#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶--- [ #পার্ট_০৩ ]
____আচ্ছা আর বলবো না এখন একটু হাসো নয়তো আমার ভালো লাগবে না ।
তারপর ইতি বেগম হেসে তাদের বিদায় দিলো। হাইওয়ের রাস্তা দিয়ে গাড়ি শো শো শব্দ করে ছুটে চলেছে। তুবা বাইরে তাকিয়ে অন্য সব গাড়ি দেখছে।
____ আপনার গাড়ি সব থেকে সুন্দর।
আমান ড্রাইভ করতে করতে জবাব দিলো,,,
____ কি বললি
____ অনেক গুলো গাড়ি দেখিছি এরমধ্যে আপনার টাই সব থেকে সুন্দর।
____ হু ,,
____ কি হু ?
____ তুবা
____ বলুন ?
আমান কি ভেবে যেন হেসে ফেললো, তুবা কে আর কিছু বললো না।
____ তা মিস টিকটিকি কিছু খাবেন?
____না
আমান ড্রাইভ করছিলো এমন সময় মাহিরা কল করলো আমান কে ।
____হ্যালো
____জি মিস্টার কই থাকেন সারাদিন ? কল করে একটা খবর ও নেন না !
____মামিদের বাসায় গিয়েছিলাম। তাই কল করিনি সামান্য ব্যস্ত ছিলাম।
____ ওহ্,,
____ তুমি কি করো?
তুবা এতোক্ষণ আমান কার সাথে কথা বলছিল খেয়াল করিনি হঠাৎ কলের ওপাশের ব্যক্তিকে তুমি করে সম্বোধন করায় তুবার টনক নড়লো।
তুবা একটু নড়েচড়ে বসে বোঝার চেষ্টা করলো আসলে আমান কার সাথে কথা বলছে।
তুবা মনে মনে ভাবলো,,,
____কার সাথে কথা বলছে ওনি? কোনো মেয়ে টেয়ে নয়তো?
আমান মিরর দিয়ে এক পলক তুবার দিকে তাকালো,,
দেখলো তার দিকে সন্ধিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আমান ভুরু উঁচু করে ইশারায় বোঝালো কি হয়েছে?
তুবা ধরা খাওয়ার মত নড়েচড়ে অন্যদিকে চোখ ফেরালো।
আমান বাঁকা হেসে মাহিরা কে বললো,,
____এখন রাখছি পরে কথা বলব।
**
তুবার মনের খটকা এখনও কমলো না । কলের ওপাশে আসলে কে ছিল আর কার সাথেই বা আমান এত খুশ মেজাজে কথা বললো। তুবা নিজের মধ্যে কৌতুহল দমাতে না পেরে আমান কে জিজ্ঞেস করেই ফেললো সে কার সাথে কথা বলছিল।
____তা জেনে কি করবি তুই?
____না এমনি জিগ্যেস করছিলাম আরকি।
তুবা ইনিয়ে বিনিয়ে আমান কে আরেকটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে বসলো
____ আপনার পছন্দের কেউ আছে মানে আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে ?
আমান মনে মনে ভাবলো মাহিরার সাথে যখন বিয়ের ডেট ফিক্সড করবে তখনি নয়তো সবার সাথে তুবা ও জানবে বিষয় টা , এটা ভেবে আমান আর কিছু বললো না তুবা কে।
____না নেই।
তুবা অবাকের ন্যায় হা করে বলল ,,
____কি সত্যি বলছেন আপনার গার্লফ্রেন্ড নাই! আপনি এত সুন্দর হ্যান্ডসাম একটা পোলা আর আপনার গার্লফ্রেন্ড নাই!
আমান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো,,
____না নেই , তুই আছিস না! তুই থাকলে কি আর কাউকে দরকার পড়ে নাকি।
তুবা আমান এর মুখে এমন ধরনের কথা শুনে মনে হলো আকাশ থেকে এইমাত্রই পড়লো সে! তুবা লজ্জা পেল ভিষন। লজ্জায় গাল দুটো রক্তিম বর্ন ধারন করলো। আমান শব্দ করে হেসে ফেললো।
তুবা কে বাচ্চা ভেবে আমান বিষয় টা ওরিয়ে দিলেও তুবা তার মনের মধ্যে আমান এর বলা কথাটা গেঁথে নিলো।
তুবার মনে একশো পাঁচ ছয়টা তেলাপোকা লাফালাফি করা শুরে করে দিয়েছে ইতিমধ্যে।
গাড়িটা পার্কের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তুবা হন্তদন্ত হয়ে আমান কে গাড়ি থামাতে বললো ।
____ এই ,,এই থামান বলছি ।
আমান চমকে জবাব দিলো
____ কেন ?
____ ফুচকা,
আমান ব্রেক কষে বললো
____ মানে ?
____ ফুচকা খাবো। আপনি না আমাকে খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলেন , এজন্য এখন আমি ফুচকা খাবো ।
আমান দীর্ঘশ্বাস ফেললো ,
____ ইডিয়ট কোথাকার, স্বাভাবিক ভাবে কোনো কথা বলতে পারিস না ?
তুবা ঠোঁট পাউট করে আমান এর দিকে তাকালো। আমান বিরক্তিতে চোখ সরিয়ে নিলো ।
____ নাম গাড়ি থেকে।
____ কেন ?
____ ফুচকা খেতে চাইলি
____ হুম খাওয়াবেন ?
____ হুম খাওয়াবো ।
____ ইয়ে!!!
তুবা খুশি মনে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালো।
____ এখানেই দাড়া আমি নিয়ে আসি । রোদে দাড়িয়ে খেতে হবে না।
____ আচ্ছা।
তুবা গাড়ির গেট খুলে সিটে বসে পা এর সাহায্যে গেট খুলে রাখলো। আমান এক প্লেট ফুচকা এনে তুবা হাতে দিয়ে গেট ধরে দাড়ালো ।
তুবা চোখ মুখ কালো করে ফেললো।
____ আপনার টা কই ?
____ আমি এসব হাবিজাবি ছাইপাস খাই না ।
তুবা রেগে গেলো মুহুর্তেই। তার ফুচকা কে ছাইপাশ বলে অপমান ! আমান এর দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
____ এগুলো আপনার কাছে ছাইপাশ মনে হয় !
____ হ্যাঁ।
____ চুপ করুন আপনি।
তুবার হঠাৎ রেগে যাওয়ার মানে ধরতে পারলো না আমান ।
____ কি হলো এমন রেগে বোম কেন হলি ?
____ আমার ফুচকা কে অপমান করেছেন আপনি!
আমার হা হা করে হেসে উঠলো ।
____ গাধা এসব ছাইপাশ নয়তো কি !
তুবা ফুচকার প্লেট টা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,
____ খাবো না আপনার ফুচকা ।
____ কেন ?
____ কিপটে লোক কোথাকার এমনি তেই তো মাত্র এক প্লেট ফুচকা এনে দিয়েছেন তার উপর ফুচকা কে অপমান করছেন । আমি কিছু বুঝিনা ভেবেছেন !
আপনার যাতে আর ফুচকা কিনে দেওয়া না লাগে এজন্য আপনি এসব ধরনের কথা বলছেন । আমি খালা মনি কে গিয়ে সব বলে দিবো। ফিহাদ ভাইকে বলবো আমাকে ফুচকা কিনে খাওয়া তে ।
আমান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল তুবার দিকে।
____ সিরিয়াসলি তুবা , আমি ভেবেছিলাম তুই অল্পসল্প গাধা। কিন্তু এখন দেখছি যে তুই পুরোটাই গাধা। তুই কোন জিনিস কে কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছিস। ফুচকা বাতাসে তেনিয়ে যাবে এইজন্য এক প্লেট এনেছি এই প্লেট ফুচকা শেষ হলে আমি আরো আনবো । কারন আমি ভেবেই অর্ডার দিয়ে এসেছি যে আমি এক রাক্ষুসে খাদকের জন্য ফুচকা অর্ডার দিয়েছি।
পুরো কথাটা একদমে বলে আমান থেমে গেলো।
তুবা কে রাক্ষুসে খাদক বলায় বেশ জোড়ালো ভাবে অপমানিত হলো সে । মনে মনে ভেবে নিলো ফুচকা খাবে না সে । আমান এর দেয়া কোনো খাবারই খাবে না সে। মুখ বাঁকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকালো।
আমান অবাক এর উপর অবাক হচ্ছে। জীবনে এই প্রথম যেন কোনো মেয়ে তাকে মুখ ভেঙালো।
____ এই টিকটিকি
তুবা কিছু বললো না গাল ফুলিয়ে বসে রইলো।
____ কিরে খাবি না ?
____ না
____ খেয়ে নে নষ্ট হয়ে যাবে ।
তুবা তারপরেও তাকালো না আমান এর দিকে।
আমান এবার রেগে গেলো। রাগি স্বরে বলল
____ তুবা মাথা গরম করিস না আমার । তাহলে খুব খারাপ হবে ।
তুবা আমান এর এমন রাগি কন্ঠস্বর শুনে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আমান অবাক না হয়ে পাড়ছে না কি এমন বললো যে যার জন্য এমন কেঁদে ফেলতে হবে !
❌🚫কপি করা নিষিদ্ধ 🚫❌
চলবে,,,
#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendgpost #viralpostchallenge