ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বিতীয় বসন্তের অপেক্ষা

১২তম পর্ব

লেখক: অরোরা ইমান কায়নাত

#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 [ #পার্ট_১২ ]

[ ভালো না লাগলে সসম্মানে স্কিপ করবেন 😒, next part and sticker imoji diye Kew comment korben na🙂]

আমান হালকা হেসে তুবাকে ডিম ভাজি দিয়ে খিচুড়ি মাখিয়ে খায়িয়ে দিলো । তুবা সব গুলো খাবার খেয়ে নিলো

____ আমান ভাই আপনার হাতের খাবার খুব মজা।

আমান তুবার বাচ্চামো দেখে হাসলো ।

দেখতে দেখতে কেটে গেলো সপ্তাহ খানেক। দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটিতে পুরো চৌধুরী বাড়ি মাতিয়ে রেখেছে তুবা। পড়ালেখা কি জিনিস পুরোটাই ভুলে বসেছে তুবা।

তুবা ড্রয়িং রুমে বসে তয়ন এর সাথে মোবাইল এ গেমস খেলছিল। আমান অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিচে নামছিল। তয়ন এর সাথে এমন ঘেঁষে বসে গেমস খেলতে দেখে আমান এর ভালো লাগলো না। আমান গম্ভীর হয়ে এগিয়ে আসলো। আমান কে দেখে তয়ন মোবাইল টা বন্ধ করে নিলো। আমান গম্ভীর স্বরে বললো

____ তোর ক্লাস নেই?

____ আছে ভাইয়া।

____ যাসনি কেন?

____ তুবা,,,

বাকিটা বলার আগে তুবা লাফিয়ে উঠলো।

____ এই তয়ন ভাই আমার কথা কি বলছো?

তয়ন ভেবাচেকা খেয়ে গেলো। আমান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো তুবার দিকে।

____ তুই তো বললি,,,

____ চুপ একদম চুপ ! আমান ভাই আমি তয়ন ভাই কে কয়বার করে বললাম কলেজে যাও তয়ন ভাই গেল না। পড়ালেখা ঠিক মতো না করলে মানুষ হবে কি করে?

তয়ন থতমত খেয়ে দাঁড়ালো। আমান এর দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললো

____ ভাইয়া মিথ্যা বলছে ও । আমি কলেজ যাবো তৈরি হয়ে নেমেছি ও যেতে দিলো না আমাকে। সত্যি বলছি আমি।

তুবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমান থামিয়ে দিলো তুবা কে

____ তয়ন কে পড়ার জন্য শাসন করেছিস?

তুবা ভাবলো আমান তার কথা শুনে তয়ন কে বকাবকি করবে, তাই এক গাল হেসে আমান এর সামনে এসে বললো

____ হুম করেছি।

____ গুড গার্ল।

তয়ন এ পর্যায়ে ও থমকালো। তার আমান ভাই তুবাকে সাপোর্ট করছে ? এটা কিভাবে সম্ভব?

____ শোন তুবা

____ বলুন ?

____ দশদিনের মতো হবে তুই পড়ালেখা করছিস না। অন্যের পড়াশোনা নিয়ে না ভেবে নিজের পড়াশোনা নিয়েও তো চিন্তা করা উচিত। তোর কথা অনুযায়ী পড়াশোনা না করলে তুইও মানুষ হবি না।

তুবার হাসি মুখটা চুপসে গেল আমান এর এহেন কথায়। কি ভেবেছিল আর কি হলো। তয়ন শব্দ করে হেসে ফেললো।‌ আমি রাগি দৃষ্টিতে তয়ন এর দিকে তাকালো। তয়ন সাথে সাথেই চুপ হয়ে গেল।

____ ইয়ে মানে আমান ভাই,,

____ হুম বল ?

____ এখানে তো আমি বেড়াতে এসেছি । পড়বো কিভাবে? বই খাতা তো নেই। আর এখানে তো কোনো টিচার ও নেই । আমি বরং বাড়িতে গিয়ে পড়বো নে।

____ এ নিয়ে তোকে এতো টেনশন করতে হবে না। আমি তোর বইপত্র সব নিয়ে আসবো আসার সময়। আর আমি বাসায় ফিরলে রাতে তুই আমার কাছে পড়বি ।

তুবা উচ্চস্বরে বলে উঠলো

____ অসম্ভব!

আমান রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালো

____ ইয়ে মানে

____ তয়ন আজকের পর থেকে যাতে আর অকারণে কলেজ মিস করতে না দেখি।

____ আচ্ছা ভাই।

আমান ঘুরে চলে যেতে লাগলে তুবা মুখ বাকালো।

আমান বাড়ির বাইরে চলে যেতেই তয়ন হা হা করে হেসে ফেললো।

____ বাদর কোথাকার আমাকে মিথ্যা বলে ফাসাতে এসেছিলি !

____ তুমি বাঁদরের বড় তয়ন বাঁদর ভাই।

তুবা হেসে ফেললো তয়ন রেগে গিয়ে বললো

____ তবে রে , তুবার বাচ্চা,,,

তুবা এক দৌড়ে উপরে গিয়ে দড়জা বন্ধ করে দিলো।

বিকেলের দিকে তুবা আর তয়ন মিলে ছাদে গেল দু'জন মিলে বুদ্ধি করলো ছাদের কিনারে বড় পেয়ারা গাছে একটি বসার জায়গা বানাবে । যাতে তারা বসে আমার করে পেয়ারা খেতে পারে । বুদ্ধিটা তুবা ছিলো, তয়ন কে বলে একপ্রকার জোর করে রাজি করিয়েছে। তয়ন তুবার বাচাল এর মতো কথায় তীক্ত হয়ে ছাদে এসেছে। তয়ন বসার জন্য কতো গুলো কাঠ কিনে এসেছে । এগুলো কেটে সুন্দর করে একটা বসার জায়গা বানাবে। তুবা হাতে কতগুলো চকলেট নিয়ে বসে খাচ্ছে আর তয়ন এর কাজের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে।

____ তয়ন ভাই খাবে?

তয়ন হা করলো , তুবা চকলেট ভেঙে তয়ন এর মুখে দিলো ।

____ এতো অল্প কেন দিলি কিপ্টে কোথাকার।

তুবা মুখ বাকালো।

____ এগুলো আমাকে আমান ভাই এনে দিয়েছে তোমাকে যে একটু খেতে দিচ্ছি এই অনেক।

____ তাহলে তোর কাজ তুই কর । আমি গেলাম।

____ এই দাড়াও তয়ন ভাই। তুমি না আমার ভালো ভাই। বোনের সাথে কেউ এমন করে বলো ?

তয়ন তুবার ঠোঁট ফুলানো দেখে বিরক্ত হলো।

____ তোর মতো বোন হলে ভাইয়েরা এমন করে।

তুবা নিজের রাগ চেপে অভিনয় করে হাসলো।

____ আচ্ছা দিচ্ছি আরেকটু চকলেট।

তুবা সামান্য খানেক চকলেট তয়ন কে দিয়ে। সবটা তার মুখে পুড়ে দিলো । যাতে তয়ন আর চাইতে না পারে।

ঘন্টা খানেক সময় নিয়ে পেয়ারা গাছে বসার জায়গা বানালো। তুবা আরাম করে বসে আছে আর পেয়ারা চিবোচ্ছে। তখনি ছাদে শারমিন আসলো ।

____ দু বাঁদর মিলে কি বাদড়ামো করা হচ্ছে?

তয়ন হাসলো । তুবা এসে শারমিন এর হাত ধরলো।

____ দেখো ভাবি আমি আর তয়ন ভাই মিলে বসার জায়গা বানিয়েছি। সারাদিন বসে বসে পেয়ারা খাবো।

তুমি ও বসো ।

শারমিন হালকা হেসে মিনমিন করে বললো

____ আমান ভাইয়া না দেখলেই হয়। ভাইয়া দেখলে ভেঙে ফেলবে এটা ।

____ ওই হনুমান গোরিলা লোকটার তো আর খেয়ে কোনো কাজ থাকে না আমার সব কাজে বাঁধা দিতে চলে আসে ।

তুবার এহেন কথায় শারমিন তয়ন একসাথে হেসে ফেললো।

তয়ন আরো কতগুলো পেয়ারা ছিরলো গাছ থেকে। তুবা আর শারমিন দুজন মিলে খেলো সেগুলো।

সন্ধ্যা বেলা তুবা ড্রয়িং রুমে বসে টিভি ছেড়ে মোটুপাতলু কার্টুন দেখছিলো। পাশে পারুল বেগম শারমিন মহিনি বেগম বসা ছিলেন । তয়ন রুমে বসে পড়ায় মনোযোগ দিয়েছে। সামনে ফাইনাল এক্সাম। আয়ুষ, আমান, আসিফ চৌধুরী আজ একসাথে বাড়ি ফিরলেন। আমান এর হাতে এক ঝুড়ি বইপত্র।

আসিফ চৌধুরী এগিয়ে এসে তুবা কে ডাকলেন

____ আমার আম্মুজান কি করে ?

তুবা এক গাল হেসে উঠে দাঁড়ালো।

____ টিভি দেখছি বাবাই।

তুবা ঘুরে পেছনে তাকালো । আমান কে দেখে তুবার চোখ কপালে উঠলো। আমান এর হাতে বই। আমান তুবার অবস্থা দেখে সয়তানির হাসি দিলো। তুবার সামনে এগিয়ে এসে বললো

____ দশ মিনিট সময় দিচ্ছি, আমার রুমে এসে পড়তি বসবি। নয়তো থাপ্পড় একটাও মিস হবে না।

তুবা ঠোঁট উল্টে নিলো। অসহায় চোখে তাকালো মহিনি বেগম এর দিকে। ভাবলো আমান কে বকবে। কেউ কিছু বললো না দেখে তুবা আগ বাড়িয়ে বলল

____ আমি আমার রুমে একা পড়তে পারবো। আর নয়তো তয়ন ভাই আছে । আপনার কষ্ট করতে হবে না। অফিস থেকে ফিরেছেন। এতো কষ্ট করলে আপনার শরীর খারাপ করবে।

আমান বাঁকা হেসে বললো

____ তা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। তয়ন কাছে পড়বি মানে ? কখনো শুনেছিস দুই বাঁদর একসাথে বসে পড়াশোনা করে ?

____ পড়বো না আমি আপনার কাছে ।

আমান চোখ রাঙিয়ে বললো

____ দু মিনিট নষ্ট করে ফেলেছিস অলরেডি। আমি যাচ্ছি তাড়াতাড়ি আয় ।

____ মামুনি আমান ভাই কে কিছু বলো । বাবাই তুমি কেন কিছু বলছো না ?

____ আমান ভালো পড়ায়। এখন কি বলতে পারি ?

আমান সিড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে গলার স্বর উঁচু করে বললো

____ তুবা কাউকে কিছু বলে কোনো ফায়দা হবে না।

তাড়াতাড়ি চলে আয়।

আমান রুমে গিয়ে বইগুলো বিছানায় রেখে সাওয়ার নিতে চলে গেল । দশ মিনিটের মধ্যে সাওয়ার নিয়ে বের হলো। ভাবলো তুবা হয়ো এসে লক্ষী মেয়ের মতো পড়তে বসেছে । কিন্তু না , মহারানি আসে নি। আমান শুধু ভাবছে তুবার কলিজা টা কতো বড়ো । আমান এর কথার অবাধ্য হয় । আমান হন্তদন্ত পায়ে বেরিয়ে রেলিং ঘেসে নিচে তাকালো। তুবা মহিনি বেগম এর আঁচলে মুখ ঢেকে শুয়ে আছে। আমান চেঁচিয়ে তুবা কে ডাকলো

____ তুবা,

তুবা চমকে তাকালো।

____ এক্ষুনি উপরে আয় আমি যদি নিচে নামি তোর কপালে দুঃখ আছে।

চলবে,,,

🚫কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ🚫

#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন