#গল্প_আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে
#সিজন_০২ #পর্বঃ০২
#লেখিকা:ফারজানা মনি
#𝐒𝐭𝐨𝐫𝐲_𝐨𝐟_𝐰𝐚𝐡𝐢𝐝_𝐬𝐢𝐤𝐝𝐞𝐫
বন্যা:হুম বুঝেছি.. মেরি ভিলেন।
তারপর তানভীর স্বাভাবিক কন্ঠে বলল:
কী করছো?
বন্যা জানালো "তেমন কিছুনা"
তানভীর:ওকে তাহলে এখনি তোমাদের গলির
মুখের মোখলেছ দাদার দোকানের সামনে এসো..
বন্যা:কেন? আর এখন তো মাত্র ভোর ছয়টাবাজে.. কেউ দেখলেই হাজারটা প্রশ্ন করবে, বলবে এতো সকালে কোথায় যাচ্ছি!
তানভীর: প্লিজ বন্যা.. আজ অন্তত তোমার ম্যাচিউর চিন্তা-ভাবনা ছেড়ে মন ও আবেগের কাছে ধরা দাও..
বন্যা: এখানে ম্যাচিউর চিন্তার কী আছে?
বাড়িতে বিয়ে.. আত্মীয় স্বজনরা সবাই একেকজন একেক স্থানে ঘুমিয়ে আছে যদি বের হতে ধরা পড়ে যাই..
তানভীর:প্লিজ বন্যা একটু তাড়াতাড়ি এসো। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো বড় আব্বু, আমার খোঁজ করবে। আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে। প্লিজ তাড়াতাড়ি এসো।
বন্যা একটু ভেবে বললো, আসছি..
ফাগুন মাস..কোকিলের মিষ্টি সুর ভেসে আসছে, হালকা মৃদু মৃদু বাতাস বইছে.. হঠাৎ এক অপরূপা সুন্দরী এসে তানভীরের সামনে দাড়ালো, পড়নে তার হলুদ লাল পাড়ে শাড়ি , চোখে গাঢ় কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক, তার চুল গুলো ফাগুনের হাওয়ায় মৃদু মৃদু দুলছে। আলতা রাঙা পায়ে সামনে এগিয়ে এসে বলল: কী হয়েছে?
তানভীর:"আমার বসন্ত এসে গেছে"
বন্যা লাজুক হাসলো।
তানভীরের চোখ যেন আজ বন্যার লাজুক চেহারা থেকে সরছেই না। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় বন্যাকে আজ একটু বেশিই আদুরে লাগছে। হঠাৎ সাকিবের ডাকে ধ্যান ভাংলো তানভীরের। ভাইয়া.. ভাবিকে দেখে টাস্কি খেয়ে জ্ঞান হাড়ানোটা রাতের জন্য জমিয়ে রেখো। পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস রচিত হবে, খান বাড়ির মেজো ছেলে তার বেগমের সৌন্দর্য দেখে বাসর রাতে জ্ঞান হাড়িয়েছে।
বলেই সাকিব হো-হো করে হাসতে লাগলো।
তানভীর সাকিবকে এক ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিলো। বন্যার দিকে তাকিয়ে দেখলো,, বন্যা লজ্জায় শাড়ির আঁচল খামচে ধরে দাড়িয়ে আছে।
তানভীর সাকিবকে শক্ত কন্ঠে বললো:
তুই এখানে অপেক্ষা কর। আমি বন্যার সাথে একটু কথা বলেই আসছি..
একটু সামনে এগোতেই সাকিব ডাকলো....
তানভীর ভাইয়া.. রাতের জন্য বাসরটা বাঁচিয়ে রেখো নাহলে বাসর ঘরের ফুলগুলো যে কষ্ট পাবে।
তানভীর কটমট করে সাকিবের দিকে তাকালো।
পাশেই দেখলো একটা নোংরা ছেড়া জুতা পড়ে আছে। সেটা হাতে নিয়েই সাকিবকে ছুঁড়ে মাড়লো।
বন্যাকে বললো: চলো... ওর কথায় কান দিয়ো না।
বন্যা: কোথায়?
তানভীর:এখানেই বেশি দূর না।
তানভীর বন্যাকে নিয়ে কাছাকাছি একটা লেকের পাড়ের টেবিলে বসলো। দুজন বসে আছে। আজ যেন কারো মুখে কোনো কথা নেই । কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বন্যা-ই প্রথমে মুখ খুললো। বলল: মেঘ কেমন আছে?
তানভীর: ভালো।
বন্যা খেয়ার করলো তানভীর বারবার আড় চোখে তার দিকে তাকাচ্ছে। সে লজ্জায় আর একটু গুটিয়ে গেল।
বন্যা কাঁপা কন্ঠে আবার বলল: কেন আসতে বলেছেন?
তানভীরের সহজ স্বীকারোক্তি: এমনি তোমায় দেখতে।
বন্যা:ওহ্হ্.. তাহলে দেখা শেষ হলে আমি আসি।
বলেই বন্যা বসা থেকে উঠে এককদম সামনে বাড়ালো। হঠাৎ তানভীর তার এক হাত ধরে টান দিল। বন্যা পিছন ফিরে দেখল তানভীর তার বা হাত ধরে নিচে হাঁটু গেড়ে বসে আছে।
বন্যা অবাক লোচনে তানভীরকে দেখছে। হঠাৎ তানভীরের নিশাক্ত কন্ঠের বাণী শুনে বন্যা হুস ফিরে পেল।
তানভীর:বন্যা ... আজ তোমাকে কতটা সুন্দর লাগছে তা কী তুমি জানো? মনে হচ্ছে এই আগুন ভরা ফাগুনে আমার সামনে এক হলুদিয়া পাখি দাঁড়িয়ে আছে। যতবার তোমাকে দেখি আমার হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়। এমন তো কখনো হয় না, অন্য কাউকে দেখার পরে ।আমার থেকে দূরে যেওনা। তোমাকে আমার কসম, নিজের থেকেও তোমাকে বেশি ভালোবাসি আমার হলুদিয়া পাখি। একবার কবুল করে দেখো ছেড়ে যাবোনা কখনো।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বন্যা বলল, আলহামদুলিল্লাহ কবুল... বলেই বন্যা ছুটে বাড়ির দিকে পালালো।
তানভীর বিভোর দৃষ্টিতে বন্যার লাজুক হয়ে ছুটে যাওয়ার দিকে দেখছে।
বন্যা বাড়ির সামনে এসে থামলো। হঠাৎ তার মনে হচ্ছে হাতটা যেন একটু ভাড়ি হয়ে আছে। হাতের দিকে তাকাতেই বন্যা বিশ্বময়ের চরম আশচর্যে পৌঁছে গেছে। এটা কী দেখছে সে.. নিজের চোখকে যেন আজ বিশ্বাস হচ্ছে না। তার হাতে একটা সোনার আংটি জ্বলজ্বল করছে। আর হাতে মেহেদী দিয়ে লেখা "তানভীর "
বন্যা তানভিরের কথায় এতোটাই বিভোর ছিল যে সে দেখেইনি হাতে কী করছে তানভীর।
বন্যা আজ যেন বারবার লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।
হাতটাকে শাড়ির আঁচলের নিচে লুকিয়ে বন্যা বাড়ির ভিতরে ঢুকালো।
পরবর্তী পর্বগুলো পেতে চাইলে আমার পেজটি কে ফলো দিয়ে পাশে থাকুন।
#গল্প_আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে
#সিজন_০২ সম্পূর্ণ লিংক
#লেখিকা:ফারজানা মনি