ফন্ট সাইজ:
থিম:
জানে মন তুই জীবন

৪র্থ পর্ব

লেখক: ফারজানা ইয়াসমিন

#জানে_মন_তুই_জীবন

#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন
#পর্ব_৪
---
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা।
প্রায় তিন ঘণ্টা শপিং করার পর চারজনই—লিয়ন, মহুয়া, অয়ন আর অনিমা—শপিং মল থেকে বেরিয়ে এল। সবার হাতেই বেশ কয়েকটা শপিং ব্যাগ।
মহুয়া হাঁপ ছেড়ে বলল,
— উফ! আজকে আর এক পা-ও হাঁটতে পারব না।
লিয়ন হেসে তার হাত থেকে দুটো ব্যাগ নিয়ে নিল।
— এবার ম্যাডাম শুধু হেঁটে গাড়ি পর্যন্ত যান। বাকি দায়িত্ব আমার।
মহুয়া মুচকি হেসে বলল,
— থ্যাংক ইউ,মাই ডিয়ার হাজব্যান্ড।
ওদের দুজনকে দেখে অয়ন মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— ভাইয়া, তোমাদের একটু কম রোমান্স করলে হয় না?
লিয়ন হেসে বলল,
— তুইও একটা বিয়ে করে ফেল। তারপর বুঝবি।
অয়ন কিছু বলার আগেই অনিমা হেসে বলে উঠল,
— আগে কেউ ওনাকে সহ্য করার মতো মানুষ খুঁজে পাক।
অয়ন সঙ্গে সঙ্গে অনিমার দিকে তাকাল।
— এক্সকিউজ মি! আমাকে সহ্য করতে হবে? বরং যে আমাকে বিয়ে করবে, তারই সাহসের জন্য পুরস্কার পাওয়া উচিত।
— সেটা ঠিক। কারণ সারাদিন নিজের প্রশংসা শুনতে হলে সত্যিই অনেক সাহস লাগে।
মহুয়া আর লিয়ন দুজনেই হেসে ফেলল।লিয়ন মাথা নেড়ে বলল,
— তোরা দুজন পাঁচ মিনিট ঝগড়া না করলে শান্তি পাস না?
দুজন একসাথে বলল,
— ও আগে শুরু করেছে!
মহুয়া আবার হাসলো।পার্কিং লটে এসে লিয়ন গাড়ির ডিকিতে সব ব্যাগ রাখল।এরপর বলল,
— আচ্ছা, এখন আগে অনিমাকে বাসায় নামিয়ে দিই। তারপর আমরা বাসায় যাব।
অনিমা মাথা নেড়ে বলল,
— ঠিক আছে।
গাড়িতে এবারও লিয়ন ড্রাইভিং সিটে, পাশে মহুয়া। পিছনের সিটে পাশাপাশি বসতে হলো অয়ন আর অনিমাকে।দুজনই ইচ্ছে করে জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে বসল।মহুয়া রিয়ার ভিউ মিররে তাদের দেখে হাসি চেপে রাখল।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি একটা মোড় নিতেই হালকা ব্রেক করতে হলো। অনিমা ভারসাম্য হারিয়ে অয়নের কাঁধের ওপর হেলে পড়ল।অনিমা তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে বসে বলল,
— সরি...
অয়ন একটু অবাক হলেও স্বাভাবিক গলায় বলল,
— সমস্যা নেই।
মহুয়া আস্তে করে লিয়নের কানে বলল,
— আজকে তো ঝগড়া হলো না!
লিয়ন মুচকি হেসে ফিসফিস করে উত্তর দিল,
— ঝগড়া একটু কমল মানেই গল্পটা অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।
মহুয়া হেসে লিয়নের হাতটা আলতো করে চেপে ধরল।
আর পিছনে বসে থাকা অয়ন আর অনিমা দুজনেই জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকলেও, অজান্তেই দুজনের ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি ফুটে উঠেছিল। কেউ কারও দিকে তাকায়নি, কিন্তু দুজনের মনেই আজকের দিনটা আলাদা একটা ছাপ রেখে গেল।
গাড়ি কিছুক্ষণ চলার পর অনিমাদের বাড়ির সামনে এসে থামল।অনিমা দরজা খুলে নামতে যাবে, এমন সময় লিয়ন বলল,
— ঠিকমতো বাসায় ঢুকলে একটা ফোন দিও, ঠিক আছে?
— আচ্ছা, ভাইয়া।
মহুয়া হাসিমুখে বলল,
— কাল কিন্তু আমার বাসায় আসবি। অনেক গল্প করব।
— অবশ্যই আসব।
অনিমা সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল।
অয়ন জানালার কাঁচ দিয়ে একবার অনিমার চলে যাওয়া দেখল। ঠিক তখনই অনিমা হঠাৎ ঘুরে তাকাল। দুজনের চোখাচোখি হতেই অয়ন দ্রুত অন্যদিকে তাকিয়ে রইল।অনিমা মুচকি হেসে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল।
গাড়ি আবার চলতে শুরু করল।মহুয়া বিষয়টা লক্ষ্য করলেও কিছু বলল না। শুধু মুচকি হেসে লিয়নের দিকে তাকাল।লিয়নও বুঝে ফেলেছে। তবে সেও চুপ রইল।
কিছুক্ষণ পর অয়নের ফোন বেজে উঠল।ফোনের স্ক্রিনে বন্ধুর নাম দেখে সে কল রিসিভ করল।
— হ্যালো।
— কোথায় তুই?
— ভাইয়া আর ভাবির সাথে শপিংয়ে এসেছিলাম। এখন বাসায় ফিরছি।
— আচ্ছা, কাল কিন্তু মাঠে আসবি। সবাই থাকবে।
— ঠিক আছে, আসব।
ফোন রেখে অয়ন আবার চুপচাপ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।লিয়ন হঠাৎ বলল,
— কী রে, এত চুপচাপ কেন?
— কিছু না তো।
লিয়ন দুষ্টু হেসে বলল,
— আমার কিন্তু মনে হচ্ছে, তোর মাথায় অন্য কিছু ঘুরছে।
অয়ন হেসে বলল,
— ভাইয়া, তুমি বেশি ভাবো।
মহুয়া হেসে যোগ করল,
— তোমার ভাইয়া  কিন্তু কারও নাম বলেনি!
অয়ন দুজনের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল, ওরা তাকে খোঁচা দিচ্ছে।
— তোমাদের দুইজন কে পড়ে দেখে নেবো।
লিয়ন আর মহুয়া একসাথে হেসে উঠল।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি বাড়ির সামনে এসে থামল।বাড়িতে ঢুকতেই লিয়নের মা মারিয়া বললেন,
— এসেছ? যাও, সবাই ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো। আজকে বাইরে এত ঘোরাঘুরি করেছ, নিশ্চয়ই ক্লান্ত।
যে যার নিজের রুমে চলে গেল।
---
__ লিয়ন আমার বেবি চাই।
বেবি চাই শুনে লিয়ন বিষম খেয়ে উঠলো।আবার মহুয়া কে শুধিয়ে বলল,
__ কি চাই?
__ কানে কি কম শোন নাকি বেবি চাই আমি।
__ তুমি কি পাগল হয়ে গেছ।এই বেবি নেওয়ার ভুত মাথায় কে ঢোকালো?
__ কাউকে ঢুকাতে হবে কেন?আমাদের বিয়ে হয়েছে ২ মাস হল।এবার তো বেবি নেওয়া প্রয়োজন।
মহুয়ার কথা শুনে তো লিয়নের মাথায় আকাশে ভেঙে পড়েছে।এই মেয়ে বলে কি?মাত্র ২ মাস হয়েছে এর মধ্যে একে তো বেবি চাইছে,তার মধ্যে আবার ২ মাস কে ২ বছর ভেবে আসছে।লিয়ন আবার মহুয়া কে বোঝানোর স্বরে বলল,
__ জান দেখ!মানলাম ২ মাস হয়েছে আরও কয়েক দিন যাক।তারপর নেব।ওকে।
__ তুমি শুধু পরে পরে করো।আসলে তুমি আমাকে ভালোই বাসো না।
বলেই মহুয়া চলে গেল।রাগ করেছে বুঝলো।কিন্তু এখন লিয়ন কিছু বলবে না।বললেই আবার জেদ ধরবে তাই এখন এখানেই কথা শেষ করল।
মহুয়া রাগ করে রুমে ঢুকে দরজাটা আধা বন্ধ করে বিছানায় গিয়ে বসে রইল।লিয়ন বাইরে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— এবার ম্যাডামের রাগ ভাঙাতে হবে।
সে আস্তে করে দরজায় নক করল।
— মহুয়া...
ভেতর থেকে কোনো উত্তর এলো না।সে আবার ডাকল,
— জান... দরজাটা খুলবে?
তবুও কোনো সাড়া নেই।লিয়ন দরজাটা আলতো করে ঠেলে ভেতরে ঢুকল। দেখল মহুয়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
লিয়ন ধীরে ধীরে তার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।
— এত রাগ করেছ?
মহুয়া মুখ ঘুরিয়েও তাকাল না।
— আমি আপনার সঙ্গে কথা বলব না।
মহুয়া কিছু বলল না।লিয়ন আবার বলল,
__ আচ্ছা, কথা বলো না। কিন্তু একটু আমার দিকে তাকাও।
— না।
— একবার?
— না মানে না।
লিয়ন মুচকি হেসে বলল,
— আচ্ছা, তাহলে আমি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব। যতক্ষণ না আমার বউ আমার দিকে তাকাচ্ছে।
পাঁচ মিনিট কেটে গেল।মহুয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।লিয়ন এবার নাটকীয় গলায় বলল,
— উফ! মনে হচ্ছে আমি না খেয়েই মারা যাব।
মহুয়া মুখে রাগী ভাব রেখেই বলল,
— নাটক করবে না একদম।
— নাটক না, সত্যি। আমার বউ রাগ করলে আমার খিদেও পায় না।
মহুয়া এবারও চুপ।লিয়ন ধীরে ধীরে তার সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল।মহুয়া অবাক হয়ে তাকাল।লিয়ন দু'কান ধরে বলল,
— সরি...খুব বড় ভুল হয়ে গেছে। আমার বউয়ের মন খারাপ করে ফেলেছি।
মহুয়া এখনও নিশ্চুপ।
— শাস্তি দিতে চাইলে দাও। কিন্তু কথা না বলে থেকো না। তোমার এই নীরবতাটা আমি একদম সহ্য করতে পারি না।
মহুয়ার চোখে পানি চিকচিক করে উঠল।
— তুমি সব সময় আমাকে বুঝতে চাও না।
লিয়ন আলতো করে তার দুই হাত নিজের হাতে নিয়ে বলল,
— আমি বুঝি, জান। কিন্তু তুমি যখন এমন কিছু বলো, তখন আমার ভয় লাগে। আমি চাই আমাদের সন্তান হোক, কারণ আমাদের ভালোবাসার একটা সুন্দর অংশ পৃথিবীতে আসুক। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আমি তোমাকে চাই। তুমি সুস্থ থাক, হাসিখুশি থাক—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়।
মহুয়ার রাগ অনেকটাই গলে গেল।
— সত্যি?
— আল্লাহর কসম, সত্যি।
কথাগুলো শুনে মহুয়ার চোখ বেয়ে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল।লিয়ন আলতো করে সেই জল মুছে দিয়ে হেসে বলল,
— এবার কি আমার রাগী বউটা একটু হাসবে?
মহুয়া আর নিজেকে সামলাতে পারল না। হেসে ফেলল।
— পাগলু!
— পাগলু তো। তবে শুধু আমার বউটার জন্য।
মহুয়া এগিয়ে এসে লিয়নকে জড়িয়ে ধরল।লিয়নও তাকে শক্ত করে বুকে আগলে নিল।
— প্রমিস, আর কখনো তোমাকে কাঁদাতে চাই না।
মহুয়া মৃদু হেসে বলল,
— আর আমি প্রমিস করছি, রাগ করলেও বেশিক্ষণ তোমার সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারব না।
রুমের অভিমান গলে আবার ভালোবাসায় ভরে উঠল। বাইরে তখন সন্ধ্যার নরম বাতাস জানালার পর্দা দুলিয়ে দিচ্ছে, আর ভেতরে দুটো হৃদয় আবার আগের মতোই এক হয়ে গেল।
রাগ-অভিমান মিটে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ দুজনই চুপচাপ একে অপরকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
নীরবতা ভাঙল লিয়ন।
— এখনো কি আমার ওপর রাগ আছে?
মহুয়া লিয়নের বুকে মাথা রেখেই বলল,
— একটু আছে।
লিয়ন ভান করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— তাহলে তো আমার শাস্তি এখনও শেষ হয়নি।
মহুয়া মুখ তুলে তাকাল।
— হুম, শেষ হয়নি।
— আচ্ছা, ম্যাডাম বলুন, কী শাস্তি দেবেন?
মহুয়া কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
— আমি যা বলবো তাই শুনতে হবে,একটুও তর্ক করা যাবে না।
লিয়ন হেসে বলল,
— সবসময় শুনবো।সারাজীবনই শুনব।
— এত সহজে রাজি হয়ে গেলে?
— আমার বউয়ের কাছে হারতে আমার ভালো লাগে।
মহুয়া মুচকি হেসে বলল,
— খুব চালাক হয়ে গেছেন দেখছি লিয়ন।
ঠিক তখনই বাইরে থেকে অয়নের গলা শোনা গেল—
— ভাইয়া! ভাবি! দরজা খুলবেন?
লিয়ন আস্তে করে মহুয়ার কানে বলল,
— দেখলে? রোমান্স করতে দিল না।
মহুয়া হেসে ফেলল।
— দরজা খুলে দেখো কি বলে?
লিয়ন দরজা খুলতে চলে গেল।সে অয়নের সাথে কিছু নিয়ে কথা বলছে।
মহুয়া ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। সন্ধ্যার হালকা বাতাসে তার খোলা চুলগুলো বারবার উড়ে এসে মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে। আকাশজুড়ে লালচে আভা, চারপাশে এক অন্যরকম শান্তি।
ঠিক তখনই...
লিয়ন নিঃশব্দে পেছন থেকে এসে মহুয়াকে জড়িয়ে ধরল।মহুয়া একটু চমকে উঠলেও পরক্ষণেই ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল।
— কী করছো?
লিয়ন তার কাঁধে থুতনি রেখে মৃদু হেসে বলল,
— আমার বউকে জড়িয়ে ধরেছি। এতে আবার অনুমতি লাগে নাকি?
মহুয়া মুচকি হেসে বলল,
— যদি আমি রাগ করতাম?
— তাহলে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরতাম। কারণ জানি, তুমি আমার ওপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারো না।
মহুয়া আলতো করে লিয়নের হাতের ওপর নিজের হাত রাখল।
— তুমি না... দিন দিন খুব দুষ্টু হয়ে যাচ্ছো খুব।
— বিয়ের আগে তোমাকে লুকিয়ে ভালোবাসতে হতো। এখন তুমি আমার স্ত্রী। এখন আর ভালোবাসা লুকিয়ে রাখার কোনো কারণ নেই।
মহুয়া মাথা ঘুরিয়ে লিয়নের দিকে তাকাল।
— একটা কথা বলব?
— বলো।
— যদি কোনোদিন আমাদের জীবনে অনেক ঝড় আসে... তখনও এভাবেই আগলে রাখবে তো?
লিয়ন কোনো উত্তর না দিয়ে মহুয়ার কাঁধটা আলতো করে ঘুরিয়ে তাকে নিজের মুখোমুখি করল।তারপর দু'হাতে মহুয়ার মুখটা ধরে শান্ত গলায় বলল,
— ঝড় আসবেই। সংসারে অভিমান হবে, ঝগড়া হবে, কঠিন সময়ও আসবে। কিন্তু একটা জিনিস কখনো বদলাবে না...
মহুয়া কৌতূহলী হয়ে তাকাল।
— কী?
— তোর হাতটা। যতদিন আমি বেঁচে আছি, এই হাত আমি কখনো ছাড়ব না।
মহুয়ার চোখ দুটো চিকচিক করে উঠল।মহুয়া নিজের হাতটা তার হাতে রেখে বলল,
— আমিও প্রমিস করছি। যত ঝড়ই আসুক, তোমার হাত ছেড়ে কোথাও যাব না।
লিয়ন হেসে মহুয়ার কপালে আলতো করে একটা চুমু এঁকে দিল।
— এটাই তো আমার সবচেয়ে বড় শান্তি।
চলবে,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন