ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক তোমাতে আসক্ত

২৩তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া শিমু

#এক_তোমাতে_আসক্ত

#সুমাইয়া_শিমু

#শেষ_পর্ব

_________________________

লকআপে সাদা রংয়ের নীল পাড় শাড়ি পড়ে চুল ছেড়ে বসে রয়েছে এক নারী। দুই হাতে দুই পা জড়িয়ে ধরে মাথা নিচু করে রেখেছে সে। লকাপের বাহিরে কারো পদধ্বনি শুনে চোখ তুলে তাকালো সে। দীর্ঘাঙ্গ পুরুষটিকে চিনতে তার দেরি হলো না।

" পাপ বাপকেও ছাড়ে না। এই কথাটার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ আজকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। "

ফারজাদের মুখে এমন কথা শুনে তাচ্ছিল্য ভরে হাসলো নুসরাত। তার চোখে-মুখে অনুতপ্ত অনুশোচনার বিন্দুমাত্র ছায়াপাত নেই। সে যেন নিজের পরাজয় স্বীকার করতে অপ্রস্তুত। সেটা বুঝতে পেরে ফারজাদের এখন নুসরাতের প্রতি করুণা হচ্ছে।

নুসরাত লকাপের শিকগুলো আঁকড়ে ধরে ফিসফিস করে বললো, " যতো হাসার হেসে নাও ফারজাদ। সময় আমারও একদিন আসবে। সেদিন তুমি কিংবা আরমান আবরার চৌধুরী কেউই আমার হাত থেকে রেহাই পাবে না। "

ধপ করে ফারজাদের মাথায় রাগ উঠে গেল। কিন্তু রাগটাকে যথা সম্ভব কন্ট্রোল করে সে ঠোঁটের কোণে হাসি বজায় রেখে শান্ত কণ্ঠে বললো, " আপনার প্রতি আমার ভীষণ করুণা হচ্ছে মিসেস নুসরাত। কিন্তু আপনার মতো মহিলার জন্যে করুণা করাও পাপ। আপনার পাপের কোনো সীমা নেই। সেই পাপ আপনাকে আজ এই পর্যন্ত টেনে নিয়ে এসেছে। অথচ আপনার মধ্যে অনুতাপ-অনুশোচনার বিন্দুমাত্র ছায়াপাত নেই। অবশ্য আপনার মতো মহিলার কাছ থেকে সেসব আশা করাও দায়। কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন মিসেস নুসরাত, আমি এমন ব্যবস্থা করেছি যে, আপনি যদি কখনো এই জেল-হাজত থেকে বের হয়েও যান, তবুও কখনো স্বাধীন ভাবে চলতে পারবেন না। আমৃত্যু আমার নজরদারিতে থাকবেন। বিষাক্ত ফণা তুলবার আগেই আপনার বিষ দাঁত আমি ভেঙে দেবো।"

শক্ত ও রাগান্বিত কন্ঠে কথাগুলো বলল ফারজাদ। নুসরাত ক্রোধ ভরা দৃষ্টিতে ফারজারে দিকে তাকিয়ে রইল ফারজাদ একটা হাসি দিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বললো, "বাই দ্যা ওয়ে, আপাতত আপনার কৃতকর্মের জন্য ৫ বছরের জেল জীবন উপভোগ করুন। আপনাকে নিয়ে বাকিটা পরে ভেবে দেখা যাবে। "

বলেই ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি বজায় রেখে ফারজাদ সানগ্লাস পড়তে পড়তে বেরিয়ে গেল।

___________________

" আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা। "

জানালার সামনে ছোট্ট স্নেহাকে ফিডার খাওয়াতে খাওয়াতে মিষ্টি কন্ঠে কথাগুলো আবৃত্তি করলো শ্রেয়সী। স্নেহার বয়স এখন ১ বছর ৬ মাস চলছে। আধো আধো বুলি বলতে শিখেছে আর পাপা, মা বলতে পারে। মেয়েটা দেখতে ভীষণ মিষ্টি আর মায়াবী হয়েছে। একদম বাবা-মায়ের মিক্সড পারফেক্ট কম্বিনেশন যাকে বলে!

তখনই পেছন থেকে অতি পরিচিত একটা হাত তাদের দুজনকে আলতো ভাবে জড়িয়ে ধরলো। শ্রেয়সীর মুখে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো। ছোট্ট স্নেহা পেছন ঘুরে খিল খিল করে হাসতে হাসতে বাবার কোলে যাওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো। ফারজাদ ইউনিফর্ম পড়া অবস্থাতেই স্নেহাকে কোলে তুলে নিলো।

শ্রেয়সী কপট রাখতে গিয়ে বলল, " তোমাকে না বলেছি ইউনিফর্ম খুলে ফ্রেশ হয়ে তারপর বাবুকে কোলে নিতে? আমার একটা কথা শুনলে তো? "

ফারজাদ এক হাতে কান ধরে বললো, " তোমার বকুনি না খেলে কিছুতেই এই কথাটা মনে পড়ে না! "

শ্রেয়সী এবার শব্দ করে হেসে ফেললো। মেয়েকে কোলে নিয়ে বলল, " যাও এবার ফ্রেস হয়ে এসো। আমি স্নেহাকে ঘুম পাড়িয়ে ডাইনিং টেবিলে তোমার খাবার বেড়ে দিচ্ছি। সেখানে বাবা আর ফাইজা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।"

" তুমিও ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো। আমি তো জানি আমি না খাওয়া অবধি তুমিও কিছু খাবে না। "

শ্রেয়সী মৃদু হাসলো। একটা হাসি দিয়ে নিচে চলে গেল। ফাইজা আসার পর থেকে তারা আবরার ম্যানশনে থাকা শুরু করেছে। শান্ত আর মার্জিয়াও চলে এসেছে। রহমান মিয়া তো কবে থেকেই তাদের পথ চেয়ে বসে ছিলেন। আবার সবাইকে একসাথে দেখে তার যেন খুশিতে আত্মহারা হওয়ার মতো অবস্থা। মাঝেমধ্যে আয়ান আর সুমিও বেড়াতে চলে আসে। তবে সুমীর এখন একটা ছেলে সন্তান হয়েছে। ২ মাস চলছে তার। তাই তারা সবাই মিলে মাঝেমধ্যে সুমী আর আয়ানের বাসায় ঘুরে আসে। আবার শ্রেয়সীর বাবার বাসাতেও মাঝেমধ্যেই ঘুরে আসে। তারাও শ্রেয়সীসহ প্রত্যেককে দেখতে চলে আসেন আবরার ম্যানশনে। পুরো পরিবার একসাথে হলে ভীষণ আনন্দ করে সবাই।

ফারজাদ ডাইনিং টেবিলের এক মাথায় বসলো। আরমান আবরার চৌধুরী, ফাইজা, শান্ত, রহমান মিয়া সবাই এক টেবিলে বসেছে। মার্জিয়া খাবার সার্ভ করছে। ফাইজা তাকে সাহায্য করতে চাইলেও তিনি তাকে জোর করে বসিয়ে দিয়েছেন। এই বাড়িতে প্রত্যেকে পরিবারের মতো করে থাকে। কিছুক্ষণ পরে শ্রেয়সী এসে চেয়ারে বসলো। ততক্ষণে সবার খাবার পরিবেশন করা শেষ। মার্জিয়া শ্রেয়সীকে খাবার সার্ভ করে নিজেও একটা টেবিলে বসে পড়লো।

" একটা গুড নিউজ আছে। "

ফারজাদের কথায় সবাই খাওয়া ছেড়ে তার দিকে তাকালো।

" মায়ের নামে বনানীতে যে বড় এতিমখানাটা তৈরি করতে দিয়েছিলাম, সেটা তৈরি হয়ে গিয়েছে। আগামীকাল সবাই মিলে সেটা উদ্বোধন করতে যাবো। "

ফাইজা উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো, " ওয়াও গ্রেট ভাইয়া! ট্রিট কবে দিচ্ছিস? "

" তোর বিয়ের দিন! "

" সব কথাই মজা করবি না ভাইয়া। "

ফাইজা গাল ফুলিয়ে বলল।

" মজা কিরে বনু? তুই বড় হয়েছিস তোকে বিয়ে দিতে হবে না? "

" নাহ! আমি এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না। পড়ালেখা শেষ করে দরকার হলে ঘরজামাই নিয়ে এই বাড়িতেই আজীবন থাকবো। আমার নিজের বাড়ি ছেড়ে আমি অন্য ব্যাটার ঘরে কেন থাকবো? "

সকলে ফাইজার এমন কথা শুনে হেসে ফেলল। ফারজাদ স্নেহ জড়িত কন্ঠে বলল, " তোকে আমরাও কোথাও যেতে দিচ্ছিনা বনু। তুই চলে গেলে তো এই বাড়িটাই ফাঁকা হয়ে যাবে। "

ফাইজা ইমোশনাল হয়ে গেল। আরমান আবরার চৌধুরী কিছুটা গলা খাকারি দিয়ে বললেন, " এতো ইমোশনাল কথা-বার্তা বললে আজকে রাতে তো ঘুমই হবে না আমার। তবুও আমার পরিবারটাকে একসাথে এত সুখী দেখে ভীষণ ভালো লাগছে। যদি ফারজানা বেঁচে থাকতো! "

সাথে সাথে আরমান আবরার চৌধুরীর চোখ ছল ছল হয়ে উঠলো। সকলের মুখ মুহুর্তেই কালো হয়ে গেল। শ্রেয়সী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বললো, " মা সব সময় আমাদের উপর থেকে দেখছেন। তিনি সব সময় আমাদের হাসি-খুশি দেখতে চান। তাই এভাবেই মন খারাপ করে তাকে কেউ কষ্ট দিবেন না। "

শ্রেয়সীর কথাই সবাই কিছুটা স্বাভাবিক হলো। তারপর ফরজাদ কে তার পদোন্নতির জন্য অভিনন্দন জানালো সে। একে একে সকলে তাকে অভিনন্দন জানালো।

শ্রেয়সী আবারো বললো, " আরেকটা গুড নিউজ আছে।"

সবাই আবারো খাওয়া বন্ধ করে শ্রেয়সীর দিকে তাকালো। শ্রেয়সী হাসিমুখ বজায় রেখে বললো, " দেড় বছর আগে যে আটজন দেশে-বিদেশি মাফিয়াদের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলাম আমি, সেগুলো নিয়ে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন শুরু করেছিল। আজকে তার চূড়ান্ত রেজাল্ট জানানো হয়েছে। প্রত্যেকটা ক্রিমিনালকে ধরে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে সাইদুর রহমান স্যার ফোন করে বলেছেন সবটা। এতে আমি সহ অন্যান্য যে সাংবাদিকরা এর সাথে জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে। "

ফারজাদসহ সকলে উল্লসিত হলো এই দারুণ খবরটা শুনে। তারা শ্রেয়সীকে নিয়ে গর্ব করতে লাগলো এবং তাকে প্রচুর অভিনন্দন জানালো।

_____________________

রাত তখন প্রায় আড়াইটা। আবরার ম্যানশনে লোডশেডিং চলছে। কারণ কিছুক্ষণ আগে প্রচন্ড দমকা হাওয়ার ফলে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বর্ষাকালের মাঝামাঝি বলে প্রায় সময়ই এরকম ঝড়-বৃষ্টি হয়ে থাকে। জানালার পর্দা দুই পাশে সরিয়ে ট্রাউজারের পকেটে হাত গুজে দাঁড়িয়ে রয়েছে ফারজাদ। তার এই ঝড়-বৃষ্টিময় রাতটাকেও কেমন যেন রোমান্টিক আবহের মনে হতে লাগলো। মনে হতো লাগলো এই তো সেই বৃষ্টি, যে বৃষ্টিতে শ্রেয়সীকে প্রথম দেখেছিল সে। তার রিক্ত হৃদয়ে প্রথম ভালবাসার বীজ বপন হয়েছিল সেদিন। সেই বীজ আজকে বড় হয়ে ডালপালা গজিয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে। একটা ভালোবাসাময় বৃক্ষ তার চারপাশে জড়ানো।

ইতোমধ্যে পুরো ম্যানশনে জেনারেটরের সরবরাহ চালু হয়েছে। রুম জুড়ে হালকা নীল রঙের একটা ডিম লাইট জ্বলছে। হঠাৎ কাঁধে কারো স্পর্শ পেয়ে ফিরে তাকালো ফারজাদ। লাল পাড়ের কালো শাড়ি পড়ে পেছনে দাঁড়িয়ে আছে শ্রেয়সী। কোমর সমান লম্বা বাদামি কোকড়ানো চুলগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পিঠ জুড়ে। চুলের সাথে বেলি ফুলের গাজরা লাগানো। শরীর থেকে ভেসে আসছে তীব্র বেলি ফুলের সুঘ্রাণ এত রাতে এইখানে এইরূপে শ্রেয়সীকে দেখে বেশ অবাক হলো ফারজাদ।

" তুমি এখানে? "

শ্রেয়সী ফারজাদের কাঁধে মাথা রেখে কোমল কন্ঠে বলল, " বৃষ্টি এলেই তুমি তো অন্যরকম হয়ে যাও। আমি জানি সেটা। তাই দ্রুত শাড়ি পড়ে, নিজেকে পরিপাটি করে তোমার সামনে চলে এলাম। "

ফারজাদ টেবিল থেকে কয়েকটা পেপার এনে শ্রেয়সীর হাতে দিলো। শ্রেয়সী সেগুলো হাতে নিয়ে ফারজাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, " এগুলো কী ফারজাদ?"

" সুইজারল্যান্ডের টুরিস্ট ভিসা ও পাসপোর্ট। "

শ্রেয়সী অবাক হয়ে ফারজাদের দিকে তাকিয়ে রইলো।

ফারজাদ মুচকি হেসে বললো, " মালদ্বীপ যাওয়ার আগে কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে তুমি আমাকে একটা কথা বলেছিলে মনে আছে শ্যালু? "

শ্রেয়সী ভাবনায় নিমজ্জিত হলো। ফারজাদ আবার বলতে শুরু করলো, " আমি তোমাকে হানিমুনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। তখন তুমি কোথায় যেতে চাও জিজ্ঞেস করেছিলাম। তুমি বলেছিলে তোমার ড্রিম কান্ট্রি সুইজারল্যান্ড। কিন্তু সেখানে তুমি তখন যেতে চাওনি। তুমি চেয়েছিলে তুমি, আমি এবং আমাদের ছোট্ট সোনামণি একসাথে সেখানে যাবো। আমাদের ছোট্ট সোনামণি পৃথিবীতে এসে গেছে। আমাদের পরিবার সম্পূর্ণ হয়েছে। এখনই তোমার ড্রিমল্যান্ড যাওয়ার উপযুক্ত সময়। আমি তোমার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।"

শ্রেয়সী আবেগে ফারজাদকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো। ফারজাদ মৃদু হেসে শ্রেয়সীর মাথায় হাত রাখলো। তারপর মৃদু কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো, " স্নেহা কোথায়? "

" ওকে ওর একমাত্র ফুপি নিয়ে গেছে। বললো আজকে ওকে নিয়ে ঘুমাবে। "

ফারজাদ হাসলো। শ্রেয়সীকে সামনে এনে দুচোখ ভরে তাকে কতক্ষণ দেখে নিলো। তারপর তীব্র আবেগঘন কন্ঠে আবৃত্তি করতে লাগলো,,,,

" তোমাকে দিলাম হৃদয়ের জমি ___বুকের পাঁজর___মনের ক্ষত _____

তোমাকে দিলাম আমাকে আমি _____

সুখ-দুঃখ-স্বপ্ন যতো ___

আমাকে রেখো, আমার থেকো ____যতদূর যাও আমাকে নিয়ো _____

তোমাকে দিলাম বন্ধু আমার ____ফুল-পাখি-নদী, যা কিছু প্ৰিয় ____!!! "

শ্রেয়সী মুগ্ধ হয়ে শুনলো ফারজাদের ভালোবাসাময় অভিব্যক্তিগুলো। সে আলতো করে ফারজাদের বুকে মাথা রেখে আবেগ জড়ানো বললো, " ভালোবাসি প্রিয়! ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি! "

" আমিও! ভীষণ ভালোবাসি তোমায়। যতটা ভালবাসলে নিজেকে হারানো যায়, ঠিক ততটা। "

তারপর একটু থেমে বললো, " বৃষ্টি বিলাস করবে? প্রথম যেদিন দেখেছিলাম তোমায়, সেদিন একা একা বৃষ্টি বিলাস করছিলে। আজকে না হয় আমি তোমার সঙ্গী হলাম? "

শ্রেয়সী খুশি হয়ে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। আবরার ম্যানশনের ছাদে গিয়ে দুজন পরম উল্লাসে বৃষ্টি-বিলাস করতে লাগলো। এ যেন ভালোবাসায় মোড়ানো প্রণয়াসক্ত কোনো এক রজনী! ফারজাদ-শ্রেয়সী দুজন দুজনের কপালে কপাল থেকে চুপ করে রইলো। দুজনের কেউ কোনো কথা বলছে না। অথচ মনে মনে যেন আদান-প্রদান হয়ে যাচ্ছে হাজারো কথার ফুলঝুরি। হঠাৎ এই বিজলী চমকানোর আওয়াজে শ্রেয়সী শক্ত করে ফারজাদকে জড়িয়ে ধরলো। তার বুকে মাথা রেখে পরম শান্তিতে উষ্ণতা অনুভব করতে লাগলো।

শ্রেয়সীর পাতলা, গোলাপি ঠোঁটে ফারজাদ নিজের মসৃণ ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। তারপরে তার দিকে নেশাযুক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবেগ মাখা কন্ঠে ফিসফিস করে বললো, "ঠিক এইভাবে অনন্তকাল তোমাকে নিজের বুকের মাঝে জড়িয়ে রাখবো। আগলে রাখবো সমস্ত পৃথিবীর কাছ থেকে। আমি #এক_তোমাতে_আসক্ত ছিলাম, আছি আর চিরকাল থাকবো। প্রচন্ড ভালোবাসি তোমায়। প্রাণের চেয়ে প্রিয় তুমি। থাকবে তো আমার হয়ে? "

শ্রেয়সী ঘন নিঃশ্বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে পরম আবেগী কণ্ঠে বলে উঠলো, " আমিও তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি ফারজাদ। নিজের থেকেও হাজার গুণ বেশি। আমি তোমার ছিলাম, আছি আর চিরকাল থাকবো। কারণ আমি যে #এক_তোমাতে_আসক্ত!"

( #এক_তোমাতে_আসক্ত গল্পের সমাপ্তি এখানেই। গল্পটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা ছিলেন তাদের জন্য রইলো প্রাণঢালা ভালোবাসা এবং অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করি আমার পরবর্তী গল্পগুলোর জন্য এভাবেই আপনাদের রেসপন্স পাবো 😌🥰)

___________সমাপ্ত____________

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন