#Bloody_Vampire
#Dimple_Sakura
পর্ব - ১৬ (শেষ অংশ)
সাকুরা জাপানে এসেছে ৫ দিন হয়ে গেছে। এই ৫ দিনে ওরা ডুপ্লেক্স এর বাইরে এক পাও রাখে নি। মেঘ জেনিফা বারবার বলেছে, "চল শিনজুকু শহর টা ঘুরে আসি, ডোনাট খাই"। সাকুরা প্রতিবার না করে দিয়েছে। "ভালো লাগছে না" বলে রুমেই বসে থেকেছে।
কিন্তু আজকে সাকুরার মনে হলো, এভাবে থাকা যাবে না।
রাত ১টা। ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টের সব লাইট অফ। মেঘ জেনিফা রাত ৩ জনই ঘুমিয়ে গেছে। শুধু সাকুরার চোখে ঘুম নেই।সাকুরা আস্তে করে জ্যাকেট গায়ে দিলো। তারপর দরজা খুলে বের হয়ে গেলো।
শীতের রাত। টাওয়ার থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামতেই ঠান্ডা বাতাস মুখে লাগলো। রাস্তার দুই পাশে উঁচু উঁচু বিল্ডিং। বিল্ডিং এর গায়ে নিয়ন লাইট জ্বলছে। লাল, নীল, সাদা। সাইনবোর্ডে জাপানি লেখা। তবে সাকুরা কিছু বুঝছে না।
রাস্তা একদম ফাঁকা। মাঝে মাঝে ২-১টা ট্যাক্সি সাঁ করে চলে যাচ্ছে। ফুটপাত ধুয়ে মুছে পরিষ্কার। একটা ভেন্ডিং মেশিন টিমটিম করে আলো দিচ্ছে। ঠান্ডায় ওর নাক লাল হয়ে গেছে। নিঃশ্বাস ফেললেই ধোঁয়া বের হচ্ছে।ও জানে না কোথায় যাচ্ছে। শুধু হাঁটছে
"ফাঁকা রাস্তাটা একদম নিস্তব্ধ। শুধু বাতাসের শো শো শব্দ। হঠাৎ দূর থেকে পায়ের শব্দ। কেউ দৌড়ে আসছে। পেছনে তাকাতেই দেখলো..
একটা মেয়ে। পরনে জিন্স আর হুডি। চুলগুলা এলোমেলো। মনে হচ্ছে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। মুখটা ফ্যাকাশে। মেয়েটা সাকুরার সামনে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লো। সাকুরার জ্যাকেট খামচে ধরে "হেল্প মি প্লিজ... ওরা আমাকে মেরে ফেলবে"।
সাকুরা চমকে উঠলো। মেয়েটার চুল হালকা নীলাভ গায়ের রং ফর্সা দেখতে একদম বিদেশিদের মতো। কিন্তু মুখ দিয়ে বাংলায় কথা বের হচ্ছে। একদম পরিষ্কার বাংলা।সাকুরা কিছু বলার আগেই ওর কান এলো। পিছন থেকে জুতার শব্দ।
"সাকুরা ঘুরে তাকালো। রাস্তার বাঁক ঘুরে ৫ জন ছেলে ছুটে আসছে।ছেলেগুলা মেয়েটাকে দেখেই চিৎকার করে উঠলো।মেয়েটা সাকুরার পেছনে লুকালো। কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আপু... আমাকে বাঁচান"।
ছেলেগুলো দৌড়ে সামনে এসে দাঁড়ালো। সবার চোখে রাগ। সামনের ছেলেটা রড উঁচিয়ে বলল,
"গিভ দ্যিস গার্ল ওভার টু মি মেইবি ইউ কাম ফ্রম এ্যা লো-উ ক্লাস ফ্যামলি ইউ থিংক ইউ হ্যাভ সেইভ হার??
সাকুরা : ডোন্ট ইউ ডেয়ার দ্যা ফ্যামলি'স নেইম এ্যন্ড দেয়ার'স নো কুইশ্চেন অফ হ্যান্ডিং হার এ্যান্ড ওভার টু মি.."
কথা টা শুনে পেছন থেকে একটা ছেলে এসে সাকুরাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো, সাকুরা হালকা পিছিয়ে গেলো -
সাকুরা কিছু না বলে মাটি থেকে উঠলো। হাতটা আস্তে করে জ্যাকেটের পকেটে ঢুকালো।পকেট থেকে কালো একটা ছোট বন্দুক বের করলো। কেউ কিছু বোঝার আগেই সোজা স্যুট করে দিলো ছেলেটার পায়ে পাশে।
ঠাস! করে একটা শব্দ হলো। পাশের মেয়ে টা হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো।
গুলিটা সামনের ছেলেটার পায়ের পাশের টাইলসে লেগে আগুনের ফুলকি ছুটলো।
বাকি ৪ জন ভয় পেয়ে ২ পা পিছিয়ে গেলো।
সাকুরা : আই হ্যাভ নেভার ফায়ারড এ গান বিফোর বাট আই নেভার মিছ মাই টার্গেট ইউ ওয়ান্ট টু লিভ? ইউ হ্যাভ গট ফাইভ সেকেন্ড টু রান..
ছেলে গুলো উল্টো দিকে দৌড় দিলো। কেউ আর সাহস পেলো না ঘুরে তাকানোর।সাকুরা এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না। মাটি থেকে মেয়েটার হাত টান দিয়ে ধরলো। ফিসফিস করে বলল, "চলো" সাকুরা মেয়েটাকে নিয়ে এপাশে ফেরে হাঁটা ধরলো।
"সাকুরা রাস্তা দিয়ে হাঁটছে আর মাঝে মাঝে মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে আর অবাক হচ্ছে মেয়েটা বাংলা জানে অথচ দেখতে প্রায় জাপানিজ দের মতো। শীতের বাতাসে মেয়েটার নিঃশ্বাস যেনো আটকে যাচ্ছে।
সাকুরা আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো, "ওরা তোমার পেছনে কেনো পড়েছিলো?"
মেয়েটা চোখ মুছলো। গলাটা কাঁপছে। বলল, "ওই ছেলেটা... আমাকে বাজে প্রস্তাব দিয়ে ছিলো। ওর সাথে ফিজিক্যালি সম্পর্কে জড়াতে বলেছিলো। অনেক টাকা ও অফার করছিলো। আমি রাজি হই নি। আজ একা পেয়ে পিছু নিয়েছে। বলেছে আমাকে ছাড়বে না।"
তোমার নাম টা তো বলো? বয়স কতো?"সাথে সাথে মেয়ে টা উত্তর দিলো "নূহা" আর বয়স ২৩ চলছে.. "নামটা শুনে সাকুরার শরীর টা হালকা কেঁপে উঠল "তবে প্রতিক্রিয়া দেখালো না ভাবলো " ধুর কি সব ভাবছি যে ১৬ বছর আগে মরে গেছে তাকে ভেবে কষ্ট পেলে হবে না "
"মেয়েটা ফিসফিস করে ওর বাসার ঠিকানা বলল। টোকিওর একটা শান্ত গলির ভেতর ছোট ২ তলা বাড়ি।১০ মিনিট হাঁটার পর ওরা বাড়ির সামনে দাঁড়ালো। গেটের সামনে ছোট একটা ফুলের টব। দরজা হালকা খোলা। ভিতর থেকে লাইটের আলো আসছে।
মেয়েটা দৌড়ে ভিতরে ঢুকলো। বাবা বলে চিৎকার করে উঠলো :
সাথে সাথে ৩-৪ জন মানুষ ছুটে আসলো। মনে হচ্ছে মেয়ের বাবা, মা, বড় ভাই আরো ২ জন আত্মীয়। "মেয়ে টা সব ঘটনা খুলে বললো"
মেয়ের বাবা সাকুরার দিকে তাকালো। চোখ ভেজা। সামনে এসে মাথা নিচু করে বলল, "মা, তুমি আমার মেয়েটাকে বাঁচিয়েছো। তুমি না থাকলে...... ভেতরে এসো মা।
মা বলল, "হ্যাঁ মা, বাহিরে অনেক ঠান্ডা। ঘরে আসো।
ছেলে টা বলল, "আপু প্লিজ ভেতরে আসেন। আমরা একটু ধন্যবাদ জানাই।"আজ রাত না হয় থেকে যান প্লিজ।
সাকুরা দরজার সামনেই দাঁড়িয় রইলো। সবার দিকে একবার অদ্ভুদ ভাবে তাকালো। তারপর মাথা নাড়লো। আস্তে করে বলল, "না।"
সবার চোখে অবাক। মেয়েটা সাকুরার হাত ধরলো, " প্লিজ..."বড় বোনের কথা টা রাখো।
সাকুরা মেয়ের মাথায় হাত রাখলো। হালকা হাসলো। বলল, " আমি যাই।"
সবাই অনেক জোরাজুরি করলো। কিন্তু সাকুরা পিছন ঘুরে অন্ধকার গলি দিয়ে হাঁটা ধরলো।
সাকুরা একবারও পেছন ফিরে তাকালো না।কিন্তু লোক গুলো অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো এক নজরে সুধু সাকুরা কে দেখছিলো।
সাকুরা হাঁটছে। রাস্তা ফাঁকা। পকেট থেকে ফোন বের করলো। স্ক্রিন জ্বলতেই ভেসে উঠলো ২০টা মিসড কল। সব রাত, জেনিফা আর মেঘের।
সাকুরা দ্রুত পা চালালো। ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খুলতেই লিভিং রুমের লাইট জ্বলে উঠলো। তিনজনই দাঁড়িয়ে আছে। চোখে ঘুম নেই, চোখে মুখে টেনশন।
মেঘ দৌড়ে আসলো, "কোথায় ছিলি তুই? ফোন ধরিস নি কেন?"জেনিফা কাঁপা গলায়, "আমরা ভয় পেয়ে গেছিলাম সাকু।"রাত জিজ্ঞেস করলো, " সত্যি বল।"
সাকুরা একবার ওদের সবার মুখের দিকে তাকালো। তারপর সবটা বলল। ওরা তিনজন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর জেনিফা এসে জড়িয়ে ধরলো।
*চলবে