ফন্ট সাইজ:
থিম:
Bloody Vampire

৭ম পর্ব

লেখক: ‎Dimple Sakura

#Bloody_Vampire*  

 #Dimple_Sakura*  
পর্ব-৬
৬ জন লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে প্রিন্সিপালের রুমের ভেতর। সাকুরা, রাত, মেঘ, জেনিফা, পাখি, রিহান। সামনে প্রিন্সিপাল। পাশের চেয়ারে আহান। হাতে ফাইল, পকেটে আম। দারোয়ান দরজায় লাঠি নিয়ে পাহারা দিচ্ছে।
প্রিন্সিপাল: _চশমা ঠিক করে, _ "তোমাদের লজ্জা করে না? কলেজের মান-সম্মান ডুবালে! গাছে উঠে আম চুরি! তোমরা স্টুডেন্ট নাকি বাদর? বাবা-মা কি শিক্ষা দেয় নি?"
সাকুরা এক পা এগোলো। "স্যার, ভুল বললেন। আমরা চুরি করি নি। ওটা ছিলো লাইভ ডেমো। পরিবেশ বিজ্ঞান প্র্যাক্টিক্যাল। টপিক: গ্রাভিটি।"
প্রিন্সিপাল: "গ্রাভিটি??"  
সাকুরা: "হ্যাঁ স্যার। আমরা প্রমাণ করছিলাম আম নিচে পড়ে না,, উপরে যায় । নিউটন ভাই বেঁচে থাকলে আমাদের A+ দিতো।"
মেঘ: _ "UN এর নিয়ম নম্বর ৭: সাইন্সের জন্য জীবন দিবো।"  
প্রিন্সিপাল: "চুপ! একদম চুপ! রাত ১২টায় ছেলেদের বাসায় গিয়ে সাইন্স করো, সকাল ১১টায় গাছে উঠে গ্রাভিটি? তোমাদের গার্জিয়ানরে ডাকবো আমি!"
সাকুরা: _কোমরে হাত দিয়ে_ "গার্জিয়ান ডেকে লাভ নেই স্যার। আমি বাদে ওরা অ্যাডাল্ট 18+। ভোট দিতে পারবে বিয়ে করতে পারবে, আমও চুরি করতে পারবে। যা শাস্তি দেওয়ার ওদের দিন। আমাকে ছেড়ে দিন।"
"ওর কথা সুনে সবাই হতবাক।
পুরা রুম পিনপতন। *রাত সাকুরার ওড়না টেনে ধরলো*। "ওই গাধী! চুপ কর! TC দিবে তো!"  
জেনিফা: _কাঁদো কাঁদো_ "আমি আম খাইও নি স্যার। আমার এলার্জি।"  
পাখি: "স্যার, আমি তো শুধু ভিডিও করছিলাম..."  
রিহান: "আমি... আমি তো পানি আনতে
 গিয়েছিলাম।"  
প্রিন্সিপাল: "সব কয়টা এক গোয়ালের গরু! কাউকে ছাড়বো না!
আহান: _হঠাৎ কাশি দিলো। ফাইল বন্ধ করলো_ "স্যার, আসলে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।"
সবাই আহানের দিকে তাকালো। *সাকুরার হার্টবিট মিস*। _মনে মনে: এই বদমাশ আবার কি বলবে?_
আহান: "আমি ওদের আমার গেস্ট লেকচারের জন্য নিয়েছিলাম। বোটানি রিসার্চ প্রজেক্ট। আম গাছের উপর প্যারাসাইট নিয়ে। ওরা আমার ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট। হেল্প করছিলো।"
প্রিন্সিপাল: "কিন্তু রাত ১২টা..."  
আহান: "রাত ১২টায় পোকা বেশি অ্যাক্টিভ থাকে স্যার। সাইন্টিফিক ফ্যাক্ট। গুগল করেন।" _মুখ একদম সিরিয়াস_
মেঘ: _ফিসফিস_ "আহান ভাই দেখি আমার চেয়েও বড় মিথ্যুক! রেসপেক্ট!"  
রাত: "ভাই গুগলেও এই তথ্য নাই। আর আপনি বানিয়ে বলছেন।" বাহ্ ভাই.. 
সাকুরা আহানের দিকে তাকিঁয়ে আছে। 
 _মনে মনে: শালা মিথ্যা বলে বাঁচিয়ে দিলো? কেন? আমি তো হেল্প চাই নি। নাকি... আমার জন্য? ধুর!_ মুখে কিছু বললো না। শুধু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো।
আহান: _ "কি? কিছু বলবে?"  
সাকুরা: _মুখ ঘুরিয়ে নিলো_ "না। কিছু না।"
 _মনে মনে: থ্যাংকস বলবো না। কখনো না।
আহান: _চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে_ । আর একটা কথা স্যার।" ওদের কে বলে দেই?
প্রিন্সিপাল: "কি কথা?"  
আহান: "আমাকে স্যার ডাকবে না।" _পুরো গ্যাং এর দিকে তাকিয়ে_ "তোমরা কেউ না।"
রাত: _ "তাহলে কি ডাকবো? বস? গডফাদার?"  
মেঘ: "UN এর হেড?"  
জেনিফা: "ক্রাশ?" _বলেই জিভ কাটলো_  
সাকুরা জেনিফাকে কনুই দিয়ে গুঁতা দিলো।
আহান: _"না। আমি তোমাদের পুরোপুরি টিচার নই। গেস্ট লেকচারার মাত্র। *পুরোপুরি টিচার না হবার আগে পর্যন্ত স্যার বলবে না।* আপাতত... আহান ভাই ডেকো।"
রাত: _লাফ দিয়ে_ "ওকে আহান ভাই! থ্যাংক ইউ ভাই! আপনি কত ভালো! আপনি আমার বড় ভাই!"  
মেঘ: "আহান ভাই জিন্দাবাদ! UN থেকে আপনাকে নোবেল দেওয়া উচিত! সাথে একটা আম গাছ!"  
জেনিফা: "ভাই, আমটা পকেটে নষ্ট হবে। খেয়ে ফেলুন। নাকি আমার জন্য রেখেছেন?"_  
পাখি: _ "চুপ কর বেয়াদব। ভাইয়ের সামনে কি সব বলিস!"  
রিহান: "থ্যাংকস আহান ভাই। আপনি না থাকলে আজকে TC কনফার্ম ছিলো।"  
সাকুরা শুধু দাঁড়িয়ে আছে*। "আহান ভাই" ডাকতে গিয়ে গলায় কাঁটা বিঁধছে। 
_মনে মনে: ভাই? ওকে ভাই ডাকবো? অসম্ভব! তুমি করে বলি, তাই ঠিক আছে।_
প্রিন্সিপাল: _ "ঠিক আছে আহান, তুমি যখন দায়িত্ব নিচ্ছো... কিন্তু খবরদার! আরেকবার, রাত ১২টায় রিসার্চ করলে, সোজা TC! যাও সব। আর এই নাও।"
 _টিস্যু বক্স এগিয়ে দেয়_ "কাঁদলে মুছো।"
মেঘ: _টিস্যু নিয়ে_ "থ্যাংক ইউ স্যার! এটা দলিল হিসাবে রাখবো। প্রমাণ যে আমরা কেঁদেছি।
৬ জন হুড়মুড় করে বের হলো। করিডোরে এসে মেঘ টিস্যু উড়িয়ে দিলো। "স্বাধীন! আমরা স্বাধীন!"
দারোয়ান: _ "ওই! আবার চিল্লাস? খাড়া!"  
সবাই: "ভাগোওওও!"  
আহান রুমে একা। পকেট থেকে আম বের করলো। হাসছে।
আহান: _এই গ্যাং এর সবগুলোই পাগল,, আর ওটা (সাকুরা) তো পুরো পাগল.. যাইহোক পাত্তা দেওয়া যাবেনা,,, বাচ্চা মানুষ পছন্দ করে ফেলেছে কদিন পরই ভুলে যাবে।
*দুপুর ১২:৫০ - কলেজ গেট*  
সাকুরা ভাবছে আজ তো আহান বাচিয়ে দিয়েছে, নইলে প্রিন্সিপাল বেধে রাখতো।  
ক্লাস শেষ। আকাশটা সেই কখন থেকে মুখ ভার করে ছিলো ।  
সাকুরা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছাতা নেই।  
_মেঘ: সাকু চল আমাদের সাথে। আজকে বৃষ্টিতে ভিজবো।_  
_রাত: হ্যাঁ রে, অনেকদিন ভিজি নি।_  
_সাকুরা: ভালো লাগছে না। বাসায় যাবো।_  
রিহান : একদমই না আজ সবাই ভিজবো।
সাকুরা আর না করতে পারলো না। চলে গেলো ওদের সাথে। 
"রাস্তাটা ফাকাঁ সুধু ওরা ৬ বন্ধু ই আছে। 
"জেনিফা আর রাত ব্যাগ ছোড়াছুড়ি করছে। মেঘ আর সাকুরা রাস্তায় বসে পড়েছে। " রিহান আর পাখি বিডিও বানাচ্ছে।  
"অনেক খন ভেজার পর বাড়ি চলে আসলো।
ভেজা জামা নিয়েই বিছানায় ধপাস।  
মাথাটা ভার। কাল থেকে কানে ফিসফিসানি বাড়ছে।  
মা দুইবার ডাকলো খাওয়ার জন্য।  
সাকুরা বিরক্ত হয়ে বললো, "ঘুমাবো।"  
চোখ বন্ধ করলো। ঘুম আসতে সময় লাগলো না।  
*রাত ১১.৪০ -
ঘুমের মধ্যে সাকুরা ছটফট করছে।  
বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি। জানালায় পানি পড়ার টুপটাপ শব্দ।  
হঠাৎ...  
_ফিসফিস_ _"Sakura... My Bloody Moon..."_  
গলাটা একদম কানের পাশে। ভারী, ঠান্ডা, পাগলের মতো কিছুর মিশ্রণ।  
সাকুরা ধড়মড় করে উঠে বসলো। অন্ধকার ঘর। শুধু বাইরের ল্যাম্পপোস্টের আলো পর্দা ভেদ করে আসছে। কেউ নাই।  
_সাকুরা: কে... কে কথা বললো?_ সাকুরার গলা শুকিয়ে কাঠ। হাত-পা ঠান্ডা।  
_ফিসফিস_ _"তুমি পালাতে পারবে না, Sakura. তুমি আমার। My Bloody Moon... সময় হয়ে গেছে।"_  
এবার গলাটা আরও স্পষ্ট, আরও গভীর। যেন ঘরের ভিতরেই দাঁড়িয়ে আছে কেউ।  
সাকুরা বিছানা ছেড়ে নামলো। টেবিলের উপর রাখা পানির গ্লাসটা হঠাৎ টুং করে কেঁপে উঠলো।  
_মনে মনে: ভুল দেখছি? নাকি সত্যি কেউ আছে?_  
আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।  
অন্ধকারে নিজের চেহারা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না।  
কিন্তু এক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো... চোখের মণি লাল হয়ে গেলো?  
_সাকুরা: ছিঃ সাকু, তুই পাগল হয়ে গেলি।_ নিজেকে ধমক দিয়ে বালিশে মুখ গুঁজলো।  
তখনই জানালার কাচে টোকা পড়লো। টক... টক... টক...  
সাকুরা ধীরে ধীরে মাথা ঘোরালো। পর্দার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকালো। কেউ নেই। শুধু অন্ধকার আর বৃষ্টি।  
আর সেই অন্ধকারের ভিতর থেকে একটা হাসি ভেসে এলো। হালকা, নিচু গলায়।  
যেন শিকার ধরা পড়েছে।  
_মনে মনে: My Bloody Moon মানে কি রে শালা? কে তুই?_ সাহস কত আমাকে বলিস চাঁদ?? তোর চাঁদে লা*থি দিবো সামনে আয়,,
বাইরে বৃষ্টি আরও জোরে নামলো,,বালিশে মাথা রাখতেই মনে হলো ভেজা কিছু বালিশে লেগে আছে.. হুট করে দেখলো রক্ত!!! সাকুরা বালিশ আঁকড়ে ধরে চোখ বন্ধ করলো।  
_সাকুরা: স্বপ্ন... এটা শুধু স্বপ্ন..._এসব আমার ভ্রম এসব বাস্তব হতে পারে না..নাহ..  
কিন্তু মনের ভিতর কাঁটা হয়ে বিঁধে রইলো একটা কথা। "যেনঁ মনে হলো" আজ রাতের পর থেকে কিছু আর আগের মতো থাকবে না।  
সাকু ভাবনার মাঝে গলায় হাত দিলো। হুট করে দেখলো লকেট নেই...  
কোথায় গেলো?? আমার লকেট কোথায়...বুকটা ধরফর করে উঠলো..সাথে সাথেই বিছানায় পাগলের মতো খুজতে লাগলো,,,, নেই কোথাও নেই,, 
ওমনি মনে পড়লো, সেদিন আহান কে প্রপোজ করার পর রাগের মাথায় লকেটটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ছিলো।  
আর রাত লকেটটা উঠিয়ে নিজের কাছে রেখে ছিলো। ওর কাছ থেকে আর নেওয়া হয়নি।  
সাকুরা ভাবলো দাদু বারবার বলতো লকেটটা খুলবি না। সে কেন খুললো... হয়তো খুলেছে বলেই এসব স্বপ্ন দেখছে,,এটা ভাবতে ভাবতে রাতকে কল দিতে যাবে, ঠিক তখন পেছন থেকে....  
#কপি_করা_নিষিদ্ধ 
#চলবে...
(কেমন হয়েছে জানাবেন+ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন