ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীলাক্ষত্র

৬ষ্ঠ পর্ব (১)

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রিয়ন্তী

#নীলাক্ষত্র 

#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী
পর্ব :০৬ ( প্রথমাংশ)
নীলাদ্রিতা পাসওয়ার্ড-নির্ভর দরজাটার সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক ভুল পাসওয়ার্ড দিতে থাকে। তার জেদটা এতটাই প্রবল যে, একবারের জন্যও নক্ষত্রের কাছে পাসওয়ার্ড জানতে চায় না। একটানা চার-পাঁচবার ভুল দেওয়ার ফলস্বরূপ দরজায় পড়ে যায় পুরো ছয়-সাত ঘণ্টার লক। এখন ঠিক সাত ঘণ্টা পরেই কেবল এই দরজা খুলবে,তার আগে নয়।
দৃশ্যটা দেখে নীলাদ্রিতার মেজাজ বিগড়ে যায়। এমনিতেই সারা শরীর ধুলো-ময়লায় একাকার, তার উপর বিশাল গ্রাউনটা সামলে হাঁটতেও পারছে না। অতঃপর দুই হাতে গ্রাউনটা আগলে দেয়াল ঘেঁষে বসে পড়ে সে।
রাগী চোখে দুরের কিনারায় নক্ষত্রের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় নক্ষত্র পাঞ্চিং ব্যাগ এ ধুমধাম কিল ঘুষি মারছে। নীলাদ্রিতা দাঁত কিড়মিড় করতে করতে উচ্চারণ করে,
" দরজা খুলে দিন।"
কিন্তু নক্ষত্র কোনো উত্তর দেয় না, একাধারে পাঞ্চিং এ কিলঘুষি মেরে যাচ্ছে। নীলাদ্রিতা চট করে উঠে দাঁড়িয়ে সোজা তার কাছে চলে আসে। যে ব্যাগটাতে ঘুসি মারছে গাঢ় দৃষ্টিতে দেখার পর নীলাদ্রিতার মনে পড়ে , এই ব্যাগগুলো তো টিভিতে দেখতো কিন্তু ওখানে লাল ছিলো এখানে কালো কেনো?
 এত বড় বড় ঘুসি মারছে ব্যাথা কী পাই না? সে যাক গে এইসবে তার কী? 
" দরজা খুলে দিন ।"
নক্ষত্র তাও একটা টু শব্দ ও করে না। এতেই নীলাদ্রিতার রাগ যেনো আর দ্বিগুণ বেড়ে গেলো। সে ঝটকা মেরে পাঞ্চিং ব্যাগ এর সামনে আসে। 
ভাগ্যিস আর একটু হলেই নীলাদ্রিতার কেল্লা ফতে হয়ে যেতো। নক্ষত্রের হাত সোজা নীলাদ্রিতার নাক বরাবর এসে থেমে যায়। নক্ষত্র হাত নামিয়ে নিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে ডোগ খিচে বলল,
" নির্বোধ মহিলা, আর একটু হলে তো মুখের মানচিত্র পাল্টে যেতো, ছ্যাঁ।"
নীলাদ্রিতা নক্ষত্রের কথা গায়ে না মেখে উত্তর সাপেক্ষে বলে উঠে,
" আপনি বইরা নাকী? এতবার ডেকেছি শুনতে পান নি?"
নক্ষত্র তখন ফ্লাস দিতে পানি পান করছিলো , এক মুহূর্তের জন্য সে থেমে গিয়ে সোজা তাকালো তার দিকে,
" তুমি ডাকলেই আমার শুনতে হবে কেনো? হু আর ইউ? "
নীলাদ্রিতা কোমরে হাত গুজে তীক্ষ্ণ কন্ঠে উত্তর দেয়,
 "আমার সাথে একদম ইংরেজি ঝাড়বেন না। দরজা খুলুন আমি চলে যাই।"
নক্ষত্র আর কয়েগ ডোগ পানি গিলে ঠোঁট মুছে এক পলক দরজার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে ,
" দরজা একেবারে লক করে দিয়েছো এখন আর খুলবে না।"
" তাহলে আমি এইসব পড়ে এতক্ষণ এখানে কীভাবে থাকবো।"
" আমি কী করে বলবো? তোমার ব্যাপার তুমি বুঝে নাও।" কথাটি বলে নক্ষত্র হাত থেকে গ্লাভস খুলে ফেলে। তারপর হাতের মধ্যে পেছানো র‍্যাপ গুলো দাঁত দিয়ে টেনে এক এক খুলে ফেলতে থাকে।
অতঃপর ক্লান্ত হয়ে ছোট্ট একটা সোফায় গা এলিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে রাউডিও এসে তার বুকে মিশে যায়। নক্ষত্র হাঁসি মুখে রাউডি কে আদর করতে থাকে। তাদের এই আদর দেখে নীলাদ্রিতা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।
" হা, মানুষের জন্য মায়া দয়া নেই কিন্তু ঠিক'ই একটা পশুর জন্য মায়া দয়া উথলে পড়ে।"
কথাটায় কী ছিলো? তাচ্ছিল্যেতা উঁহু,কখনোই না। কিন্তু নক্ষত্রের গায়ে কেনো এই কথাটি কাঁটার মতো বিঁধে গেছে। সে তড়িৎ গতিতে সোফা থেকে উঠে একদম নীলাদ্রিতা কে কাঠের দেয়ালে ঠেসে ধরে। 
তার হাত দুটি শক্ত করে দাঁবিয়ে রেখে দাঁত চেপে ধরে বলল,
" প্রাণীরা মানুষের থেকেও হাজার গুণ ভালো, আই রিপিট হাজার গুণ ভালো। ওরা যার খাবে তার'ই গোলাম হয়ে রয়ে যাই চিরকাল। কিন্তু মানুষ! তারা কী করে যার খাবে তার'ই পিঠ পিছে ছুরি ভরে দিবে।"
নীলাদ্রিতা টলমলে চোখে নক্ষত্রের চোখের দিকে তাকায়। কালো আবরণে লেন্সের কারণে এখন সেই ভিন্ন দুটো মনি দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু চোখ কার্নিশে টকটকে লাল হয়ে রয়েছে। কাতর স্বরে সে বলে,
" ছাড়ুন, আপনি ছুঁবে না আমায়।"
নক্ষত্রের হাত হালকা আলগা হয়ে আসে কিন্তু সে পুরোপুরি হাত উঠিয়ে নেয় না। নীলাদ্রিতা বড় বড় কুচকুচে কালো চোখের মনির দিকে তাকিয়ে বলল,
" আমার মতো অভাগাকে নিজের জীবনে জড়ালে, মেয়ে তুমি শেষ পর্যন্ত নিজের ভাগ্যকেই নিজেই অভাগী বলে মেনে নিতে বাধ্য হবে। 
তাই আমার জীবন থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখবা।"
নীলাদ্রিতা তাচ্ছিল্যের হেসে স্বাপেক্ষে উত্তর দেয়,
" না চাইতেই আপনার সাথে আমি জড়িয়ে গেছি, হা! আ..মি না চাইতেও আমার বাবা-মায়ের খু'নির সাথে জড়িয়ে গেছি, কী নিদারুণ আমার নিয়তি।"
নক্ষত্র নীলাদ্রিতা কে ছেড়ে দিয়ে সোজা পিছু ফিরে গেলো কিন্তু গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,
" জড়িয়ে গিয়েছি ঠিক আছে কিন্তু আমরা জুড়ে থেকেও আলাদা। তেল আর জল একসাথে জুড়ে থাকলেও কখনো মিশ খায় না।"
কথাখানা বলে সে আবারো সোফায় গা এলিয়ে দেয় ততক্ষনেই রাউডি মুখ হা করে ঘুমিয়ে আছে নক্ষত্রের পায়ের কাছে। নক্ষত্র চোখের উপর বাম হাত উল্টে রেখে বলে,
" কর্নার সাইটে সুইচ আছে লাইট অফ করে দাও।"
লাইট অফ করার কথায় নীলাদ্রিতা মন চেৎ করে উঠে। সে ভীষণ রকমের ভয় করে অন্ধকার কে। সে একদম'ই সহ্য করতে পারে না অন্ধকার। 
" না লাইট অফ করবো না, আমার অন্ধকারে থাকতে ভয় করে এবং প্যানিক হয়।"
নক্ষত্র সেইভাবে পড়ে থেকে নীলাদ্রিতার কথা শুনে গা দুলিয়ে হেসে উঠলো,
" ভয়? আমি থাকতে তোমার অন্ধকারে ভয় করে হা হা।"
নক্ষত্র খুব বাজে ভাবেই হেসে চলেছে, তারপর চোখ থেকে হাত সরিয়ে কিছুটা ঘাড় কাত করে ঠোঁট বেঁকিয়ে বলে,
" শুনো মেয়ে, আমি থাকতে তোমাকে কোনো ভয় ছুঁতে পারবে না। যতদিন আমি আছি ততোদিন তোমার কাছে ভয়ের 'ভ' 
 কেও কাছে ঘেঁষতে দেবো না।"
'আপনিই তো আমার জন্য আস্ত একটা ভয়।'
 কথাটি মনে মনে বিরবির করে 
নীলাদ্রিতা নিশ্চল চোখে তাকিয়ে আছে লোকটির দিকে। এই যে এখন‌ লোকটি হাসছে বোধহয় তা দেখে নীলাদ্রিতার হিংসা হচ্ছে। কেনো হাসবে ওই লোক? ওনার মুখে শুধু থাকবে বিষাদের ছায়া। একজন খু'নি কখনো প্রাণ খুলে হাসতে পারে না,কখনোই না । 
নীলাদ্রিতা সেই হাসির দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছে, ' আমার ভাইয়ারা আপনাকে শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে কিন্তু আমি আপনাকে চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ করেই ছাড়বো। আমার বাবা-মায়ের মৃত্যুর বিচার চাইবো আমি। আপনাকে ভেতর থেকে নিশ্চিহ্ন করে ছাড়বো।'
নীলাদ্রিতা আর কিছু না বলে চুপচাপ হাঁটুতে মুখ গুঁজে রয়েছে। তার কোঁকড়া কোঁকড়া ঘন লম্বা চুল গুলো ফ্লোরে চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। নক্ষত্র মাথার পেছনে হাত ঠেকিয়ে ঘাড় পাশে ফিরিয়ে ওর দিকে তাকায়। মেয়েটাকে ওর জীবনে কখনোই জড়াতে চায় নি। নেহাৎ তাকে দিদা ফাঁদে ফেলে এমন একটা কাজ করিয়ে নিয়েছে। নাহলে ইহ জীবনেও তার নারীদের প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নেই। 
 তবে মেয়েটা বড্ড চঞ্চল এবং অবুঝ। পৃথিবীর এখনো অনেক নিষ্ঠুর পরিহাস দেখা বাকী। টিনএজার মেয়েরা বুঝি এমনই‌ হয়? মেয়েটা বড্ড বোকা এ শহরে তাকে যে কেউ বেঁচে কিনে খেয়ে আসতে পারবে। 
আর রইলো তার জীবনে জড়ানো? তার জীবনেই যেই জড়াবে সেই চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এটাই হয়ে আসছে আর এটাই হবে।
 কিন্তু নক্ষত্র কী বুঝতে পারছে না তাকেই নিশ্চিহ্ন করার জন্য নীলাদ্রিতা উঠে পড়ে লেগেছে।
 গাঢ় দৃষ্টিতে তাকালে চোখ পড়ে নীলাদ্রিতার কোঁকড়া কোঁকড়া লম্বা চুল গুলো অবহেলায় পড়ে আছে। এই মেয়ের চুল যে কী কোঁকড়া তা ভাষায় বলা যায় না। এমন নুডুলস এর মতো কেনো নক্ষত্র ভেবে পায় না। অবহেলায় চুল গুলো পড়ে থাকতে দেখে গলা খাঁকরি দিয়ে সে বললো, 
" ওই..?" 
কিন্তু নীলাদ্রিতার কোনো সাড়া শব্দ করে নেয়।
" ওই, কোঁকড়ালি?"
নাহ! এইবার ও দেখছে নীলাদ্রিতার সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। 
তাই নক্ষত্র বিরক্ত হয়ে শুধায়,
" ওইইই... নীল?"
নীলাদ্রিতা এইবার ঝাছি কি রানীর মতো হাঁটু থেকে মুখ তুলে চেঁচিয়ে উঠলো,
" কী সমস্যা? আপনার মুখে একদম বোম মাইরা উইড়া দিবো। আর কখন থেকে নীল নীল করছেন? নীল নয়, আমি নীলাদ্রিতা,নীলাদ্রিতা,নীলাদ্রিতা।"
নক্ষত্র তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে,
 " তোমার নুডুলস এর মতো চুল গুলো বেঁধে নাও। পরে দেখা যাবে রাউডি ঘুম থেকে উঠলে, ঘুম ঘুম চোখে তোমার চুল গুলো নুডুলস ভেবে খেয়ে ফেলছে।"
নীলাদ্রিতা নিঃশব্দে চুল গুলো খোঁপা করে বেঁধে নেয়। কিন্তু তাও বারবার খুলে যাচ্ছে। তার চুল গুলো অনেক লম্বা আর ঘন যার কারণে অনেক সমস্যায় তাকে পড়তে হয়। কত যে কাঁকড়া ভেঙ্গেছে হিসাব নেই। ঘন লম্বা চুল হয়ে তার এক জ্বালা, কিছুতেই চুল গুলো ঠিক মতো গোছাতে পারে না এখনো। 
নীলাদ্রিতার মাঝে মাঝে তো ইচ্ছে করে চুলগুলো একেবারে ছোট করে ফেলতে কিন্তু মামুর জন্য কখনো কাটতে পারতো না। চুল কাটা নিয়ে মামু সবসময় তাকে বকাঝকা করতোই করতো। 
এইসব ভাবতে ভাবতেই নীলাদ্রিতা খুলে যাওয়া খোপা আবারো মুছরিয়ে বাঁধতে থাকে। সোফা থেকে নক্ষত্র কান্ড গুলো দেখছিলো। সে ফুশ করে শ্বাস ছেড়ে বিরবির করে,
 " গর্দভ মহিলা।"
তার শার্টের কলারে পেছানো টাই টা খুলে সোজা নীলাদ্রিতার দিকে ছুঁড়ে মারে,
" এইটা দিয়ে চুল গুলো শক্ত করে গিট মেরে বেঁধে নাও।"
নীলাদ্রিতা মুখ বেঁকিয়ে মেঝে থেকে টাই টা নিয়ে শক্ত করে চুল গুলো বেঁধে নেয়। নক্ষত্র চোখের উপর আবারো হাত রেখে উচ্চারণ করে,
" দেয়ালের এই কর্নারে গিয়ে দেখো একটা রুম আছে। সেখানে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে পড়ো , যাও।"
নীলাদ্রিতার এমনিতেও অনেক ঘুম আসছিলো। চোখ প্রায় বুজে আসছে তার।সে আর কোনো কথা না ভেবেই গ্ৰাউন ধরে ফটাফট কর্ণারে রুমে বিছানায় ধপাস করে শুইয়ে পড়ে। 
এখন নক্ষত্র আর নীলাদ্রিতা কাঠের দেয়ালে এপিঠ- ওপিটে অবস্থান করছে। নীলাদ্রিতা একটু চোখ বুঝতেই নক্ষত্র ডেকে উঠে,
" ওই, নীল।"
নীলাদ্রিতা রাগী মুখ করে চেঁচিয়ে উঠে,
" আপনার মুখে ঠাডা পড়ুক। আমাকে একটু ঘুমাতে দিন না প্লিজজ।"
" ওই কোঁকড়ালি?"
" মাথা ফাটায় দিবো কিন্তু এইবার।"
দেয়ালে অপর প্রান্ত থেকে নক্ষত্র ঠোঁট টেনে হেসে হেসে বলল,
" ওই, নীল তুমি কী আমার আশিকি হবা?"
নীলাদ্রিতা তখন বিরক্ত হয়ে শব্দ ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলে,
" আপ..নাকে খুন করে আপনা..র লাশিকি হবো। বিশ্বাস করুন, আর একটা ও শব্দ করলে না সোজা এসে আপনার মুখ ভেঙে দিবো।"
নক্ষত্র আর কোনো কথা বলে না চুপচাপ সে তার ফেলা আসা গত দিন গুলোর কথা ভাবতে থাকে। ভাবতে ভাবতে অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। হঠাৎ তার চোখটা ভীষণ জ্বালা করছে দেখে সোফা থেকে উঠে চোখ থেকে কালো লেন্স গুলো খুলে ফেলে।
 ডান পাশের কর্নারে ছোট্ট একটা বেসিন আছে। আয়নায় দাঁড়িয়ে কল ছেড়ে ঝাপটে ঝাপটে পানি দিয়ে চোখ মুখ ধুয়ে নিয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। 
যতবার সে তার চোখ জোড়ায় তাকাবে ততোবার সে নিজেকে অভাগা বলতে বাধ্য হয়। এই দুই ভিন্ন রঙের চোখের মনি , বামচোখে অলিভ গ্ৰিন আর ডান চোখে হ্যাজেল। 
কমপ্লিট হেটেরোক্রোমিয়া চোখ এই চোখের মনি পৃথিবীতে খুব কম শতাংশ লোকের হয়ে থাকে। যার মধ্যে নক্ষত্র একজন। তবে অনেকেই এটাকে সৌভাগ্য বললেও নক্ষত্র এটাকে অভিশাপ ভাবে অভিশাপ। রাতে এমন অবস্থা তাকে দেখলে সে ভয়ে পালিয়ে যাবে। কেনো সে সাধারণ মানুষের মতো হতে পারলো না। এইসব ভাবতে ভাবতে সে নীলাদ্রিতার রুমের দিকে অগ্রসর হয়। 
দরজাটা খুলায় ছিলো তা দেখে নক্ষত্রের কিছুটা রাগ হয়। মেয়েটা দরজা খুলা রাখবে কেনো? আঙ্কেল বলতে কিছু নেই নাকী। পা বাড়িয়ে ঘরে ডুকতেই প্রথমে তার চোখ পড়লো ঠিক প্রথমদিন এর মতো মেয়েটার চুল মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আবারো নক্ষত্রের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো । চুল কী মেঝেতে গড়াগড়ি খাওয়ার জিনিস। 
আলতো করে মেঝেতে হাঁটু গেঁড়ে বসলো। মেঝেতে লুটিয়ে থাকা নীলাদ্রিতার চুল গুলো হাতের মুঠোই নিয়ে টাই দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেয় যাতে আর না মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে না হয়। টাই দিতে সুন্দর করে বেঁধে দিয়ে একপাশে রেখে দেয়।
" চুল গুলো এমন করে বেঁধে দিচ্ছি, মনে তো হয় না আর খুলতে পারবেন মিস কোঁকড়ালি। "
 নীলাদ্রিতা তখনি ঘুমের মধ্যেই ঘাড় ফিরিয়ে সেদিকে ঘুরে যায়।
নক্ষত্র এতটা কাছ থেকে মেয়েটাকে দেখে নি। এই যে এখন ঠোঁট উল্টিয়ে উল্টিয়ে বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে আর মুখ দিয়ে শব্দ করে নাক ডাকছে। গাঢ় দৃষ্টিতে তাকাতেই লক্ষ্য করে মেয়েটা মেলা ফর্সা কিন্তু গালে অসংখ্য বর্ণ এর দাগ। 
তবে পাষান নক্ষত্র বেশ ভালো লাগে নীলাদ্রিতার ঠোঁটের নিচে কুচকুচে কালো তিলটা। মানুষের চেহারায় এতো এতো তিল দেখে তবে এই মেয়েটার তিল যেনো অদ্ভুত এক্কেবারে ঠোঁটের নিচের মাঝখানে। 
হঠাৎ কেনো যেনো মনে হলো ট্রি হাউজ অর্থাৎ 'নক্ষত্র নীড়ের' এর আশেপাশে কেউ আছে। নক্ষত্র ভ্রু উঁচিয়ে তড়িৎ গতিতে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে।নীলাদ্রিতার গায়ে একটি ব্যাঙ্ক ক্যাট জড়িয়ে দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে ট্রি হাউজ থেকে বেরিয়ে আসে বাইরে।
-
-
-
চলবে__

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব (১) শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন