ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীলাক্ষত্র

৬

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রিয়ন্তী

#নীলাক্ষত্র 

#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী
পর্ব:০৬ ( বর্ধিতাংশ)
📌এই পর্বে কিছু সংবেদনশীল দৃশ্য রয়েছে; যদি আপনার মনোবৃত্তি মুক্ত নয়, অনুগ্রহ করে এই পর্বটি এড়িয়ে চলুন।
--
--
নীলাদ্রিতার হঠাৎ ঘুম থেকে বুক ধড়ফড় করে উঠে বসে। এতটা বিভীষিকাময় স্বপ্ন সে কীভাবে দেখল? ভয়ের কারণে ঘামে ভিজে একাকার হয়ে গেছে সে।
মুখ হাঁ করে গভীর নিঃশ্বাস নিতে নিতে কপালের ঘাম হাতের উল্টো পিঠে মুছে নিলো। বিছানা ছেড়ে উঠে চারদিকে দৃষ্টি মেলে তাকায়। 
কয়েক পা এগিয়ে রুমের বাইরে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু সোফায় নক্ষত্রকে দেখতে পায় না, এমনকি রাউডিকেও নয়।
পা ঘুরিয়ে দরজার কাছে আসতেই চোখে পড়ে একটি ছোট্ট চিরকুট। যেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘6251’।
নীলাদ্রিতার মস্তিষ্ক মুহূর্তেই বুঝে ফেলে এটা দরজার পাসওয়ার্ড। নক্ষত্র নিশ্চয় তার জন্য চিরকুট টি লিখে গিয়েছে।
 অতঃপর সেই কোড গুলো দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দরজাটি আপনা আপনি খুলে যায়।
নীলাদ্রিতা দু’হাতে নীল গ্ৰাউনটা সামলে সে বাইরে বেরিয়ে আসে। এতক্ষণে যেন শরীরে প্রাণ ফিরে পেলো।
কাঠের সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে পিছু ফিরে এক পলকে চোখ যায় নামফলকের দিকে,যেখানে বহু পুরোনো নকশায় লেখা, ‘নক্ষত্র নীড়’।
নীলাদ্রিতা দ্রুত পা চালিয়ে দৌড়াতে শুরু করে। সবুজ পাতার ঘন আস্তরণের দিকে এগিয়ে যায় সে। রাতের আঁধারে যা বোঝা যায়নি, দিনের আলোয় সবকিছু স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 
সে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলে সেই সবুজ পাতার আস্তরণ সরাতেই দূর থেকে দেখা যায় চৌধুরী নিবাস। 
নীলাদ্রিতা আর এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে প্রাণপনে দৌড়াচ্ছে লাগলো। দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে সে এক ছুটে সদর সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করে। 
ড্রয়িং রুমে এসে সে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। গতকাল রাত থেকে বোধহয় সে ভালো করে শ্বাস নিতে পারি নি। পারবে বা কী করে? কত অপ্রত্যাশিত কিছু যে তার সাথে হয়ে গেলো। 
সে এইবার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলেই কিছু আপত্তিকর শব্দ শুনতে পায়। প্রথমে ভাবলো সে যাই হোক তার কী?পরক্ষনেই তার পা থেমে গেলো। 
চঞ্চল মনটি কৌতুহলী হয়ে থেমে যায়। তাই সে সেই শব্দ অনুসরণ করে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে। 
যতো এগোচ্ছে ততো শব্দটি আর স্পষ্ট হয়। অবশেষে সে কাঙ্খিত রুমের সামনে আসতেই নীলাদ্রিতা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। 
রুমটা ছিলো স্যান্ডির,যার দরজাটা পুরোই আধ খোলা। যার কারণে নীলাদ্রিতার চোখে আপত্তিকর কিছু দৃশ্য চোখে পড়ে।
নিজের শশুর বাড়িতে এমন কিছু ঘটবে তার কল্পনার বাইরে ছিলো। 
স্যান্ডি একটি মেয়ের সাথে অ'ন্তর'ঙ্গ অবস্থায় রয়েছে। মেয়েটি তীব্র উত্তেজনায় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে।
নীলাদ্রিতা লজ্জায় এবং ঘৃণায় চোখ নামিয়ে ফেলে। 
কতটা বিকৃত মনের মানুষ হলে দরজা খোলা রেখে এইসব ঘটায়। 
নীলাদ্রিতার এখন এই বাড়ির প্রত্যেকটি মানুষের উপর ঘৃণা জমতে শুরু করছে। সে পিছু ঘুরতেই আরেকবার চমকে উঠে। 
কারণ তার পিছনে এতোক্ষণ গোলাপি দাঁড়িয়ে ছিলো।
 সে দাঁত বের করে হাসতে হাসতে নীলাদ্রিতাকে বললো,
" আমাকে দেখে ভয় পেয়েছো বুঝি?"
নীলাদ্রিতা কোনো কথা না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। তার কাছে এখন, এই মুহূর্তে ড্রেসটি পাল্টানো দরকার। সে এইসব কাপড়ে অভ্যস্ত নয় তাও নিজেকে জোর করে দমিয়ে রেখেছে। 
গোলাপি ও নীলাদ্রিতার পিছু পিছু যায়, নীলাদ্রিতা হঠাৎ সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করে,
" আচ্ছা ওই স্যান্ডেল টার সাথে মেয়েটা কে ছিলো?"
গোলাপি বড় বড় চোখ করে বললো, 
" স্যান্ডেল কে?"
" স্যান্ডি, তার নাম স্যান্ডি না দিয়ে স্যান্ডেল দেওয়া উচিত ছিলো।"
নীলাদ্রিতার কথায় গোলাপি পেট চেপে ধরে হাসতে থাকে। 
" স্যান্ডেল ! এইটা কী বললে তুমি? ওনার মা জানলে তোমাকে কাঁচা চিবিয়ে খাবে।"
নীলাদ্রিতা বেশ বিরক্ত হয়, সে বিরক্তিতে বলে, 
" বললে বলো নাহলে আমি উপর চলে যাচ্ছি।"
" বলছি, স্যান্ডির কাছে মেয়ে মানে পোশাক বদলানোর মতো। তিনি প্রতিদিন একটা একটা করে নতুন মেয়ে নিয়ে এইসব করে।"
" বাড়ির কেউ কিছু বলে না?"
" বললেও শুনবে না নক্ষত্র আর স্যান্ডি সৎ ভাই হলেও দুজনেই একই রথের সারথী। দুজনকেই কেউ আয়ত্তে রাখতে পারে না। তবে নক্ষত্র, ওনার নারী সঙ্গ পছন্দ নয়। তিনি এইসব থেকে দশহাত দূরে রয়েছে।"
ঠিক তখনই রুমের সেই মেয়েটি বেরিয়ে যেতে থাকে। পড়নের পোশাকগুলোও ছিল অস্বস্তিকর রকমের উন্মুক্ত, যা তার জন্য মোটেও শুভকর নয়।
নারীর সৌন্দর্য শালীনতার আবরণেই অধিক দীপ্তিময় হয়ে ওঠে। অথচ এই যুগের অনেক মেয়ে সেই আবরণ ছিঁড়ে 
দে'হ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে। যেখানে শালীনতার বদলে স্থান পাচ্ছে ফাঁপা রঙ্গতামাশায়।
মেয়েটার যাওয়ার দেখে নীলাদ্রিতা তপ্ত শ্বাস ফেলে বিরবির করে, " নস্ট মেয়ে মানুষ, ছ্যাঁ।" 
কথাটি বলেই সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না সোজা সিঁড়ি বেয়ে রুমের দিকে যেতে থাকে। 
রুমে এসে আগে ভাগেই সে ওয়াশ রুমের দিকে ছুটে গেলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে নিজেই উপহাস করে উঠলো।
 কিন্তু হঠাৎ তার চোখ পড়ে চুলের দিকে। পেছনে চুলে হাত দিতেই সে বিস্মিত হয়ে উঠলো। 
চুল থেকে টাই টা খুলে ফেলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। অনেকক্ষন টানা হেঁচড়া করার পর অবশেষে টাই খুলে ফেললো।
সেটি হাতে নিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বুঝতে পারে এটা নক্ষত্রের। তার মানে নক্ষত্র রাতে তার কাছে এসেছে, ছুঁয়েছে। 
নীলাদ্রিতা হাঁটু গেঁড়ে সেখানেই বসে পড়ে। গতরাতে কথা ভাবতেই তার গা এখনো শিউরে উঠছে। মা-বাবাকে নিয়ে কতটা হাসি খুশিতেই না ছিলো। 
কিন্তু নক্ষত্র নামের কোন এক ঘৃনিত মানুষের জন্য তার জীবনটা হঠাৎ তৎনচ হয়ে গেয়েছিলো।
সে কখনোই নক্ষত্রকে মাফ করতে পারবে না, কখনোই না। চোখের জল মুছে পানির কল ছাড়তেই কল থেকে পানি বের হয় না।
প্রায় অনেকক্ষন সে সব কল গুলোতে চেষ্টা করছে কিন্তু এক ফোঁটাও পানি পড়ছে না। 
ভাগ্যে বোধহয় সবসময় তার বিপরীতে থাকে। এখন এই অবস্থায় কোথাও বাইরেও যেতে পারবে না। গতকাল থেকে একই পোশাকে রয়েছে আর কতক্ষন'ই বা থাকবে।
অগত্যা সে ওয়াশ রুম থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসে। রুমের বেলকনির দিকে এগোতেই সোফায় নক্ষত্রের দেখা মিললো।
যে এখন চোখে হাত দিয়ে ঢেকে ঘুমিয়ে রয়েছে। ঘুমিয়ে রয়েছে নাকী চোখ বুজে রয়েছে বোঝা মুশকিল!
কিন্তু নীলাদ্রিতার চোখ তখনি কপালে উঠে যখন নক্ষত্রকে বিদঘুটে অবস্থায় দেখে। 
গায়ে সেই চিরচেনা কালো শার্ট আর হাঁটুর উপর পর্যন্ত শর্ট পেন্ট। 
যার দরুন পায়ের কালো লোম গুলো স্পষ্ট দৃশ্যমান। এইভাবে ভরা বাড়িতে কেউ এমন পেন্ট পড়ে। বড়রা দেখলে কী ভাববে? 
নীলাদ্রিতা চট করে উল্টো ঘুরে গিয়ে চিৎকার করে উঠে,
" এই যে শুনছেন?"
ওপাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেলো না। নীলাদ্রিতা আবারো ডেকে উঠে, 
" শুনছেন কী ? উঠে দেখুন তো বাথরুমে পানি আসছে না কেনো?"
নক্ষত্র এইবার হালকা হালকা ঠোঁট নাড়িয়ে বললো,‌ " হুমমম।"
নীলাদ্রিতা দাঁতে দাঁত চেপে আবারো বলে, 
" উঠে দেখুন বাথরুমে পানি কেনো আসছে না?"
নক্ষত্র আবারো একই ভঙ্গিতে বলে উঠে, 
" আলসে লাগছে, পারবো না।"
ব্যস নীলাদ্রিতা এইবার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। এই ছেলেকে সে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েই ছাড়বে। প্রথমে তো শায়েস্তা করবে তারপর জেলের ঘানি টানাবে তবেই নীলাদ্রিতা শান্ত হবে।
সে ক্ষিপ্ত হয়ে রুমের চারিপাশে চোখ বুলায়। হ্যাঁ, দেখতে পেলো ফুলের টবের ভেতরে পানি রয়েছে। 
 তাই আগ পিছ আর না ভেবেই নীলাদ্রিতা সমস্ত নোংরা পানি নক্ষত্রের মুখে ছুঁড়ে মারে। 
তবে আর কী যা হওয়ার তাই হলো। নক্ষত্র চোখ থেকে হাত সরিয়ে তড়িৎ গতিতে উঠে বসলো। গাল থেকে পানি হাতে ছুঁয়ে নাকের কাছে নিতেই বুঝতে পারে এটি নোংরা পানি। 
সে চোয়াল শক্ত করে ছুটে আসে নীলাদ্রিতার কাছে। তার দুই হাতের কবজি শক্ত করে চেপে ধরে গর্জালো, 
" হাউ ডেয়ার ইউ?"
নীলাদ্রিতা বাঁকা হেসে বললো,
 " সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল টা ঠিক এইভাবেই বাঁকাতে হয়।"
নীলাদ্রিতার এই কথাতেই তার মনে পড়ে গেলো গতকাল রাতে নীলাদ্রিতা কে সেই একই কথাটা বলেছিলো। নীলাদ্রিতা এইবার বার্থরুমের দিকে ইশারা করে বললো,
" দেখে আসুন পানি কেনো আসছে না,আমি স্নান করবো।"
কিন্তু নক্ষত্র সে তো মহা অলস। তার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে ত্যাড়ামি আর ত্যাড়ামি। সে খপ করে নীলাদ্রিতার গ্ৰাউনের কিছুটা অংশ হাতের মুঠোয় নিয়ে ভেজা চুল গুলো মুছতে থাকে।
হাতে, গলায়, ঘাড়ের পানি গুলো নীলাদ্রিতার গ্ৰাউন দিয়ে মুছে আবারো সুফায় গিয়ে গা এলিয়ে দেয়। 
এইদিকে নীলাদ্রিতার ভীষণ মেজাজ খারাপ হয়ে যাই। 
" সমস্যা কী আপনার? একটু গিয়ে দেখলে কী এমন ক্ষতি হয়ে যাবে?"
নক্ষত্র শরীর এলিয়ে দেওয়া অবস্থায় পায়ের উপর পা তুলে অলস ভঙ্গিমায় বলে, 
" চলে যাও তোমাকে আমি আমার কাছ থেকে ১০ ফিট দূরত্বে থাকতে বলছি।"
" প্রথমে মাথা ফাটিয়ে ছি , এখন নোংরা পানি দিয়েছি এখন কিন্তু না উঠলে লিও'র মলমূত্র এনে ঢেলে দিবো।"
তখন নক্ষত্রের কাছে রাউডি এসে ঘেউ ঘেউ করতে করতে তার বুকের উপর উঠে বসে। আর নক্ষত্র তাকে আদর করতে করতে নীলাদ্রিতা কে বলে,
" যা তো বোইন, কানের কাছে প্যাক প্যাক করবি না।"
নীলাদ্রিতা এখন পারছে না হাত পা ছুড়ে কান্না করছে। এর মতো ঘৃনিত পুরুষ কে এখুনি মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে। সে আর কিছু না পেয়ে এইবার ফুলদানি হাতে তুলে নেয়। 
ক্ষিপ্ত গতিতে নক্ষত্রের দিকে এগিয়ে আসে। নীলাদ্রিতা কে এইভাবে আসতে দেখে রাউডি ঘেউ ঘেউ করে উঠে। কিন্তু নীলাদ্রিতা এখন ভয় পায় না রাগের কারণে ভয় যেনো এক নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো। 
সে ফুলদানি দেখিয়ে দিয়ে বলে, 
" উঠুন নাহলে এইবার ও মাথা ফাটিয়ে দিবো, উঠুন।"
নক্ষত্র এখনো অলস ভঙ্গিতে রয়েছে। তার চেয়ে সে আরো নীলাদ্রিতাকে রাগিয়ে দিতে ঘুমানোর ভান করে বলে,
" ঘুমাবো আর আমার আলসে লাগছে।"
নীলাদ্রিতা চেঁচিয়ে উঠলো, " আপনার আর কীসে কীসে আলসে লাগে হ্যাঁ?"
" খাইতে,ঘুমাতে, হাঁটতে,গাড়ি চালাতে, বক্সিং করতে, কাউকে মারতে আর তো আর কথা ও বলতে আলসে লাগে। হয়েছে এইবার এখান থেকে যা নীল।"
এর কথা শুনে নীলাদ্রিতা টাস্কি খেয়ে গেলো। এই ছেলে তো মাথা থেকে পা পর্যন্ত আস্ত একটা অলসের ডিব্বা। কিন্তু নীলাদ্রিতার এইবার রাগে, দুঃখে কান্না পেয়ে যাচ্ছে। 
সে সেখানেই ধপ করে বসে পড়লো। তার হাত থেকে ফুলদানিটা পড়ে যাই। এই জীবন থেকেও তার কাছে মামীর অত্যচার বেশি ভালো ছিলো।
 অত্যন্ত সে একটু হাসি খুশি হলেও থাকতো। কিন্তু এখানে এক দন্ড ও সে হাসতে পারবে না কখনো না।
সবকিছু শান্ত দেখে নক্ষত্র চোখ থেকে হাত সরালো। নীলাদ্রিতাকে এইভাবে মনমরা হয়ে বসতে দেখে সে আলসে ভেঙে উঠে পড়ে।
রাউডির দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে,
" রাউডি চল অসহায় মেয়ের সাহায্য করি। ছ্যাঁ মেয়েটার লজ্জা ও লাগছে না আমি নাকী আরো ওর বাবা-মায়ের খু'নি। তো খু'নির থেকে সাহায্য চাইতে লজ্জা লাগে না?"
কথা গুলো শুনিয়ে নক্ষত্র উঠে দাঁড়ায়। বাথরুমে গিয়ে সব পানির কল গুলো চেক করে নিচে নেমে যায়। তার ঠিক কিছুক্ষণ পর এসে নীলাদ্রিতাকে বলে,
" যাও পানি এসেছে।"
নিঃশব্দে নীলাদ্রিতা বাথরুমে ঢুকতে গেলেই নক্ষত্র বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। 
" এখন কী আপনি আমার স্নান করাও দেখবেন নাকী? এখন দাঁড়িয়ে থাকতে আলসে লাগছে না?"
নক্ষত্র হঠাৎ গা দুলিয়ে হেসে উঠলো। মানুষটা কথায় কথায় হেসে উঠে। এক আজব মানুষ বৈকি। 
" আফটার অল আমরা স্বামী-স্ত্রী, তোমার দেহের প্রতিটা ভাঁ'জ দেখার অধিকার রয়েছে।"
নীলাদ্রিতা তাচ্ছিল্যের হেসে বললো,
" স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করলে স্বামী আর ধ'র্ষ'কের মধ্য তার পার্থক্য কোথায়?।"
নীলাদ্রিতা নক্ষত্রকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বাথরুমে ঢুকলো। কিন্তু নক্ষত্র এখনো দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তা দেখে নীলাদ্রিতা চেঁচিয়ে উঠে,
" এইবার কিন্তু লাথি মারতে বাধ্য হবো।"
কিন্তু নক্ষত্রের চোখ অন্যদিকে সে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে উঠে,
"কমলা পাতা জোড়া জোড়া"
নীলাদ্রিতাও বলে,
"নক্ষত্র তুই সামনে থেকে সরে দাঁড়া।"
দরজা কাছ থেকে কিছুটা সরে গিয়ে নক্ষত্র আবারো বললো, 
"অল রাইট,ভেরি গুড"
এইবার দরজা বন্ধ করার আগে নীলাদ্রিতা বলে,
"নক্ষত্র খাই কুত্তার মুত।"
বলেই ঠাস করে তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়। এইদিকে নীলাদ্রিতার শেষ কথাটা বুঝতে পেরে নক্ষত্র দাঁতে দাঁত চাপলো,
" বোইন তুই আমার সামনে আয় একবার, থাপ্পড়িয়ে সব দাঁত ফেলাই দিবো।"
——
" স্যার আসতে পারি?"
স্যান্ডি ঘুমান্ত অবস্থায় উত্তর দেয়, " হুমম।"
ঠিক তখনই একটি মেয়ে রুমে প্রবেশ করে। ধীরে ধীরে স্যান্ডি বিছানায় থেকে উঠে বসে। মেয়েটির দিকে ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে নামতে গেলেই বুঝতে পারে, নিচে কিছুই পরিধান করা নেই।
 হাত দিয়ে ফ্লোর থেকে প্যান্ট তুলে কোমরে চাদর জরায়। এবং মেয়েটির সামনেই পড়তে থাকে। এতে মেয়েটি রেগে গিয়ে দুই হাত মুঠো করে ধরে। কতোটা নির্লজ্জ হলে একটি মেয়ের সামনে এমন কিছু করতে পারে? তাই রেগে গিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। 
চলবে ~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন