ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বিতীয় বসন্তের অপেক্ষা

৮ম পর্ব

লেখক: অরোরা ইমান কায়নাত

#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 [ #পার্ট_০৮ ]

[ 🚫 যাদের ভালো লাগবে না সসম্মানে স্কিপ করবেন। নেক্সট পার্ট চেয়ে কমেন্ট করবেন না গল্প রিলেটেড কমেন্ট করবেন। সেয়ার করবেন বেশি বেশি। ]

আমান কোনো কথা না বলে ঘুমন্ত তুবাকে পাজা কোলে তুলে নিলো। গটগট পায়ে হেঁটে গাড়ির সামনে আসলো। আয়ুষ, শারমিন, তয়ন তারা পেছনে পেছনে আসলো। আমান তুবা কে কোলে রেখেই গাড়িতে উঠে বসলো ।

বাড়ি থেকে কল আসায় শারমিন সব ঠিকঠাক আছে সেটা জানিয়ে দিলো।

আধা ঘন্টার মধ্যে গাড়ি এসে বাড়িতে থামলো।

আমান তুবার দিকে তাকিয়ে দেখলো এখনো ঘুমের মধ্যে। তাই আর ডাকলো না । কোলে তুলে চৌধুরী বাড়িতে ঢুকলো। কারো দিকে না তাকিয়ে সোজা গিয়ে তুবার রুমে শুয়িয়ে দিয়ে আসলো ।

বাড়ির সবাই সেখানে যেতে নিলে বাধা দিলো আমান।

____ এখন কেউ এসো না ওর ঘুম প্রয়োজন।

কেউ আর কিছু বললো না সবাই আমান এর সাথে বেড়িয়ে আসলো। ড্রয়িং রুমে সবাই বসে আছে।

আমান মহিনি বেগম এর পাশে বসে ছিলো। তার মাকে এতটা চিন্তিত হতে দেখে ভরসা দিয়ে বললো,,

____ আম্মু এখনো টেনশন করছো কেন?

____ বাবা ওর কিছু হয়ে গেলে,

আমান তার মায়ের হাত চেপে ধরলো, দৃঢ়তার সঙ্গে বললো

____ কিছু হবে না আম্মু আমি আছি তো , আই মিন আমরা বাড়ির সকলে আছি ওর পাশে। তুমি টেনশন করে করে তোমার শরীর টা খারাপ করছো।

মহিনি বেগম খানিকটা ভরসা পেলেন ছেলের কথায় । শারমিন আমান কে ডাকলো,,

____ আমান ভাইয়া কিছু খাবে না? সকালে তো কিছু খেলে না।

____ না ভাবি কিছু খাবো না খুদা নেই।

____ অল্প করে খেয়ে নাও।

আসিফ চৌধুরী গম্ভীর কন্ঠে বললেন,,

____ আমান কিছু খেয়ে নাও , চৌধুরী বাড়ি থেকে কেউ কখনো না খেয়ে বেড় হয় না।

আমান এর তেড়ামির কাছে শেষমেষ তার বাবা আসিফ চৌধুরী ও হার মানলেন। আমান খেলো না বেরিয়ে গেল বাসা থেকে। আসিফ চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন । ছোট বেলা থেকেই আমান স্বভাব গত তেড়া জেদী। এক বার মুখে যা বলবে তাই। দীর্ঘ ছয় বছর বিদেশে থেকেও স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি।

আমান বসে আছে রকিং চেয়ারে। কানাডায় থাকতে নিজের মনের মতো করে আসিফ চৌধুরীর অফিসের

পাশে নিজের অফিস বানিয়েছে। তবে আসিফ চৌধুরী শর্ত দিয়েছিলেন তার বিজনেস সামলে এর পর আমান নিজের বিজনেস সামলাবে। যেহেতু আসিফ চৌধুরী বড় ছেলে আয়ুষ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাবার বিজনেস সামলে যাচ্ছে। আমান তাতেই রাজি হয়েছিল। বাবার বিজনেস সামলানোর পাশাপাশি নিজের বিজনেস সামলাবে।

আজ প্রথম দিন বিজনেস এর অথচ মন কেমন ব্যাকুল হয়ে আছে। কিন্তু কি জন্য এমন বুঝে উঠতে পারছে না। মোবাইল হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করলো। মাহিরা এখনো কল করেনি। আমান ভাবলো মাহিরা হয়তো এবার ভিষন অভিমান করেছে। তাই আর কল করেনি। আমান মোবাইল হাতে থেকে রেখে একটি ফাইল হাতে নিয়ে বসলো।

তুবার ঘুম ভাঙতেই দেখলো নিজের বিছানায় শুয়ে আছে সে । এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। মনে করার চেষ্টা করলো কি হয়েছে তার সাথে। দু - হাত মাথায় চেপে বসে আছে । তেমন কিছু

মনে পড়লো না । শুধু মনে পড়লো আমান কে দেখে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো। সয়তানি বাদ দিয়ে এতক্ষণ বিছানায় শুয়ে ছিল সে ! কিভাবে সম্ভব এটা। নিজেই নিজেকে বাহবা দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো। আমান এর রুমের সামনে আসতেই রুমের মধ্যে উঁকি মেরে কাউকে দেখতে পেল না। সিড়ির সামনে এসে এদিকে ওদিকে তাকালো সেখানেও আমান কে দেখতে পেলো না।

মুখ গোমরা করে আস্তে আস্তে নিচে নেমে আসলো। মনে মনে ভাবলো

____ আমি তাকে দেখে ঘুমিয়ে গেলাম তারপরেও সে আমার কাছে রইলো না।

তুবা ঠোঁট উল্টে কাঁদো কাঁদো মুখে ড্রয়িং রুমের সোফায় এসে বসলো।

পারুল বেগম তুবা কে এসে বসতে দেখে চমকে গেলেন কিছুটা।

____ কি হয়েছে সতিন তুমি একা কেন নামতে গেলে।

তুবা গোল গোল চোখে পারুল বেগম এর দিকে তাকালো।

____ কেনো কেনো বুড়ি একা নামা বারন নাকি আমার জন্য?

____ হুম বারন।

____ কেন?

____ তুমি তখন হঠাৎ জ্ঞান হারিয়েছো দেখে আমান দাদু ভাই অনেক রেগে গিয়েছে।

তুবা ভয়ার্ত চোখে তাকালো পারুল বেগম এর দিকে।

____ জ্ঞান আবার হারায় কিভাবে?

পারুল বেগম অসহায় দৃষ্টিতে তাকালেন তুবার দিকে। রাশভারী স্বরে বললেন

____ এত সয়তানি মাথার মধ্যে চেপে রাখলে ভালো জিনিস শিখবে কখন?

তুবা বিরক্ত হলো। রেগে গিয়ে বললো

____ তুমি বলবে না বললে আমি মামুনির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করবো।

____ রাগ করো কেন সতিন।

____ তাহলে বলো ?

____ তুমি খেতে খেতে তোমার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছো।

তুবা বিরক্ত হয়ে মুখে ভেংচি কেটে উঠে দাঁড়ালো।

____ দাড়াও সতিন কোথাও যাও ?

চলে যেতে যেতে বললো ,,

____ মামুনির কাছে।

____ কেন ?

____ আমি কোন জ্ঞান হারিয়েছি সেটা জানতে।

তুবা কিচেন রুমে এসে মহিনি বেগম কে জড়িয়ে ধরলো।

____ মামুনি।

মহিনি বেগম চমকে পেছনে ঘুরে তাকালেন । সঙ্গে সঙ্গে এক গাল হেসে তুবা কে সামনে আনলেন। চিন্তিত স্বরে বললেন

____ ঠিক আছিস মা ?

____ হুম, বুড়ি বলছে আমি নাকি জ্ঞান হারিয়েছি। আমি কোন জ্ঞান হারিয়েছি মামুনি ?

শারমিন শব্দ করে হেসে ফেললো। তুবার সামনে এসে তুবার ফুলো ফুলো গাল টানলো

____ ডক্টর বলেছে তুমি কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলে তাই জ্ঞান হারিয়েছো।

তুবা এ যাত্রায় বেশি বিরক্ত হলো। জ্ঞান হারানো কি সে এখনো বুঝলো না।

____ আচ্ছা থাক বাদ দাও। তোমরা অনেক কঠিন কঠিন কথা বলো। মামুনি আমার খুদা পেয়েছ। ফ্রিজে চকলেট আইসক্রিম আছে?

কথা গুলো বলতে বলতে হেটে গেলো ফ্রিজের সামনে। শারমিন এসে তুবার হাত ধরলো। ভয়ার্ত কন্ঠে বললো

____ তুবা খেয়ো না এগুলো।

তুবা ভ্রু কুঁচকে নিলো।

____ কেন ভাবি?

____ আমান ভাইয়া এসব খেতে না করে দিয়ে গেছে।

____মানে এদিকে আসো তোমাকে সব বলছি আমি।

শারমিন সব ঘটনা খুলে বললো, তুবা চমকে তাকিয়ে আছে শারমিন এর দিকে। এতক্ষণে তুবা বুঝলো জ্ঞান হারানো কি। মনে মনে আওরালো

____ আমান ভাই আমাকে কোলে নিয়েছে। তারপর গাড়িতে বসে আমাকে কোলে নিয়ে ছিল।

শারমিন তুবাকে মুচকি হেসে বিরবির করতে দেখে জিজ্ঞেস করল

____ কি বিরবির করছো তুবা ?

____ কিছু না ভাবি। ভাবি?

____ বলো?

____ একটা চকলেট খাই, প্লিজ।

____ না , আমান ভাইয়া বারন করে দিয়েছে। তুমি উল্টা পাল্টা কিছু খেলে আমাদের উপর রেখে যাবে।

তুবার ভাবভঙ্গি মুহুর্তেই বদলে গেলো। মনে মনে আমান কে হাজার টা গালি দিলো। গটগট পায়ে হেঁটে এসে সোফায় শুয়ে পড়লো। শারমিন আর মহিনি বেগম দুজনেই হেসে ফেললো।

____ আবার কি হলো সতিন এর ?

____ একদম চুপ করে থাকো বুড়ি। তোমার নাতি একটি হনুমান, গোরিলা, ওগান্ডা থেকে আসা লোক!

অসহ্য!

তুবা মুখ বাকালো। পারুল বেগম হেসে ফেললেন। তয়ন কোচিং থেকে ফিরে তুবাকে এমন গালাগাল‌ করতে দেখে ভ্রু কুঁচকে নিলো। ব্যাগ টা সোফায় ফেলে তুবার পাশ ঘেঁষে বসলো।

____ কিরে বাঁদর দেখি খেপেছে।

তুবা উঠে বসেই তয়ন এর মাথার চুল খামচে ধরলো।

____ আহ্ তুবার বাচ্চা ছাড়, ব্যাথা পাচ্ছি।

____ ছাড়বো না, কথায় কথায় আমাকে বাঁদর কেন বলো ?

আমান জুরুরি ফাইল বাসায় ফেলে গিয়েছিল সেটা নিতেই বাড়িতে এসেছিল তুবার এমন কর্মকাণ্ড দেখে রিতিমত থমথমে খেয়ে গেলো।

তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে তুবার দিকে । শারমিন তুবা আর তয়ন এর খুঁনশুটি দেখে এগিয়ে আসলো, তখনি চোখ পড়লো মেন ডোরের দিকে । শারমিনের চোখ কপালে উঠলো। থতমত খেয়ে তাকালো তুবার দিকে। তুবা তয়ন কে মারছে আর আমান কে গালাগাল করছে।

শারমিন এগিয়ে গিয়ে তুবা কে করলো চুপ করার জন্য। বোকা তুবা বুঝলোই না শারমিনের করা ইশারা।

আমান রেগে গটগট পায়ে এগিয়ে আসলো, ধমকের স্বরে বললো

____ তুবা!

তুবা স্তব্ধ হলো। গোলগোল চোখে তাকালো আমান এর দিকে । চমকে উঠলো কিছু টা।

আমান এগিয়ে এসে তুবার হাত শক্ত করে চেপে ধরলো।

চলবে,,,

🚫কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ 🚫

#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন