#এক_বনে_দুই_বাঘ
নক্ষত্রদের মৃত্যু নেই’
১২.
®রোজা রহমান নাঈমা
‘
সকালে স্টাডি রুমে গুনগুনিয়ে শব্দ করে ক্লাসের পড়া পড়ছে কুয়াশা। আজ কোচিং নেই তার। কোচিং সপ্তাহে নির্দিষ্টি তিনদিন— শনি, সোম, বুধ। এই তিনদিন কুয়াশা সকালে কোচিংয়ে যায়৷ আর সপ্তাহে ছয়দিন বিকেলে প্রাইভেট। এখন সবেই নবম শ্রেণিতে উঠেছে বলে অতিরিক্তও চাপ দেয়া হচ্ছে না তাকে। কয়েকমাস পর থেকে তার আরো প্রাইভেট টিচারের প্রয়োজন পড়বে। তখন আরো টিচার দেয়া হবে তাকে।
জানুয়ারি মাস থেকেই কুয়াশার পড়ার অবস্থা দেখে, স্টাডি রুমে থাকা শিশির বিরক্তি নিয়ে বারবার কুয়াশাকে দেখছে। এমন ভাব করছে যেন, জীবনে কেউ সায়েন্স বিভাগ নিয়ে পড়েনি, আর কেউ ক্লাস নাইনেও পড়েনি! এক্ষেত্রে তো শিশিরকেই দেখা উচিত! ক্লাস নাইনে উঠে সায়েন্স নিয়ে বিন্দাস ঘুরত-ফিরত আর বন্ধুদের সাথে টাঙ্কি মেরে বেড়াত। তবুও কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের টপার স্টুডেন্টের মাঝে ছিল সে। ১-৩ এর মধ্যে তার ক্লাস রোল থাকত৷
জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাকে ভীষণ ভালোও বাসতেন। অবশ্য এখনও বাসে। শিশির এখনও মাঝেমধ্যেই তার প্রাক্তন স্কুলে যায়। তার আপন স্কুল— যেখানে সে আট বছর যাবত পড়াশোনা করেছে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি অবধি সে জিলা স্কুলেই পড়েছে। সেখানে সে একাধিক মেধাভিত্তিক বৃত্তি ও বিভিন্ন শিক্ষাগত পুরষ্কারও অর্জন করেছে। শিশির খেলাধুলাতেও ভীষণ দক্ষ ছিল। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিজের নাম তাকে লিখতে হতো না৷ কীভাবে যেন আগেভাগেই নামটা তালিকার প্রথম সারির দিকেই উঠে যেত। হয়তো বন্ধুরা দিতো, নয়তো শিক্ষকরাই নিজ আগ্রহ থেকেই দিয়ে দিতেন। বাস্কেটবল, ভলিবল, ক্রিকেট—এর মতো খেলাগুলোতে শিশির ছিল বেশ পারদর্শী।
সেই শিশিরের কাছে কুয়াশার পড়াশোনা ও মেধাকে বিরক্তি লাগবে, এটাই স্বাভাবিক। কুয়াশাকে আজকাল বাড়িতে খুব কমই পাওয়া যায়। পড়ার টেবিল ও খাওয়ার টেবিল ছাড়া তার দর্শন পাওয়া প্রায় দুষ্কর। সকালে যেদিন কোচিং থাকবে, ওইদিন কোচিংয়ে যাবে। কোচিং থেকে ফিরে সকালের খাবার খেয়ে স্কুলে চলে যাবে। বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে, যাবে প্রাইভেটে। সন্ধ্যার পর ছাড়া তার সময় নেই বললেই চলে। আর সন্ধ্যার পর তো তাকে পড়ার টেবিলেই বেশি পাওয়া যায়। তখন আবার পড়ার টেবিলে শিশির আসেনা। ওই সময়ে তার যতরকমের প্রয়োজনীয় কাজ কিংবা উদ্ভট কাজ-কাম আছে সে করবে। পড়বে রাত জেগে। তার শিডিউলই এমন।
ফলস্বরূপ দুই বাঘের ঝগড়াঝাটি আজকাল কমই নজরে পড়ে। তবে মাঝেমধ্যে যদি কুয়াশার পেছনে লাগতে মনে চায়, শিশিরকে সন্ধ্যার পর স্টাডিরুমে দেখা যায়। এটা ওটা বলবে, টিটকারি মারবে, আর কুয়াশা রেগে যাবে। তারপর বেঁধে যাবে দুটোর কুরুক্ষেত্র। স্টাডিরুমে বড়রা প্রবেশ করেন না। তাই আরামসে দুটো হয় ঝগড়া করবে, না হয় হাতাহাতি-চুলোচুলি। মাঝেমধ্যে সহায় হলে নীহাররা এসে আটকে দেয়, নয়তো পুঁচকো হিম দৌড়াতে দৌড়াতে গিয়ে বড়আম্মুদের ডেকে আনে। হিমের ভাষায় আবার, শিশির ভাইকে কুয়াশা বুবু মেরে পাটপাট করে ফেলে।
এই তো কিছুদিন আগে শিশিরের সাথে কুয়াশার ঝগড়া লাগল। সেটাও কুয়াশার সাইকেল চালানো নিয়ে। ক্লাস নাইনের মেয়ের সাইকেল চালিয়ে শহর-অঞ্চলে বেড়াবে বিষয়টা শিশিরের পছন্দ হয়নি। এতদিন যা করার করেছে, এবার নিয়ম পাল্টানো উচিত। চক্ষু লজ্জারও একটা ব্যাপার আছে৷ মেয়ে মানুষ মেয়ে মানুষের মতোই চলাফেরা করবে। ঔদ্ধত্য দেখিয়ে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা মেয়েমানুষের প্রতি শিশিরের চরম অ্যালার্জি আছে। সেখানে সে বাড়ির মেয়েকে ওইরকম ভাবে চলতে দিতে রাজি নয়৷ যদিও কুয়াশা তার কেউ নয়। শুধুমাত্র বংশের কেউ একটা হয়ে আছে বলেই ব্যাপারটা ভিন্ন।
শিশিরের এমন সব যুক্তি বাড়ির বড়রা ফেলে দিলেন না৷ ফলস্বরূপ কুয়াশার সাইকেল চালানো বন্ধ করা হলো। কিন্তু কুয়াশা বড়দের সব কথা মাথা পেতে মেনে নিলেও, শিশিরের কথা মেনে নেবে? যেখানে শিশির নামের শত্রুটাই প্রধান কালপিট, যার কারণে তার সাইকেল চালানো বন্ধ হচ্ছে! কুয়াশা সবার সামনে কিছুই বলে না সেদিন৷ শুধু মনটা খারাপ করে চুপচাপ মেনে নেয়৷ কিন্তু শিশিরকে তো মেনে নেয়া যাবে না! মেনে নিতে পারে না কুয়াশা। এটা অন্যায় কুয়াশার জন্য। কুয়াশার মানে আঘাত হানবে৷ শেষ, সে কিনা শিশিরের কথা মানবে? এমনও দিন কুয়াশার জন্য আসছে? অসম্ভব!
সেদিনই সন্ধ্যায় শিশির প্রবেশ করল স্টাডিরুমে। মূলত কুয়াশার পেছনে লাগাটাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। বিকেলের ঘটনায় কুয়াশার কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি৷ ব্যাপারটা ভাববার মতো। অর্থাৎ তাকে দেখতে হবে কুয়াশার প্রতিক্রিয়া। কুয়াশাও সুযোগ খুঁজছিল শিশিরকে ধরার। আর যখনই পেয়ে গেল, তখনই শুরু হলো।
সেদিন শিশিরের কাছে তার প্রশ্ন ছিল, কেন তার সাইকেল চালানো বন্ধ করা হলো? শিশিরের তখনি সেই একই উত্তর ছিল, বাড়ির মেয়ে বড় হয়েছে, অর্থাৎ ঔদ্ধত্য দেখানো চলবে না। অথচ কুয়াশা শুধু সাইকেল চালিয়ে প্রাইভেট কিংবা কোচিং করত। তবুও রোজ নয়। তার মনে চাইলে তবেই। এরপরও শিশির হঠাৎ করেই কেন তার সাইকেল চালানো বন্ধ করল? বিষয়টা রহস্যের ছিল।
শিশির সেদিন রহস্যের জাল কুয়াশার কাছে খুলল না। ফলস্বরূপ কুয়াশা শিশিরকে ছাড়ল না। তার বিষয়ে নাক গলানো কুয়াশা পছন্দ করেনি। ওটা যদি নীহার, তুহিন কিংবা তুষার হতো কুয়াশা বিনা কথাতে সব মেনে নিত। শিশির বলেই কুয়াশা মানে নি। যে তাকে পছন্দই করে না, তাকে কুয়াশা মানতে যাবে কোন সুখে? শিশিরের সাথে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে কুয়াশা শিশিরের ওপর চড়াও হয়। জিদ চেপে বসে সঠিজ কারণ জানার জন্য। শিশির যখন বলে না, তখন শিশিরের চুলগুলো ছিঁড়ে নেয়ার ব্যাবস্থা করে। শিশির সেদিন কুয়াশাকে শুধু আটকাচ্ছিল, উল্টো আক্রমণ আর করেনি।
সেই দৃশ্য দেখে হিম বড়আম্মু, আম্মুদের ডেকে জানাল— কুয়াশা বুবু শিশির ভাইকে মেরে পাট পাট করে ফেলছে। দ্রুত যেন তারা এসে শিশির ভাইকে বাঁচিয়ে নেয়।
হিমের কথা শুনে একপ্রকার দৌড়ে আসে সব। এসে শিশিরের চুলগুলো ছিঁড়তে দেখে কুয়াশাকে আটকানো হলো। কুয়াশাকে শিশির আক্রমণ না করলেও তর্কের মাধ্যমেই যেসব কথা বলেছিল তাতেই রাগ আসমান ছোঁয়ারই কথা। কুয়াশাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হলে শিশিরকে সত্যিটা জানাতে বলে। আসল কী কারণ সেটা কুয়াশা না জেনে দম ফেলবে না। তার কী এমন ঔদ্ধত্য পেল শিশির, সেটা তো জানতে হবে? কুয়াশা ঔদ্ধত্য শব্দটাকে নিজের সাথে যুক্ত করতে নারাজ ছিল। বলতে গেলে একপ্রকার প্যানিক হয়ে গিয়েছিল শব্দটা তার সঙ্গে জুড়তে দেখে। শিশির তাকে বিনা কারণে অপবাদ দিচ্ছে! কুয়াশার আঁতে আঘাত লাগে।
না পেরে নীহার শিশিরকে প্রশ্ন করলে সত্যিটা তখনই জানা গেল। সেদিন বিকেলে শিশির কুয়াশাকে কোনো একটি ছেলের সাথে পাশাপাশি সাইকেল চালিয়ে টাঙ্কি মারতে মারতে বাড়ি ফিরতে দেখেছিল। ছেলেটিকে শিশির চিনে না৷ ওভাবে রাস্তার মাঝে কোনো ছেলের সাথে হেসে গড়াগড়ি খাবার মানে কী? ভালো ঘরের মেয়েরা ওগুলো করে? শিশিরের মতে করে না৷ এমনকি মালিথা পরিবারের মতেও না। শিশির ব্যাপারটা জানালে, কুয়াশাকে প্রশ্ন করা হয়। এরপর কুয়াশার মুখ থেকেই আসল সত্যিটা জানা যায়৷
ছেলেটা ছিল শেখ রওশন রনি। মেয়র রাজন শেখের ছেলে এবং স্মৃতি শেখের চাচাতো ভাই। ছেলেটা কুয়াশার সমবয়সী এবং জিলা স্কুলের ছাত্র সেটাও কুয়াশা জানায়৷ স্মৃতি তো কুয়াশার ক্লোজ ফ্রেন্ড এবং মেয়র রাজন শেখকেও সবাই চেনে। কুয়াশা জানায়— সেদিন বিকেলে কুয়াশা প্রাইভেট থেকে ফিরছিল। রনিও তাদের সাথেই একই প্রাইভেট টিচারের কাছে যায়। এবং তাদের বন্ধুও। ওইদিন রনি কুয়াশার সাথে বজলুর মোড় অবধি সাইকেল নিয়ে গেছিল, কারণ মোড় সংলগ্নে রনিদের দ্বিতীয় বাড়ি। যেখানে থাকে রনির ছোট মা। ছোট মা বলতে রনির বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। অর্থাৎ মেয়র রাজন শেখের দ্বিতীয় স্ত্রী। রনির বাবা দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছেই বেশি থাকেন৷ আর রনিও বেশ যাওয়া আসা করে।
কুয়াশা এই ব্যাপারটা ওইদিনই জেনেছিল৷ স্মৃতি কখনও এসব বিষয়ে বলেনি। ওইদিনও রনি বাবার তলবেই প্রাইভেট শেষ করে কুয়াশার সঙ্গে যাচ্ছিল। কুয়াশাও মানা করতে পারে না। মানা করলেও অবশ্য রনি শোনে না। রনির সাথে মিশে কুয়াশার যা মনে হয়েছিল তা হলো— রনি খারাপ নয়৷ বন্ধু বানানো যায়।
সবটা কুয়াশা জানালে, বাড়ির বড়দের কথা ছিল, বিশেষ করে জাকির মালিথার কথা ছিল,
“ এখন বড় হচ্ছ, আম্মা৷ অর্থাৎ খারাপ নজর ও ভালো নজর দুটোই চিনতে শিখছ। সেখানে তোমার নিজের দায়িত্ব থাকবে খারাপ নজর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা। তুমি বন্ধু-বান্ধব বানাবে, ঘুরবে, এনজয়ও করবে
— সব দরজা তোমার জন্য খোলা। কিন্তু এমন কোনো কারো সঙ্গ তুমি গ্রহণ কোরো না, যার দ্বারা তোমার ক্ষতি হতে পারে কিংবা সমাজ বলতে বাধ্য হয়— তুমি নেতিবাচক পথে চলাফেরা করো। একটি ভাব সম্প্রসারণ তুমি নিশ্চয় পড়ে থাকবে— সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে।”
ওইদিন কিশোরী কুয়াশা পরিবার থেকে আরো একটি শিক্ষা গ্রহণ করল৷ তা হলো—তার স্বাধীনতা আছে, তাকে শিকল পড়ানো হচ্ছে না। তাকে উড়তে বলা হচ্ছে কিন্তু এমনভাবে, যেভাবে তার কোমল প্রাণটা যেন কোনো বদনজরে না পড়ে। তার দায়িত্ব পরিবারের সম্মান রক্ষা করে চলা এবং নিজেকেও৷ সমাজ যেন তার গায়ে বিনা কারণে কলঙ্ক লেপ্টে না দিতে পারে, বলতে না পারে— যে মেয়েটি নষ্ট। পরিবারের শিক্ষা নেই। তার পরিবার তাকে যা শিক্ষা দেয় তা আর কোনো পরিবার দিতে পারবে না। অর্থাৎ নিজের পরিবারের শিক্ষা তার মাথার ওপর থাকতেও সে কেন নোংরা সমাজের নোংরা কথার পাত্রী হবে?
সেদিনই কুয়াশা সাইকেল ত্যাগ করল৷ এবং রাস্তায় চলাচলের সময় ছেলে বন্ধুর সঙ্গও ত্যাগ করল। যেখানে ছেলে বন্ধু মানানসই, ঠিক সেখানেই রাখা শুরু করল কুয়াশা৷ অর্থাৎ শুধুমাত্র প্রাইভেট ও কোচিং। রনি খারাপ নয়। রনির সাথে মেশা যায়। কুয়াশা রনির সঙ্গ ছাড়েনি।
‘
শিশির সেদিন বিকেলে বাইক নিয়ে ফিরছিল। কুয়াশাকে তার চিনতে ভুল হবার কথা না। পেছন থেকেই কুয়াশাকে চিনে ফেলে। পাশাপাশি চলা ছেলেটাকে তার দেখার প্রয়োজন ছিল। কে সেই ছেলেটি? যার সঙ্গে কুয়াশা হেসে হেসে হেলেদুলে বাড়ি ফিরছে! শিশিরের রাগ তো উঠেছিল। রাস্তার মাঝেই বাইক থামিয়ে কুয়াশার গালে কয়েকটা চড় বসাতে ইচ্ছে করেছিল, সাথে ছেলেটাকেও কয়েক ঘা বসাতে ইচ্ছে করেছিল। রাস্তার ভেতর এতো কীসের পিরিত? পিরিতির গোষ্ঠী সেদিনই মারতে ইচ্ছে হয়েছিল শিশিরের। শুধুমাত্র বেয়াদবি হয়ে যাবে বলেই শিশির চুপচাপ দেখে পাশ দিয়ে বাইক চালিয়ে চলে এসেছিল। সামনে কুয়াশা ও রনিকে ক্রোস করার সময় বাইক চালানো অবস্থাতেই পাশ ফিরে ও সামনে এগিয়ে যাবার পরেও পেছন মুড়ে একনাগাড়ে তাকিয়ে দেখেছিল। বিশেষ করে রনিকে।
কুয়াশা শিশিরকে দেখতে পায় না৷ শিশিরের মাথায় হেলমেট পরা ছিল। বাড়ি ফিরেই কুয়াশার সাইকেল চালানো বন্ধ ঘোষণা করল। কোনোভাবেই কুয়াশা সাইকেল নিয়ে রাস্তায় উঠতে পারবে না আর। মন চাইলে, ওর মনটাকেই যেন কবর দেয়া হয়। যতোই হোক তারও সম্মানের বার্তা। শুধু কুয়াশা হলে বিষয়টা না দেখলেও চলতো।
.
কুয়াশা পড়ছিল, তখন শিশির ওকে লক্ষ্য করছিল রাতের ব্যাপারটা নিয়ে। রাতে প্যানিক অ্যাটাকের পর ঠিক কেমন মন-মেজাজে আছে তা বুঝতে। আগে যেমন দুঃস্বপ্ন দেখলেই কুয়াশার সকাল অবধি তার রেশ ধরে রাখত, ইদানীং তা করতে দেখা যায় না। আজও তেমনটাই লাগছে। কুয়াশা দিব্যি রাতের ব্যাপারটা ভুলে আজকের দিনে মন দিয়েছে।
লম্বা টেবিলের দৈর্ঘ্যের এপাড়-ওপাড় তাদের অবস্থান। শিশিরের সামনে টেবিলের ওপর কফি৷ অর্ধেক কফি ঠাণ্ডা হচ্ছে টেবিলে পড়ে থেকে। শিশির বসে বসে মাথাটা নিচু কিন্তু চোখজোড়া তুলে কুয়াশার ভাব-ভঙ্গিই পরখ করছে। বলতে গেলে নোট করছে৷
হঠাৎই কুয়াশা পড়া থামিয়ে প্রশ্ন করে বসল,
“ কাল বড় উপকার করলে কুয়াশার, কারণ কী? তুমি তো কুয়াশার উপকার করার পাত্র নও?”
শিশির তাকিয়ে থেকেই ভ্রু সংকুচিত করল। ও যে এতক্ষণ কুয়াশার দিকে তাকিয়ে ছিল তা লুকানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই৷ আবার কুয়াশাও বিষয়টা টের পেয়েও প্রয়োজনীয় কোনো কারণও ধরার প্রয়োজন মনে করল না। দুটো এভাবেই একে অপরকে অবহেলায় ফেলে রাখে। একে অপরের সব কিছুকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে। যেমন রাতে শিশির উপকার করল, সেটাকে কুয়াশা উপকার মনে করার প্রয়োজনই মনে করছে না।
শিশির চোখজোড়া নামিয়ে বইয়ের ওপর নজর ফেলে বলল,
“ কোনো কারণ নেই। কারণ দেখিয়ে শিশির মালিথা চলে না।”
“ ফাঁকা কলসি বাজে বেশি।”
দিব্যি অপমান৷ আর শিশিরকে সেটাই করা হলো। কুয়াশা শিশিরকে অপমানই করল। শিশির চট করে নজর তুলল আবার। সামনে বসা কুয়াশার দিকে ধাপ করে জ্বলে ওঠা নজরে তাকিয়েছে। দাঁত ইতোমধ্যে দাঁতের সঙ্গে লেগে গেছে। মেয়েটার মুখ তো নয়, যেন মেশিনগানের বার্স্টফায়ার। মুখ খুললেই ক্রমাগত শিশিরের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এক্ষেত্রে কুয়াশার মুখ হলো মেশিনগান আর কথা হলো গুলি। ট্রিগার অর্থাৎ কুয়াশার মুখ যখন চলা শুরু হয়েছে একের পর এক শিশিরের ওপর ছোড়া হবে।
শিশির ধাপ করে জ্বলে ওঠা রাগ নিয়ে বলল,
“হোয়াট ডু ইউ মিন বাই ফাঁকা কলসি বাজে বেশি?”
“ যা বুঝলে তাই।”
“ তোকে তো তুলে আছাড় মারা একেবারে ফরজ! তোরও এটা বোঝা উচিত৷”
“ মুরদ নাই, সেটা তুমিও জানো আর আমিও।”
কুয়াশা নির্বিকারে বইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল কথাটা।
“ শিশিরের দয়ার এখনও বেঁচে আছিস। নয়তো কবেই খুনটা হয়ে যেতি৷”
কুয়াশা তাচ্ছিল্য করে হাসল৷ নজর তুলে বলল,
“ভেবে বসে থেকো না, কুয়াশা কৃতজ্ঞতা নিয়ে বসে আছে। ওটার অভাব আছে কুয়াশার কাছে। আর সেটাও তোমার জন্য।”
“তোর কৃতজ্ঞতার ওপর শিশির মালিথা প্রস্রাব করবে।”
“ ইয়াক, কী ভাষা!”
“ একদম তোর মতো।”
বলেই শিশির উঠে চলে গেল। কুয়াশার পরবর্তী কোনো কথাই আর শুনল না। কুয়াশা দাঁতে দাঁত চেপে বসে রইল৷ শিশিরের বলা শেষ বাক্য তার মাথার ভেতর বারবার ঘুরান্টি মারছে৷ দাউদাউ করে জ্বলছে ভেতরটা৷ কী বলে গেল খচ্চরটা!
…
সকাল এগারোটা বাজতে পনেরো মিনিট বাকি আছে। অর্থাৎ ঘড়িতে তখন পৌনে এগারোটা বাজে। মেধার ফোন বাজছিল। কোনো অপরিচিত নাম্বার থেকে কল দেয়া হচ্ছে তাকে। মেধা প্রথমবার ধরল না। দ্বিতীয়বার বাজলে ধরল। যেহেতু পুনরায় দিচ্ছে, সেহেতু জরুরি কেউও হতে পারে৷ মেধা ফোন ধরে বলল,
“ হ্যালো, কে বলছেন?”
“ মুসাফির।”
সামান্য একটি শব্দ কানে আসতেই কণ্ঠের মালিককে মেধা চিনে নিল। কণ্ঠের মালিককে তার চিনতে ভুল হবার কথা নয়৷ মেধার ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা৷ বলল,
“মেধার দুয়ারে মুসাফির? ইন্টারেস্টিং!”
“মুসাফিরের গন্তব্য শেষে মঞ্জিল যে মেধার দুয়ার।”
“ ওহ হো! ভারী কবি হয়ে যাচ্ছ যে?”
নীহার হেসে ফেলল এবার। ঠোঁটের কোনের হাসিটা সরল না। বলল,
“ কোথাও শুনেছিলাম, প্রেমিকার জন্য প্রেমিক পুরুষ কবির রূপ ধারণ করে৷ ব্যাপারটা সেরকমই।”
মেধাও হেসে ফেলল। কোলের ওপর থেকে বইটা সরিয়ে সে শুয়ে পড়ল৷ নিজের কক্ষের বারান্দা থেকে হাইওয়েতে নজর রেখে বলল,
“ ইন্টারেস্টিং, মিস্টার। ওপস্, মুসাফির!”
নীহার আবার হাসল। বারান্দায় রেলিঙের ওপর দুই কনুই রেখে বলল,
“ মুসাফির কি তার মঞ্জিলের দর্শন পেতে পারে?”
“ উমম, হ্যাঁ, পেতে পারে।”
“কখন বের হচ্ছ?”
“ বিকেলে হই?”
“ নো প্রবলেম।”
“ ওকে, চারটা বাজে রেনউইকে থাকব।”
“ ডান।”
“ কার নাম্বার এটা?”
“ নতুন নিয়েছি।”
“আমাকে চেক করতে?”
“ মনে করো সেটাই।”
মেধা কিছু মনে করল না। আর না নীহারও ব্যাপারটা লুকাল৷ আসলেই মেধাকে পরীক্ষা করার জন্যই নতুন নাম্বার থেকে কল দিয়েছে। মেধা সেটা বুঝেও ফেলেছে। মেয়েটা বুদ্ধিমতী আছে। ভীষণ স্মার্ট। নীহারের এই কারণেই ভীষণ পছন্দ মেধাকে। আর প্রথম দেখাতেই মেধার বাহ্যিক স্মার্টনেসটা নীহারের নজরে এসেছিল। এরপর ধীরে ধীরে মেধার বাহ্যিক পরিপাটি রূপ ছাড়াও ওর চৌকস ভঙ্গিমা ধরতে পেরেছিল। এক কথায় মেধা হলো তেমন মেয়ে, যেমনটা নীহার পছন্দ করে।
নীহার নির্বিকার রয়েছে। মেধা বলল,
“ চেক করে কী পেলে?”
“ তুমি প্রচণ্ড রকমের চৌকস, মেধা। এবং নীহারের টাইপের। ব্যাপারটাকে তুমি মন খারাপের কারণ ধরলেও, আই ডোন্ট কেয়ার।”
“ তুমি ভুলে যাচ্ছ, তুমি একজন ফিউচার সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে কথা বলছ।”
“ ওপস্! আমি তো একদমই ভুলে গেছিলাম!”
নীহারের ভীষণ ভালো লাগল মেধার কথাগুলো। সে আরো বেশি করে আটকে গেল মেধাতে। মেধা মেয়েটাই তেমন। ওর সৌন্দর্য ও চৌকসতায় নীহার বাজেভাবে ফেঁসেছে।
.
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বিজ্ঞান ভবনের নিচতলার বারান্দায় আড্ডা জমিয়েছে শিশিররা। তাদের ক্লাসফ্রেন্ড ও ক্লোজফ্রেন্ডের আড্ডাতে হাসি-মজা সমান তালে চলছে। সঙ্গ পাচ্ছে বাদাম ও বাদামের খোসাগুলো। শিশিরের গলা ধরে গায়ের সঙ্গে হেলে দাঁড়িয়ে আছে রিজভী। শিশির বারান্দায় রাখা বেঞ্চের ওপর বসে আছে। তার পাশে বসে আছে আরো একটা বন্ধু। সেই বন্ধুর পাশে বসে আছে একটা বান্ধবী। সামনেও দুটো মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
কিছুক্ষণের মাঝে সেখানে উপস্থিত হতে দেখা গেল কলেজের পোশাক পড়ুয়া একটি অসম্ভব সুন্দরী মেয়েকে। মেয়েটি দূর থেকেই শিশিরের ওপর নজর দিয়েই এগোচ্ছিল। তখন শিশিরের গায়ের সঙ্গে হেলে থাকা রিজভী কনুই দিয়ে গুঁতা দিল শিশিরকে। সে বাদামের খোসা খুলছিল মাথা নিচে দিয়ে মনোযোগ রেখে। রিজভীর গুঁতা দেয়াতে মাথা তুলে রিজভীর দিকে তাকালে রিজভী ইশারাই সামনে দেখাল। শিশির সামনে তাকিয়ে দেখতে পেল তাদেরই ব্যাচমেট এবং বন্ধুমহলের বান্ধবী অন্বেষাকে।
মেয়েটি ভীষণ পরিপাটি রূপে নিজেকে উপস্থাপন করে সবসময়। কলেজের নির্দিষ্ট পোশাকটাও তার পরনে স্টাইলের মাধ্যমে শোভা পায়। লম্বাটে ও ছিমছাম গড়নের মেয়ে। পনিটেইল করে বাঁধা চুলগুলো থেকে কিছু ছোট ছোট চুল এলোমেলো ভাবে কপাল ও চোয়াল ছুঁয়ে আছে। ডান-কাঁধে ব্যাগ রেখে হাত দিয়ে ধরে আছে। সেই হাতে একটি কালো বেল্টের সোনালি ডায়ালের ঘড়ি। শিশিরের সামনে এসেই ওর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখে নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলল,
“হোয়াটসআপ গাইজ?”
শিশির অন্বেষাকে আপাদমস্তক একবার দেখে পুনরায় নিজের কাজে মন দিয়েছে৷ যেন অপাত্রে কিছু দান করছিল এতক্ষণ নিজের সময়টা ব্যয় করে। শিশিরের নির্বিকার ভঙ্গিমাটা অন্বেষা খেয়াল করল। রিজভী হেসে বলল,
“ আড্ডা চলছে। তোর বল?”
“এলাম….”
“ ঘুরতে।”
শিশির কয়েকটা বাদামের খোসা একবারে খুলে নিয়ে অন্বেষার কথার জবাবে বলল। মাথাটা আবারও তখন তুলল। শিশিরের বাদাম খাওয়ার একটা ব্যাপার আছে৷ সে একটা একটা করে বাদাম খুলে খায় না। একবারে পাঁচ-সাতটা করে খুলে তবেই মুখে পুরবে। তখনও সাতটা বাদামের খোসা খুলে মুখে পুরল। সুন্দর এক ভঙ্গিমাতে চিবাতে চিবাতে পুনরায় বলল,
“ ঘুরতেই এলি তো?”
অন্বেষা ক্লাস করে না বললেই চলে। আসে সে নিয়মিতই। কিন্তু তাকে পড়াশোনাতে সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। ওর কাজকর্ম শিশিরের পছন্দ না। অথচ সেই শিশিরকেই মেয়েটা পছন্দ করে বসে আছে। শিশির অপমানসূচক কথাটা বলেছে অন্বেষা বুঝেও এড়িয়ে গেল। হেসে বলল,
“ এলাম তো তোদের সাথেই ঘুরতে।”
“ কিন্তু আমরা তো ঘুরছি না। ক্লাস করার জন্য অপেক্ষা করছি।”
রিজভীর দেয়া উত্তরে, অন্বেষা বলল,
“ আমিও অপেক্ষা করছি।”
রিজভী মাথা নাড়ে। শিশির লাফিয়ে বেঞ্চ থেকে নেমে পড়ল। হাতে পরা কালো রঙের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ক্লাসের জন্য সময় কতক্ষণ বাকি আছে৷ দেখে রিজভীকে বলল,
“ কিছুক্ষণ পর পাবি আমাকে।”
শিশির সবার মাঝে থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে অন্বেষা ডাকল,
“ শিশির?”
শিশির পেছন ফিরে ভাবলেশহীন ভঙ্গিমা নিয়ে তাকাল৷ অন্বেষা সবার মাঝে থেকে সরে এলো। সামনে এগিয়ে গেল শিশিরও এগিয়ে গেল৷ কারণ অন্বেষা সবার সামনে কথা বলবে না বলেই বুঝেছে৷ অন্বেষা কিছুক্ষণ শিশিরের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে বলল,
“ এড়িয়ে যাচ্ছিস? আমি সত্যি কাল বুঝিনি ব্যাপারটা। স্যরি, প্লিজ!”
শিশির অন্বেষার অনুনয়ের চোখে একবার তাকিয়ে দেখে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল,
“ ভুল করে ভুল শুধরে নেয়াকে শিশির এড়িয়ে চলে না।”
শিশির আর দাঁড়াল না৷ চলে গেল। অন্বেষা মেয়েটার আচরণ একটু ঔদ্ধত্য ভঙ্গিমার। বিগড়ানো মস্তিষ্ক। তবুও কীভাবে যেন শিশিরদের বন্ধুমহলে ঠাঁই পেয়ে গেছে। অবশ্য শিশির ওকে বন্ধু বলে মানে কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তবুও মেয়েটা তার সঙ্গ ছাড়ে না। শিশিরের মতে ছ্যাঁচড়ার মতো পড়ে থাকে। শিশিরকে পছন্দ করে সেটা শিশিরও বোঝে এবং পুরো বন্ধুমহলও। অথচ মেয়েটার প্রেমিকের অভাব নেই। আজ গেলে কালই পেয়ে যায়। সে আবার শিশিরকে পছন্দ করে কীভাবে? এটাই বন্ধুমহল বোঝে না৷
কাল বন্ধুমহলের আড্ডার পর শিশির যখন বাড়ি ফিরবে তখন অন্বেষাও শিশিরের সঙ্গে যাবার জন্য ওঠে আসে৷ শিশির পার্কিং এড়িয়া থেকে বাইক নিয়ে বাইক স্টার্ট দিলে হঠাৎ অন্বেষা শিশিরের বাইকের পেছনে উঠে বসে পড়ে। শুধু উঠে বসেই ক্ষান্ত হয় না, শিশিরকে পেছন থেকে জড়িয়েও ধরে বসে। বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ এমন কাজে শিশিরের রাগ ওঠে চরম। মেয়েদের গায়ে পড়া স্বভাব তার কোনোভাবেই পছন্দ না। অপছন্দের সাথে মেয়েদের অসম্মান করাটাও অপছন্দ বলেই অন্বেষাকে শিশিরের সহ্য করতে হয়৷ নয়তো এতদিনে তুলোধুনো করে ছাড়ত।
পেছন থেকে জড়িয়ে ধরাতে শুরুতে অন্বেষাকে ঠাণ্ডা মাথায় বলে,
“ ছাড়, অন্বেষা। আর নেমে যা।”
“ আমাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যাস। তোর সঙ্গে যাব আমি।”
“ নাম, অন্বেষা!”
শিশিরের ধমকে বলা কথাতে অন্বেষা ভীষণভাবে কেঁপে ওঠে। উপস্থিত সবাইই এক প্রকার কেঁপে ওঠে। অন্বেষার ভীষণ অপমান বোধ হয় তখন। সবার সামনে অন্বেষা ঝটকা দিয়ে ছাড়িয়েও দিয়েছে। অন্বেষা পড়েই যাচ্ছিল বাইক থেকে৷ চোখে পানি এসে যায়। শিশির তার সাথে এমন আচরণ করে কেন বুঝতে পারেনা৷ তবুও অন্বেষা ব্যাপারগুলো গিলে নেয়। তার ধারণা, হয়তো শিশির বদমেজাজি। সেটাকে সে মেনে নেবার চেষ্টা করে। অথচ তার স্বভাবটাই শিশিরের পছন্দ না, এটাই মেয়েটা বোঝে না।
অন্বেষা নেমে দাঁড়ালে, শিশির চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“ ফারদার, এমন কাজ করবি তো মরবি!”
শিশির অন্বেষাকে গিলে ফেলা চোখে দেখে বাইক নিয়ে বিমানের গতিতে চলে যায়। শিশির চলে যেতেই রিজভী মুখ খোলে। এর আগে একটা কথা বলারও সাহস করেনি। বললেই শিশির আরো বেশি করে অন্বেষাকে অপমান করতো। সাথে তার ওপরও চড়াও হতো৷ যা রিজভী কখনোই চায় না। শিশিরকে সে সবচেয়ে বেশি বোঝে। রিজভী বলল,
“ শিশির এগুলো পছন্দ করে না, অন্বেষা।”
থেমে বলে,
“ তোর বোঝা উচিত এগুলো। দুই বছর ধরে তো ওকে দেখছিস?”
অন্বেষার চোখে পানি তখন। শিশির তাকে কেন এড়িয়ে চলে এটা সে কখনোই বলে না। তার বুঝতে ভীষণ কষ্ট হয়৷
শিশিরের দায় পড়ে না অন্বেষাকে তার আচরণ সম্পর্কে অবগত করতে। পড়বেই বা কেন? শিশির তো অন্য মেয়েদের আচরণ ঠিক করার দায় নিয়ে বসে থাকে না। শিশিরের নিজের, আপন ও পছন্দের বাইরে শিশির সবার প্রতি নির্বিকার।
| চলবে |