ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বিতীয় বসন্তের অপেক্ষা

১১তম পর্ব

লেখক: অরোরা ইমান কায়নাত

#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 [ পার্ট_১১ ]

[🚫 যাদের ভালো লাগবে না সসম্মানে স্কিপ করবেন 😒🚫

Next part and sticker comment korbe na pakhira]

আমান কল কেটে সাওয়ার নিতে চলে গেল। সময় লাগিয়ে সাওয়ার নিয়ে বের হলো। গায়ে শুধু টাওজার পড়া। গায়ে আর কিছু দিলো না । চুল বেয়ে টুপটাপ পানি পড়ছে। হাতে মোবাইল টা নিয়ে বেরিয়ে আসলো। সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে খাবার টেবিলের গিয়ে বসলো সারাদিনে কিছু খাওয়া হয়নি

খাবার গুছিয়ে খেতে বসলো। অল্প অল্প করে খাচ্ছে।

তুবা ঘুম ঘুম চোখে এদিকে ওদিকে তাকালো। আস্তে করে উঠে বসলো বিছানায়। রুমে ড্রিম লাইট জ্বলছে।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো রাত দুটো বাজে । তুবা বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো । ওয়াস রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে রুমের লাইট জ্বালালো। সামনের দিকে দেখে তুবার চোখ কপালে উঠলো। ঠোঁট জোড়া আপনা আপনি হা হয়ে গেল। হন্তদন্ত পায়ে হেঁটে সাইড টেবিলে সামনে গেল।

____ আল্লাহ এতো খাবার!

টেবিলের উপর আমান তুবার সবচেয়ে প্রিয় খাবার গুলো এনে রেখেছিলো । তুবা সেগুলো দেখেই অবাক হলো। তুবা ভাবলো হয়তো তার বাবাই তার জন্য এনেছে। তুবা খাবার গুলো নেড়েচেড়ে সেখান থেকে একটি চকলেট এর প্যাকেট হাতে নিলো। প্যাকেট খুলে তুবা খানিকটা চকলেট মুখে পুরে নিলো। টইটই করে হেটে রুম থেকে বেরলো। প্রচন্ড খুদা পেয়েছে তার এখন না খেলে একদমি চলবে না। আমান এর রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় স্বভাব গত ভাবেই একটূ থামলো। দেখলো দড়জা চাপিয়ে রাখা। তুবা ভাবলো হয়তো আমান ঘুমিয়ে পড়েছে। তুবা মুখ বাঁকিয়ে মনে সুখে লাফিয়ে লাফিয়ে সিড়ি বেয়ে নামলো। আমান তুবা কে এতো রাতে এভাবে নামতে দেখে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। তুবা চকলেট খাওয়ায় মনোযোগ দেওয়ায় আমান কে খেয়াল করে নি। তুবা খাবার টেবিলের সামনে এসে চেয়ার টেনে বসলো। হাত থেকে চকলেট রেখে সামনে দিকে তাকালো। চমকে গেল তুবা। আমান তার দিকে তাকিয়ে আছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। তুবা মধ্যে রাতে আমান কে এভাবে দেখে ভাবলো হয়তো ভুত প্রেত । গগন ফাটানো চিৎকার দিলো তুবা।

____ ভুত!!!!!

আমান ততক্ষণাৎ উঠে তুবার মুখ চেপে ধরলো।

____ চুপ,, চুপ,, আমি টিকটিকি আমি । ভয় পেয়েছিস ? এই দেখ আমি।

তুবার মুখ শক্ত করে চেপে ধরায় মুখে কিছু বলতে পারলো না তুবা। আমান এর হাতের বাধন থেকে ছুটতে চাইলো।

____ শান্ত হো , আমি তোর আমান ভাই। খুদা লেগেছে তাই খেতে এসেছিলাম। ভয় পেয়েছিস?

তুবা মুখে কিছু বলতে পারলো না বিধায় আমান এর খসখসে হাতে কামড় বসালো। আমান তুবা কে ততক্ষণাৎ ছেড়ে দিলো। তুবা বুকে হাত দিয়ে বড়বড় শ্বাস টানলো। নিঃশ্বাস আটকে ছিলো এতক্ষণ যাবৎ

আমান বিরক্তির দৃষ্টিতে তুবার দিকে তাকিয়ে বললো

____ টিকটিকি বাচ্চা এভাবে কেউ কামড়ায়?

তুবা গোলগোল চোখে তাকিয়ে রইলো আমান এর দিকে। এতোক্ষণ যাবৎ খেয়াল ই করে নি আমার গায়ে কিছু জড়ায় নি । আমান তুবা কে তার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে নিলো।

তুবা সাথে সাথে চোখ ঘুরিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো। আমান এর সামনে ভুল বসতো এসে পড়লেও আমান এর সামনে বসে সে খাবে না। তুবা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে নিলে আমান তুবার হাত আঁকড়ে ধরলো।

____ টিকটিকি

তুবার শরীরে একপ্রকার শিহরণ বয়ে গেল। চোখ জোড়া বন্ধ করে নিলো। নিশ্চয়ই তার ব্যক্তিগত পুরুষ এইমাত্র সাওয়ার নিয়েছে তাই এমন মাতাল করা ঘ্রাণ ভেসে আসছে তার শরীর থেকে। তুবার শরীরে মৃদু কাপন সৃষ্টি শুরু হলো।

আমান অনুভব করলো সেটা। তুবাকে তার দিকে ঘুরিয়ে দাড় করালো ।

____ টিকটিকি তাকা আমার দিকে

তুবা চোখ বন্ধই রাখলো তাকালো না তুবার দিকে।

____ তুবা তাকা আমার দিকে,

তুবা মিনমিন স্বরে বললো

____না

____ কেন ?

____ আমি গায়ে কিছু জড়ান নি ।

আমান কারন টা বুঝতে পেরে মুচকি হাসলো।

____ তাহলে আমার রুম থেকে টি-শার্ট নিয়ে আয় যা।

আমান হাত ছাড়তেই দৌড়ে উপড়ে চলে যেতে লাগলো। আমান কিছু টা জোরে বললো

____ আস্তে যা টিকটিকি, পড়ে যাবি তো !

কে শুনে কার কথা তুবা আমান এর রুমে না যেয়ে তার রুমে গিয়ে দড়জা বন্ধ করে দিলো।

আমান এর কথা সে শুনবে কেন ? আমান তো তাকে বলেছিল। এখন কেন শুনবে তার কথা। ভালোবাসে দেখে কি আমান এর সব কথা শুনতে হবে নাকি? তুবা মুখ বাঁকালো । গিয়ে বিছানায় বসলো। আমান এর উদাম বুকের দৃশ্য টা বারবার চোখে ভেসে উঠছে। তুবা লজ্জায় মুখ গুজলো বালিশের মধ্যে।

আমান কতক্ষন নিচে ওয়েট করলো তুবার জন্য কিন্তু তুবা আসলো না। আমান বুঝলো তুবা আসবে না। তাই তুবার খাবার টুকু গুছিয়ে উপরে চলে আসলো।

তুবার রুমে আসার আগে টি-শার্ট পড়ে নিলো আমান।

নয়তো দেখা যাবে তুবা লজ্জায় আবার পালাবে । আমান হালকা হেসে বললো

____ পাগলি একটা ।

তুবার রুমে ধাক্কা দিয়ে দেখলো দড়জা বন্ধ। আমান জানতো তুবা এমন কিছু একটাই করবে । আমান পকেট থেকে ডুবলিকেট চাবি বের তুবার রুমে প্রবেশ করলো। তাকিয়ে দেখলো তুবা বালিশে মুখ গুঁজে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। আমান খাবার টা সামনে রেখে তুবা কে ডাকলো।

____ তুবা

তুবা চমকে তাকালো আমান এর দিকে

____ আপনি ?

____ হুম, অন্য কাউকে আশা করেছিলি ?

____ ইয়ে মানে,,,

____ খাবার এনেছি চুপচাপ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বি ।

____ খাবো না। নিয়ে জান ।

____ খাবার না খেলে আমার হাতের থাপ্পড় নিশ্চিত খাবি ।

তুবা গাল ফুলিয়ে আমান এর দিকে তাকালো। আমান এর করা খারাপ ব্যবহার গুলো সব মনে পড়লো তুবার। মুহুর্তেই চোখে পানি এসে জমলো। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো

____ চলে যান এখান থেকে।

আমান দুকদম এগিয়ে এসে তুবার পাশ ঘেঁষে বসলো।

____ চুপচাপ খাবি। রাতের ওষুধ নিশ্চয়ই খাসনি?

ওগুলো ও খাবি এখন ।

____ না ।

আমান ঝাড়ি মেরে বললো

____ তুবা !

তুবা কেঁপে উঠলো খানিকটা। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো আমান এর দিকে ।

____ খেয়ে নে । তুই না খেয়ে থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়বি ।

____ আপনি সকালে আমাকে অনেক বকেছেন, ব্যাথা দিয়েছেন। এখন ও তাই করেছেন ।

____ সরি । এবার খেয়ে নে ।

আমান তুবার চোখের পানি মুছে দিলো। খুশিতে তুবার পেটে প্রজাপতি উড়তে শুরু করলো।

____ তাহলে খায়িয়ে দিন।

____ খায়িয়ে দিলে খাবি ?

____ হুম খাবো ।

আমান হালকা হেসে তুবাকে ডিম ভাজি দিয়ে খিচুড়ি মাখিয়ে খায়িয়ে দিলো । তুবা সব গুলো খাবার খেয়ে

নিলো।

____ আমান ভাই আপনার হাতের খাবার খুব মজা।

আমান তুবার বাচ্চামো দেখে হাসলো ।

চলবে,,,

🚫কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ 🚫

#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন