ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্বিতীয় বসন্তের অপেক্ষা

১৭তম পর্ব

লেখক: অরোরা ইমান কায়নাত

#দ্বিতীয়_বসন্তের_অপেক্ষা 🪶 [ #পার্ট_১৭]

[ 🚫🪶 আজকের পার্ট দেখে কেউ রাগ হয়ো না । আমি একটু অসুস্থ হয়ে পড়ছি। কাল চেষ্টা করবো বড় করে দাওয়ার। আর প্লিজ নেক্সট পার্ট এবং স্টিকার কমেন্ট না করে গল্প রিলেটেড বা অন্য কমেন্ট করো । আর story চেক করে জানিয়ে আমার দেখা পুরো স্বপ্ন টা জানতে চাও কিনা। ]

তুবা চোখ বড় বড় করে মাথা নাড়লো। আমান কয়েক

মুহূর্ত চুপ থেকে বললো,

____ থাপ্পড় খেতে না চাইলে মনের ইচ্ছে বদলে ফেল।

মুহুর্তেই তুবার মুখ খানা পেঁচার মত করে নিলো। গাল ফুলিয়ে ঠোঁট বাঁকালো।

____ এখানে দাড়া আমি গাড়ি এখানে আনছি। নয়তো ভিজে যাবি তুই।

____ সমস্যা নেই আপনি ও তো ভিজে যাবেন তাহলে। তার থেকে বরং আমি যাই।

আমান ভ্রু কুঁচকে তুবার দিকে তাকালো। সুরু চোখে তুবার দিকে তাকিয়ে রইলো। গম্ভীর স্বরে বললো

____ তুই যাবি ভালো কথা গাড়ি আনবি কিভাবে ? এখন এটা বলিস না গাড়ি ঠেলে নিয়ে আসবি!

তুবা বিরক্তিতে মুখ দিয়ে চ্ শব্দ উচ্চারণ করলো। আলগা ভাব নিয়ে বললো

____ আপনার জন্মের সময় মধু দেয়নি মুখে ? সব সময় আমার সাথে বেজে থাকেন ।

আমান জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাল। গম্ভীর স্বরে বললো

____ আম্মু কে জিজ্ঞেস করেছিলাম না করেছে দেয়নি। তবে তুই চিন্তা করিস না আমার বাচ্চারা তোর সাথে এমন করবে না। তাদের মুখে মধু আমি নিজ দায়িত্বে দিবো।

আমান এর এহেন উক্তিতে তুবা লজ্জা পেলো। চিবুক নামিয়ে ফ্লোরের দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো। আমান তুবার বাহু নাড়িয়ে সন্দিহান স্বরে বললো

____ আমার বাচ্চা নিয়ে কথা বলছি তুই লজ্জা পাচ্ছিস কেন ?

তুবার এবার মাটি খুঁড়ে মাটির নিচে ঢুকে পড়ার মতো অবস্থা হলো। তার ব্যক্তিগত পুরুষ যে কি পরিমাণের নির্লজ্জ হারে হারে টের পাচ্ছে তুবা। তাদের বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে কথা হচ্ছে আর সে নাকি লজ্জা পাবে না। আরে লজ্জা না পেলে সমাজের মানুষ এসে তুবা কে ধাওয়া করবে! যে, তুই মেয়ে, তোর উঠতে বসতে লজ্জা পেতে হবে ।

তুবা কে ভাবনার জগতে ডুবে যেতে দেখে আমান তুবার হাত ধরে টেনে তার সামনে আনলো।

____ কিরে টিকটিকি এতটুকু মাথা নিয়ে সারাদিন এত কি চিন্তা করিস ?

____ আমান ভাই!

____ বল ?

তুবা কপাল কুঁচকে ঠোঁট জোড়া পাউট করে বাচ্চাদের মতো বলে উঠলো

____ টিকটিকি বলবেন না আমাকে । আমি এখন বড় হয়েছি , আপনি এখনো এসব বলে ডাকলে লোক কি বলবে ?

____ কি বলবে? আর লোকের করার ধার ধারি নাকি আমি? আজীব!

____ আমি সমাজে বড় হয়েছি। আমার একটা,,,

তুবা কে বাকি কথা বলতে না দিয়ে আমার বললো

____ আমি কি সমাজ ছাড়া বড় হয়েছি?

তুবা পুর্নরায় মুখ দিয়ে চ্ শব্দ উচ্চারণ করলো।

____ চুপ করে থাকেন।

আমান ভ্রু কুঁচকে হাতে থাকা কতগুলো সপিং বেগ তুবার হাতে গুজে দিলো। তুবা ভার সামলাতে না পেরে আমান এর দিকে হেলে গেলো।

আমান এক হাতে তুবা কে ধরলো।

____ এখন কেমন লাগছে?

তুবা ঠোঁট উল্টে নিলো।

____ বললাম যে গাড়ি নিয়ে আসি । আনতে যেতে দিলি না ।

____ আমি কখন যেতে দিলাম না আপনিই তো বললেন।

আমান রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকাতেই তুবা চোখ সরিয়ে নিল। চুপ মেরে দাঁড়িয়ে রইলো। স্বভাব গত ভাবে মনে মনে একচোট গালাগালি করলো আমান কে ।

আমান বৃষ্টিতে ভিজে গাড়ি নিয়ে আসলো। গাড়ি থামিয়ে তুবা কে গাড়িতে বসালো। তুবা আমান এর দিকে তাকিয়ে দেখলো সার্ট ভিজে গেছে অনেক টা। মাথার চুল ও ভেজা। তুবা তার শরীরের ব্লেজার টা খুলে আমান কে দিয়ে বললো

_____ শার্ট খুলে এটা পড়ুন আর মাথা মুছে নিন। ভিজে গিয়েছেন একদম । পড়ে জ্বর আসবে।

আমান তুবার দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচালো।

_____ এতো পাকামো করতে হবে না। তেমন ভিজি নি আমি। কিছু হবে না ।

তুবা তার তেরামো বজায় রেখে বললো

____ জ্বর আসবে নিন এটা।

আমান বাধ্য হয়ে তুবার হাত থেকে ব্লেজার নিয়ে পাশে রাখলো। বেশির ভাগ সময় তার গাড়িতে এক্সট্রা শার্ট থাকে। সেখান থেকে একটি বের করে পড়ে নিলো। রুমাল দিলে চুল গুলো মুছে নিলো। আমান কে এভাবে দেখে তুবার যায় যায় অবস্থা। আমান কে তার এতো ভালো লাগে কেন ? আমান তার ব্যাক্তিগত পুরুষ দেখে কি এতো ভালো লাগে?

কিছু দূর যেতেই তারা AZC Group of Industries মানে আমান এর অফিসের সামনে এসে থামলো। তুবা হা করে তাকিয়ে আছে।

____ আমান ভাই এটা আপনার অফিস?

আমার তুবার এর রিয়েকশন দেখে হেসে ফেললো। মাথা নারিয়ে হ্যাঁ বুঝালো। আমান তুবা হাত ধরে অফিসের ভেতরে গেল। সবাই খানিকটা অবাক হলো আমান আর তুবা কে এভাবে হাত ধরে হেঁটে আসতে দেখে। ভাবলো হয়তো তুবা তার ছোট্ট বোন।

তুবা হা করে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। খুব সুন্দর সাজানো গোছানো অফিস। আমান কেবিনে ঢুকতেই তার পিএ আসলো। আমান তার বরাদ্দ কৃত চেয়ার টেনে তুবাকে বসতে বললো।

____ বস এখানে ।

তুবা গোল গোল চোখে তাকালো আমান এর দিকে।

____ এটা তো অফিসার দের চেয়ার। আমার স্কুলেও আছে।

আমান হেসে বলল

____ তুই ভাব এখন তুই এই অফিসের বস। আর এই চেয়ার টা তোর ।

____ সত্যি ?

____ হুম।

তুবা আরাম করে বসলো। আমান তুবার খুশি দেখে গাল টানলো।

আমান ঘুরে তার পিএ সজীব কে বললো

____ গাড়ি থেকে সপিং ব্যাগ গুলো নিয়ে আসো।

____ আচ্ছা স্যার।

আমান সোফায় বসে ল্যাপটপ খুলে মেইল গুলো চেক করলো। ততক্ষণে সজীব হাতে ব্যাগ গুলো নিয়ে দড়জা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো।

____ মে আই কামিং স্যার?

____ কাম ইন ।

তুবা তাকালো লোকটির দিকে। চোখাচোখি হলো দুজনের । তুবা এক গাল হাসলো।

____ হাই ভাইয়া ।

আমান ভ্রু কুঁচকে তুবার দিকে তাকালো।

তুবা আমান এর দিকে না তাকিয়েই সজীব কে বললো

____আমি এখন থেকে বস আমাকে ম্যাডাম বলবেন উনি তো সোফায় বসেছে । উনি আপনার বস কিভাবে হয় ? পড়ালেখা না করেই চাকরি করছেন। আপনাকে চাকরি কে দিয়েছে?

সজীব থতমত খেয়ে তুবার দিকে তাকিয়ে রইলো।

আমান রাগান্বিত স্বরে বললো

____ সার্ট-আপ ইডিয়ট!

তুবা ভয়ার্ত চোখে তাকালো আমান এর দিকে।

আমান চোখ সরিয়ে বললো

____ এখানে রেখে দাও ।

____ জ্বি স্যার।

সজীব ব্যাগ গুলো রেখে চলে গেল । আমান এগিয়ে এসে হাতে একটা ড্রেস নিয়ে তুবার দিকে গেলো ।

____ এটা পড়ে আয় ।

____ কেন ?

____ এখন থেকে এই সব ফ্রোক পড়বি না। আমি যেগুলো কিনে দিয়েছি সেগুলো পড়বি।

তুবা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো।

____ কোথায় পড়বো ?

আমান হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো ওয়াস রুম টা । তুবা ওয়াস রুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে আসলো । কালো রঙের থ্রি পিস পড়ে। ওড়না গলায় জড়িয়ে রাখা। মাথার চুল গুলো বেনুনি করা।

চলবে,,,

🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ🚫

#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #trendingpost #viralpostchallenge

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন