু হিসেবে কোলে তুলেছিলো। অথচ আজ তার অবস্থান কোথায়? কে সে? শিশুটির সাথে তার সম্পর্কের পরিবর্তনটা কতদূর গড়িয়েছে ধারণা আছে? 
কথাটা মস্তকে হানা দিতেই নিজেকে সামলে নেয় সে। পুরুষটির মস্তিষ্কে বিচরণ করা নিগুঢ় ভাবনাগুলোকে এক সাইডে রেখে হালকা কেঁশে ওঠে। 
—খাবার বাড়া আছে, খেয়ে নিন।
তূর্য সোফার পানে এগিয়ে যেতে চায়। তবে কি মনে করে জানি থেমে যায় মাঝপথে। মিরা তখনো কোলে ছটফট করতে থাকা ছেলেকে থামাতে ব্যাস্ত, একদম নিঃশব্দে ঠোঁট নাড়িয়ে শান্ত করছে সন্তানকে। মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ বের করছে না রমণী। যেনো সামান্য টু'শব্দ করলেও সামনের পুরুষটির বিরক্ত লাগতে পারে। 
—উই....আ...আ
মিরা চোখের নরম ইশারায় ছেলেকে শান্ত করতে চায়। তবে অবুঝ শিশুটি দ্বিগুণ চিৎকারে মায়ের ওড়না টেনে লাফালাফি শুরু করে দেয় কোলের মাঝেই। মিরা বেশ অস্বস্তি অনুভব করে। চোখ তুলে তূর্যের পানে তাকানোর সাহস পায়না।
—দিন।
হুট করেই পুরুষটির এহেন গম্ভীর গলায় চমকে তাকায় মিরা। দেখে তূর্য তার পানে হাত বাড়িয়ে আয়ানকে ইশারায় চাইছে। মিরার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। হাত-পা কেমন অসার অনুভব হয়। বুকের ভেতরটা ভার হয়ে আসে অজানা কারণে। রমণী মাথা তুলে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় মাত্র। 
—কি হলো? দিন! 
ধ্যান ভাঙে মিরার। তাকায় ছেলের পানে, অতঃপর তূর্যের পানে। ইতস্তত বোধ করে। সাথে অজানা কিছু আশংকা তাকে আঁটকে দিচ্ছে। বুকের ভেতর উপচে পরছে বিষাদের ঢেউ।
—ওকে আমায় দিন। আমি সামলে নিচ্ছি, বেশ রাত হয়েছে। তারাতাড়ি খেয়ে ঘরে যান। আমায় সকালে বের হতে হবে।
মিরা কথা বাড়ায় না। মাথা নুইয়ে ছেলের পানে তাকাতেই খেয়াল করে শিশুটি অতন্ত্য শান্ত চিত্তে তূর্যের পানে তাকিয়ে। পরখ করছে পুরুষটির মুখমণ্ডল। তূর্য নিজেও ছোট্ট অস্তিত্বটার পানে তাকিয়ে। তবে মিরা বুঝলো না, সেই দৃষ্টিতে আদৌও কি ছিলো। 
—উই... গুই....
তীব্র এক চিৎকার দিয়ে আচমকা তূর্যের পানে হেলে পরে আয়ান। এতে ভিষন চমকে যায় মিরা। দ্রুত ছেলেকে সামলে অবাক নেত্রে তাকায়। আয়ান তখনো হাত-পা ছুঁড়ছে নাগাতার ভাবে। তূর্য সেদিকপানে তাকিয়ে। মুখের ভাব অতি শীতল। দু'হাতে অতি সাবধানে ছোট্ট শিশুটিকে কোলে তুলে কাউচে গিয়ে বসলো ধপ করে৷ আয়ান তখন পুরুষটির শরীরের এঁটে থাকা টিশার্ট খামচে হা করে মুখের পানে তাকিয়ে আছে। তূর্য নিজেও শিশুটির পানে তাকিয়ে আছে নিগুর দৃষ্টিতে। মিরা নজর ফেরায় না। নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে ঠাঁই। কপালে তার সরু ভাজের রেখা৷  
------------------------------------
ঘরির কাটায় একটা বাজে পঁচিশ মিনিট।বাড়ির দরজা খুলে হেলতে দুলতে ভেতরে প্রবেশ করে আরহাম। গায়ের জামাকাপড় এলোমেলো। চোখ দুটো লালচে। শরীর থেকে তীব্র নেশার গন্ধ বের হচ্ছে। ড্রয়িংরুমের আলো তখনো জ্বলছে। সোফায় বসে ছিলেন আমিনুল চৌধুরী। ছেলেকে এভাবে ফিরতে দেখে মুহূর্তেই তার মুখের ভাব বদলে যায়। কপালে তীব্র ভাজ ফেলে আওড়ালেন-----
—আরহাম! 
কোনো উত্তর আসে না বিপরীতে। আরহাম জুতোর ফিতা খোলারও প্রয়োজন বোধ করলো না। একবার বাবার দিকে তাকিয়ে আবারও মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
—কোথায় ছিলি এত রাতে?
—বাহিরে। 
জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠে উত্তর দেয় সে। আমিনুল চৌধুরী বুঝলেন, আরহাম আজও নেশা করেছে। কথাখানা ভাবতে গিয়ে মনে মনে ভিষন ব্যথিত হলেন তিনি। চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস টেনে নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়ান। কড়া গলায় বললেন----
—বাহিরে কোথায় ছিলি? এই অবস্থা কেনো তোর?কতবার বলেছি এসব নেশা করে বাড়ি ফিরবি না। তোর নিজের কোনো হুঁশজ্ঞান নেই? নিজের কথা না হয় বাদই দিলাম, নিজের বাবা-মায়ের কথাটাও একবার ভাবিস না?
আরহাম বিরক্ত চোখে বাবার দিকে তাকায়। ভ্রু কুঁচকে গেছে তার বিরক্তিতে। 
—এখন আর শুরু করো না তো, বাবা।
—আমি শুরু করছি? তুই যা করছিস, সেটা কি আমি বসে বসে দেখবো? তোর স্ত্রীকে তুই কীভাবে ছেড়ে দিলি, সেটা ভুলে গেছিস? নিজের সন্তানটাকে একবারও মনে পড়লো না তোর?
আরহামের মুখ শক্ত হয়ে যায় মিরার কথা শুনে। বিরক্তিকর মুখে উত্তর করে যুবক----
—আমার এসব শুনতে ভালো লাগছে না। তাই প্লিজ, এসব ফালতু কথা আমায় আর বলো না। 
—ভালো লাগবে কেনো? সত্যি কথাগুলো শুনতে কারোই ভালো লাগে না। মিরা এই বাড়ি থেকে চলে গেছে। তোর ছেলে কোথায় আছে, জানিস? তোর নিজের ভাইয়ের কাছে! তবুও তোর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই?
আরহাম থমকায়। ভ্রু তার কুঁচকে যায় দ্বিগুন। মিরা চলে গেছে! সে তো জানে না! পরের মুহূর্তেই লাল হয়ে এলো তার মুখ। সাথে হেঁসেও দিলো মৃদু। যেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা ছিলো না। আমিনুল চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে নিলেন। আরহাম দু'পা এগিয়ে এলো বাবার পানে। চুক চুক আওয়াজ করলো মুখ দিয়ে। অতঃপর ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো----
—আমার ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামিয়ো না, বাবা। আর মিরার কথা তো বলোই না আমায়। 
—আরহাম!
—আমি খুব ক্লান্ত। কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।
বলেই টলতে টলতে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায় আরহাম। আমিনুল চৌধুরী কিছুক্ষণ ছেলের পানে তাকিয়ে থাকেন। তারপর হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে ছেলেটার জন্য৷ তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না আরহামের এতোটা নষ্ট হওয়ার কারণটা কি! কেনো সে এতোটা বিগড়ে গেলো? কেনো ভুলে গেলো স্ত্রী-সন্তানকে? 
আমিনুল চৌধুরী ধপ করে সোফায় বসে পরেন। চারিদিকটা অন্ধকার হয়ে আসছে কেমন। ছোট থেকেই আরহাম উগ্র মেজাজের। তূর্যও তাই। তবে তাদের দু'জনের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। মিরা ও তার সন্তান যেখানে আছে, যার কাছে আছে তারা সেখানে ভালো থাকবে সে কথা তিনি জানেন। তবে আরহামও তো তার সন্তান, তার জন্যও তো বড্ড চিন্তা হচ্ছে তার। 
 
--------------------------------
লেখকের আসল পেজ 👉 Monalisa Mehroz—The Story Weaver সবার আগে গল্প পেতে পেজে ফলো দিয়ে রাখুন। 
---------------------------------
খানিকবাদে মিরা টেবিলের একপাশে এসে বসে।খাবার সামনে থাকা সত্ত্বেও তার নজর বারবার চলে যাচ্ছে কাউচে বসে থাকা তূর্যের পানে।পুরোটা সময় তূর্য আয়ানের দিকেই তাকিয়ে আছে। কখনো শিশুটির ছোট্ট হাতের দিকে, কখনো মুখের দিকে। আয়ানও যেন নতুন মানুষটাকে চিনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মাঝেমধ্যে ছোট্ট হাত দুটো ছুঁড়ে তূর্যের বুকের কাছে পৌঁছাতে চাইছে।মিরার মুখে খাবার উঠছে ঠিকই, তবে স্বাদ অনুভব করতে পারছে না ঠিক। খাওয়ার চেয়ে বেশি দেখছে ওদের দুজনকে।
অদ্ভুত এক দৃশ্য। যে মানুষটা সারাদিন কাজ করে রাতে বাড়ি ফিরে এসেছে, সেই মানুষটাই এখন নিজের ক্লান্তির কথা ভুলে এক শিশুর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মিরা ধীরে ধীরে খাওয়া শেষ করে। প্লেট সরিয়ে উঠে দাঁড়ায়। আয়ান তখন তূর্যের বুকের ওপর আধশোয়া হয়ে আছে। শিশুটির ছোট্ট মুঠো এখনো তূর্যের টিশার্ট আঁকড়ে ধরে।
মিরা টেবিলের প্লেট, গ্লাসগুলো গুছিয়ে নেয়। কিচেনের সিঙ্কে রেখে একবার পানি ঢেলে দেয়।পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে তূর্য উঠে দাঁড়িয়েছে। তার কোলে তখনো আয়ান।তূর্য একবার মিরার দিকে তাকায়। তবে সেই দৃষ্টিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আলগোছে দৃষ্টি ফিরিয়ে নরম গলায় সুধায়----
—খাওয়া শেষ?
—হুম।
—কিছু গুছিয়ে রাখার দরকার নেই। কাল করে নিবো। 
মিরা মাথা নেড়ে চুপ করে থাকে। সাথে অবাক হয়, সে করবে মানে? মিরা থাকতে তূর্য কেনো করতে যাবে এসব? পুরুষ মানুষ হয়ে এসব কাজ মানায় না-কি! তূর্য আর কিছু বলে না। আলতো হাতে আয়ানকে বাড়িয়ে দেয় মিরার পানে। মিরা ভাবনার জগৎ থেকে বেড়িয়ে হাত বাড়িয়ে ছেলেকে বুকে আগলে নিলো। 
তূর্য সেদিকে একবার তাকিয়ে দু'পা এগিয়ে আবার থেমে পেছনে তাকায়। মিরা তখনো দাঁড়িয়ে।তূর্য কয়েক সেকেন্ড তার পানে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর গলায় বলে----
—ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। অনেক রাত হয়েছে।
বলেই আর অপেক্ষা করলো না পুরুষটি।নিজের ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে যায় তূর্য। মিরা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে ধীরে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায়। মনের ভেতর কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে তার। আয়ানের প্রতি তূর্যের অদ্ভুত স্থির চাহুনি বারবার মিরার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। গায়ে কাঁটা দিচ্ছে কেমন।
চলবে........
( যথাযথ রেসপন্স করবেন। আর যারা ফলো দেননি তারা ফলো দিয়ে দিবেন। আর একটা বিষয়। অনেকেই বলছেন আমি মিরার নাম গুলিয়ে ফেলছি। কখনো রমণী কখনো মিরা বলছি। শুনুন, রমণী কোন নাম নয়।বরং এটা মেয়ে+রমণী+নারী, রমণী শব্দটি কন্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। ক্লিয়ার? 
ভুলক্রুটি ধরিয়ে দিবেন। হ্যাপি রিডিং❤️‍🩹)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন