#Bloody_Vampire
#Dimple_Sakura
#পর্ব - ১৭
"কেনো আসলে হেভেন? আমি তো চলেই গিয়েছিলাম। সব ভুলে যেতে চেয়েছিলাম। তুমি কেনো আমার পিছু ছাড়ো না?"
ঠিক তখনই মনে হলো কেউ গুনগুন করে গান গাইছে... খানকিটা নেশা জড়ালো কন্ঠে গেয়ে যাচ্ছে__
~তিলে তিলে হলো কি যে গেলো ভিজে মন
~আগে তো এ শ্রাবনের ছিল না কারন ~ তোর সাথে দেখা হলে কোনো নিরা-লায়... ব্যাস আর কিছু শুনতে পেলো না।
"হঠাৎ পেছন থেকে নিঃশ্বাসের শব্দ। শক্ত হাত। আর একটা গরম, ভারী কাপড় - মনে হলো উলের কোট। কেউ পেছন থেকে সাকুরার কাঁধে জড়িয়ে দিলো।সাকুরা চমকে ঘুরে তাকালো।তাকাতেই...
ধূসর বেগুনী চোখ। চুলে হালকা বরফ লেগে আছে। সাদা শার্টের উপর কালো কোট। ঠোঁটের কোণে ক্লান্ত হাসি।হেভেন কোটটা ওর গায়ে ভালো করে জড়িয়ে দিতে দিতে শান্ত গলায় বলল, " এতো ঠান্ডায় কেউ এভাবে বাহিরে আসে? সেটাও আবার এতো পাতলা পোশাকে।
সাকুরা কাঁপা গলায়, "তুমি... তুমি এখানে কি করছো?"
হেভেন এক পা এগিয়ে আসলো। দূরত্ব আরো ঘুচে গেলো।
হেভেন: "ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তো।"
সাকুরা পিছিয়ে যেতে চাইলো। হেভেন ওর কব্জি ধরে ফেললো। হাতটা বরফের মতো ঠান্ডা, কিন্তু স্পর্শটা সাকুরার কাছে আগুনের মতো মনে হলো।
হেভেন ফিসফিস করে বলল, "এখন থেকে সারাজীবন তোমাকে দৌড়াতে হবে। আমার থেকে... তবে আমার দিকেই।"সাকুরা চোখ বন্ধ করে ফেললো।
হেভেনের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো সাকুরা। শরীর কাঁপছে ঠান্ডায়, হেভেন আরো শক্ত করে সাকুরাকে জরিয়ে ধরলো "তারপর চোখের পলকে তড়িৎ গতিতে ৩০ তলা বিল্ডিং এর ছাঁদে চলে গেলো। ১ মিনিট ও লাগলো না।
"সাকুরা অবাক হয়ে গেলো কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না "গলার চেইনটা বের করলো।
সাকুরা চিৎকার করে উঠলো, "এই লকেটটা চাও তো? এটার জন্যই এতো কিছু? এটার মধ্যেই তোমার সব শক্তি, তাই না?""এটার জন্যই আমার পরিবার শেষ হয়ে গেছে। শেষ করেছো তুমি? বলো হেভেন, তুমিই শেষ করেছো?"
লকেটটা হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে হেভেনের দিকে ছুঁড়ে দিলো। "নিয়ে নাও! এখনি নাও! আমার কিছু লাগবে না। শুধু আমার পরিবারটা ফেরত দাও!"হেভেন এক হাতে সাকুর কব্জি ধরে রেখেছে, আরেক হাত বাড়িয়ে লকেটটা ধরে ফেললো।
ধূসর বেগুনী চোখ দুটো সাকুরার চোখে রাখলো। এক সেকেন্ড। দুই সেকেন্ড।হেভেন আস্তে করে মাথা নাড়লো।
"যদি বলি... লকেট নয়। তোমাকে চাই?" বিশ্বাস করবে তো সাকুরা?"সাকুরা থমকে গেলো। নিঃশ্বাস যেনো যাবার উপক্রম।
হেভেন লকেটটা মুঠোয় চেপে ধরলো। তারপর সাকুরা বুকের উপর, যেখানে লকেটটা ছিল , সেখানে আস্তে করে ছুঁয়ে দিলো।
"আমি তোমাদের পরিবারের কাউকে মারিনি সাকুরা। আমি শুধু... তোমাকে হারাতে পারিনি। তাই আজও তোমার পিছু ছাড়িনি।"
সাকুরা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায় রইলো। ছাদের বাতাসে ওর চুল উড়ছে। নিচে টোকিও শহরটা আলো দিচ্ছে ঝাপসা।হেভেন লকেটটা আবার সাকুর গলায় পরিয় দিলো। "এটা তোমার। আমি চাই না।
হেভেন: "তোমাকে তো পাঁচ বছর আগেই শেষ করে ফেলতাম সাকুরা।" সাকুরা মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
হেভেন: "অর্ডার ছিলো সোজা " তোমাকে মারতেই হবে "বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। সেদিন রাতটাও এমন ছিলো।
ও একটু থামলো। ছাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়ালো। নিচে তাঁকিয়ে আবার সাকুরার দিকে ফিরলো।
হেভেন: "বিছানার এক কোণে তুমি ঘুমিয়ে ছিলে। কি মায়াবী সেই চেহারা.. আজও মনে পড়ে সেই দিন টার কথা। চাঁদের আলো এসে পড়েছে তোমার মুখে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে।
হেভেন আবার এগিয়ে এলো। এবার খুব কাছে। ওর কোটের ঠান্ডা ঘ্রাণ সাকুরার নাকে লাগছে।
হেভেন ফিসফিস করে বলল: "আমি খুনি সাকুরা। মৃত্যু আমার নেশা।" আজ পর্যন্ত যে আমার নজরে পড়েছে সে পাড় পায়নি তার অস্তিত্ব আমি দুনিয়ার বুক থেকে মুছে দিয়েছি। এই....এই হাতে শেষ হয়েছে অসংখ্য প্রাণ নির্বিচারে নির্লিপ্তে শেষ করেছি সবাইকে।
"কিন্তু তোমাকে দেখে আমার হাত-টা ভারী হয়ে গিয়েছিলো। তিন সেকেন্ড... শুধু তিন সেকেন্ড তাকিয়ে ছিলাম। তোমার ঘুমন্ত মুখটার দিকে... । মনে হচ্ছিলো পৃথিবীর সব আলো এসে তোমার গালে জমা হয়েছে।"
"সেই মুহূর্তে বুঝেছিলাম...তোমার হাসিতে আমার মৃত্যু অনিবার্য । শেষ করতে এসে শেষ হয়েছিলাম। "তোমার ওই রাগী চোখ, জেদি ঠোঁট, আর ভয় পেলেও পালিয়ে না যাওয়া... সব কিছু আমাকে পাগল করে দিয়েছে। "পাঁচ বছর ধরে আমি ছায়ার মতো তোমার পিছনে পড়ে আছি " তুমি হাসলে আমার বুকের ভেতর রক্ত ছলকে উঠে তুমি কাঁদলে আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যায়। "তখন থেকে তোমার গায়ে একটা আছড় ও লাগতে দিইনি আমি। " যানো? কত শত বিপদের মুখ থেকে তোমাকে আমি বাচিয়েছি এই পাঁচ টা বছরে....সেটা তুমি কল্পনা ও করতো পারবেনা।
সাকুরা হঠাৎ হেসে উঠলো। তাচ্ছিল্যের, তিক্ত হাসি।
সাকুরা: "চমৎকার গল্প। নোবেল দিবো তোমাকে হেভেন।
সাকুরা: "তুমি মারোনি কারণ তুমি পারোনি। আমার কাছে আসা অতটা সহজ ছিলনা। আর এখন ভালোবাসার কবিতা শোনাচ্ছে?
"তোমার চোখে আমি ভালোবাসা দেখি না হেভেন। আমি দেখি একটা শিকারি। যে শিকার ধরতে পারেনি, তাই এখন মায়া দেখাচ্ছে।" "যে কিনা নিয়মিত এসেছে আমার মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে সে কিনা আমাকে ভালোবেসে ফেলেছে?
হেভেন কিছু বলতে চাইলো।
সাকুরা হাত তুলে ওকে থামিয়ে দিলো।
সাকুরা: "আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না। এক সেকেন্ডের জন্যও না। আর করবোও না " তুমি আমার কাছে শুধুই একটা দুঃস্বপ্ন।"
কথা শেষ করেই সাকুরা পেছন ঘুরলো। দরজাটা সশব্দে খুলে নিচে নেমে এলো ।
হেভেন দাঁড়িয়ে রইলো। তুষার এসে ওর কাঁধ ভিজিয়ে দিচ্ছে। ও সুধু চিৎকার করে বলল,—
হেভেন: "বিশ্বাস না করো সাকুরা... কিন্তু ৫ বছর আগে যেটা পারিনি, আজও পারবো না। তোমাকে ছেড়ে দিতে পারবো না আমি ।"হেভেন পেছন থেকে ডাকলো। গলাটা আগের মতো শান্ত না, একটু কেঁপে গেলো।
হেভেন: "সাকুরা!"
সাকুরা শুনলো না। সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ওর খালি পায়ের শব্দ প্রতিটা ধাপে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
হেভেন ছাদের কিনারা থেকে ঝুঁকে বলল, "তুমি বিশ্বাস করো না? তাহলে আমি এই কদিন তোমার পিছু নেবো না। তখন দেখবে... কত বিপদ আসে।"
সাকুরা: "আসুক। তুমি না থাকলেও আমি বাঁচতে জানি হেভেন।
**চলবে**
**কপি_করা_নিষিদ্ধ**
(ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন)