ফন্ট সাইজ:
থিম:
Bloody Vampire

৩০তম পর্ব

লেখক: ‎Dimple Sakura

#Bloody_Vampire 

#Dimple_Sakura
#পর্ব-২৫
_নিজের রুমের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সাকুরা। সারারাত ঠিকমতো ঘুম হয়নি তার। বুকের ভেতরটা কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মানুষগুলো চলে যাওয়ার পর থেকে যেন নিজের পৃথিবীর অর্ধেকটাই হারিয়ে ফেলেছে সে।
হঠাৎ দরজায় টোকা।
"সাকু! কলেজে যেতে হবে। তাড়াতাড়ি নিচে আয়।"
জেনিফার কণ্ঠ।সাকুরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীর পায়ে বেরিয়ে এল। মুখখানা আজ ভারী গম্ভীর। কারও সঙ্গে কথা বলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই।
নিচে নেমে দেখে সবাই প্রায় প্রস্তুত।রাত, মেঘ, জেনিফা,— সবাই দাঁড়িয়ে আছে।
সিঁড়ি বেয়ে নেমেই অভ্যাসবশত দৃষ্টি চলে গেল অ্যাপার্টমেন্টের সামনে।পরক্ষণেই কপালের চামড়া কুঁচকে গেল।দুই... তিন সেকেন্ড...তারপর আচমকা পুরো মুখাবয়বে বিস্ফোরিত হলো বিরক্তি।
"আমার বাইক কোথায়?"
চারপাশ নিশ্চুপ।সাকুরা আবারও চারদিকে তাকালো।
না।বাইকটা সত্যিই নেই।এবার গলার স্বর কয়েক গুণ চড়ে গেল।"আমি প্রশ্ন করেছি! আমার বাইক কোথায়?"
গার্ডরা একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে।
মেঘ মাথা চুলকালো।
রাত নিচু গলায় বলল,
— "উহু... আজকে আবার ঝড় উঠবে মনে হচ্ছে।"
জেনিফা ফিসফিসিয়ে বলল,
— "আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করো!"
সাকুরা এবার দক্ষোভে ফুঁসতে লাগল। কোমরে হাত দিয়ে বলতে লাগল________
"অসাধারণ!"একদম অসাধারণ!"এখানে আমার কোনো জিনিসই ঠিক জায়গায় থাকে না।" আমার একটা মনের মতো জিনিস এই বাড়িতে নেই।
"আমার বাইক নেই..."
"আমি যেটা চাই, সেটা কেউ শুনেই না..."কারণ আমি তো কারও পছন্দের মানুষই না!"আমার কথার কোনো দামই নেই। "কয়েকদিন আগে গার্ডদের বলেছিলাম পার্পেল রোজ আর টিউলিপ ফুলের কয়েকটা টব এনে দিতে।"
"এনেছে?"না! আনবে কেনো!"আমার কথা কারও মনে থাকে? ""না!"" কারণ এখানে আমি গুরুত্বপূর্ণ না!"
"থাক!"এখানে কিছুই আমার কিছুই লাগবেনা। বা*ল ফালিয়ে চু*ল করতে এই গার্ড গুলো রেখেছে __ আল্লাহর কসম এই গার্ড গুলো আমার দাড়িত্বে থাকলে গু*লি মেরে মাথা টা দু-ভাগ করে দিতাম শা*লা বাস্টার্ড গুলো। 
""শেষ কথাটা বলেই ঘুরে দাঁড়াল সে।
ধুপধাপ শব্দ তুলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল।
চারপাশে নেমে এলো নিস্তব্ধতা।কেউ একটা কথাও বলল না।কারণ সবাই বুঝেছে—আজ সাকুরার রাগের চেয়ে তার অভিমানটাই অনেক বড়।
কিন্তু এই পুরো ঘটনাটা একদৃষ্টে দেখছিল একজন।
হেভেন।তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।শুধু চোয়ালটা এতটাই শক্ত হয়ে আছে, যেন দাঁতগুলো একে অপরকে ভেঙে ফেলবে।"পকেটে ঢোকানো হাতের আঙুলগুলো ধীরে ধীরে মুঠোবদ্ধ হয়ে উঠল।ধূসর বেগুনি চোখের মণিতে জমল ভয়ংকর নীরবতা।
সে খুব ধীর পায়ে এগিয়ে গেল গেটের দিকে।
গার্ডরা তাকে দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।হেভেন থামল।
বরফশীতল কণ্ঠে শুধাল,
"সাকুরার বাইক কোথায়?"
একজন গার্ড ঢোক গিলে বলল, "স্যার... জিহাদ জাইফার "মা....মানে সাকুরা ম্যাম এর বাবা উনি বলেছিলেন সাকুরা ম্যাম কে যেনো বাইক না দেওয়া হয় কা...কারন উনি উন্মাদের মতো বাইক চালায় আ...আর কিছুদিন আগেও এক্সিডেন্ট করেছিলো।
আর কিছু বলার আগেই—
হেভেন চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্তের জন্য।তারপর ধীরে ধীরে চোখ খুলল।
সে পাশ ফিরে বলল, ইশারা করতেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন গার্ড সামনে এসে দাঁড়াল।
"জি, বস।"
হেভেন আকাশের দিকে একবার তাকিয়ে আবার গেটের সামনের ফাঁকা জায়গাটার দিকে দৃষ্টি স্থির করল।
তারপর অত্যন্ত শান্ত স্বরে বলল,
"আজ রাত শেষ হওয়ার আগেই...এই পুরো অ্যাপার্টমেন্টের সামনের বাগান আমি ফুলে ফুলে ভরা দেখতে চাই।"
"লোকটা মাথা নত করল
"জি, বস।"
হেভেন থামল না।
আরও ধীর কণ্ঠে বলল,
"আমি চাই— ও জানালার পাশে দাঁড়ালে শুধু ফুল ই দেখবে।যেদিকে তাকাবে...সেদিকেই ওর পছন্দের ফুল ফুটে থাকবে।"পৃথিবীতে যদি কোথাও সবচেয়ে সুন্দর ফুল থাকে...সব এনে লাগাবে এখানে।"প্রয়োজনে এক রাতেই পুরো টোকিও খালি করে ফেলো।
"লোকটার বুক কেঁপে উঠল।
তবুও বললো,, 
"ওকে, বস"
ঠিক তখনই—
হেভেনের দৃষ্টি গিয়ে থামল সেই গার্ডটার ওপর।যে কয়েকদিন আগে সাকুরার কথা গুরুত্ব দেয়নি।
সে নির্বিকার ভঙ্গিতে পকেটে হাত ঢুকিয়ে বের করল নিজের কালো পিস্তল।
কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই—
ঠাস!
গুলির বিকট শব্দে কেঁপে উঠল পুরো প্রাঙ্গণ।
গার্ডটা হাঁটু গেড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
গুলিটা তার কাঁধ ভেদ করেছে।সে যন্ত্রণায় চিৎকার করছে।চারপাশে উপস্থিত সবাই আতঙ্কে জমে গেছে।
হেভেন ধীর পায়ে এগিয়ে এল আহত গার্ডটার সামনে।
তারপর হাঁটু ভেঙে নিচু হয়ে লোকটার কলার চেপে ধরল।
"মৃত্যুর আগে একটা কথা মনে রাখিস..." হেভেন পিস্তলের ঠাণ্ডা নলটা গার্ডটার কপালে ঠেকিয়ে দিল।
"এই পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা যদি একজন হয়...""তাহলে তার সবচেয়ে ছোট্ট ইচ্ছেটাও আমার কাছে আদেশ।"সে যদি একটা ফুল চায়..."
"আমি পুরো শহর ফুলে ঢেকে দেব।"
"কিন্তু..."
তার কণ্ঠ মুহূর্তেই পাথরের মতো শক্ত হয়ে উঠল।
"তার ইচ্ছেকে যে অবহেলা করবে..."সে নিজের মৃত্যুর সময় নিজেই গুনে রাখবে।"পিস্তলটা ধীরে ধীরে সরিয়ে নিল হেভেন।পেছন ফিরে হাঁটতে হাঁটতে শুধু একটাই নির্দেশ ছুঁড়ে দিল—
"আজ সূর্য ওঠার আগেই..." তার মুখে হাসি ফিরিয়ে আনো।"যে দামই লাগুক।
"গার্ড গুলো মাথা নত করে গম্ভীর স্বরে বলল—
"ইয়েস, বস।"
_________________★___________________
বিছানার ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে আছে সাকুরা।চোখের পাতাদুটো নিশ্চিন্তে বুজে আছে। এলোমেলো চুলের কয়েকটা গোছা এসে ললাট ছুঁয়েছে। নিঃশ্বাসের ওঠানামায় বুকটা ধীর ছন্দে উঠছে-নামছে। মুখখানায় আজ বহুদিন পর শিশুসুলভ এক প্রশান্তি।
কক্ষের দরজাটা শব্দহীনভাবে খুলে গেল।
ধীর পদক্ষেপে ভেতরে প্রবেশ করল হেভেন।আজ তার মুখে সেই চিরচেনা কঠোরতা নেই। বরং দৃষ্টিজোড়া অদ্ভুত কোমল। যেন পৃথিবীর সমস্ত নিষ্ঠুরতা দরজার বাইরে ফেলে এসেছে সে।
কয়েক মুহূর্ত নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।চোখ সরাল না একবারও।হঠাৎ করেই ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসির রেখা ফুটে উঠল।
খুব আস্তে বিছানার পাশে বসে ফিসফিস স্বরে বলল,
— "ঘুমিয়ে আছো, মুন?"
সাকুরার কোনো সাড়া নেই।
"হেভেন আলতো করে কানের পাশের এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিল।
তারপর মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
— "জানো, তোমাকে যখন এভাবে দেখি... তখন মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষটাও হয়তো বদলে যেতে পারে তার ভালোবাসার মানুষ টাকে দেখে। যেমন টা আমি বদলে যাচ্ছি।
মৃদু হাসল সে।
"তুমি না থাকলে আমি সত্যিই পাষান আর দানব হয়েই থাকতাম,, 
কথাগুলো বাতাসে মিলিয়ে গেল।সাকুরা তবুও ঘুমিয়ে।
হেভেন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— "উঠো। তোমার জন্য একটা ছোট্ট জিনিস অপেক্ষা করছে।"
আরেকটু ঝুঁকে বলল,
— "মুন... ওঠো।"
একটুও নড়ল না মেয়েটা।
হেভেন অসহায়ের মতো মাথা নেড়ে হেসে ফেলল।
— "এত ঘুম?"পরক্ষণেই কোনো দ্বিধা না করে দুই হাতে তুলে নিল সাকুরাকে।
ঠিক তখনই আচমকা থাপ্পড় পড়লো হেভেনের গালে।
চোখ খুলতেই নিজেকে শূন্যে ভাসতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেছে সাকুরা।
— "আ...আরে! এই! তুমি... তুমি, আমি বুঝতে পারিনি।
হেভেন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
"হেভেন : তোমাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছি?
"সাকুরা : আমাকে নামাও!"
"হেভেন : "না"
"সাকুরা : আমি নিজে হাঁটতে পারব!"
"হেভেন : এখন পারবে না।"কারণ আমার ইচ্ছে করছে আমার পারপেল রোজকে কোলে করে নিয়ে যেতে।"
সাকুরার গাল দুটো অকারণেই লাল হয়ে উঠল। তবে মুখ ফিরিয়ে নিল।" ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা হাসিটা আর আড়াল করতে পারল না।
_______★_______
কয়েক মিনিট পর...
অ্যাপার্টমেন্টের সামনের বাগানে এসে হেভেন আলতো করে সাকুরাকে নামিয়ে দিল।পা মাটিতে পড়তেই সাকুরা অবাক হয়ে চারপাশে তাকাল।
চোখদুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।সামনেই দাঁড়িয়ে আছে তার প্রিয় বাইক "লাল রিবনে বাধা।চকচকে। একদম নতুনের মতো।
আর বাইকের দুই পাশ জুড়ে সারি সারি সাজানো—
অসংখ্য ছোট ছোট টব।প্রতিটি টবেই ফুটে আছে বেগুনি রঙের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোলাপ আর টিউলিপ এবং আরো অনেক ধরনের ফুল।
"মনে হচ্ছে যেন মাটির বুকজুড়ে নেমে এসেছে ছোট্ট এক পারপেল স্বপ্ন।বাতাস বইতেই ফুলগুলো একসঙ্গে দুলে উঠল।তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে কালো রঙের এক অদ্ভুত সুন্দর দোলনা।ম্যাট ব্ল্যাক লোহার কারুকাজে তৈরি। চারপাশে জড়িয়ে আছে কৃত্রিম লতা, আর সেগুলোর ফাঁকে ফাঁকে বসানো ক্ষুদ্র বেগুনি আলো।রাতের আলোতেও দোলনাটা যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দীপ্ত।
সাকুরা নির্বাক।
ঠোঁট ফাঁক হয়ে আছে।বিশ্বাসই করতে পারছে না।
ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে একটা টবের সামনে হাঁটু গেড়ে বসল।আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিল ফুলগুলো।
তারপর ফিসফিস করে বলল,
— "এসব..
পেছন থেকে হেভেনের শান্ত কণ্ঠ ভেসে এলো।
— "হ্যাঁ।"
সাকুরা ধীরে ধীরে ফিরে তাকাল।হেভেন দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।চোখে আজ অদ্ভুত প্রশান্তি।
— "তুমি বলেছিলে না তোমার মনের মতো কিছুই নেই এখানে। তাই একটু চেষ্টা করলাম।
সে এক মুহূর্ত থামল।
তারপর ধীর স্বরে বলল,
"আমি হয়তো পুরো পৃথিবীটা বদলে দিতে পারব না। কিন্তু তোমার জন্য ... যতটুকু পারি সুন্দর করতে চাই।"
"হেভেন এগিয়ে এল।আলতো করে একটা গোলাপ তুলে সাকুরার হাতে দিয়ে বলল,
— "এই ফুলগুলো শুধু সাজানোর জন্য না।"যেদিন তোমার মন খারাপ হবে... এখানে এসে বসবে। দোলনায় দুলবে। ফুলগুলোর সঙ্গে গল্প করবে। আর যদি তাতেও মন ভালো না হয়..."
সে মৃদু হেসে যোগ করল,
— "...তাহলে আমাকে ডাকবে। আমি পৃথিবী ওলটপালট করে হলেও তোমাকে হাসাবো।"
সাকুরা মাথা নিচু করে ফেলল।কারণ আমি চাই না আমার মুনের মুখে অভিমান মানায়। কারন তোমার হাসিটাই সবচেয়ে সুন্দর।"
সাকুরা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না।দৌড়ে গিয়ে দোলনায় বসে পড়ল।শিশুর মতো পা দোলাতে দোলাতে একবার ফুলগুলোর দিকে, একবার বাইকের দিকে তাকাচ্ছে।আনন্দে তার চোখ দুটো ঝলমল করছে।
"সেই দৃশ্য দেখে হেভেনের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল তৃপ্তির হাসি। সচরাচর সে হাসে না।আজ তার চোখে রক্তপিপাসু ভ্যাম্পায়ারের ছাপ নেই। আছে কেবল এক মানুষের প্রশান্তি—যে নিজের প্রিয় মানুষটার হাসিতে পৃথিবী খুঁজে পেয়েছে।
হঠাৎ করেই সাকুরা দোলনা থেকে লাফিয়ে নেমে দাঁড়াল।চোখদুটো দুষ্টুমিতে চিকচিক করছে।
— "হেভেন!"
— "হুম?"
— "চলো না... নতুন বাইকটা নিয়ে একটু ঘুরে আসি!
হেভেন ভ্রু তুলল।
— "এখন?" না অনেক রাত হয়েছে এখন যাওয়া ঠিক হবে না। যেকোনো মূহুর্তে বিপদ হতে পারে। 
সাকুরা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
— "কেন? আমার বাইক এনে দিলে, আর চালাতেই দিবে না?"
কথাটা শুনে হেভেন হেসে ফেলল।মাথা নেড়ে ধীরস্বরে আওড়াল,
— "তোমার ইচ্ছের কাছে আমি কোনোদিন জিতেছি নাকি, মুন?"
সাকুরা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল।
— "মানে রাজি?"
— "রাজি।"
— "ইয়েস!"
মুহূর্তেই দৌড়ে বাইকের কাছে চলে গেল সে।
_________★__________
কিছুক্ষণ পর—কালো রঙের স্পোর্টস বাইকটা গর্জন তুলে ছুটে চলছে নির্জন রাস্তা ধরে।
সামনে হেভেন।পেছনে বসে আছে সাকুরা।
দু'হাত দিয়ে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে হেভেনকে।
চারপাশের দৃশ্য একটার পর একটা পিছিয়ে যাচ্ছে।
শহর শেষ।
রাস্তা সরু হতে হতে ঢুকে পড়ল ঘন জঙ্গলের ভেতর।
দুই পাশ জুড়ে আকাশছোঁয়া বৃক্ষ। সূর্যের আলো পর্যন্ত ঠিকমতো মাটিতে পৌঁছাতে পারছে না। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার অবিরাম শব্দ।
সাকুরা বিস্ময়ে চারদিকে তাকিয়ে বলল, "এই পথে কখনও আসিনি!"
হেভেন শুধু মৃদু হেসে বাইক চালিয়ে যেতে লাগল।
আরও খানিকটা পথ পেরোতেই সে বাইক থামাল।
সাকুরা নেমে চারপাশে তাকাতেই হতবাক হয়ে গেল।
জঙ্গলের একেবারে গভীরে...
সবুজ গাছপালার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট কাঠের একটা বাড়ি।বাড়িটার সামনে ছোট্ট বারান্দা।চারপাশে বুনো ফুল।পাশেই সরু ঝরনা বয়ে যাচ্ছে।
মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর কোলাহল থেকে বহু দূরে লুকিয়ে থাকা এক টুকরো স্বপ্ন।
সাকুরা মুগ্ধ হয়ে ফিসফিস করল,
— "এ... এ জায়গাটা!"
হেভেন ধীরে ধীরে তার পাশে এসে দাঁড়াল।চোখ রেখে সেই বাড়িটার দিকে বলল,
— "এই জায়গার কথা পৃথিবীতে মাত্র দু'জন মানুষ জানে।"
সাকুরা তাকাল।
— "কারা?"
হেভেন তার দিকে ফিরে মৃদু হাসল। "আমি... আর তুমি।"
"হঠাৎই আনন্দে নিজেকে সামলাতে না পেরে দৌড়ে চলে গেল সামনের খোলা ঘাসের মাঠে।
দুই হাত মেলে ঘুরতে ঘুরতে চিৎকার করে উঠল,
— "আমাকে ধরে দেখাও!"
হেভেন ভ্রু কুঁচকে বলল,
— "মুন! পাগলামি করা যাবেনা না। জায়গাটা জঙ্গল।"
সাকুরা জিভ বের করে ভেংচি কাটল।
— "ধরতে পারলে ধরো!"
বলেই ছুট লাগাল।
হেভেন অসহায়ের মতো হেসে মাথা নাড়ল।
— "এই মেয়েটা..."
তারপর সেও দৌড়ে গেল।
শুরু হলো লুকোচুরি।কখনও একটা গাছের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে সাকুরা হেসে উঠছে।
কখনও হেভেন ধরতে গেলেই আবার অন্যদিকে দৌড়ে পালাচ্ছে।পুরো জঙ্গল জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে সাকুরার ঝর্ণাধারার মতো হাসি।
...
সময় কেটে গেল।
হঠাৎ...সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে নীরব হয়ে গেল।হেভেন থেমে গেল।কপালে ভাঁজ পড়ল।এতক্ষণ যে হাসিটা নিরবচ্ছিন্ন শোনা যাচ্ছিল...
সেটা হঠাৎ বন্ধ কেন?
সে চারদিকে তাকাল।
— "মুন?"
কোনো উত্তর নেই।
আবার ডাকল। " মাই পারপেল রোজ মজা করছো?"
নিস্তব্ধতা।
জঙ্গলের বাতাসও যেন আচমকা ভারী হয়ে উঠল।
হেভেনের বুকের ভেতর অকারণ অস্বস্তি জমতে লাগল।কণ্ঠে এবার স্পষ্ট উৎকণ্ঠা।
— "মুন! কোথায় তুমি?" মজা করো না প্লিজ জান।
তবুও...কোনো সাড়া নেই।এবার আর অপেক্ষা করল না।দ্রুত পায়ে এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগল।
একটা...দুইটা...তিনটা...
গাছ পেরিয়ে যেতেই—
হঠাৎ তার পদযুগল থেমে গেল। চোখ দুটো অজান্তেই রক্তিম বর্ন ধারন করলো।
#চলবে___
#কপি_করা_কঠোরভাবে_নিষিদ্ধ 
#কেমন হয়েছে জানাবেন আর রেসপন্স করবেন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন