ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে

১ম পর্ব

লেখক: সালমা চৌধুরী

#গল্প_আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে

#সিজন_০২ #পর্বঃ০১

#লেখিকা:ফারজানা মনি

#𝐒𝐭𝐨𝐫𝐲_𝐨𝐟_𝐰𝐚𝐡𝐢𝐝_𝐬𝐢𝐤𝐝𝐞𝐫

খান বাড়িতে আজ খুশির জোয়ার আজ খান আজ রনির জোয়ান্ডালোবাসি বাড়ির মেজো কর্তা মোজাম্মেল খানের একমাত্র ছেলে তানবির খানের বিয়ে। খান বাড়ির প্রতিটি কোনায় কোনায় আজ আলোকসজ্জায় সজ্জিত। অনুষ্ঠানের কোথাও কোনো কৃপণতা রাখে নি আলি আহমদ খান এবং মোজাম্মেল খান

বাড়িতে বিয়ের আমেজ কিন্তু বাড়ির বড় ছেলে সাজ্জাতুল খান আবিরের কোনো খবর নাই তার ফোনটাও বন্ধ সকাল থেকে মেঘ বার বার আবিরকে কল দিছে, কিন্তু কোনো খবর নেই আবিরের রুমের মাঝেই পায়চারি করছে মেঘ কয়েকদিন ধরেই মেঘের শরীর টা ভালো নেই, আবিরকে তা জানানো হয়নি আবির খুবই ভালোবাসে মেঘকে মেঘ চায় না আবির শুধু শুধু মেঘকে নিয়ে চিন্তা করুক কিন্তু আজ শরীর টা একটু বেশিই খারাপ তার মাঝেই বড় ভাই তানভীর এবং নিজের সবচেয়ে কাছের বান্ধবী বন্যার বিয়ে তানবীরের ডাকে হঠাৎ মেশের মৃত্যু ভালোবাসি ধ্যান ভাঙলো মেঘের..

বনু...

~ হুম ভাইয়া...

~ ভাইয়ার কোনো খবর পাওয়া গেলো??

~ না ভাইয়া... তুমি একটু রাকিব আর রাসেল

ভাইয়াকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করো, তারা কিছু জানে কিনা...

~ঠিক আছে.. তুই টেনশন করিস না। ভাইয়া চলে আসবে।

~ হুম...

মেঘ বেলকনির কাছে গেল.. নিচের দিকে তাকিয়ে আবিরের আসার অপেক্ষা করছে হঠাৎ পূর্বের কিছু কথা মনে পরতেই মেঘ একা একা হাসতে থাকলো আর বলল: আমি মাহদিবা খান মেঘ.. মোজাম্মেল খানের একমাত্র রাজকন্যা। তানভীর খানের একমাত্র চোখের মনি। এই বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কতই না রাত জেগেছি আমার আবির ভাইয়ের জন্য হু. আমার আবির "। আজ কোনো লুকোচুরি নেই। নেই কোনো দিধা। " আমার আবির... আমার আবির... আমার আবির" চাচাতো ভাইয়ের জন্য কতই না পাগলামি করেছি আজ আমি তাকে পেয়ে পরিপূর্ণ আমার জীবনের উপহার হলো আবির ভাইয়ের মতো একজন স্বামী পাওয়া আজ আবির ভাইয়ের পুরোনো একটা চিঠি খুব করে মনে পরছে... নীল দিগন্তের ওই উড়ন্ত মেঘেরা জানে.. কত সপ্ন উড়িয়েছি বেনামি খামে.. হঠাৎ ফোনের টুং টাং শব্দে ধ্যান ভঙ্গ হলো মেঘ। দেখল আবির নামে সেইভ করা নাম্বার থেকে মেসেজ। মেঘ মুচকি হেসে মেসেজটি পড়া শুরু করল..

" মেম... সরি, এতোটা টেনশন দেওয়ার জন্য, আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম "

মেঘ বিছানায় গিয়ে বসতেই মনে হলো সারা রাজ্যের শান্তির ঘুম তার চোখেই নেমে এসেছে শশুর শেষে ভালোবাসি শরীরটা বড্ড বেশি দূর্বল তাই মেঘ মেঘ শুয়েই

ঘুমিয়ে পড়লো

এদিকে হঠাৎ ফোনের টুং টাং শব্দ শুনে ফোন টা হাতে নিল বন্যা।

মনে আওবালো আম লাজুক হেসে মনে মনে আওরালো "আমার ভিলেন"

বন্যা-হ্যালো

তানভীর ~ নীল দিগন্তের নীলাঞ্জনা..

চোখ দুটো টানা টানা..

কপালের ওই টিপ যেন জোনাকির ওই

দীপ..

তোমার প্রেমে আমি পড়েছি তুমি করোনা মানা বন্যা~ওই ভিলেন... আজ বড্ড শখ জেগেছে

বুঝি?

তানভীর~ একটু হলেতো দোষ নেই কোথাও..

৫১% ভিলেন আর ৪৯% হিরো চলবে?

চলবে..

#গল্প_আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে

#সিজন_০২ #পর্বঃ০২

#লেখিকা:ফারজানা মনি

#𝐒𝐭𝐨𝐫𝐲_𝐨𝐟_𝐰𝐚𝐡𝐢𝐝_𝐬𝐢𝐤𝐝𝐞𝐫

বন্যা:হুম বুঝেছি.. মেরি ভিলেন।

তারপর তানভীর স্বাভাবিক কন্ঠে বলল:

কী করছো?

বন্যা জানালো "তেমন কিছুনা"

তানভীর:ওকে তাহলে এখনি তোমাদের গলির

মুখের মোখলেছ দাদার দোকানের সামনে এসো..

বন্যা:কেন? আর এখন তো মাত্র ভোর ছয়টাবাজে.. কেউ দেখলেই হাজারটা প্রশ্ন করবে, বলবে এতো সকালে কোথায় যাচ্ছি!

তানভীর: প্লিজ বন্যা.. আজ অন্তত তোমার ম্যাচিউর চিন্তা-ভাবনা ছেড়ে মন ও আবেগের কাছে ধরা দাও..

বন্যা: এখানে ম্যাচিউর চিন্তার কী আছে?

বাড়িতে বিয়ে.. আত্মীয় স্বজনরা সবাই একেকজন একেক স্থানে ঘুমিয়ে আছে যদি বের হতে ধরা পড়ে যাই..

তানভীর:প্লিজ বন্যা একটু তাড়াতাড়ি এসো। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো বড় আব্বু, আমার খোঁজ করবে। আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে। প্লিজ তাড়াতাড়ি এসো।

বন্যা একটু ভেবে বললো, আসছি..

ফাগুন মাস..কোকিলের মিষ্টি সুর ভেসে আসছে, হালকা মৃদু মৃদু বাতাস বইছে.. হঠাৎ এক অপরূপা সুন্দরী এসে তানভীরের সামনে দাড়ালো, পড়নে তার হলুদ লাল পাড়ে শাড়ি , চোখে গাঢ় কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক, তার চুল গুলো ফাগুনের হাওয়ায় মৃদু মৃদু দুলছে। আলতা রাঙা পায়ে সামনে এগিয়ে এসে বলল: কী হয়েছে?

তানভীর:"আমার বসন্ত এসে গেছে"

বন্যা লাজুক হাসলো।

তানভীরের চোখ যেন আজ বন্যার লাজুক চেহারা থেকে সরছেই না। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় বন্যাকে আজ একটু বেশিই আদুরে লাগছে। হঠাৎ সাকিবের ডাকে ধ্যান ভাংলো তানভীরের। ভাইয়া.. ভাবিকে দেখে টাস্কি খেয়ে জ্ঞান হাড়ানোটা রাতের জন্য জমিয়ে রেখো। পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস রচিত হবে, খান বাড়ির মেজো ছেলে তার বেগমের সৌন্দর্য দেখে বাসর রাতে জ্ঞান হাড়িয়েছে।

বলেই সাকিব হো-হো করে হাসতে লাগলো।

তানভীর সাকিবকে এক ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিলো। বন্যার দিকে তাকিয়ে দেখলো,, বন্যা লজ্জায় শাড়ির আঁচল খামচে ধরে দাড়িয়ে আছে।

তানভীর সাকিবকে শক্ত কন্ঠে বললো:

তুই এখানে অপেক্ষা কর। আমি বন্যার সাথে একটু কথা বলেই আসছি..

একটু সামনে এগোতেই সাকিব ডাকলো....

তানভীর ভাইয়া.. রাতের জন্য বাসরটা বাঁচিয়ে রেখো নাহলে বাসর ঘরের ফুলগুলো যে কষ্ট পাবে।

তানভীর কটমট করে সাকিবের দিকে তাকালো।

পাশেই দেখলো একটা নোংরা ছেড়া জুতা পড়ে আছে। সেটা হাতে নিয়েই সাকিবকে ছুঁড়ে মাড়লো।

বন্যাকে বললো: চলো... ওর কথায় কান দিয়ো না।

বন্যা: কোথায়?

তানভীর:এখানেই বেশি দূর না।

তানভীর বন্যাকে নিয়ে কাছাকাছি একটা লেকের পাড়ের টেবিলে বসলো। দুজন বসে আছে। আজ যেন কারো মুখে কোনো কথা নেই । কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বন্যা-ই প্রথমে মুখ খুললো। বলল: মেঘ কেমন আছে?

তানভীর: ভালো।

বন্যা খেয়ার করলো তানভীর বারবার আড় চোখে তার দিকে তাকাচ্ছে। সে লজ্জায় আর একটু গুটিয়ে গেল।

বন্যা কাঁপা কন্ঠে আবার বলল: কেন আসতে বলেছেন?

তানভীরের সহজ স্বীকারোক্তি: এমনি তোমায় দেখতে।

বন্যা:ওহ্হ্.. তাহলে দেখা শেষ হলে আমি আসি।

বলেই বন্যা বসা থেকে উঠে এককদম সামনে বাড়ালো। হঠাৎ তানভীর তার এক হাত ধরে টান দিল। বন্যা পিছন ফিরে দেখল তানভীর তার বা হাত ধরে নিচে হাঁটু গেড়ে বসে আছে।

বন্যা অবাক লোচনে তানভীরকে দেখছে। হঠাৎ তানভীরের নিশাক্ত কন্ঠের বাণী শুনে বন্যা হুস ফিরে পেল।

তানভীর:বন্যা ... আজ তোমাকে কতটা সুন্দর লাগছে তা কী তুমি জানো? মনে হচ্ছে এই আগুন ভরা ফাগুনে আমার সামনে এক হলুদিয়া পাখি দাঁড়িয়ে আছে। যতবার তোমাকে দেখি আমার হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়। এমন তো কখনো হয় না, অন্য কাউকে দেখার পরে ।আমার থেকে দূরে যেওনা। তোমাকে আমার কসম, নিজের থেকেও তোমাকে বেশি ভালোবাসি আমার হলুদিয়া পাখি। একবার কবুল করে দেখো ছেড়ে যাবোনা কখনো।

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বন্যা বলল, আলহামদুলিল্লাহ কবুল... বলেই বন্যা ছুটে বাড়ির দিকে পালালো।

তানভীর বিভোর দৃষ্টিতে বন্যার লাজুক হয়ে ছুটে যাওয়ার দিকে দেখছে।

বন্যা বাড়ির সামনে এসে থামলো। হঠাৎ তার মনে হচ্ছে হাতটা যেন একটু ভাড়ি হয়ে আছে। হাতের দিকে তাকাতেই বন্যা বিশ্বময়ের চরম আশচর্যে পৌঁছে গেছে। এটা কী দেখছে সে.. নিজের চোখকে যেন আজ বিশ্বাস হচ্ছে না। তার হাতে একটা সোনার আংটি জ্বলজ্বল করছে। আর হাতে মেহেদী দিয়ে লেখা "তানভীর "

বন্যা তানভিরের কথায় এতোটাই বিভোর ছিল যে সে দেখেইনি হাতে কী করছে তানভীর।

বন্যা আজ যেন বারবার লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।

হাতটাকে শাড়ির আঁচলের নিচে লুকিয়ে বন্যা বাড়ির ভিতরে ঢুকালো।

পরবর্তী পর্বগুলো পেতে চাইলে আমার পেজটি কে ফলো দিয়ে পাশে থাকুন।

#গল্প_আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে

#সিজন_০২ সম্পূর্ণ লিংক 📌

#লেখিকা:ফারজানা মনি

#𝐒𝐭𝐨𝐫𝐲_𝐨𝐟_𝐰𝐚𝐡𝐢𝐝_𝐬𝐢𝐤𝐝𝐞𝐫

https://www.facebook.com/61576864876453/posts/122106818696895495/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

#গল্প_আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে

#সিজন_০২ #পর্ব_৩

#লেখিকা:ফারজানা মনি

#𝐒𝐭𝐨𝐫𝐲_𝐨𝐟_𝐰𝐚𝐡𝐢𝐝_𝐬𝐢𝐤𝐝𝐞𝐫

বন্যা বাড়িতে ঢুকে খেয়াল করলো সবাই জেগে আছে। বাড়ির মহিলারা বিয়ের কাজে বেস্ত বন্যা চুপিচুপি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠা ধরতেই হঠাৎ তার বোনের ডাকে থমকে দাঁড়ালো। বন্যার বোন সামনে এসে বলল:কিরে এত সকালে কোথায় গিয়েছিলি??

বন্যা:না..মানে.. ইয়ে..এখানেই.. কোথায়ও যাইনি তো। আমি তো এখানেই ছিলাম।

আপু মুখটাকে একটু কঠোর করে শক্ত কন্ঠে

বলল: ওহহ.. তোর হাতে কী হয়েছে?

বন্যা:কই কিছু না তো।

আপু:দেখি কী হয়েছে হাতে?

বন্যা কিছু না বলেই দৌড়ে পালালো রুমের দিকে পিছন থেকে আপু হাতে তানভির নামটা দেখে মুচকি হাসলো যা বন্যার চোখের আড়ালেই রয়ে গেল।

কিন্তু অন্যদিকে আরেক জোড়া চোখ বন্যার সকল কর্মকান্ড লক্ষ করলো। গতকাল বিকেলে বন্যার মামা খালারা সবাই এসেছে। এইযে একটু আগে বন্যার মামাতো ভাই বন্যাকে দেখছিল মনে হয় কাঁচা চিবিয়ে খাবে । কিন্তু এসব কিছু বন্যার অজানাই রয়ে গেল।

বেলা ৯ টা বাজে... পূর্ব দিগন্তের সূর্য চারদিকে আলো ছড়িয়ে তার কাজ সমাপ্ত করায় ব্যস্ত। ঠিক তখনি খান বাড়ির গেইট দিয়ে আবিরের বাইকটি প্রবেশ করলো।

আবিরের সাথে আরিফ ও এসেছে। আরিফের দুই হাত ভরা মিষ্টি।

আবির:আম্মু.. মামনি..কাকিয়া..কোথায় তোমরা?

আবিরের কন্ঠ শোনা মাত্রই রান্নাঘর থেকে মালিহা খান, হালিমা খান, আকলিমা খান ছুটে আসলো। তারা কিছু বলার আগেই আলি আহমেদ খানের গম্ভীর সুর শোনা গেল।

~কোথায় গিয়েছিলে? আর রাতে বাড়ি কেনো ফেরোনি? আবির... আমি কিন্তু এখনো বেঁচে আছি।

আবির গতকাল সারারাত ঘুমাইনি। তার চোখ ঘুমে জলছে । তার মাঝে আব্বুর এসব কথা শুনে রাগে চক্ষু রক্ত লাল হয়ে গেছে।

কিন্তু রাগটাকে গিলে বলল:হাসপাতালে ছিলাম। গতকাল রাতে রাকিবের ছেলে হয়েছে সেখানেই ছিলাম।

আলি আহমেদ খান কিছুক্ষণ চুপ থেকে

বলল:হাসপাতালে ছিলে ভালো কথা।

কিন্তু একটা ফোন দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলে না। তুমি কী জানো গতকাল মেঘ মামুনি মাঝ রাত পর্যন্ত তোমার আসার অপেক্ষা করেছে। আমি রাত দুইটায় নিজ কিছু প্রয়োজনে রুম থেকে বের হই আর তখন দেখি মেঘ মামুনি দোতলার সিড়ির কাছে দাঁড়িয়ে আছে। অন্তত মেয়েটাকে তো জানাতে পারতে।

আবির: ফোনে চার্জ ছিল না। আমি ক্লান্ত উপরে যাচ্ছি।

বলেই আবির বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল। এদিকে আরিফ মিষ্টিগুলো মালিহা খানের হাতে দিয়ে সবাইকে মিষ্টিমুখ করাতে বলল।

আরিফের দুচোখ তো অন্য আরেক জোড়া চোখ খুজতে ব্যস্ত। তাই সে ছাদের দিকে ছুটে চলল।

আবির রুমের ভেতর ঢুকে দেখল মেঘ ঘুমাচ্ছে।

আস্তে আস্তে সামনে গিয়ে মেঘের মুখের দিকে ঝুঁকে দাঁড়াল। আর ফিসফিস করে বলল:কী এক অদ্ভুত মায়া আমার কাদম্বিনীর মুখে। যা দেখে এই আবিরের হৃদয় থমকে যায় বারংবার।

আবির একটু ঝুঁকে মেঘের কপালে চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়ালো আর ফ্রেস হতে চলে গেল।

কিছুক্ষণ পর আবির গোসল সেরে রুমে ঢুকতেই দেখলো, মেঘ ঘুমু ঘুমু চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আবির চুল মোছা বাদ দিয়ে গলায় টাওয়াল ঝুলিয়ে মেঘের সামনে এসে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসলো। বিছানার আধো আধো ঘুম নিয়ে বসে থাকা মেঘের হাত ধরে বলল:

মেম... আপনি কী রাগ করেছেন?

মেঘ:আহিয়ার আব্বু আপনি এসেছেন? কাল রাতে কত চিন্তায় ছিলাম।

আবির:সরি ম্যাম... আসলে গতকাল রাতে তানভীরের গায়ে হলুদের পর ভাবলাম অফিসে যাই কিছু জরুরি ডকুমেন্ট নিয়ে আসি।

এমনিতেই তানভীরের বিয়ের চক্করে গত ১ সপ্তাহ ঠিক মতো অফিসে যেতে পারি নি। আগামী সোমবার একটা ক্লাইন্ট মিটিং আছে। তাই ভাবলাম বাকি কাজটা বাড়িতেই সেড়ে নিবো। আমি পৌছানোর পরপরই রাকিবের কল আসলো বলল তারাতারি হাসপাতালে যেতে । রিয়ার ব্যাথা উঠেছে। সিজারের আগে ব্লাড লাগবে। রাকিবের সাথে আগেই কথা ছিল রিয়ার ব্লাড লাগলে আমি দিব। কারণ আমাদের ব্লাড গ্রুপ একরকম। তাই তখনই ছুটে যাই হাসপাতালে। ব্লাড দেই আর রিয়া রাকিবের ফুটফুটে একটা ছেলে বাবু হয়েছে জানো।

ফোনে চার্জ ছিলনা। তাই তোমাকে সাথে সাথে জানাতে পারি নি। সেখানের ঝামেলা শেষ করে ডিরেক্ট অফিসে যাই, তোমাকে মেসেজ দেই।

তারপর বাকি কাজ সেরে এখন ফিরলাম।

বুঝছেন ম্যাম...

চলবে...

পরবর্তী পর্বগুলো পেতে হলে পেজটি ফলো দিয়ে পাশে থাকুন।

#গল্প_আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে

#সিজন_০২ সম্পূর্ণ লিংক 📌

#লেখিকা:ফারজানা মনি

#𝐒𝐭𝐨𝐫𝐲_𝐎𝐟_𝐖𝐚𝐡𝐢𝐝_𝐒𝐢𝐤𝐝𝐞𝐫

সম্পূর্ণ গল্পের লিংক👇https://www.facebook.com/61576864876453/posts/122106818696895495/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

#গল্প_আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে

#সিজন_০২ #পর্বঃ০৪

#লেখিকা:ফারজানা মনি

#𝐒𝐭𝐨𝐫𝐲_𝐎𝐟_𝐖𝐚𝐡𝐢𝐝_𝐒𝐢𝐤𝐝𝐞𝐫

মেঘ:হুম আপনি রেস্ট নিন। আমি ব্রেকফাস্ট নিয়ে আসছি।

আবির: মেঘ তোকে এখন কোথাও যেতে হবে না। আমি অফিস থেকে ব্রেকফাস্ট করেই এসেছি। মাত্র ১রাত বাড়িতে ছিলাম না। চোখে মুখের কী অবস্থা করেছিস তুই। তুই কী আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবি না?

মেঘ নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল:

আবির ভাই... আপনি প্লিজ রাতে কোথাও যাবেন না। আমার অনেক একা একা লাগে।

কিচ্ছু ভালো লাগে না। আবির মেঘের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল : আচ্ছা যাব না। এখন তো একটু বুকে আসেন। আপনাকে ছাড়া আমার বুকটা যে মরুভূমির মতো শুকিয়ে আছে। মেঘ তখনই আবিরের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

আবির মেঘের হঠাৎ কর্মকান্ডে দু'কদম পিছিয়ে গেল। তারপর মেঘকে বুকের মাঝে লুকিয়ে নিল আবির।

আবির: মেঘ... তুই কী জানিস, তোকে ভালোবাসার তৃষ্ণা

আমার এ জনমে মিটবে না,

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোকে ভালোবাসবো... আমৃত্যু ভালোবাসবো.....!

যদি মৃত্যুর পরেও কোন জনম থাকে তখনও,, তোর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তোর পিছু নিব।

মেঘ:আমিও ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি।

আরিফ ছাদে গিয়ে কাউকেই দেখতে পেল না।

তাই তারাতাড়ি সিড়ি দিয়ে নেমে নিচে আসছে।

এতটাই তাড়াতাড়ি যে সামনে এক কিশোরী বেয়ে উপরে উঠছে তা খেয়ালই করেনি। মিম সামনে পড়ায় আরিপ ভড়কে গেল। নিজের ব্যালেন্স ঠিক না রাখতে পেরে কিছুটা সামনে ঝুঁকে গেল। তখনই মিম আরিফের বুকে দু হাত রেখে তাকে আটকে দিল। মিমের এমন মুহূর্তের জন্য মনে হলো তার সারা শরীরে বিদ্যাৎ খেলে গেল। কিশোরীর মন শিহরিত হয়ে সারা শরীর কাপছে। আরিফ আজ যেন বোকা হয়ে গেছে।

তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত তোলপাড় হচ্ছে। যা হয়তো ওই পাশের কিশোরী বুঝতেই পারলো না। হঠাৎ নিচ থেকে মেঘের ডাক শুনে ওরাহয়তো ওই পাশের কিশোরী বুঝতেই পারলো না। হঠাৎ নিচ থেকে মেঘের ডাক শুনে দুজন সোজা হয়ে দাড়ালো। কিন্তু এখনো মিমের দু'হাত আরিফের বুকে। মীম হুস ফিরে পেতেই হাত সরাতে চাইলো। কিন্তু আরিফ তার বা বুকে রাখা মিমের হাত খপ করে ধরে বুকের বা পাশে চেপে ধরলো। আর বলল: প্রেয়সি তুমি কী শুনতে পাচ্ছো এই হৃদয়ের ধুকপুকানি মিম যেন আজ শীতল হয়ে জমে গেছে আরিফের ছোয়া পেয়ে। সে স্তব্দ, নির্বাক। তার কানে আরিফের কথাগুলো হয়তো পৌছায়নি।

আবার মেঘের ডাক ভেসে আসতেই মিম হন্তদন্ত হয়ে নিচে নামলো।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন