#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 -- [ #পার্ট_০৪ ]
[ এখানে আগেই একটু বলি, তুবার বর্তমান মা ইতি বেগম আর আমান এর মা মহিনি বেগম এরা সম্পর্কে চাচাতো বোন । তুবার বাবা মহিনি বেগম এর আপন ভাই । এবার বুজেছো পাখিরা, তুবার বাবা মা সম্পর্কে চাচাতো ভাই বোন। আর অনেকে পাখিদের মনে প্রশ্ন যে তুবার বর্তমান
মা ইতি বেগম কিনা? এটা গল্পের মধ্যেই দেখতে পাবে
সব বললে টুইস্ট থাকবে না । আশা করি এবার পড়তে
আর অসুবিধা হবে না। ]
আমান এবার রেগে গেলো। রাগি স্বরে বলল
____ তুবা মাথা গরম করিস না আমার । তাহলে খুব খারাপ হবে ।
তুবা আমান এর এমন রাগি কন্ঠস্বর শুনে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আমান অবাক না হয়ে পাড়ছে না কি এমন বললো যে যার জন্য এমন কেঁদে ফেলতে হবে !
____ কাঁদছিস কেন ?
____ যাবো না আমি আপনার সাথে
____ কেন ?
____ আপনি অনেক রাগ দেখান কষ্ট দেন আমাকে।
তুবা সামান্য কান্না করায় গাল নাক ঠোঁট টসটসে রক্তিম বর্ন ধারন করেছে, আমান এর বেশ ভালো লাগলো তুবাকে। একটা মেয়ে কাদলেও যে তাকে এতো ভালো লাগতে পারে তুবাকে না দেখলে বুঝতোই না সে কখনো।
আমান নিজের ভাবনার মাঝে অজান্তেই তার হাত দিয়ে তুবার চোখের পানি মুছে দিলো। তুবা সামান্য কেঁপে উঠলো। চমকে তাকালো আমান এর দিকে। কান্না নিমিষেই থেমে গেলো, চোখ গোলগোল করে তাকিয়ে আছে আমান এর দিকে। তুবার কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমান হাত সরিয়ে নিলো, কি করছিলো এটা সে , নিজেকে দ্রুত স্বাভাবিক করে নরম স্বরে তুবাকে বললো,,,
____ খেয়ে নে , ওয়েট আমি এটা চেঞ্জ করে আনছি,
তুবা হতভম্বের মতো চেয়ে রইল আমান এর দিকে। বুকের মধ্যে ধুপধাপ শব্দ যেন বেড়েছে দ্বিগুণ ভাবে। তুবা নিজের গালে হাত রাখলো, আমান এর খসখসে হাতের স্পর্শ টা এখনো লেপ্টে আছে তার মুখে। তুবা নিজের অজান্তেই মুচকি হাসলো। আমান চেঞ্জ করে আরেক প্লেট ফুচকা এনে তুবার হাতে ধরিয়ে দিলো।
____ এবার খা। নয়তো এটাও নষ্ট হয়ে যাবে।
তুবা লজ্জায় মাথা নিচু করে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো।
আমান বুঝে উঠতে পারলো না তুবার হঠাৎ এমন ব্ল্যাস করার কারন।
আমান ইম্পর্ট্যান্ট একটি কল রিসিভ করে দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করলো, তুবাকে চোখের ইশারায় তাড়াতাড়ি খেয়ে শেষ করতে বললো, আমান কথা বলতে বলতে তুবা ছয় প্লেট ফুচকা শেষ করে ফেললো।
____ আরেক প্লেট প্লিজ আমান ভাই,
____ অসম্ভব, এতো গুলো খেয়ে ফেলেছিস অলরেডি, স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর এসব। আর খাওয়া লাগবেনা, চল এখন ।
____ না , আপনি যখন বলেই ফেলেছেন আমি এতগুলো খেয়েছি তাহলে আমি আরেক প্লেট খেতে চাই। প্লিজ,
তুবা ইনোসেন্ট ফেশ করে আমান কে বললো কথা গুলো। আমান শেষমেষ বাধ্য হয়ে আরেক প্লেট ফুচকা এনে তুবার হাতে ধরিয়ে দিল।
____ এটাই শেষ প্লেট , বাড়িতে যেয়ে তুই অসুস্থ হলে আম্মু আমাকে ছাড়বে না।
তুবা মুখে একটা ফুচকা দিয়ে চিবোতে চিবোতে বললো
____ কিছু হবে না আমার । এই নিন এটা খান ।
তুবা এক পিস ফুচকা আমান এর মুখের সামনে নিয়ে ধরলো ।
____ দূরে রাখ আমি এসব খাই না ।
____ এটা আপনাকে খেতে হবে । না খেলে আমি আপনার কোনো কথা শুনবো না।
____ আহ্লাদ বেশি করে ফেলেছি যে কথা শুনবি না।
____ আগে খান এরপর যা ইচ্ছে বলেন ।
____ অনেক পাজি একটা মেয়ে তুই।
____ হুম আগে এটা খান তো ।
আমান কথা বলতে বলতে হা করলো , তুবা মুখের মধ্যে দিতেই আমান এর ঠোঁটে তাঁর আঙুলের স্পর্শ লাগলো । সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে উঠলো তুবা। আমার এর যেন এদিকে কোনো খেয়াল নেই । চোখ মুখ খিচে চিবোচ্ছে ফুচকা টা । মুহুর্তেই চোখ মুখ লাল বর্ন ধারন করলো। ঝালের কারনে কথা বের হচ্ছে মুখ দিয়ে।
____ টিকটিকির বাচ্চা পানি দে ।
তুবা হতভম্বের মতো চেয়ে আছে আমান এর দিকে। এক পিস ফুচকা খেয়ে তার এই অবস্থা।
____ আমাকে পড়ে দেখিস আগে পানি দে ।
____ ও ,,হু হু এই নিন ।
তুবা পানির বোতল টা এগিয়ে দিলো আমান এর দিকে ।
____ বেশি ঝাল ?
____ হুম ।
____ সরি সরি আসলে আমি জানতাম না যে আপনি ঝাল খেতে পারেন না।
আমান চোখ গরম করে তাকালো তুবার দিকে ।
তুবা মাথা নিচু করে নিলো ।
____ আমি ঝাল খেতে পারি না এটা কি তোর জানার কথা ছিলো ?
____ ইয়ে মানে,,
____ তুই কি আদেও কোনো মানুষ ! এতো ঝাল কিভাবে খাচ্ছিস !
____ এমনি ।
আমান ঝাড়ি মেরে বললো
____ চুপ!
তুবা ঠোঁট কামড়ে ধরলো। চিবুক নামিয়ে বসে রইলো।
____ দে এগুলো , এতো ঝাল খেতে হবে না।
তুবা আর সাহস করে কিছু বলতে পারলো না। ফুচকার প্লেট টা হাতে চেপে বসে রইলো। এরমানে সে দিবে না প্লেট টা । আমান প্লেট টা ছিনিয়ে নিলো ।
____ একদম খাবি না এইসব । যদি বাড়িতে যেয়ে অসুস্থ হয়েছিস তাহলে তোর খবর আছে ।
তুবা ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকালো, মিনমিন স্বরে বললো
____ সরি সত্যিই আমি জানতাম না যে আপনি ঝাল খেতে পারেন না।
____ চুপ।
ঝাড়ি মেরে আমান কথা টা বললো , তুবার হাত থেকে প্লেট নিয়ে টাকা দিয়ে সামনের টং দোকান থেকে একটি আইসক্রিম কিনে নিয়ে আসলো তুবার জন্য।
____ এই নে এটা খেয়ে নে ।
তুবা হাত চেপে বসে আছে সে খাবে না আমান দেয়া কোনো খাবার ।
আমান এবার গলা খাঁকারি দিলো,,
____ টিকটিকি তোর চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে , ভয় লাগছে আমার তাড়াতাড়ি এটা খেয়ে নে ।
তুবা চিবুক উঠালো , ভেজা চোখে তাকালো আমান এর দিকে। নাক টেনে ভাঙা কন্ঠে বললো
____ কেন ভয় লাগছে আপনার ?
____ ভয় লাগবে না বলছিস? তোর যদি কিছু হয় ?
____ আমার কিছু হলে কি আপনি কষ্ট পাবেন ?
আমান মুচকি হাসলো তুবার বাচ্চামো দেখে ।
____ এত কিছু জানি না এটা খেয়ে নে।
____ আগে বলুন
আমান দীর্ঘশ্বাস ফেললো, দম নিয়ে তুবার দিকে তাকিয়ে বললো
____ হুম কষ্ট পাবো ,
মুহুর্তেই তুবার চেহেরায় পরিবর্তন দেখা গেলো। দাঁত বেড় করে হেসে আমান এর হাত থেকে আইসক্রিম টা নিয়ে নিলো পেকেট ছাড়িয়ে আমান কে আগে খেতে বললো । আমান স্বাভাবিক ভাবে বললো
____ আমি বাইরের জিনিস খেতে পারি না। তুই খা।
কথাটা শেষ করে তুবাকে কিছু বলতে না দিয়ে গাড়ির গেট লাগিয়ে দিল। উল্টো দিক দিয়ে হেঁটে গাড়িতে বসালো আমান। পনেরো বিশ মিনিট এর মাথায় তারা চৌধুরী বাড়িতে এসে পৌঁছালো। তুবা একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়লো মহিনি বেগম এর কোলে ।
____ মামুনি, মামুনি
মহিনি বেগম এক গাল হেসে জড়িয়ে নিলো তুবাকে। তুবা কে দেখলেই তার প্রিয় সঙ্গির কথা মনে পড়ে । তুবা যে তার প্রতিচ্ছবি।
আমান এর বাবা আসিফ চৌধুরী এগিয়ে আসলেন তুবা মাথায় পরম স্নেহের হাত রাখলেন ।
____ কেমন আছেন আম্মুজান ?
____ অনেক ভালো বাবাই। কিন্তু আমি তোমার সাথে রাগ করেছি। তুমি অনেক অনেক পঁচা!
গাল ফুলিয়ে দাড়িয়ে তুবা। আসিফ চৌধুরী চিন্তাত স্বরে বললেন
____ কেন কেন আমার আম্মু জানের কি হয়েছে ?
____ তুমি আমার এ কো মাসে একটাও খোঁজ নাও নি ।
____ অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে দেখছি । আমার আম্মু জানের সাথে অন্যায় করে ফেলেছি।
____ হু ,,
তুবা ফুলো ফুলো গারে মুখ বাকালো ।
____ ভুল হয়ে গেছে আমার ক্ষমা কি করা যায় না আমাকে ?
____ যায় কিন্তু এক শর্তে।
____ সব শর্ত মানতে রাজি আছি আমি। এবার
বলে ফেলুন তো কি শর্ত ?
তুবা একপলক তাকালো আমান এর দিকে তারপর এক বুক সাহস নিয়ে বলে উঠলো
____ আমার জন্য ফুচকা কিনে আনতে হবে এক্ষুনি।
তুবা আড় চোখে এক পলক তাকিয়ে দেখলো আমান এর মতিগতি। দেখলো আমান সিঁড়ির সামনে থেকে তেড়ে আসছে তুবার দিকে । তুবা লাফিয়ে মহিনি বেগম এর কাছে গিয়ে লুকোলো। আমান দাঁতে দাঁত চেপে বললো
____ থাপ্পড় খেতে না চাইলে ফুচকা খাওয়ার কথা ভুলে যা।
আসিফ চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে তাকালো আমান এর দিকে।
____ আমান এইসব কোন ধরনের কথাবার্তা। আমার আম্মুজানের সাথে তুমি এভাবে কথা বলতে পারো না।
____ তোমার আম্মুজান অলরেডি ছয় সাত প্লেট ফুচকা খেয়ে এসেছে ।
____ কিহ!
আসিফ চৌধুরী সহ মহিনি বেগম এর মুখ হা হয়ে গেল। তুবা চোখ মুখ কুঁচকে নিলো। ধরা খেয়ে যাওয়ার মতো মুখ করে এদিক ওদিক তাকালো।
কি করে বাঁচবে এই পরিস্থিতি থেকে কোনো সয়তানির বুদ্ধি তো তার মাথায় আসছে না । কি করবে সে !
মহিনি বেগম এর পেছনে চোখ পড়তেই দেখলো পারুল বেগম গাল ফুলিয়ে বসে আছে।
তুবা এক ছুটে এগিয়ে গেল তার দিকে । পাশে গিয়ে বসে পড়লো । পারুল বেগম এর হাত ধরে বললো,,
____ এই বুড়ি গাল কেন ফুলিয়ে রেখেছো ?
____ আমি এমন সতিন এর সাথে কোনো সম্পর্কই রাখতে চাই না । সরে যাও আমার সামনে থেকে।
তুবা এক গাল হেসে পারুল বেগম কে জড়িয়ে ধরে অভিনয় করে বললো
____ মামুনি কে জিজ্ঞেস করো তার চাচাতো বোন টা কি জল্লাদ এর জল্লাদ। বাবা যে কেন আম্মু কে বিয়ে করতে গেল !
মুহুর্তেই সবার মুখ থমকালো । তুবা বুঝে উঠতে পারলো না সবার এমন করার মানে ।
____ কি হলো বুড়ি থমকে কেন গেলে ?
পারুল বেগম গলা খাঁকারি দিলো।
____ সতিন তুমি এবার আর এখান থেকে যাবে না। এখানেই থেকে যাবে ।
তুবা সব ভুলে আড় চোখে আমান এর দিকে তাকালো। দেখলো চোখ পাকিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তুবা চোখ সরিয়ে নিলো।
তয়ন সিড়ি বেয়ে নামছিল তুবা কে দেখে হা করে তাকিয়ে রইল। চিৎকার করে উঠল,,
____ তুবা!
তুবা পেছনে ঘুরে তাকালো। দাঁত বের করে হেসে ফেললো,,
____ তয়ন ভাই!
তুবা দৌড়ে গেল তয়ন এর দিকে, তয়ন পরম যত্নে তুবার মাথায় হাত রাখলো।
____ কিরে বাঁদর কোথা থেকে উদয় হলি ?
____ তয়ন ভাই!
তুবা চোখ মুখ শক্ত করে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালো তয়ন এর দিকে।
[ দুঃখিত পাখিরা আপলোড করতে সামান্য দেরি হলো । পাখিরা সেয়ার করো বেশি বেশি কমেন্ট করে জানাও কেমন হয়েছে, শুধু নেক্সট পার্ট বলবে না। পারলে গল্প রিলিটেড কমেন্ট করবে । ]
চলবে,,
🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ 🚫
#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge