#Bloody_Vampire
#Dimple_Sakura
পর্ব- ১৬( প্রথম অংশ)
সাকুরা একবার ওদের সবার মুখের দিকে তাকালো। তারপর সবটা বলল। ওরা তিনজন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর জেনিফা এসে জড়িয় ধরলো, "আর একা বের হবি না।"সাকুরা মাথা নাড়লো। "ঘুমাবো" বলে রুমে চলে গেলো।
"দরজা লাগানোর সাথে ফোন বেজে উঠলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো রিহানের নাম।সাকুরা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রিহানের গলা।
রিহান: "বাহ্ তুই জাপান চলে গেলি আমাকে একবার বললিও না এতো পর হয়ে গেছি আমি??
সাকু আমি জানি তুই হার্টলেস তোর ভেতরে তেমন কোনো অনুভুতিই নেই আমার জন্য । কিন্তু... আমি তো আর পারছি না রে।"সাকুরা কিছু বলার আগেই রিহান হুট করে বলে উঠলো, "সাকু আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারছি না।"
সাকু চমকে উঠলো। ফোনটা হাত থেকে পড়ে যাবে যাবে। কাঁপা গলায় বলল, "এটা কেমন কথা রিহান? কি বলতে চাচ্ছিস তুই?"
রিহানের গলা ধরে আসলো। রিহান: "আমি আর সব লুকোতে পারবো না সাকু। আমি না তোকে খুব ভালোবাসি। আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না। কেন তুই দূরে সরে গেলি? একটা বার আমার সাথে দেখা করতি। শুধু একটা বার..."
সাকুরা চোখ বন্ধ করলো। শক্ত গলায় বলল, "এসব কি বলছিস তুই রিহান? তুই শুধুমাত্র আমার বন্ধু। এর থেকে বেশি কিচ্ছু না।"
ফোনের ওপাশে রিহানের ভারী নিঃশ্বাস শোনা যাচ্ছে। তারপর গলাটা ভেঙে আসলো।সাকু চমকে উঠলো। ফোনটা কানে শক্ত করে চেপে ধরলো।
একটু থেমে রিহান ফিসফিস করে বলল: "আমি আর মিথ্যা বলতে পারবো না। আমি তোকে ভালোবাসি সাকু। তোর হাসির জন্য আমি কত শত রাত নিজের ঘুম হারাম করেছি। তোর দূরে সরে যাওয়া আমি সহ্য করতে পারছি না। একবার... শুধু একবার আমার সাথে দেখা করতি।"
সাকু: "এসব কি বলছিস তুই রিহান? তুই শুধুমাত্র আমার বন্ধু। এর থেকে বেশি কিচ্ছু না। বন্ধুত্বের সীমা পার করিস না আর শুনে রাখ আমার জীবনে কখনো ভালোবাসার অস্তিত্ব পাবি না আর বলি কদিন আগে ওই আহানের বিষয় টা..
"ওটা আমার মনের ভুল ছিল এর থেকে বেশি কিচ্ছু না কথা টা বলেই সাকুরা কল টা কেটে দিলো রিহানের নাম্বার টা ব্লক করে ফেললো আর যাইহোক রিহানের কাছ থেকে এটা আশা করেনি সাকুরা ভেবে নিয়েছে ওর সাথে কখনো কথা বলবেনা।
" সাকুরার ঘুম পাচ্ছে না দাদুর বলা কথা গুলো বারবার মনে পরছে...
সাকুরা : নিশী কোথায়?? ফুপি চাচ্চু আর চাচি ওরা কোথায় চলে গেলো আমাদের ফেলে?? ওরাও কি মারা গেছে... না না ওরা বেঁচে আছে আমি ঠিক একদিন ওদের খুজে বের করবো... কথা গুলো বলতে বলতেই ঘুমিয়ে পড়লো।
"সাকুরা ঘুম থেকে উঠলো চোখ মুখ ফুলিয়ে। রাত, জেনিফা, মেঘ - সবাই রেডি। কলেজ যাবে।
ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হয়েই ৪ জন দৌড়। " তুষারপাত হচ্ছে চারিদিকে। সবার পড়নেই শীতের পোশাক পরিহিত।
কলেজ গেটে ঢুকেই ওরা ৪ জন হা করে তাকিয়ে রইলো। বিশাল ক্যাম্পাস।ক্লাস কোনটা কোন দিকে বুঝতে পারছে না।সাকুরা ম্যাপ হাতে নিয়ে বলল, "বাল, এটা কলেজ নাকি ল্যাবিরিন্থ?"
মেঘ: "রুম 302 খুঁজতে খুঁজতে আমরা পাগল হবো।
"অবশেষে ক্লাসরুম খুঁজে পেলো। টিচার ঢোকার আগে 10 মিনিট ফ্রি। সাকুরা বেঘোরে ঘুমোচ্ছে । মেঘ পাশের ছেলের পেন্সিল দেখছে। রাত বই দিয়ে মুখ ঢেকে ঘুমিয় পড়ছে। জেনিফা জানালা দিয়ে বাইরে তুষারপাত দেখছে।
" অবশেষে টিচার এসে ক্লাস করালো। নরমাল ক্লাস। নোট নিলো, কোনো ঝামেলা নেই।যতটা নার্ভাস লাগছিল আসলে ততোটাও কঠিন কিছু নয়।আজ তাদের প্রথম ক্লাস অনুভূতি টাই অন্য রকম। " আজ সাকুরা খুবই খুশি ।
সাকুরা: "আজকে লাঞ্চে রামেন খাবো। কে খাওয়াবি?"
মেঘ: "তোর ক্রাশ খাওয়াবে।"
জেনিফা: "চুপ কর তোরা।"
রাত: "ওই 402 নাম্বার রুমের সামনে দিয়ে চল শর্টকাট আছে। ওই দিক দিয়ে যাই চল।" সবাই হাটতে লাগলো হাঁটছে আর কলেজ টা ঘুরে ঘুরে দেখছে।
"কিন্তু ৪০২ রুম এর সামনে আসতেই সাকুরা থমকে গেলো। একটা চেনা পারফিউমের গন্ধ "Vampire Blood। বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলো। " চোখে মুখে ভয়ের ছাপ দেখা গেলো।
সাকুরা ধীরে ধীরে দরজার গ্লাসের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলো। চোখ পড়তেই....... সাকুরার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো...
"ভেতরে হেভেন। ব্ল্যাকবোর্ড এ কিছু একটা লিখছে। সাদা শার্ট পরা হাতা ফোল্ড করা শার্টের ওপর থেকেও যেনো তার সুঠাম দেহ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে । চুল গুলো এলো মেলো । ঠিক আগের মতো। ঠিক ওই চোখ ধূসর বেগুনী।
সাকুরা : নাহ্ না এটা অসম্ভব। হেভেন দেখার আগেই সাকুরা 1 সেকেন্ডও দেরি করলো না। "দৌড়" বলে চিৎকার দিয়ে ছুটে গেলো।"হেভেন শুনলো কিনা কে জানে।
রাত, জেনিফা, মেঘ কিছু বোঝার আগেই সাকুর পেছন পেছন দৌড়।
মেঘ দৌড়াতে দৌড়াতে বলল, "কি হয়েছে বা*ল? ভূত দেখেছিস?"
জেনিফা: " পাগল হয়ে গেছে ও শালি যখন তখন দৌড়ায়..."সাকু দাড়া"
রাত: "দৌড়া বা*ল, পরে শুনবো!"
পেছন থেকে জেনিফার গলা ভেসে আসলো, : "সাকুরা..."সাকুরা শুনলো না। "বাহিরে তুষারপাত হচ্ছে " তবুও থামলো না এক দোড়ে গেটের সামনে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লো। ৩ জন দৌড়ে সাকুরার কাছে আসলো।
মেঘ : কিরে বা*ল যখন তখন কিছু বলে না বলেই দৌড়াস কেনো?? মাথায় কি ভূত চড়ে বসে। কি এমন দেখলি যে দৌড় দিতে হলো।
সাকুরা : আ..আসলে আ...আ...আমি ওইযে আসলে আমি না ভালো লাগছেনা তাই "কথা গুলো গুছিয়ে বলতে পারছে না সাকুরা।"
"মেঘ কিছু না বলে সাকুরাকে গেটের সামনে থেকে উঠিয়ে গাড়ির দিকে হাঁটা ধরলো।
**রাত 12টা **সাকুরা রুম**
ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট একদম নীরব। রাত, জেনিফা, মেঘ ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু সাকুরা চোখ বন্ধ করতেই পারছে না। বিছানায় ছটফট করছে। চোখ বন্ধ করলেই হেভেনের ধূসর বেগুনী চোখ টা ভেসে আসছে।
সাকুরা : ও আমাকে দেখে নি তো?? না ও আমাকে দেখেনি কিচ্ছু হবে সা সাকুরা কুল বেবি কুল এতো চিন্তা করা যাবেনা।
" কথা শেষে উঠে পড়লো। পা টিপে টিপে বেলকনির দিকে গিয়ে গ্লাসের দরজাটা খুলে দিলো।ঠান্ডা বাতাস। বাইরে তুষারপাত হচ্ছে এখনো। মাইনাস ডিগ্রি। নিঃশ্বাস ফেললেই বরফ হয়ে যাচ্ছে।
সাকুরা গায়ের মোটা জ্যাকেটটা খুলে ফেললো। শুধু একটা সাদা টি-শার্ট। কাঁপছে ও। ঠোঁট দুটো নীল হয়ে যাচ্ছে। তবুও দাঁড়িয় রইলো বেলকনির সামনে।
" সাকুরা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে "কেনো আসলে হেভেন? আমি তো চলেই গিয়েছিলাম। সব ভুলে যেতে চেয়েছিলাম।
***চলবে**