ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বিতীয় বসন্তের অপেক্ষা

৯ম পর্ব

লেখক: অরোরা ইমান কায়নাত

#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 [ #পার্ট_০৯ ]

[ যাদের ভালো লাগবে না সসম্মানে স্কিপ করবেন 😒। নেক্সট পার্ট না চেয়ে গল্প রিলেটেড কমেন্ট করবে। ১৫০++ রিয়েক্ট চাই। ]

আমান রেগে গটগট পায়ে এগিয়ে আসলো, ধমকের স্বরে বললো

____ তুবা!

তুবা স্তব্ধ হলো। গোলগোল চোখে তাকালো আমান এর দিকে । চমকে উঠলো কিছু টা।

আমান এগিয়ে এসে তুবার হাত শক্ত করে চেপে ধরলো।

____ এখানে কি করছিস তুই ?

তুবা গোল গোল চোখে এখনো তাকিয়ে আছে আমান এর দিকে।

তুবার বাহু আরো দ্বিগুন ভাবে চেপে ধরে জিজ্ঞেস করলো

____ কিরে চুপ কেন ?

তয়ন এগিয়ে আসলো

____ ভাইয়া ছোট মানুষ বুঝে কম । ও এক্ষুনি রুমে চলে যাবে ।

আমান চেঁচিয়ে উঠলো

____ তোকে ওর হয়ে কথা বলতে বলেছি ?

আমান এতোটাই জোড়ে বলেছিলো কথাটা তুবার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠেছে।

তুবা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।

____ উপরে যাবি এখন , আমি অফিস থেকে ফেরার আগে তোকে নিচে যাতে না দেখি।

তুবা কেঁদেই যাচ্ছে আমান এর কথা কান পর্যন্ত গেল কিনা? মহিনি বেগম তেড়ে আসলেন, তুবা কে আমান এর হাত থেকে ছাড়িয়ে নিলেন।

____ আমান তোর এই রাগ জেদ অন্য কারো সাথে দেখাবি। আমার তুবা মামুনির সাথে ভুলেও দেখাতে আসবি না।

____ আম্মু!

____ আর একটা কথাও বলবি না । যে কাজে এসেছিস সে কাজ করে চলে যা ।

তুবা মহিনি বেগম এর কোমড় পেঁচিয়ে ধরে হিচকি তুলে কান্না করছে। আমান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো তুবার দিকে । আমান তার জেদ বজায় রেখে তুবাকে মহিনি বেগম এর থেকে ছাড়িয়ে নিলো। পারুল বেগম এর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সে জানে এখন আমান কে কিছু বলে ফায়দা হবে না। আমান এর জেদ এমন ই। রাগ উঠলে মাথা ঠিক না তার ।

আমান তুবার হাত শক্ত করে চেপে ধরে টানতে টানতে উপরে নিয়ে গেল। মহিনি বেগম শারমিন তয়ন আমান এর পেছনে পেছনে গিয়েও কোনো ফায়দা হলো না।

তুবা চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বললো ,,

____ ছাড়ুন আমাকে আমি থাকবো না এখানে চলে যাবো । আপনি অনেক খারাপ। অনেক অনেক অনেক খারাপ আপনি ।

আমান কোনো কথাই শুনলো না। তুবা কে ধাক্কা মেরে রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দড়জা লক করে দিলো । তুবা ভেতর থেকে শব্দ করে কেঁদে উঠলো।

____ দড়জা খুলুন আমি থাকবো না এখানে।

আমান চাবি নিয়ে গটগট পায়ে বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে। বাড়ি কারো কথাই কানে নিলো না ।

তুবা ভেতর থেকে চিৎকার করে কেঁদেই যাচ্ছে। কান্না থামার নামই নেই । মহিনি বেগম তুবার কান্না সহ্য করতে না পেরে আসিফ চৌধুরী কে করলেন ।

বিশ মিনিট এর মাথায় আসিফ চৌধুরী বাড়িতে আসলেন । আসিফ চৌধুরী তয়ন মিলে দড়জা ভেঙে ফেললো । তুবা দৌড়ে এসে মহিনি বেগম কে জড়িয়ে ধরলো।

____ মামুনি।

____ কিছু হয়নি মা আমি আমান কে বকে দিবো।

আসিফ চৌধুরী নরম স্বরে বললেন

____ আম্মুজান আমান কে বকে দিবো আমি। কতো বড় স্পর্ধা আমার আম্মু জানের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আম্মুজান কেঁদো না প্লিজ আমি কষ্ট পাচ্ছি তো।

অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে তুবার কান্না থামালো ।

আমান রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মোবাইল

এর দিকে । মাহিরা কল দিচ্ছে একের পর এক। আমান ইচ্ছে করেই কল তুলছে না। এক বছরের মাথায় মাহিরার এতো পরিবর্তন আমান কে বার

বার ভাবাচ্ছে।

আমান রকিং চেয়ারে মাথা এলিয়ে শুয়ে আছে।

তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে দেয়ালের ঘড়ির দিকে।

অফিসে এসেছে দু ঘন্টা পার হয়েছে। তুবা কে তো তালা বদ্ধ করে রেখে এসেছে। নিশ্চয়ই তার বাড়ির লোক এতক্ষণে তুবাকে রুম থেকে বের করে এনেছে।

দাঁতে দাঁত পিষে শক্ত কন্ঠে বললো

____ মেয়েটা আসলেই একটা বেয়াদব, কোনো কথা শুনে না , অবাধ্য মেয়ে কোথাকার।

ততক্ষণাৎ মাহিরা দড়জা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো। আমান উল্টো দিকে ঘুরে বসে থাকায় মাহিরা কে দেখতে পায়নি ।

আমান এর কথা গুলো শুনে মাহিরা মুচকি হাসলো।

আমান তার পারমিশন ছাড়া তার কেবিনে কাউকে প্রবেশ করতে দেখে চেঁচিয়ে উঠলো

____ বাস্টার্ড কমন সেন্সর এর অভাব আছে । রুমে নক না করেই ঢুকে পড়ো।

মাহিরা কেপে উঠলো খানিকটা। পরমুহূর্তেই নিজেকে শান্ত করে এগিয়ে গেল । আবরার এর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো

____ মিস্টার আমান জায়ান চৌধুরী স্টাফদের সাথে এতো রুড ব্যবহার!

আমান চমকালো । পরিচিত কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে থমথমে খেয়ে গেলো। ততক্ষণাৎ ঘুরে তাকালো, কপাল কুঁচকে অবাকের স্বরে বললো

____ মাহিরা?

____ ইয়েস বস ।

আমান রকিং চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ালো। মাহিরার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। মাহিরা মিষ্টি হাসলো।

____ তুমি এখানে?

____ হুম।

____ মাহিরা?

মাহিরা কোনো উত্তর না করেই আমান এর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো। দুজন দুজনকে ঝাপ্টে জরিয়ে ধরলো।

তুবা খাবার খেয়ে তার বেলকনি তে বসে ছিলো। হঠাৎ এক দমকা হাওয়া এসে তার গায়ে লাগলো। চমকে দাঁড়িয়ে পড়লো। আকাশ পানে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ বুকের ভেতর টায় এমন কেন লাগলো বুঝে উঠতে পারলো না তুবা। ডান হাত বুকের বা পাশে রাখলো।

চোখ বন্ধ করতেই আমান এর মুখ টা ভেসে উঠলো। চোখে পানি এসে জমলো। তার সাথে করা আমান এর খারাপ ব্যবহার মানতে পারছে না তুবা।

হঠাৎ বুকের ভেতরে এমন অস্থির লাগাটাও ঠাহর করতে পারছে না তুবা।

হন্তদন্ত পায়ে রুমে আসলো। এদিকে ওদিকে তাকিয়ে মোবাইল খুঁজে পেল না। পাবেই বা কোথায় থেকে তার তো কোনো মোবাইল তো নেই। বাড়িতে থাকলে বাবার মোবাইল চালায়। তুবা রুম থেকে পা টিপে টিপে বেড় হয়ে আমান এর রুমের দিকে তাকালো। দড়জা বন্ধ। তার মানে আমান বাড়িতে নেই।

তুবা এগিয়ে গেল তয়ন এর রুমে। তয়ন ঘুমিয়ে আছে। পাশে মোবাইল রাখা। তুবা মোবাইল হাতে নিয়ে আস্তে করে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো।

নিজের রুমে এসে দড়জা চাপিয়ে দিলো।

____ আমান, অনেক মিস করেছি তোমাকে।

আমান এক মূহুর্তে সব ভুলে বসলো , মাহিরা কে ছেড়ে তাকালো তার দিকে। মাহিরা ইনোসেন্ট ফেশ করে বললো

____ তুমি মিস করোনি আমাকে ?

____ করেছি তো ।

____ তাহলে বলছো না কেনো ?

আমান হাসলো প্রিয়শীর অভিমান দেখে।

____ অনেক মিস করেছি আমার মাহিরা কে ।

মাহিরা মুচকি হাসলো ।

____ কালেকে রাতে কল করলাম কোথায় ছিলে?

মাহিরা হালকা হেসে জবাব দিলো

____ ঘুমিয়ে ছিলাম ।

____ ওহ্।

তুবার কয়েক টা কল দিলেই ইতি বেগম কল রিসিভ করলেন।

____ তয়ন ?

তুবা ভাঙা কন্ঠে বললো

____ মা।

ইতি বেগম চমকে উঠলেন, পুরো একদিন পর মেয়ের কন্ঠ শুনতে পেলেন। মনে হলো বছরের পর বছর তার মেয়ের সাথে কথা হয় না। তবে তুবার এমন কন্ঠস্বর শুনে চিন্তিত কন্ঠে বললেন

____ কি হয়েছে মা ?

মায়ের নরম কন্ঠস্বরে তুবা কেঁদে ফেললো , ইতি বেগম চিন্তায় পড়লেন ।

____ কি হয়েছে মা বল আমাকে? তুবা।

তুবা কোনোমতে কান্না চেপে অস্পষ্ট স্বরে বললো

____ অনেক মিস করেছি তোমাকে।

ইতি বেগম খানিকটা অবাক হলেন। তুবা চৌধুরী বাড়িতে গেলে সবাই কে ভুলে বসে আর আজ একদিনের মাথায় কেটেকুটে বলছে সে নাকি তার মাকে মিস করছে।

____ সত্যি করে বলতো মা কি হয়েছে? তুই তো এভাবে আমাকে কখনো মিস করিস না । চৌধুরী বাড়িতে গেলে তো আমাকে ভুলে বসিস একদম।

কি হয়েছে কেউ কিছু বলেছে ? হুম ? বল মাকে।

____ না , মা কেউ কিছু বলে নি । কিছু হয়নি আমার সত্যিই মিস করছি তোমাকে।

ইতি বেগম এর চিন্তে কমলো না। মায়ের মন বলে কথা। তুবা কে সে হারে হারে চিনে । তার মেয়ে কিছু না হলে এভাবে কল করে কাঁদবে না। তুবাকে ফের জিজ্ঞেস করলো

____ তুবা আমান কিছু বলেছে তোকে ?

তুবা কান্না চেপে বললো

____ না ,,মা ,,

ইতি বেগম আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না । মেয়ে বড় হচ্ছে দিন কে দিন পরিবর্তন হবে এটাই স্বাভাবিক।

ইতি বেগম নরম স্বরে জিজ্ঞেস করলেন

____ কিছু খেয়েছিস ?

____ হুম । মামুনি খায়িয়ে দিয়েছে।

____ তুবা বুঝে শুনে চলবি এখন কিন্তু বড় হচ্ছিস তুই।

____ আচ্ছা মা।

চলবে,,,

🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ 🚫

#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন