#আমার_কাদম্বিনী 🍂 [ #_পার্ট_১৭ ]
রুশা এতোক্ষণ যাবৎ মাথা নিচু করে রাখলেও আবরার এর শেষের কথাটা শুনে কম্পিত চোখে তাকালো আবরার এর দিকে। রুশা কে কিছু বলতে না দিয়ে গটগট পায়ে হেঁটে চলে গেল সেখানে থেকে। রুশা তার নানি কে এদিকে আসতে দেখে চোখ জোড়া মুছে নিলো ।
____ কি হয়েছে রে , জামাই এভাবে বেরিয়ে গেল।
____ কিছু হয়নি নানি কে যেন কল করছিলো। তাই।
____ ওহ্। রুশা আমার পায়ের ব্যথাটা একটু বেড়েছে।
____ কি বলো আবার বেড়েছে। তাহলে তো ডক্টর এর কাছে যেতে হবে।
____ হুম। আদিব কে বলেছি রাতে নিয়ে যাবে।
____ ওহ আচ্ছা।
____ রুশা।
____ হুম নানি বলো?
____ জামাইয়ের সাথে তোর সব ঠিকঠাক আছে তো?
____ মানে?
____ মানে বুঝিস না জামাই বউয়ের সম্পর্ক ?
রুশা একটু ইতস্তত বোধ করলো , মাথা নিচু করে নিলো। অনেক কষ্টে সে কান্নাটা আটকে রেখেছে। তার নানির এসব প্রশ্নে সে না কেঁদেই ফেলে!
____ তোদের বাসর হয়েছে ঠিকঠাক?
রুশা কম্পিত চোখে তাকালো তার নানির দিকে।
____ সত্যি করে বলবি । যদি মিথ্যা বলে ধরা পড়িস আমার কাছে তাহলে তোর খবর আছে রুশা। এই আমি বলে দিলাম।
রুশা ভয় পেলো সে হারে হারে চিনে তার নানি কে । মিথ্যা বললে তার নানি ঠিক ধরে ফেলবে।
____ কিরে চুপ কেন কি ভাবছিস? বল ?
রুশা না সূচক মাথা নেড়ে বললো
____ হয়নি।
রুশার নানি মুখে হাত দিলেন ।
____কি বলছিস এসব তুই?
____হুম নানি সত্যি বলছি।
____ আবরার তোকে চায় না ? ওর অন্য কোন পছন্দ আছে ?
____ জানি না তো ।
____ আবরার তোকে চায় না?
রুশা এবার কেঁদেই ফেললো। ঠোঁট কামড়ে মিনমিন স্বরে বলল
____ ওনি অনেক রাগি। শুধু রাগারাগী করে আমার সাথে।
রুশার নানির খটকা লাগলো খানিকটা। আবরার রাগি এটা সবাই জানে তবে আবরার যে অকারনে রাগারাগি করে না এটাও সবাই জানে। রুশার নানি সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করে বললো,,,
____ আমাকে সব কিছু খুলে বল কি হয়েছে না হয়েছে।
রুশা এবার সবটা বলে দিলো। রুশার নানি রাগে ফেটে পড়ে যাচ্ছে।
____ রুশা তোরে ইচ্ছা করতাছে গাছের সাথে বেঁধে পিটাই।
____ কেন নানি?
____গাধা মেয়ে কোথাকার স্বামীর ভালবাসা বুঝিস না !
____ নানি তুমি আমাকে কেন বকছো ওনি তো সবসময় আমার সাথে রাগারাগি করে।
____ তার আড়ালে যে তোর প্রতি তার এক আকাশ পরিমাণ ভালোবাসা সেটা বুজিস না। এক্ষুনি জামাই কে কল করবি, ক্ষমা চেয়ে বাড়িতে আসতে বলবি। যা চায় সব দিবি বাঁধা দিবি না একদম ।
রুশা এবার যেন ফেশে গেল। সে ভেবেছিল তার নানি তার পক্ষে থাকবে এখন তার পুরো উল্টো হলো।
____ তুই কল দিবি নাকি আমার হাতের মার খাবি।
____ দিচ্ছি নানি দিচ্ছি।
তার নানি কে দিয়ে বিশ্বাস নেই একদম। এই মহিলা যে রাগি মাইর দিতে সময় লাগবে না। রুশা ভয়ে ভয়ে তার নানির মোবাইল দিয়ে কল দিলো আবরার কে।
আবরার কল কেটে দিলো। দ্বিতীয় বারের সময় ও কল কেটে দিলো । এভাবে পাঁচ ছয় বার কল দিলো সাথে সাথে কল ও কেটে গেল।
____ এক কাজ কর রুশা তোর একটা ছবি জামাই কে পাঠা। দেখবি রাগ কমে গিয়েছে।
____ আমাকে তো ওনি দেখেই তাহলে ছবি কেন পাঠাবো ?
____আহ্ এই গাধি কে নিয়ে আমি কোথায় যাবো?
তোর ব্যাক্তিগত কিছু ছবি দে জামাই কে দেখবি সুরসুর করে বাড়ি চলে আসছে সাথে একটা ভয়েস দিবি।
____ ছিঃ নানি তুমি এতো বাজে ?
রুশার নানি চোখ মুখ কালো করে ফেললো।
____ আমি বাজে না তুই বাজে । জামাই কে হাতে রাখতে পারে না আবার বড় বড় কথা।
____জামাই কে হাতে রাখার জন্য এখন এসব করবো আমি। এ জীবন থাকতে তো না। অসম্ভব।
____ আমি গেলাম যা বলেছি করবি তোর হাতে ৩০ মিনিট সময় জামাই কে বাড়ি তে না আনতে পারলে আমার এই মুখ আর দেখতে আসবি না ।
পাঁচ মিনিট হয়েছে রুশা বসে বসে ভাবছে সে কি করবে হাতে তার নানির মোবাইল টা আছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার কন্ঠদেশে থেকে সামান্য নিচের কয়েকটি ছবি তুললো। সেখান থেকে বেছে বেছে দুটো ছবি ভয়ে ভয়ে আবরার কে পাঠালো , সাথে একটি ভয়েস ম্যাসেজ,,
____সব দিবো আপনি যা চান এবার আর বাঁধা দিবো না। সরি আপনার কথার অবাধ্য হওয়ার জন্য আর হবে না। প্লিজ বাড়ি চলে আসুন।
রুশা মেসেজ গুলো পাঠিয়ে হাত দিয়ে মুখ ডাকলো। লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে তার ।
আবরার ছবি টা দেখে চোখ জোড়া বন্ধ করে নিলো। কন্ট্রোল হারাবে মনে হয়। আর ভয়েস টা শোনার পর রুশার প্রতি সব অভিমান ভুলে গেল।
____ সায়মন গাড়ি ঘুরাও বাড়িতে জানিয়ে দাও সকাল এগারোটা দশ থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কেউ রুম থেকে এক পা বের করবে না। বাবা আর চাচ্চদের কে কোনো একটা কাজের চক্করে ফাসিয়ে সেখানে পাঠিয়ে দাও । আমার কথা বললে বলবে আমি পার্সোনাল কাঁজে ব্যস্ত আছি । কেউ যাতে ডিস্টার্ব করার দূরসাহস না করে।
সায়মন আবরার এর মুখে এ সমস্ত কথা শুনে হতভম্ব হলো। হঠাৎ আবরার এসব কেন বললো বুঝে উঠতে পারলো না সে ।
____কিন্তু স্যার কিছু হয়েছে?
আবরার বাঁকা হেসে বললো,,,
____ চৌধুরী বাড়িতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
সায়মন ভ্রু কুঁচকে গভীর চিন্তায় মগ্ন হলো আবরার এর কথা সব যেন তার মাথার উপর দিয়ে গেল।
**
এদিকে চৌধুরী বাড়িতে কারফিউ শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। আবরার বাড়িতে ঢুকে কাউকে দেখতে পেল না , ঠোঁটে সয়তানির হাসি বজায় রেখে গুনগুন করতে করতে বেড রুমের দিকে এগোলো।
এদিকে রুশা পারছে না মাটি খুঁড়ে মাটির নিচে ঢুকে যেতে । তার নানি আবরার এর চাল বুঝে আগেই রুমে এসে রুশাকে সুন্দর দেখে একটি সাড়ি পড়িয়ে দিয়ে গেছে, আর হালকা করে সাজিয়ে দিয়েছে। সোফায় উপর গুটিসুটি মেরে বসে আছে রুশা। বুকের মধ্যে ধুপধাপ শব্দ হচ্ছে বার বার। নানির কথার পেচে পড়ে তাকে একটার পর একটা অকাজ কুকাজ করতে হচ্ছে।
____ ছিঃ ,,,
নাক ছিটকালো রুশা। আবরার রুমে ঢুকতেই রুশা ভয়ে ধরফরিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। তার মধ্যে দুটো জিনিস কাজ করছে ভয় সাথে লজ্জা। রুশা মাথা নিচু করে রেখেছে। আবরার মেনডোর লক করে এক পা এক পা করে এগোতে লাগলো। রুশা তাল মিলিয়ে পেছোতে পেছোতে সোফার পেছনে চলে গেল। আবরার থমকে দাঁড়ালো বরাবরের মতোই মেজাজ খারাপ হলো তার। হাঁটা গতি বাড়িয়ে একদম রুশার শরীর ঘেসে দাঁড়িয়ে পড়লো আবরার। রুশার শরীর দেয়ালে ঠেকলো। ভয়ে চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করে নিলো রুশা। আবরার তার দু-হাত রুশার দুদিকে দিয়ে তাকে মাঝখানে রাখলো । আবরার তার মুখ রুশার মুখের কাছে নিলো । দুজনের তপ্ত নিঃশ্বাস দুজনের উপর পড়লো। আবরার এর শরীরের মাতাল করা ঘ্রাণ রুশাকে নেশার ঘোরে টানছে বার বার। তার শরীরের রক্ত চলাচল যেন বন্ধ হয়ে রইলো। জোড়ালো হলো বুকের ধুকধুকানি । আবরার ও যেন শুনতে পাচ্ছে সেই শব্দ। আবরার তার ঠোঁট রুশার পাতলা ঠোঁটের সাথে ঘেষে রাখলো, যেন একটু নড়চড় হলে ঠোঁটের সাথে ঠোঁট মিলিত হবে।
রুশা যে পেছনে যাবে তার ক্ষমতা নেই কারণ তার পেছনে দেয়াল আর সে দাঁড়িয়ে আছে দেয়াল ঘেঁষে।
আবরার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রুশার দিকে। আবরার এর চোখই যেন বলে দিচ্ছে আজকে সে বিষন উন্মাদ হবে রুশার উপর । কেউ বাঁধা দিতে আসলে তান্ডব চলবে আজ তার উপর। আর তার মধ্যে যদি রুশা একজন হয় তাহলে আবরার এর মধ্যে ধ্বংস হবে সে আজ। নিরবতা ভাঙলো আবরার এর বাঁকা কন্ঠস্বরে ।
____ এতবড় স্পর্ধা করেছো সামলাতে পারবে তো আমাকে?
রুশা কেঁপে উঠলো খানিকটা, মনে পড়লো ঘন্টা খানেক আগের কথা। আবরার তার কাছে আসতে চেয়েছিলো সে দেয়নি বিধায় আবরার অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। পরপরই মনে পড়লো নানির বলা কথা গুলো। আবরার এবার কাছে আসলে সে যাতে বাঁধা না দেয় । এবার বাঁধা দিলে আর কখনো আবরার কে নিজের করে পাবে না। আবরার দূরত্ব বাড়িয়ে নিবে তার সাথে। তড়াক গতিতে চোখ মেললো রুশা। আবরার কে সে ভালোবেসে ফেলেছে, আবরার কে ছাড়া থাকা তার পক্ষে অসম্ভব ! রুশা তাড়াহুড়োয় শ্বাস ভারি কন্ঠে জবাব দিলো,,,
____ হুম,,পা,, পারবো।
কথা টা বলেই রুশা ভয়ে আবরার এর হাতের বাঁধন ছেড়ে বিছানার দিকে ছুটলো। কয়েক কদম যেতে পারলো কিনা সন্দেহ, আবরার পেছন দিক থেকে তার এক হাত দিয়ে রুশার লতানো কোমড় টা চেপে ধরলো। এক ঝটকায় রুশাকে তার এক হাত থেকে অন্য হাতে নিলো ঘুড়িয়ে ফেরালো তার মুখ বরাবর।
রুশার তার লতানো কোমড় ছাড়িয়ে নিল আবরার এর হাত থেকে। আবরার এর দিকে তাকিয়েই পেছাতে লাগলো এক পা এক পা করে ।
____ বেশ তাহলে শুরু করা যাক। পেছনে কেন যাচ্ছো ?
____ এ,,,এমনি ।
____কত সময়ের জন্য চাও আমাকে? তিন ঘণ্টা চার ঘন্টা নাকি এর থেকেও বেশি। যেহেতু ফার্স্ট টাইম তুমি যেটা বলবে সেটাই হবে।
রুশা জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। কি বলছে এই লোক পাগল হয়েছে নাকি!
____ অসম্ভব ! পাগল নাকি আপনি তিন চার ঘন্টার কথা বলছেন ।
____ তাহলে ?
____ পাঁচ মিনিট।
____ ইডিয়ট সেট করতেই তো পাঁচ মিনিট সময় লাগবে।
রুশার বুঝলো না আবরার এর কথা। তাই কৌতুহলে জিজ্ঞেস করে বসলো।
____ কি ,,কি সেট করবেন ?
আবরার বাঁকা হেসে নিজের ঠোঁট নিজেই কামড়ে ধরলো। অশ্লীল স্বরে বললো,,,
____ যেটা সেট করলে তুমি সুখের সাগরে ভাসবে। বারবার আমার নাম জপবে। চিৎকার করবে তবুও ছাড়তে চাইবে না।
রুশার নিজের কান নিজেই চেপে ধরলো। আবরার তাকে কথা দিয়েই পাগল করে দিচ্ছে। কিসব বলছে সে, শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠছে বারবার। রুশার বড়বড় শ্বাস নিলো যার দরুন বারবার তার বুকের অংশ টা উঠা নামা করছে। আর আবরার যেন তা দেখে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে। অনেক টা আকর্ষণীয় লাগছে রুশাকে। রুশা সে অবস্থাতেই নাক ছিটকালো।
____ ছিঃ,,, কি অশ্লীল আপনি।
আবরার তার নেশালো দৃষ্টি রুশার দিকে রেখে বাঁকা হাসলো। এক থাবায় রুশার লতানো কোমড় টা তার হাতে নিলো। রুশা তাল সামলাতে না পেরে আবরার এর গলা জড়িয়ে ধরলো।
চলবে,,,,
[ যারা আশায় ছিলে এটা সম্পূর্ণ রোমান্টিক পার্ট হবে তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা 😬 😑। এবার প্রমিস করতেছি নেক্সাট পার্ট রোমান্টিক হবে হবে , আরকি তোমরা যেমনটা চাও 😑🚫 __ ]
🚫কপি করা নিষিদ্ধ ❌❌❌❌
#লেখিকা_অরোরা_ইমান_কায়নাত #oponass_lover #foryouシ #foryoupageシ #fbpostviral #trendingpost #viralpostchallenge