ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বিতীয় বসন্তের অপেক্ষা

৭ম পর্ব

লেখক: অরোরা ইমান কায়নাত

#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 [ #পার্ট_০৭ ]

https://www.facebook.com/share/r/1DDX8cbZCr/

👈 লিংকে সবাই লাইক দিবে।

আমান ঘুরে তাকালো তুবার দিকে তুবাকে তার দিকে তাকিয়ে এমন হাস ফাঁস করতে দেখে চিন্তিত হলো।

কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো

____ কিরে কি হয়েছে ? এমন করছিস কেন ?

তয়ন চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো

____ তুবা খারাপ লাগছে তোর ?

টেবিলের বসে থাকা সবাই চিন্তিত দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

আমান তার আলতো হাত তুবার গালে রেখে মৃদু নাড়া

দিয়ে জিজ্ঞেস করলো

____ এই তুবা এমন করছিস কেন ?

এই পর্যায়ে তুবার শ্বাস টেনে নিতে কষ্ট হলো। কয়েক সেকেন্ড এর মাথায় জ্ঞান হারালো। আমান চমকিত

স্বরে ডেকে উঠলো তুবা কে ।

____ এই তুবা? তুবা ? তুবা তাকা আমার দিকে ?

তুবার ছোট তনু দেহটা আমান এর বুকের উপর

লেপ্টে পড়ে রইলো। আমান সযত্নে আগলে নিলো

তুবা কে ।

____ ভাইয়া ও হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে।

তয়ন কথাটা বলেই চেয়ার টেনে উঠে দাঁড়ালো।

মহিনি বেগম শারমিন এগিয়ে এসে তুবার হাত

মালিশ করতে লাগলো। তয়ন পানি হাতে নিয়ে

তুবার মুখে ছিটালো।

কিন্তু কোনো কাজ হলো না।

আমান তুবা কে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।

চিন্তিত স্বরে আয়ুষ কে বলল

____ ভাইয়া ওকে হসপিটালে নিতে হবে।

____ আমান তুই ওকে নিয়ে আয় আমি গাড়ি স্টারট

দিচ্ছি। আমান তুবা কে পাজা কোলে তুলে দ্রুত

পায়ে হেঁটে বেরিয়ে গেল।

তয়ন শারমিন এগিয়ে গেল। উদ্দেশ্য তাদের সাথে যাবে। মহিনি বেগম ধপ করে চেয়ারে বসে পড়লেন।

আসিফ চৌধুরী এসে মহিনি বেগম কে সামলে নিলেন। মহিনি বেগম হু হু করে কেঁদে উঠলেন।

পারুল বেগম এসে মহিনি বেগম এর পাশে বসলেন।

অস্থির কন্ঠে বললেন

____ মহিনি শান্ত হও কেঁদো না।

____ মা ওর কিছু হয়ে গেলে।

____ কিছু হবে না মহিনি। তোমার ছেলে রা তো আছে। আমান বললো না কাল বাইরের জিনিস বেশি খেয়ে

নিয়েছে তাই হয়তো শরীর খারাপ করেছে।

মহিনি বেগম ভেজা চোখে স্বামীর দিকে তাকালেন।

মনের ভয় টা কোনো ভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারলেন

না। তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার শেষ স্মৃতি তুবা।

তুবার কিছু হয়ে গেলে তার কাছে কি জবাব দিবে?

পারুল বেগম মহিনি বেগম এর মাথায় হাত বুলিয়ে

দিলেন।

____ মহিনি এই ভয় কতদিন মনের মধ্যে চেপে রাখবে ?

ভুলে যাও ওসব। আমাদের তুবা আছে তো এটাই

আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। দেখো ওর কিছু হবে না।

মহিনি বেগম তার শাশুড়ি পারুল বেগম কে জড়িয়ে ধরলেন। শাশুড়ির আঁচলে মুখ গুজে কাঁদলেন ।

**

গাড়ি ছুটে চলেছে দ্রুত গতিতে। আয়ুষ ড্রাইভ

করছে পাশে তয়ন বসা। পেছনের সিটে আমান

তুবা কে তার বুকে জড়িয়ে বসে আছে। পাশে বসে

শারমিন তুবার পা মালিশ করে দিচ্ছে অনবরত।

আমান এর চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে। মুখ

মন্ডল শক্ত। চিবুক নামিয়ে তুবার দিকে তাকিয়ে

আছে। আমান এর বুকের ভেতরকার অস্থিরতা

বাড়ছে। তুবা তো ঠিকই ছিলো হঠাৎ কি হলো কেন

এভাবে জ্ঞান হারালো কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না।

শারমিন এর চোখে পানি টলটল করছে। অস্থির কন্ঠে আয়ুষ কে তাড়া দিয়ে বললেন

____ আর কতো দূর ? তাড়াতাড়ি চলো। তুবা তো

তাকাচ্ছে না।

আয়ুষ লুকিং গ্লাস দিয়ে পেছনে তাকালো সবার মুখের অস্থিরতা চোখের পরার মতো। সেও তো চিন্তত তুবাকে নিয়ে।

____ এই তো এসে পড়েছি শারমিন। একটু ধৈর্য ধরো।

পনেরো মিনিট এর মধ্যে হসপিটালে এসে পৌঁছালো।

আমান তুবা কে পাজা কোলে নিয়ে ছুটলো হসপিটালের ভেতর। তার পেছনে সবাই আসছে । ভিওআইপি কেবিনে নিয়ে তুবাকে বেডের উপর শুয়ে দিয়ে দিলো । ইমার্জেন্সি

তে থাকা ডাক্তার এসে তুবা কে চেক করলেন । ডক্টর দীর্ঘশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলেন

____ পেসেন্ট এর গার্ডিয়ান কে ?

আমান এগিয়ে বললো

____ আমি,,,

সবাই তাকালো আমান এর দিকে । বুঝার চেষ্টা করলো আমান এর বলা কথাটা। কয়েক সেকেন্ড কেবিনে

থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হলো। আমান বুঝলো সে কি

বলতে কি বলে ফেলেছে । জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে

বললো

____ ইয়ে মানে আমরা ওর গার্ডিয়ান।

আয়ুষ এগিয়ে বললো

____ আমি ওর বড় ভাই বলুন আমাকে কি হয়েছে ?

ডক্টর হালকা হেসে বললো

____ কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে

এমন জ্ঞান হারিয়েছে, আর চিন্তার কোনো কারণ নেই

এই বয়সে এসব নরমাল। খাওয়া দাওয়ায় অনিহা থেকে এমন হয় হয় বেশি। আর পেসেন্ট কে বাইরের খাবার একদম দিবেন না। কোনো ওষুধ দিলাম না , স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ালে ঠিক হয়ে যাবে।

সবাই দীর্ঘশ্বাস ফেললো তারা কি না কি ভেবে বসেছিল। আমান এখনো চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। তুবা

কি নিয়ে এতো উত্তেজিত হলো মাথায় আসছেনা তার ।

আমান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো তয়ন এর দিকে, তয়ন

ভাই কে এভাবে তাকাতে দেখে ঘাবড়ে গেল কিন্তু টা।

আমান কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বলে উঠলো

____ আমি কিছু করিনি ভাইয়া। তুবা হঠাৎ এমন কেন করেছে জানি না আমি। সত্যি বলছি। বাদর টার জ্ঞান ফিরলে ওকে জিজ্ঞেস করো আমি কিছু করেছি কিনা ?

আমান আর কিছু বললো না। গম্ভীর স্বরে ডক্টর কে

জিজ্ঞেস করলো

____ ওকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যাবে ?

____ হ্যাঁ, আপনারা চাইলে নিয়ে যেতে পারেন।

____ ওকে।

আমান কোনো কথা না বলে ঘুমন্ত তুবাকে পাজা

কোলে তুলে নিলো। গটগট পায়ে হেঁটে গাড়ির সামনে আসলো। আয়ুষ, শারমিন, তয়ন তারা পেছনে পেছনে আসলো। আমান তুবা কে কোলে রেখেই গাড়িতে উঠে বসলো ।

বাড়ি থেকে কল আসায় শারমিন সব ঠিকঠাক আছে

সেটা জানিয়ে দিলো।

চলবে

🚫কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ 🚫

#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpost #trendingpost #viralpostchallenge

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন