ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বিতীয় বসন্তের অপেক্ষা

১৬তম পর্ব

লেখক: অরোরা ইমান কায়নাত

#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 [#পার্ট_১৬ ]

আমান উঠে চলে গেল ফ্রেশ হতে । সাওয়ার নিয়ে ব্লু কালারের শার্ট অফ হোয়াইট রঙের ফর্মাল পেন্ট পড়ে নিলো। চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করে । সার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করে চোখে স্নান গ্লাস পড়লো। হাতে ব্রান্ডের ঘড়ি পড়ে শরীরে তার পছন্দের পারফিউম স্প্রে দিয়ে হাতে একটি ব্লেজার নিয়ে রুম থেকে বের হলো। তুবা ও তৈরি হয়ে নিচে এসেছে। আমান তাকে সপিং এ নিয়ে যাবে । এই খুশিতে মুখে থেকে তার হাসি যেন সরছেই না।

তুবা চেয়ার টেনে বসলো। তয়ন ছিলো পাশে দুজন মিলে ফাজলামি করছে আর খাচ্ছে। আমান কে সিড়ি বেয়ে নামতে দেখে দুজনেই থেমে গেলো। তুবা নড়েচড়ে বসলো। আজ কিছুতেই সে জ্ঞান হারাবে না। নিজের ব্যাক্তিগত পুরুষ কে দেখে বারবার জ্ঞান হারালে লোক লজ্জায় পড়তে হবে তাকে। তুবা চিবুক নামিয়ে খাবার খাচ্ছে। আমান এসে তুবার পাশের চেয়ার টায় বসলো। আমান এর শরীরের মাতাল করা সেই পারফিউম এর ঘ্রাণ টা সঙ্গে সঙ্গে তুবার নাকে এসে বাড়ি খেল।

শ্বাস টানতে কষ্ট হচ্ছে তার । চোখ নাক ঠোট রক্তিম হয়েছে মুহুর্তেই। জামায় হাত খামচে ধরে অন্য হাত দিয়ে চুপচাপ খাচ্ছে তুবা। হাত জোড়া কাঁপছে তার।

আমান এক পলক তাকালো তুবার দিকে। তুবার কাঁপা কাঁপি দেখে আমান তার হাত নিয়ে রাখলো তুবার বাহুতে। বাহু ঝাঁকিয়ে বললো

____ তুবা খারাপ লাগছে ? এমন করে কাঁপছিস কেন ?

তুবার কাঁপা কাঁপি দ্বিগুণ হারে বাড়লো। অস্পষ্ট স্বরে বললো

____ পা,,পা,,পানি।

আমান চিন্তিত মুখে পানি এগিয়ে দিলো।তুবা ঢকঢক করে পুরোটা পানি খেয়ে নিলো। খাবারের টেবিলের সবার চোখ তুবার দিকে। আমান ধীর কন্ঠে বললো

____ রিলেক্স তুবা। শ্বাস নে ভালো করে ।

তুবা এক পলক আমান এর দিকে তাকিয়ে জোড়ে জোড়ে শ্বাস টানলো।

____ রিলেক্স,, ওকে কিছু হয়নি।

তুবা মনে মনে বললো

____ গড়িলা লোক কোথাকার এসে আমার নিঃশ্বাস এর বারোটা বাজিয়ে দেয় শুধু !

মিনিট পাঁচেক যেতে তুবা স্বাভাবিক হলো ।

____ এখন ভালো লাগছে একটু ?

____ হু,,,

____ দে আমি খায়িয়ে দেই।

সবাই অবাক না হয়ে পারলো না। আমান আগের থেকে অনেক টা পরিবর্তন হয়েছে। তুবাকে কে যে খায়িয়ে দিবে বলেছে এটা ভেবেই অবাক হচ্ছে সবাই।

ছোট বেলায় আমান এর হাতে ছাড়া তুবা খেতে চাইতো না। বেশিরভাগ সময় আমান খায়িয়ে দিতো। তুবা বেড়ে ওঠা এই বাড়িতেই ছিলো তাই তুবার সাথে এ বাড়ির টান টাও বেশি। আমান তুবার প্লেটের খাবার তার প্লেটে নিয়ে মাখিয়ে অল্প একটু খাবার তুবা মুখের সামনে ধরলো।

____ হা কর।

তুবা গোল গোল চোখে তাকিয়ে আছে আমান এর দিকে। আমান এর খাবার এর সাথে তার ও মিশিয়েছে এর মানে তার আমান ভাই তাকে ভালোবাসে। তাকে বিয়ে করবে। তাকে বউ বানাবে। তুবার খুশি দেখে কে।

____ এভাবে তাকিয়ে কি দেখছিস? হা কর।

তুবা হা করে খাবার টা মুখে নিলো। তুবার খাওয়া শেষ হতেই আমান বাকি খাবার টুকু নিজেই খেয়ে নিলো। সবাই আরেক দফা চমকালো । আমান তুবার এটো খাবার খাচ্ছে! এই জিনিস টা সবাই দেখলেও তুবা দেখলো না। কারন তুবার খাওয়া শেষ হতেই তাড়াহুড়ো করে উঠে সোফায় গিয়ে বসেছে। তাড়া বের হওয়ার আগে একটু কার্টুন দেখবে। আমান খেয়ে বেচিন থেকে হাত ধুয়ে তুবার পাশে এসে বসলো। গলার স্বর উঁচু করে বললো

____ বাবা তোমার আম্মু জান কে নিয়ে আমি একটু সপিং এ যাবো। সারাদিন আমার সাথেই থাকবে। অফিস শেষ হলে আবার নিয়ে আসবো।

আসিফ চৌধুরী হেসে সম্মতি দিলেন আমান কে। তুবা তো খুশিতে গদগদ। এক গাল হেসে আমান এর দিকে তাকালো।

____ আমি আপনার সাথে থাকবো সারাদিন?

____ হুম।

____ তাহলে অনেক মজা হবে বলুন?

আমান বাঁকা হেসে বললো

____ তা সাথে থাকলেই বুঝবি।

আমান সবার থেকে বিদায় নিয়ে তুবার হাত ধরে বেড়িয়ে গেল। তুবা নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে রেখেছে। তার আমান ভাই কাছে কাছে থাকলে তার অতিরিক্ত ভালো লাগা কাজ করে আর এরজন্য তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তুবা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

তুবা গাড়িতে বসে বাইরে তাকিয়ে আছে। আমান ড্রাইভ করছে। দুজনেই চুপ। কিছুক্ষণ আমান জিজ্ঞেস করলো

____ কিছু খাবি টিকটিকি?

____ খেতে চাইলে খাওয়াবেন ?

____ অবশ্যই খাওয়ার মতো কোনো জিনিস হতে হবে ।

তুবা মুখ বাকালো। আমান শব্দ করে হেসে ফেললো।

____ হাসবেন না।

____ আচ্ছা আচ্ছা।

আমান তুবার রাগ দেখে মুখ টিপে হাসলো।

হালকা খুনসুটি করতে করতে তারা বড় একটি সপিংমল এ এসে থামলো।

আমান গাড়ি থেকে নেমে তুবা কে নামালো। আমান এর হাতের ব্লেজার টা তুবা কে দিয়ে বললো

____ এটা গায়ে জড়িয়ে নে।

তুবা ভ্রু কুঁচকে তাকালো আমান এর দিকে। ঠোঁট পাউট করে বললো

____কেন ?

____ পড়তে বলেছি পড় এতো কথা কিসের ?

তুবা মুখ কালো করে ব্লেজার টা পড়ে নিলো । মনে মনে আমান কে কয়েকশ গালি দিলো।

আমান তুবার হাত ধরে সপিং মলের ভেতরে নিয়ে গেল। যেখানে মেয়েদের সেকশন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে দুজন। তুবা হা করে তাকিয়ে আছে।

____ আমান ভাই কতো সুন্দর সুন্দর ড্রেস।

____ হুম । তোর যেগুলো ভালো লাগে সেগুলো দেখা।

____ সত্যি।

____ হুম।

____ কিন্তু আমান ভাই,,,

____ কি ?

____ এগুলো তো টু পিস আর থ্রি পিস। এগুলো তো বড়দের।

____ না এগুলো তোদের বয়সের । সাইজ দেখে বুঝিস না ? যেটা যেটা ভালো লাগে দেখা আমাকে।

তুবার আর কি করার । বিভিন্ন ডিজাইনের বিভিন্ন রকমের ড্রেস পছন্দ করে আমান কে দেখালো। আমান সবগুলো দেখে হাতে নিলো ।

____ হয়েছে আমান ভাই আর লাগবে না।

____ তাহলে বসে থাক এখানে ।

____ আচ্ছা।

আমান নিজে গিয়ে আরো বেশ কিছু নতুন ডিজাইনের মধ্যে ড্রেস নিলো। তুবার দিকে এগিয়ে আসতে তুবা হা করে তাকিয়ে বললো

____ এতো গুলো ড্রেস?

____ হুম । তোর জন্য।

____ এতো দিয়ে আমি কি করবো ?

____ পড়বি।

____ তাই বলে এতগুলো?

____ চুপ করে থাক । বেশি পাকামো করতে হবে না।

তুবা চুপ মেরে দাঁড়িয়ে রইলো। আমান বিল পে করে সপিং বেগ গুলো এক হাতে দিয়ে অন্য হাতে তুবার হাত ধরলো।

আমান বিল পে করে শপিং ব্যাগগুলো এক হাতে নিয়ে অন্য হাতে তুবার হাত ধরলো।

তুবা নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটছে। তার ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি। মাঝে মাঝে আড়চোখে আমানের দিকে তাকাচ্ছে। এই মুহূর্তটা যেন তার কাছে স্বপ্নের মতো।

হঠাৎ আমান বললো,

____আর কিছু লাগবে?

তুবা মাথা নেড়ে বললো,

____ না।

____ ভালো করে ভেবে বল।

____ না, সত্যিই আর কিছু লাগবে না।

আমান কিছু না বলে তাকে নিয়ে পাশের একটি জুতার শোরুমে ঢুকে গেল।

তুবা অবাক হয়ে বললো,

____ আবার এখানে কেন?

____ড্রেসের সাথে ম্যাচিং জুতা লাগবে না?

____আমার তো আছে।

____ যেগুলো আছে সেগুলো পুরনো। নতুন ড্রেসের সাথে নতুন জুতা পরবি।

তুবা চুপ করে গেল। বিক্রয়কর্মী কয়েক জোড়া স্যান্ডেল এনে রাখতেই আমান নিজেই একটা সাদা আর একটা হালকা গোলাপি স্যান্ডেল বেছে নিল।

____ এটা পরে দেখ।

তুবা স্যান্ডেল পরে দাঁড়াতেই আমান একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে বললো,

____পারফেক্ট।

এই একটি শব্দেই তুবার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠলো।

এরপর আমান তাকে নিয়ে একটি ব্যাগের দোকানে গেল। ছোট্ট একটি ক্রিম রঙের স্লিং ব্যাগ দেখে আমান সেটাও কিনে দিল।

তুবা আর নিজেকে সামলাতে না পেরে বলেই ফেললো,

____ আমান ভাই, আজ এত কিছু কেন কিনে দিচ্ছেন?

আমান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললো,

____আমার ইচ্ছে হয়েছে।

____শুধু ইচ্ছে হলেই?

____ হ্যাঁ, শুধু ইচ্ছে হলেই।

তুবা আর কিছু বললো না। মনে মনে সে হাজারো রঙিন স্বপ্ন বুনতে শুরু করলো।

শপিং শেষ করে তারা ফুড কোর্টে গেল।

আমান বললো,

____ এবার বল, কী খাবি?

তুবা মুচকি হেসে বললো,

____ আজ আপনি যা খাওয়াবেন তাই খাবো।

____ এত বাধ্য কবে থেকে হলি?

____ আজ থেকেই।

আমান হেসে মাথা নাড়লো।

কিছুক্ষণ পর টেবিলে পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর দুই গ্লাস কোল্ড কফি চলে এলো।

তুবা আনন্দ করে খাচ্ছে। হঠাৎ তার ঠোঁটের পাশে সস লেগে গেল।

আমান টিস্যু নিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সেটা মুছে দিল।

____ছোট্ট বাচ্চা একটা।

তুবা লজ্জায় লাল হয়ে গেল।

ঠিক তখনই পাশের টেবিলে বসা দুইজন মেয়ে ফিসফিস করে বললো,

____ উফ! ছেলেটা কত হ্যান্ডসাম!

____আর মেয়েটা নিশ্চয়ই ওর গার্লফ্রেন্ড।

তুবা কথাগুলো স্পষ্ট শুনে ফেললো। গার্লফ্রেন্ড এর মানে বুঝে সে। মিরা তাকে বলেছিল। তুবা কে একটা ছেলে তার গার্লফ্রেন্ড হওয়ার জন্য প্রপোজ করেছিল। তখন তুবা গার্লফ্রেন্ড মানে কি তা জানতো না। মিরা কে এর মানে জিজ্ঞেস করতেই মিরা তাকে সবটা বুঝিয়ে বলেছিলো।

মেয়েগুলোর কথা শুনে তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা সুখের ঢেউ বয়ে গেল। কিন্তু আমান নির্বিকারভাবে খেতে লাগলো, যেন কিছুই শোনেনি।

খাওয়া শেষ করে তারা নিচে নামতেই বাইরে হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে গেল।

একটু পরই ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো।

তুবা বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে শিশুর মতো উচ্ছ্বাসে বললো,

____আমান ভাই! বৃষ্টি!

আমান তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললো,

____ভিজতে ইচ্ছে করছে?

তুবা চোখ বড় বড় করে মাথা নাড়লো।

আমান কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বললো,

____ থাপ্পড় খেতে না চাইলে মনের ইচ্ছে বদলে ফেল।

মুহুর্তেই তুবার মুখ খানা পেঁচার মত করে নিলো। গাল ফুলিয়ে ঠোঁট বাঁকালো।

চলবে,,

🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ 🚫

#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন