#Bloody_Vampire
#Dimple_Sakura
#পর্ব-২৭
"রিকার্ডো কয়েক মুহূর্ত নীরব দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে বলল,
— "Boss... আলবার্ট যদি সত্যিই ফিরে এসে থাকে... তাহলে কি এত বছর আগের সেই রক্তচুক্তির হিসাব চুকাতেই এসেছে?"
"হেভেনের দৃষ্টি ধীরে ধীরে জানালার কাঁচ পেরিয়ে অন্ধকার আকাশের দিকে হারিয়ে গেল।মনে হলো...
সে বর্তমান নয়...বহু শতাব্দী আগের কোনো রাত্রি দেখছে।
________________________
একটা সময় ছিল...
যখন অন্ধকার পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দুই নাম ছিল—হেভেন আর আলবার্ট তারা ছিল একই ছায়া-সাম্রাজ্যের দুই স্তম্ভ।মানুষের চোখের আড়ালে, সভ্যতার বহু নিচে, প্রাচীন ভ্যাম্পায়ার গোত্রগুলোর মধ্যে চলত নিষিদ্ধ শক্তির লেনদেন, রক্তচুক্তি, হারিয়ে যাওয়া নিদর্শনের দখল আর শতাব্দীপ্রাচীন ক্ষমতার সংঘর্ষ। এমনকি এ যুগে আসার পর চলতো অস্ত্র পাচার ড্রাগ পাচার এমনকি আরো অনেক কিছু।
হেভেন ছিল সেই সাম্রাজ্যের তরবারি আর আলবার্ট...ছিল তার মস্তিষ্ক।একজন যুদ্ধ জিততো শক্তি দিয়ে অন্যজন...একটা কথায় সাম্রাজ্য ভেঙে দিতে পারত।সেই সময় অন্ধকার জগতের একটাই কথা প্রচলিত ছিল—
"যেদিন হেভেন আর আলবার্ট একই পাশে দাঁড়ায়... সেদিন মৃত্যু পর্যন্ত পথ বদলে নেয়।"
কিন্তু...ক্ষমতা কখনো কারও বন্ধু হয় না।লোভ...মানুষকে যেমন বদলে দেয় অমরকেও তেমনি গ্রাস করে।
"আলবার্ট এমন এক রক্তচুক্তি করতে চেয়েছিল—
যার মূল্য দিতে হতো নিরপরাধ প্রাণ দিয়ে এমনকি নিয়ে ও নিলো... শুরুটা হলো সাকুরার পরিবার কে নিয়েই।
হেভেন প্রথমবার তার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল—
— "ক্ষমতার জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়া যায় না।"
সেদিনই...বন্ধুত্বের শেষ নিশ্বাস পড়েছিল।
"একটি শিশুর জন্ম।
আর সেই শিশুকে ঘিরেই শুরু হয়েছিল নতুন ষড়যন্ত্র।
আলবার্ট বলেছিল—
— "ওকে বাঁচিয়ে রাখলে একদিন আমাদের সাম্রাজ্য ধ্বংস হবে।"কারন তার কাছে আলবার্ট এর সমস্ত শক্তি আটকা পড়ে গেছে।
হেভেন...প্রথমবার আলবার্টের আদেশ অমান্য করেছিল।সে হত্যা করতে গিয়েছিল...কিন্তু...শিশুটির চোখের দিকে একবার তাকিয়েই তার শতাব্দীপ্রাচীন নিষ্ঠুরতা ভেঙে পড়েছিল। সেই ক্ষুদ্র প্রাণটাকে হত্যা করতে পারেনি সে।
বরং...
"নিজের বুকের ভেতর লুকিয়ে ফেলেছিল।সেদিন থেকেই— হেভেনের মৃত্যুর দিন শুরু হয়েছিল।
মানুষ হিসেবে নয়...এক নিষ্ঠুর শাসক হিসেবে।
কারণ...যে হৃদয় শত শত বছর ধরে কেবল রক্তের গন্ধ চিনত...
সেই হৃদয় প্রথমবার একটি জীবনের জন্য স্পন্দিত হয়েছিল সেটাও আবার নিজের শত্রুর জন্য।
আজ...সেই মানুষ টি-ই তার সমস্ত দুর্বলতা...তার সমস্ত শক্তি...তার সমস্ত পৃথিবী।
_________★________
বর্তমানে ফিরে এল হেভেন।
তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল এক বিষণ্ণ হাসি।
হেভেন : আলবার্ট হয়তো ভাবে..."আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল সাকুরা কে বাঁচিয়ে রাখা।"
এক মুহূর্ত থেমে সে খুব নিচু স্বরে বলল,
— "কিন্তু সে জানে না..."ওই ভুলটাই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত ছিল।"
রিকার্ডো ধীরে ধীরে বলল—
— "Boss, যদি Albert সত্যিই ফিরে এসে থাকে, তাহলে সে নিশ্চয়ই কোনো বড় পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে।
হেভেন ধীর কণ্ঠে বলল, "Albert কখনো সরাসরি আঘাত করে না। সে আগে দেখে, অপেক্ষা করে। মানুষের অভ্যাস, দুর্বলতা, সম্পর্ক—সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে। তারপর এমন জায়গায় আঘাত করে, যেখানে আঘাতটা শুধু শরীরে নয়, বিশ্বাসেও লাগে।"
রিকার্ডো নীরবে শুনছিল। হেভেন টেবিলের ওপর রাখা ফাইলটা বন্ধ করে বলল,
"আজ থেকে সব Division সতর্ক থাকবে। কোনো অস্বাভাবিক নড়াচড়া, অপরিচিত যোগাযোগ কিংবা সন্দেহজনক কোনো তথ্য—সরাসরি আমার কাছে আসবে। কেউ নিজের সিদ্ধান্তে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।"
চারপাশের সবাই মাথা নত করল।
— "Yes, Blood King."
____________★__________
গভীর রাত ডুপ্লেক্সের চারপাশ তখন অস্বাভাবিকভাবে শান্ত। গাছের পাতাগুলো বাতাসে নড়ছিল, অথচ সেই শব্দটুকুও যেন কোনো অদৃশ্য নীরবতার কাছে হার মেনে গেছে।
কালো গাড়িটি এসে ডুপ্লেক্সের সামনে থামতেই হেভেন দরজা খুলে নামল। দু-এক পা এগিয়েই সে থেমে গেল। তার দৃষ্টি ধীরে ধীরে চারপাশ ঘুরে গেল।
রিকার্ডো গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে এসে বলল—
— "Boss..."
হেভেন হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল। তার মন বলছে কিছু একটা ঠিক নেই। সে কোনো শব্দ শুনছিল না—বরং শব্দের অনুপস্থিতিটাই যেন তাকে সতর্ক করে দিচ্ছিল।
ঠিক তখনই—
ধাম!
বিকট এক শব্দে পুরো ডুপ্লেক্স কেঁপে উঠল। জানালার কাচ কেঁপে উঠল, কয়েক মুহূর্তের জন্য আলো নিভে গেল।
ভেতর থেকে আতঙ্কিত চিৎকার ভেসে আসতেই হেভেনের মুখ মুহূর্তে কঠিন হয়ে উঠল।
— "সবাইকে নিচে নামাও!"
রিকার্ডো ছুটে ভেতরে ঢুকে গেল।
উপরের তলায় সাকুরার ঘুম ভেঙে গেল। আচমকা বিছানায় উঠে বসে সে চারপাশে তাকিয়ে বলল—
— "কী হলো?"
করিডোরে ইতিমধ্যে মেঘ, রাত আর জেনিফা বেরিয়ে এসেছে। জেনিফার মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট।
— "সাকু! কী হচ্ছে?"
মেঘ চারপাশে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল—
— "কিছু একটা হয়েছে।"
ঠিক তখনই দরজা খুলে হেভেন ঢুকল। তার চোখে সেই পরিচিত কঠোরতা। সে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে বলল—
— "কেউ বাইরে যাবে না। সবাই আমার সঙ্গে নিচে এসো। এখনই।"
সাকুরা উঠে দাঁড়াল।
— "হেভেন, কী হয়েছে?"
হেভেন তার দিকে তাকিয়ে শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল—
— "এখন প্রশ্ন করার সময় নয়, নিচে চলো।"
তার কণ্ঠে এমন এক দৃঢ়তা ছিল, যার সামনে আর কোনো প্রশ্ন টিকল না।
সবাই দ্রুত নিচে নেমে এল। ডুপ্লেক্সের প্রধান হলঘরে ইতিমধ্যে গার্ডরা অবস্থান নিয়েছে। বাইরে থেকে অচেনা শব্দ ভেসে আসছে—কোথাও ধাতব কিছুর সংঘর্ষ, কোথাও দ্রুত পায়ের শব্দ। বাতাসের মধ্যেও যেন অদৃশ্য বিপদের গন্ধ।
ঠিক তখনই রিকার্ডো ছুটে এসে হেভেনের সামনে দাঁড়াল।
— "Boss... ওরা আমাদের অবস্থান খুঁজে পেয়েছে।"
এক মুহূর্তে ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
জেনিফা অজান্তেই সাকুরার হাত শক্ত করে ধরল। সাকুরা চারপাশে তাকিয়ে রইল। এই বাড়িটা এতদিন তাদের নিরাপদ আশ্রয় ছিল—হাসি, গল্প আর অসংখ্য স্মৃতিতে ভরা। অথচ আজ সেই নিরাপত্তার দেয়ালেই যেন প্রথম ফাটল ধরেছে।
হেভেনের চোখে কোনো আতঙ্ক ছিল না। ছিল শুধু হিসাব।
— "কতজন?"
— "নিশ্চিত না, Boss। বাইরে অনেক জনের নড়াচড়া আছে মনে হচ্ছে ।"
— "কারা?"
রিকার্ডো এক মুহূর্ত থেমে বলল—
— "এরা মানুষ না।ভ্যাম্পায়ারদের একটা দল মনে হচ্ছে। কিন্তু তাদের পরিচয় নিশ্চিত নয়।"
হেভেনের চোখ সরু হয়ে এল।
— "তাহলে এটা শুধু হামলা নয়। কেউ আমাদের পরীক্ষা করছে।"
সাকুরা এগিয়ে এসে দৃঢ় কণ্ঠে বলল—
— "আমরাও লড়তে পারি।"
হেভেন তার দিকে তাকাল।
— "আমি জানি।"
তারপর একটু থেমে নরম অথচ দৃঢ় স্বরে বলল—
— "কিন্তু আজ তোমার শক্তি দেখানোর রাত নয়। আজ তোমাকে নিরাপদ রাখার রাত।"
সাকুরা কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু হেভেন আগেই বলে উঠল—
— "আমরা এখান থেকে বের হচ্ছি কোথায় যেতে?
হেভেন: "এমন একটা জায়গায়, যেখানে ওরা আমাদের সহজে খুঁজে পাবে না।"
রিকার্ডো সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেল।
— "প্রাসাদ?"
হেভেন মাথা নাড়ল।
— "হ্যাঁ।"
তারপর গার্ডদের দিকে তাকিয়ে নির্দেশ দিল, "সবাই প্রস্তুত হও। গাড়িগুলো পেছনের পথে বের হবে। কেউ একা যাবে না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কেউ যেন আমাদের অনুসরণ করতে না পারে।"
কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবাই প্রস্তুত হয়ে গেল। ডুপ্লেক্সের আলো তখনও মাঝে মাঝে নিভে-জ্বলছে। বাইরে অন্ধকারের মধ্যে সংঘর্ষের শব্দ ভেসে আসছে।
সাকুরা বের হওয়ার আগে শেষবারের মতো পেছনে তাকাল। পরিচিত বাড়িটাকে আজ যেন অচেনা লাগছিল। মেঘ তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল—
— "চল।"
রাত ধীরে বলল—
— "যেখানেই যাই, একসাথেই যাব।"
জেনিফা সাকুরার হাত ধরে মৃদু হেসে বলল—
— "তুই একা না, সাকু।"
সাকুরা কিছু বলল না। শুধু তিন বন্ধুর দিকে তাকিয়ে খুব হালকা একটা হাসি দিল। অন্ধকারের মাঝেও এই ছোট্ট বন্ধুত্বটাই যেন তার কাছে সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো হয়ে রইল।
__________★________
গাড়ির বহর রাতের অন্ধকার চিরে এগিয়ে চলল। শহরের আলো ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে গেল।
কেউ কথা বলছিল না।
অনেকটা পথ পেরিয়ে অবশেষে গাড়িগুলো একটি বিশাল লোহার ফটকের সামনে এসে থামল। ধীরে ধীরে ফটক খুলে গেল।তার ওপারে দাঁড়িয়ে ছিল প্রাসাদ।
কালো পাথরের তৈরি বিশাল স্থাপনা। উঁচু দেয়াল, দীর্ঘ সিঁড়ি, ভারী দরজা আর দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বহু পুরোনো গাছ—সবকিছু মিলিয়ে চাঁদের আলোয় প্রাসাদটাকে মনে হচ্ছিল অন্ধকারের বুকের মধ্যে জেগে থাকা কোনো প্রাচীন রাজ্য।
গাড়িগুলো একে একে ভেতরে ঢুকল। বিশাল দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
হেভেন কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাসাদের বিশাল রুমে সবাই জড়ো হলো। উঁচু ছাদ থেকে ঝুলে থাকা পুরোনো ঝাড়বাতির ম্লান আলো পাথরের মেঝেতে পড়েছে। চারপাশের দেয়ালে পুরোনো নকশা, বিশাল স্তম্ভ আর দীর্ঘ জানালাগুলো প্রাসাদের পরিবেশকে আরও গম্ভীর করে তুলেছে।
হেভেন সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে। এক পাশে রিকার্ডো, আর সামনে সাকুরা, মেঘ, রাত ও জেনিফা।
হেভেন ধীরে বলল—
— "আজ রাতের ঘটনা ভুলে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা নয়। আমাদের অবস্থান খুঁজে পাওয়া হয়েছে। এর মানে শত্রু শুধু আমাদের ওপর নজর রাখছে না—সে আমাদের গতিবিধি সম্পর্কেও জানে।"
তার দৃষ্টি একে একে সবার ওপর ঘুরল।
— "আর তোমরা সবাই জানো, সাকুরার শক্তি আর অনেকেই তার শক্তির জন্য তাকে চাইবে, কেউ তার দুর্বলতা খুঁজবে। আবার কেউ তার কাছের মানুষদের ব্যবহার করে তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।"
সাকুরা নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।
হেভেন এবার মেঘ, রাত ও জেনিফার দিকে তাকাল।
— "তোমরা তিনজন বিশেষভাবে শুনবে।প্রাসাদের বাইরে যাওয়ার আগে অনুমতি নেবে। অপরিচিত কাউকে বিশ্বাস করবে না। আর কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখলে—যত ছোটই হোক—সঙ্গে সঙ্গে রিকার্ডোকে জানাবে।"
মেঘ মাথা নাড়ল।
— "ঠিক আছে।"
হেভেনের কণ্ঠ আরও গম্ভীর হয়ে উঠল।
— "এটা তোমাদের ভয় দেখানোর জন্য বলছি না। তোমাদের নিরাপদ রাখার জন্য বলছি।"
জেনিফা ধীরে সাকুরার হাত ধরল।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর হেভেন আবার বললো-
— "আমাদের নিজেদের মধ্যেই কেউ আমার সঙ্গে বেইমানি করছে।
কয়েকজনের মুখে মুহূর্তের জন্য অস্বস্তির ছাপ ফুটে উঠল।
হেভেনের ঠোঁটে খুব সামান্য হাসি ফুটল।
— "যে-ই হোক..."
সে ধীরে ধীরে সবার চোখের দিকে তাকাল।
— "একবার শুধু আমার চোখে চোখ রাখুক। মুখে হাজার টা মিথ্যা বলা যায়, কিন্তু চোখকে সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তার মনের কথাটা পড়ে ফেলতে আমার বেশি সময় লাগবে না।"
রিকার্ডো নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।
হেভেন এবার আরও দৃঢ় স্বরে বলল—
— "Albert-এর নাম শুনে কেউ আতঙ্কিত হবে না। আতঙ্ক শত্রুর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আমরা আতঙ্কিত হলে সে জিতে যাবে।"
তার দৃষ্টি এবার সাকুরার ওপর এসে থামল।কণ্ঠটা অজান্তেই কিছুটা নরম হয়ে গেল।
— "আর সাকুরাকে কেউ পাবে না।"
সাকুরা স্থির চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
হেভেন বলল—
— "ওর চারপাশে যত মানুষ থাকবে, তত বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ শত্রু জানে—ওকে আঘাত করতে চাইলে আমাকে ভাঙতে হবে।
হেভেন ঘুরে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু কয়েক ধাপ যাওয়ার পর আবার থেমে পেছনে তাকাল।
— "আর তোমরা তিনজন..."
মেঘ, রাত ও জেনিফা তাকাল।
হেভেন শান্ত গলায় বলল—
— "সাকুরার বন্ধু হিসেবে নয়—আজ থেকে তোমাদের নিরাপত্তার দায়িত্বও আমার চিন্তা করো না আমি নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছি গার্ডদের সংখ্যা দ্বিগুণ করে দিয়েছি"
জেনিফার চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল। মেঘ হালকা মাথা নাড়ল। রাতের ঠোঁটেও ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।
সাকুরা চুপচাপ হেভেনের দিকে তাকিয়ে রইল।
সাকুরার চোখ ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ থেমে গেল।
প্রাসাদের দ্বিতীয় তলার একদম শেষ প্রান্তে কালো কাঠের বিশাল একটা দরজা।
দরজার গায়ে তৈরি অদ্ভুত এক প্রতীক খোদাই করা খানিকটা নেকড়ের মতো।দরজায় তিনটা ভারী তালা।
তালাগুলোর ওপরও লাল মোমের সিল।অদ্ভুত ব্যাপার...সেই করিডোরে একজন গার্ডও নেই।যেন কেউ ইচ্ছে করেই ওদিকটা এড়িয়ে চলে।
সাকুরা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— "ওই ঘরটা?"
রিকার্ডো উত্তর দিতে গিয়েও থেমে গেল।
হেভেন তার আগেই শান্ত গলায় বলল,
— "ওখানে কখনো যাবে না।"
সাকুরা: কেন?"
হেভেন : সব সময় কারণ জিজ্ঞেস করবে না।" কেউ দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করার সাহস পেল না।
সবাই যখন নিজের নিজের ঘর দেখছিল...হেভেন সিঁড়ি বেয়ে আরও ওপরে উঠল।তৃতীয় তলার শেষ মাথায় আরেকটি দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।
"এই দরজায় কোনো তালা নেই।তবু দরজার দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে চারজন সশস্ত্র গার্ড।হেভেন ফিরে সবার দিকে তাকাল।
হে়ভেন : এই ফ্লোরে আমার অনুমতি ছাড়া কেউ আসবে না।
কিন্তু সাকুরা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
"তোমার ঘর?"
হেভেন : হ্যাঁ..
সাকুরা : আমি গেলেও?"
হেভেন :তুমিও না।"
সাকুরা : একশো বার যাবো পারলে আঁটকে দেখাও।
হেভেন : দেখা যাবে।
**চলবে**
#কপি_করা_নিষিদ্ধ
#আজ খুব তারাতাড়ি লেখা হয়েছে অনেক ভুলত্রুটি আছে হয়তোবা আমি রিচেক করিনি & ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 🌸🌸