ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক তোমাতে আসক্ত

২২তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া শিমু

#এক_তোমাতে_আসক্ত

#সুমাইয়া_শিমু

#পর্ব_২২

____________________________

সময় স্রোতের মতো প্রবাহমান। আনন্দের সময় গুলো যে কোথা দিয়ে কেটে গেল তা টেনে পেল না ফারজাদ ও শ্রেয়সী। আজ শ্রেয়সী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তারক পেট ফুলে ফেঁপে উঠেছে, শরীর ভারী হয়েছে এবং নরম তুলতুলে মায়াবী মুখটা দেখতে আরো গুলুমুলু হয়েছে। কাজ থেকে অবসর নিয়েছে আজ ৩ মাস হলো। ফারজাদ অফিসের ব্যস্ততা একেবারে কমিয়ে এনে প্রায় সারাক্ষণই বাড়িতে শ্রেয়সীর পাশে থাকে, তার সেবা-যত্ন করে। শ্রেয়সী মুগ্ধ হয়ে সবটা দেখে। ভাগ্য গুণে এমন একটা ভালোবাসার মানুষ আর স্বামী পেয়েছে সে। নিজেকে তার পৃথিবীর সেরা ভাগ্যবতী মনে হয়। মনে মনে সেজন্য সে আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া আদায় করে।

শ্রেয়সীর উঁচু হয়ে থাকা পেটের কাছে কান এনে ফারজাদ শুনতে চেষ্টা করে তার অনাগত সন্তানের পদধ্বনি। কিছুক্ষণ আগে সে শ্রেয়সীর পেটে কিক মেরেছে। তখনই সে দ্রুত ফারজাদকে ডেকে এনেছে। ফারজাদ তখন থেকেই কান খাড়া করে রেখেছে পুনরায় কিকের শব্দ শোনার জন্য।

" দেখেছো কি দুষ্টু বাচ্চা! এতক্ষণ মায়ের পেটে কিক মেরে এখন বাবার সামনে ভদ্র হয়ে গেছে। "

" আমার বাচ্চাকে একদম দুষ্টু বলবে না। সে হলো আমার লিটল প্রিন্সেস। আমার ছোট্ট শ্রেয়সী। "

শ্রেয়সী হাসলো। হাসলে তার গালের টোলটা এখনো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে ফারজাদ। আলতো করে তার গাল ছুঁয়ে দিয়ে কপালে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিলো সে।

তারপর একটা প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "অবশেষে আমরা বাবা-মা হয়ে গেলাম তাই না শ্যালু?"

শ্রেয়সী আনমনে শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো, " হ্যাঁ! সময় কত দ্রুত কেটে যায় তাই না ফারজাদ? এইতো সেদিন তোমার আমার দেখা হলো। প্রেম থেকে পরিণয় হলো। মাঝখানে কত ঝড়-ঝাঁপটা পোহাতে হলো আমাদের। কত প্রিয় মানুষদের হারাতে হলো! তবুও আমরা ঠিকই দুজন দুজনার হাত ধরে বেঁচে রয়েছি। ভালোবাসার সুন্দর একটা সংসার গড়ে তুলেছি। "

ফারজাদ শ্রেয়সীর হাতটা শক্ত করে ধরে রইলো নিজের হাতের মুঠোয়। সেখানে আলতো করে চুমু খেলো শ্রেয়সী।

তখনই রুমে পরিচারিকার প্রবেশ হলো।

" আপনাদের সঙ্গে কেউ একজন দেখা করতে এসেছেন। আমি তাকে ড্রয়িং রুমে বসিয়ে রেখে এসেছি। "

ফারজাদ ও শ্রেয়সী দুজনেই বেশ অবাক হলো। তাদের সাথে দেখা করার জন্য এই মুহূর্তে আবার কে আসবে? সাইদুর রহমান নয় তো?

" আচ্ছা তুমি যাও, আমি আসছি। "

ফারজাদের কথায় পরিচারিকা প্রস্থান করলো। ফারজাদ শ্রেয়সীর শরীরে ভালোভাবে কম্বল টেনে দিয়ে দিয়ে বলল, " তুমি বিশ্রাম নাও, আমি দেখে আসছি কে এসেছে। "

শ্রেয়সী কিছু বলতে নিয়েও চুপ করে গেল। সে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিতেই ফারজাদ নিচে চলে এলো। ড্রইংরুমে এসে দাঁড়াতেই তার পা যেন থমকে গেল। এমন অপ্রত্যাশিত আগমন সামনের ব্যক্তিটির থেকে সে আশা করেনি। নিজেকে সামলে নিতেই চোখ-মুখ কঠিন হয়ে গেল তার।

" আপনি এতদিন পর এখানে কেন এসেছেন? "

ফারজাদের শক্ত কন্ঠের প্রশ্নে প্রথমত খেয়ে গেলেন আরমান আবরার চৌধুরী। নিজেকে যথাসম্ভব সামলে নিয়ে অপ্রস্তুত গলায় তিনি বললেন, " আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। "

মুহূর্তেই ফারজাদের রাগ যেন আকাশ ছুঁয়ে গেল। বাবার প্রতি অসীম রাগ-অভিমান যেন মুহূর্তেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। ক্রুদ্ধ কন্ঠে সে বলতে লাগলো, " এতদিন পর কিসের ক্ষমা চাইতে এসেছেন? আমার মাকে হত্যা করে, আদরের বোনটাকে দেশছাড়া করে, আমাকে ত্যাজ্যপুত্র করে, নিজের পুত্রবধূকে অস্বীকার করে, এখন এতদিন পরে ক্ষমা চাইতে এসেছেন? লজ্জা করছে না আপনার?"

আরমান আবরার চৌধুরী মাথা নিচু করে নিলেন। ফারজাদ আবার বলতে শুরু করলো, " আপনার স্ত্রী মিসেস নুসরাত আবরার চৌধুরী কোথায়? সে আপনাকে কিভাবে এখানে আসতে দিলো? নাকি এটাও আপনাদের নতুন কোনো চাল? "

আরমান আবরার চৌধুরি মুখ তুলে তাকালেন। তার চোখ-মুখ অনুশোচনায় জর্জরিত। তিনি অনুতপ্ত হয়ে বলতে লাগলেন, " আমি জানি আমি যা করেছি তার কোনো ক্ষমা হয় না। নিজের স্ত্রী-সন্তানদের ওপর অনেক অন্যায় আচরণ করেছি আমি। কিন্তু আমি এসব ইচ্ছে করে করিনি বাবা। নুসরাত নামের ঐ চরিত্রহীন মহিলাটা এতদিন আমার ওপর ব্ল্যাক ম্যাজিক ও সাইকো থেরাপি প্রয়োগ করে আসছিল। যাতে আমি তার নিয়ন্ত্রণে থাকি এবং তোমাদের থেকে দূরে সরে যাই। কিন্তু আমাদের কেয়ারটেকার রহমান মিয়ার সহযোগিতায় আমি দ্রুত তার মায়াজাল থেকে মুক্ত হই। তার আসল রূপ সামনে আসার পর থেকেই আমি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেই এবং সমস্ত সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করি।"

এরপর আরমান আবরার চৌধুরী ফারজাদের কাছে এসে চোখে হাতজোড় করে কাকুতি-মিনতি করে বললেন, " নিজের অজান্তে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি তোমাদের উপর। হয়তো জেনেশুনেও অনেক অপরাধ করেছি। কিন্তু এখন আমি এসবের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। দয়া করে আমাকে সেই সুযোগটা দাও। "

বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন আরমান আবরার চৌধুরী। ফারজাদের এই মুহূর্তে কেমন যেন খারাপ লাগছিল বাবার প্রতি। কিন্তু অতীতের রাগ-অভিমান-ঘৃণা এত সহজে দূর হচ্ছিলো না বিধায় মুখে কঠিন ভাবটা বজায় রাখলো। সে আগের মতোই শক্ত কণ্ঠে বললো, " আমি আপনাকে ক্ষমা করতে পারবো না মিস্টার আরমান আবরার চৌধুরী। আপনি এখান থেকে চলে গেলে আমি খুশি হবো। "

আরমান আবরার চৌধুরী আশাহত দৃষ্টিতে তাকালেন ফারজাদের দিকে। ফারজাদ ঘুরে চলে যেতে নিলেই সামনে শ্রেয়সীকে দেখতে পেল সে।

" তুমি এই অবস্থায় এখানে এসেছো কেন শ্যালু? চলো, রুমে চলো। "

শ্রেয়সী ফারজাদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললো, "বাবাকে ক্ষমা করে দাও ফারজাদ। "

ফারজাদ অবাক দৃষ্টিতে তাকালো শ্রেয়সীর দিকে।

" এতকিছুর পরেও কিভাবে তুমি এই কথা বলছো? "

" আমি সব শুনেছি ফরজাদ। বাবা ইচ্ছে করে আমাদের সাথে এমন করেননি। তাকে ব্যবহার করে এমন করা হয়েছে। আর তাছাড়া মানুষ যখন ভুল করে ক্ষমা চেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে চায়, তখন তাকে ক্ষমা করে দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করার একটা সুযোগ দেওয়া উচিত। "

বলে ফারজাদের থেকে সরে গিয়ে আরমান আবরার চৌধুরীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো শ্রেয়সী। তার হাত ধরে নম্র কন্ঠে বলতে লাগলো, " আপনার ছেলেকে ভুল বুঝবেন না বাবা। সে আপনাকে এখনো আগের মতোই ভালোবাসে। শুধু পুরনো রাগ অভিমান ঝেড়ে ফেলতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ওকে তো আমি চিনি, খুব তাড়াতাড়ি সেগুলো ঝেড়ে ফেলে আপনাকে আবার আগের মতো আপন করে নেবে। "

আরমান আবরার চৌধুরীর শ্রেয়সীর হাত ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে, " এমন একটা হীরের টুকরো মেয়েকে আমি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম? কত লক্ষ্মী আমার বৌমা! আল্লাহকে অসংখ্য ধন্যবাদ তিনি আমাকে ভুল শুধরে নেওয়ার একটা সুযোগ দিয়েছেন। "

একটু থেমে আবার বলতে লাগলেন, " আমাকে ক্ষমা করেছো তো বৌমা? "

" ছি বাবা! মেয়ের কাছে বাবার কোন অপরাধ হয় না। "

তারপর শ্রেয়সীকে লক্ষ্য করে তিনি উচ্ছসিত হয়ে উঠলেন।

" আমার বংশের প্রদীপ আসতে চলেছে দুনিয়াতে। এবার আমি সবাইকে নিয়ে বাকি জীবনটা সুখে কাটাবো। "

ফারজাদ তাচ্ছিল্য করে বললো, " পৃথিবীতে আপনার অর্ধাঙ্গিনী আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে, মেয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে, আপনি কাদের নিয়ে সুখে থাকতে চান মিস্টার আরমান আবরার চৌধুরী? "

" আমার অর্ধাঙ্গিনীকে আমি আর ফিরিয়ে আনতে পারব না। যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তাকে ফিরিয়ে আনতাম। কিন্তু সেই ক্ষমতা আমার নেই। আমি তার কাছে চির অপরাধী। জানিনা কখনো ক্ষমা পাবো কিনা, কিন্তু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকবো। আর আমার একমাত্র মেয়েকে যে করেই হোক আমার কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো। তার নিকৃষ্ট বাবার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে তার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইবো। এটাই এখন আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। "

_______________________

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ফারজাদ, শ্রেয়সী, আরমান আবরার চৌধুরী, আয়ান এবং সুমী। সেই সাথে শ্রেয়সীর বাবা আহনাফ আহমেদ চৌধুরী, তার ছেলে শ্রেয়ান, পুত্রবধূ শ্রাবণী এবং একমাত্র নাতনী আনিশা চৌধুরীও এসেছে। আনিশার বয়স সবে ১ বছর ২ মাস। আরমান আবরার চৌধুরী আহনাফ আহমেদ চৌধুরীর কাছে অনেক ক্ষমা চেয়েছেন। অনুতপ্ত হওয়াতে এবং মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি ও তার পরিবার তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। শ্রেয়সীর কোলে তাদের সদ্য জন্মানো ২৫ দিনের নবজাতক। খুবই ফর্সা এবং কোমল তুলতুলে তার দেহ। সাদা তোয়ালেতে মোড়ানো। ফারজাদ ও শ্রেয়সীর কলিজার টুকরা সে। ভালোবাসার প্রথম নিদর্শন।

সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একজনের আগমনের। এই অপেক্ষা করাতেও যেন সুখ আছে। কানাডা থেকে বিমানটা বাংলাদেশের রানওয়েতে ল্যান্ড করতেই তাদের সেই অপেক্ষা শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ারপোর্টের ভেতর থেকে লাগেজ হাতে বেরিয়ে এলো এক সুদর্শনা ষোড়শী যুবতী। তার চেহারায় এবং দেহের গড়নে ফুটে উঠেছে প্রাপ্তবয়স্কের ছাপ। প্রিয় মানুষগুলোকে দেখা মাত্রই তার আনন্দের যেন বাঁধ ভেঙে গেল। ফাইজা ছুটে এসে প্রথমে ফারজাদকে জড়িয়ে ধরলো, দুই ভাই-বোন কেঁদে কেটে একাকার। তারপর শ্রেয়সীকে, শ্রেয়সীর চোখেও পানি। শ্রেয়সীর কোলে থাকা বাচ্চাকে দেখে ফারজাদের দিকে তাকাতেই চোখ দিয়ে কিছু ইশারা করলো সে। ফাইজার আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না। সে দ্রুত বাচ্চা মেয়েটিকে কোলে তুলে আদরে আদরে ভরিয়ে তুললো।

" কত্ত সুন্দর হয়েছে আমার ভাইঝিটা! অবিকল ভাইয়া আর ভাবীর মতো হয়েছে। মাশাল্লাহ কারো নজর না লাগুক! "

আয়ান, সুমী এবং শ্রেয়সীর বাবা, ভাই ও ভাবীর সাথেও কথা বলল সে। ছোট্ট আনিশাকে আদর করলো। বাবার দিকে চোখ পড়তে কিছুটা থমকালো ফাইজা। আরমান আবরার চৌধুরী অশ্রু সিক্ত নয়নে এতক্ষণ তার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। ফাইটার সাথে চোখাচোখি হওয়া মাত্রই তিনি চোখ নামিয়ে নিয়েছেন। ফাইজা ধীরে ধীরে বাবার কাছে এগিয়ে গেল। কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বাবা বলে আচমকা তাকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আরমান আবরার চৌধুরীও কান্না আটকে রাখতে পারলেন না। বাবা-মেয়ের এমন আবেগঘন দৃশ্যে সকলের চোখে পানি এসে গেল।

মূলত আরমান আবরার চৌধুরী অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফাইজার ঠিকানা খুঁজে বের করেছেন। ফাইজা কানাডায় পার্ট টাইম জব করে একটা হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতো। অনেক কষ্টে মেয়ের সাথে যোগাযোগ করে তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে দেশে এনেছেন তিনি।

" বাবাকে ক্ষমা করেছিস তো ফাইজা? বাবার প্রতি আর রাগ নেই তো? "

ফাইজা চোখ মুছে বললো, " রাগ থাকলে কি আর দেশে ফিরে আসতাম? তোমাকে জড়িয়ে ধরে এভাবে কান্নাকাটি করতাম? "

তারপর সকলের দিকে তাকিয়ে আবেগী কণ্ঠে বললো, "এই তিনটা বছর তোমাদেরকে প্রচন্ড মিস করেছি আমি। কতটা কষ্ট পেয়েছি বলে বোঝাতে পারবো না। "

ফারজাদ এগিয়ে এসে বোনকে বুকে টেনে নিয়ে বলল, "আমিও তোকে প্রচন্ড মিস করেছি বনু। কত খুঁজেছি তোকে আমি। কিন্তু তুই একরাশ অভিমান নিয়ে আমাদের থেকে দূরে সরে গিয়েছিলি। কতটা কষ্ট পেয়ে প্রতি মুহূর্তে তোর জন্য কান্না করতাম তুই ভাবতেও পারবি না। তোর ভাবীও তোকে প্রতি মুহূর্তে মনে করে কান্না করেছে। সে পাশে না থাকলে আর আমাকে আগলে না রাখলে আজকে আমি কোনোভাবেই উঠে দাঁড়াতে পারতাম না। একজন সাক্সেসফুল পুলিশ অফিসার হতে পারতাম না। ভেঙে গুরিয়ে যাওয়া ফারজাদকে গড়ে তুলেছে শ্রেয়সী। "

ফাইজা শ্রেয়সীকে জড়িয়ে ধরে বললো, " দেখতে হবে না ভাবীটা কার!"

সকলে এবার হেসে উঠলো। ফাইজার চোখ আবারও ফারজাদ-শ্রেয়সীর বাচ্চার দিকে গেল। তাকে কোলে নিয়ে আদর করতে করতে বললো, " আমার ভাইঝির নাম কি রাখলি ভাইয়া? "

" ফারহানা চৌধুরী স্নেহা। "

" বাহ খুব চমৎকার নাম। ওকে কিন্তু সারাদিন আমার কাছেই রাখবো। আর কারো হাতে দেবো না। পুতুলের মতো করে সাজিয়ে রাখবো ওকে আর ওর সাথে খেলবো। "

সকলে ফাইজার কথায় সম্মতি জানিয়ে হেসে ফেললো।

তারপর সুমি ও আয়নের দিকে তাকিয়ে ফাইজা বললো, " আমি যাওয়ার আগে তোমাদের মধ্যে প্রেম চলছিল। এতদিনে নিশ্চয়ই বিয়েও করে ফেলেছো? বিয়ের মিষ্টি না হয় না-ই খেতে পারলাম, কিন্তু বাচ্চা হওয়ার সুসংবাদটা কবে দিচ্ছো শুনি? "

ফাইজার এমন কথায় সুমি বেশ লজ্জা পেল। আয়ান অপ্রস্তুত হয়ে বলল, " সুমি দুই মাসের প্রেগন্যান্ট। "

ফাইজা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, " তাহলে বিয়ের মিষ্টি আর বাচ্চার মিষ্টি একসাথে খাবো। কোন কিপ্টামি করা চলবে না কিন্তু ভাইয়া। "

ফাইজার কথায় আয়ান হেসে ফেললো। আরমান আবরার চৌধুরী তাড়া দিয়ে বললেন, " সব কথা কী এখানেই বলে শেষ করবে তোমরা? সন্ধ্যা হয়ে আসছে। বাড়ি চলো। বাড়িতে আজ উৎসব হবে। "

ফাইজা খুশিতে চিৎকার করে উঠলো। তারপর সকলে মিলে একটা মাইক্রো গাড়িতে উঠলো। শীতের রিক্ততা কেটে গিয়ে অনেক দিন পর বসন্তের আগমনী বার্তা পৌঁছেছে আবরার ফ্যামিলির মধ্যে। সুখ-দুঃখ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সূর্যের মতোই পালাক্রমে আসে। মেঘ আনন্দের সূর্যকে আড়াল করে রাখলেও একদিন না একদিন সেটা সরে গিয়ে সূর্যের ঝিলিক উঁকি দেয়।

চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন