#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶[#পার্ট_০৫]
[ যাদের ভালো লাগবে না সসম্মানে স্কিপ করবেন 😒🔪, next part চেয়ে কমেন্ট করবেন না, গল্প রিলেটেড কমেন্ট চাই 🙂]
____ কথা বলবো না সাথে যাও ।
তয়ন হা হা শব্দ করে হেসে ফেললো। তুবা সেখানে থেকে চলে সরে আসলো । তুবার তয়ন ভাই একদম অসহ্য, সবসময় তার পেছনে পড়ে থাকে।
আমান এর বড় ভাই আয়ুষ সাথে তার ওয়াইফ শারমিন নিচে নামলো, তুবা কে দেখে মিষ্টি হেসে জড়িয়ে ধরলো তাকে। তুবা চমকে গেল তাকে পেছনে থেকে জড়িয়ে ধরায় । শারমিন শব্দ করে হেসে ফেললো।
____ আমাদের তুবা বুড়ি ভয় ও পায় দেখছি ।
তুবা বড়সড় কয়েকটি নিঃশ্বাস ফেলে হাত ছাড়িয়ে ঘুরে দাড়ালো,
____ আহ্ ভাবি আমি একদমই ভয় পাই না।
____ হুম তা তো আমরা দেখতেই পেলাম।
আয়ুষ সোফায় গিয়ে আসিফ চৌধুরী পাশে বসলেন। তুবা কে ডেকে বললেন ,,
____ তুবা জারিন খান একটু যদি ঘুরে তাকাতেন, আপনাকে কতো দিন হলো দেখি না ।
তুবা মিষ্টি হেসে লজ্জা লজ্জা ফেশ করে তাকালো আয়ুষ এর দিকে। তুবা এমন কান্ডে সবাই হেসে ফেললো।আমান এতক্ষণে বুঝে গিয়েছে তুবা যে
এই বাড়ির প্রান। মাত্র কয়েক মিনিটে পুরো বাড়ি মাতিয়ে নিয়েছে। এজন্যই সবার মুখে সবসময়
তুবা তুবা তুবা নামটা চিপকেই থাকে। আমান
মুচকি হেসে উপরে যেতে লাগলো। সবার সাথে
তুবা ও বসলো সোফায়। আড় চোখে দেখলো
আমান উপরে চলে যাচ্ছে। তুবা লজ্জা পেল
সামান্য । এই বাড়ির বউ হবে সে , আমান
জায়ান চৌধুরীর বউ । আমান রুমে এসে শার্ট
টা খুলে রকিং চেয়ারের ওপর ফেললো। গায়ে
শুধু মাত্র ফর্মাল পেন্ট টাই আছে । আমান ফুল পাওয়ারে এসি ছেড়ে বসে আছে বিছানায়। পা
জোড়া ফ্লোর ছুয়ে আছে। চোখ বন্ধ করে বড়বড় কয়েক টা শ্বাস নিলো। সারাদিন অনেক ধকল
গেছে তার উপর দিয়ে,আর পুরোটাই হয়েছে
বাদর টিকটিকির জন্য।
আমান মোবাইল টা হাতে নিলো স্ক্রিন অন করতেই থমথমে খেয়ে গেলো। মাহিরা কয়েক শ কল দিয়ে রেখেছে। আমান ঢোক গিলে কল ব্যাক করলো। মাহিরা কল কেটে দিলো । আমান বুঝলো মাহিরা রেগে আছে। তাই আর কল দিলো না। আমান এর
দৃঢ় বিশ্বাস রাগ কমলে মাহিরা নিজে থেকে কল করবে। হালকা হেসে মোবাইল টা বিছানার পাশে রেখে দিলো। এখন একটা সাওয়ার না নিলেই নয় । হাতে টাওয়েল নিয়ে ওয়াস রুমের দিকে গেল ।
ঘন্টা খানেক সময় নিয়ে সাওয়ার নিলো ।
চৌধুরী বাড়িতে তুবার জন্য একটি বরাদ্দকৃত রুম রয়েছে, যখনি তুবা এখানে আসে তখনি সেই রুমে
সে থাকে । ভাগ্য বশত আমান এর পাশের রুমটা
তার । তুবা নিজের রুমে যেতে নিলে সামনে পড়লো আমান এর রুম । পা দুটো দড়জার সামনে এসে
থেমে গেলো।
তুবা এদিক ওদিক তাকিয়ে আমান এর রুমের দড়জায় হাত রাখলো। সঙ্গে সঙ্গে দড়জা খুলে
গেলো। তুবা দড়জার ফাঁকা দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে এদিকে ওদিকে তাকালো। পুরো রুমে আমান এর কোনো দেখা নেই। তুবা ভেতরে আসলো। দড়জা চাপিয়ে দিলো। রুমটা ভালো করে একপলক দেখে নিলো। পুরো রুম অগোছালো। তুবা হাসলো , তার ব্যক্তিগত পুরুষ যে বড্ডো অগোছালো তা বুঝতে বেশি সময় লাগলো না। তুবা নিজের অজান্তেই
এসে রুম গোছাতে শুরু করলো। আমান কোমড়ে টাওয়েল পেঁচিয়ে ওয়াস রুম থেকে বের হলো ,
সদ্য সাওয়ার নেওয়ার চুল বেয়ে টুপটাপ পানি পড়ছে। উদাম বুকে ভিজে আছে সেই পানির
ছিটায়। তুবা খেয়াল করে নি আমান কে। আমান দুষ্টুমির ছলে তুবার একদম পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো তুবার কানের কাছে নিজের মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,,
____ উন্নতি দেখছি ভালোই হয়েছে। বারদ থেকে ভদ্রলোক। তা ব্যপার কি?
তুবা চমকে উঠলো , মাথা সোজা করতেই আমান
এর ভেজা সুঠাম বুকের সাথে বাড়ি খেলো । উল্টো হয়ে পড়তে নিলে আমান এক হাত দিয়ে তুবার লতানো কোমড় জড়িয়ে ধরলো। তুবা পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে আমান এর কাঁধে হাত রাগলো। গোলগোল চোখে হা করে তাকিয়ে আছে আমান দিকে। আমান ভ্রু জোড়া কুঁচকে তাকিয়ে আছে তুবার দিকে। তুবার আত্মা বের হওয়ার উপক্রম। বুকের মধ্যে ধুকধুকানি শব্দ যেন দ্বিগুন হয়ে বেড়েছে। লজ্জায় রাঙা হয়েছে তুবার গাল।
আমান তুবার অবস্থা বুঝতে পেরে বাঁকা হাসলো । আমান এর এমন হাসিতে হুস ফিরলো তুবার ।
তুবা কোনোমতে আমতা আমতা করে বললো
____ ছা,, ছাড়ুন।
আমান সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিলো , তুবা তাল হারিয়ে বিছানায় পরলো।
____আহ্ !
আমান দুহাত তুবার দুদিকে দিয়ে ঝুকে আসলো তুবার দিকে , আমান আর তুবার মুখের দুরত্ব সামান্য।
আমান কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো
____ কি ব্যাপার টিকটিকি আমার রুম গুছিয়ে দিচ্ছে।
আমান ভ্রু নাচিয়ে সন্ধিহান দৃষ্টিতে ফের বললো
____ কি ব্যাপার?
তুবার মুখের উপর আমান এর চুলের কয়েক ফোঁটা পানি পড়তেই তুবা কেঁপে উঠলো। আমান এর বুকের সামনে থেকে চোখ সরিয়ে অন্য দিকে ঘুরে তাকালো।
____ কি করছেন আপনি, লজ্জা নেই আপনার?
____ লজ্জা কেন?
____ এই যে আমার সামনে জামাকাপড় ছাড়া দাঁড়িয়ে আছেন ! কিছু একটা পড়ুন তাড়াতাড়ি।
আমান পুর্নরায় বাঁকা হেসে বললো
____ না পড়লে কি করবি?
____ পড়ে নিন প্লিজ।
তুবার এমন আকুতি শুনে আমান গিয়ে টি-শার্ট আর টাওজার পড়ে নিলো। তুবা হা কয়েকটি শ্বাস নিলো । আমান এতো কাছে থাকায় তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে ছিলো যেন। আমান বিছানার সামনে এসে হাত জোড় ভাঁজ করে বুকে রাখলো। ভ্রু কুঁচকে তাকালো তুবার দিকে। তুবা যে ভাবনার জগতে ডুবে তা বুঝতে বেশি কাঠখড় পোড়াতে হলো না আমান কে। আমান হালকা কাশলো তবে তুবার দিক থেকে চোখ সরালো না। তুবা তাকালো আমান এর দিকে। আমান বাঁকা স্বরে বললো
____ আমি জানি আমার বিছানা টা খুবই আরামদায়ক তাই বলে তুই এভাবে আমান বিছানা দখল করে সুয়ে থাকবি।
তুবা হতভম্ব হয়ে আমান এর দিকে তাকিয়ে রইলো। আমান বিরক্ত স্বরে বললো
____ টিকটিকি আর কতো শুয়ে থাকবি?
তুবা চমকে গেল। ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো। মাথা নুয়ে রাখলো।
আমান এর ভালো লাগলো তুবাকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। সেই ছয় বছর আগে যখন সে কানাডা গিয়েছিল তখন তুবা খুব ছোট ছিলো। তুবা ছিলো তার সবচেয়ে আদরের। এই তুবাকে ঘিরে তার কতশত স্বপ্ন ছিলো। কানাডায় চলে যাওয়ার সব
মাটি চাপা পড়েছে। যখন কাঁদতে কাঁদতে সবাই বিদায় জানাচ্ছিলো তাকে তখন বাঁদর তুবাটায় চকলেট খাওয়ার বায়না জুড়েছিল। তাই তো দেশে ফিরে সবার প্রথমে এই বাদর তুবার সাথেই দেখা করতে গিয়েছিলো সে । মাহিরার সাথে তার
মোবাইল এ পরিচয় হয়েছিল, বাড়ি থেকেই মাহিরা
কে তার জন্য পছন্দ করেছিলো সকলে , এরপর মাহিরাকে তার নাম্বার দিতেই মাহিরা টেক্সট করেছিলো তাকে । টুকটাক কথা হতে হতে আজ
দু বছর পেরিয়েছে । দেশে ফিরেই প্রথমে মাহিরার সাথে দেখা করার কথা ছিল কিন্তু এই বাদর টার
কথা যে একটু বেশিই মনে পড়েছিল, তাই
আগপাছ না ভেবেই আগে গিয়ে বাদর টা নিয়ে আসলো । তুবার সাথে কানাডা যাওয়ার পর
আর কথা বা দেখা হয়নি, আজ ছয় বছর পর
তার তুবা কে দেখলো। তুবা অনেক টা বড়
হয়েছে। অনেক টা পরিবর্তন এসেছে তার
মধ্যে শুধু বাদড়ামো বাদে। এসব ভেবেই আমান
মুচকি হাসলো । তুবা এখনো মাথা নুইয়ে রাখলো।
একটু আগে যা ঘটেছে এরপর আমান এর চোখে চোখ রাখা তার জন্য দায়।
[ 🚫বানান ভুল থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, ভোর চারটায় ইডিট করেছি বুঝেন ই তো !🚫 ]
চলবে,,,
🚫 কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge