# আমার স্বপ্ন তুই
# অজান্তা আফরিন
# পব'সংখ্যা ২
.... Mr.আরিয়ান সিকদার মেয়ে টার মাথায় অনেক ব্লিডিং হয়েছে আর কোন সমস্যা নেই। কিছুক্ষণ পর মেয়েটিকে নিয়ে যেতে পারবেন। All the best ,
কোনো টেনশন করবেন না Mr.আরিয়ান সিকদার আপনার wife ঠিক হয়ে যাবে, এই বলে ডাঃ আরিয়ান এর সাথে হাত মিলিয়ে চলে যায়। আরিয়ান মুখ কুচকিয়ে বলে,,, শা,,,,,লির,,,,,পুত কী বলে গেল এইটা ছ্যা ছ্যা, ছ্যা, জিল্লু আরিয়ান এর এমন অবস্থা দেখে মুখ লুকিয়ে হাসতে থাকে,,
তবুও রক্ষা হলো না আরিয়ান রেগে। সজোরে জিল্লু কে ডেকে বলে stop stupid ,,, হাসছিস কেন ? ইয়ে মানে sir ডাঃ
চুপ তোকে কিছু বলতে বলেছি আমি। এই বলে আরিয়ান চলে যেতে যেতে বলে মেয়ে টা কে বাসায় পৌঁছে অফিসে আয় তাড়াতাড়ি। আমি গেলাম আমার important meeting আছে। হাতের ঘড়ি টার দিকে তাকিয়ে হন,,,হনিয়ে বেড়িয়ে যায়।
জিল্লু বসে থাকে আইরার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায়।,,,,,
জিল্লু আরিয়ান এর assistant আরিয়ান এর সাথে সব সময় থাকে ।
আইরা জ্ঞান ফিরতেই দেখে সে হসপিটাল এর বেডে শুয়ে আছে। আইরা তাড়াহুড়া করে উঠতে গেলে তার মাথায় ব্যথা লাগে।
আইরার মাথায় হাত দিয়ে দেখে ব্যান্ডেজ করা। আইরা ভাবতে থাকে তার সাথে কি হয়েছে।
তক্ষনাথ মনে পড়ে যায় একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। তারাই হয়তো এখানে নিয়ে এসেছে । আইরা এই সব মনে মনে ভেবে রুম থেকে বের হয়ে চলে যেতে যায়,,,,,,,,,,
তখনই জিল্লু দেখে বলে আরে ম্যাডাম আপনি এখনো সুস্থ হননি। কি করছেন কি করছেন বসুন এখানে ,বসুন । আইরা বলল আপনি কে?
আমি জিল্লু আমার নাম জিল্লু। আইরা বলল ওও আচ্ছা। ম্যাডাম আপনি আমার স্যারের গাড়িতে accident. হয়েছিলেন। সেখান থেকেই আমরা আপনাকে এইখানে নিয়ে আসি। ডাঃ বলেছেন সামান্য মাথায় একটু আঘাত লেগেছে দুই দিন বিশ্রাম নিলেই আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন।
আইরা সবকিছু শুনে ধন্যবাদ দিয়ে চলে যেতে যায়। তখনই জিল্লু পথ আটকিয়ে বলে ম্যাডাম আপনি এখনো সুস্থ হননি, আপনি একা যেতে পারবেন না।
আমি আপনাকে বাসায় দিয়ে আসি। না হলে স্যার আমাকে রাগ করবে প্লিজ ম্যাডাম। আইরা বলল এই ঢাকায় আমার আমার কেউ নেই আমি আজকেই এইখানে আসছি।
জিল্লু বলল আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে আপনি হয়তো কোন আত্মীর বাসায় আসছেন তারা হয়তো আপনাকে নিয়ে টেনশন করছে। আমি বরং ওই খানেই দিয়ে আসি।
আইরা মনে মনে ভাবল এখানে তো আমার কেউ চেনা পরিচিত নেই ।এনাকে কিভাবে বুঝাই। আইরাকে চুপ থাকতে দেখে জিল্লু বলল ও ম্যাডাম চলেন যাই।
আইরা ভাবনা থেকে বের হয়ে এসে আ ...
মতা ...আমতা করে বলে ইয়ে .....মানে আমার এই শহরে কেউ নেই।
কেউ নেই মানে, তাহলে আপনি একা কেন এই শহরে এ
আসছেন?,,,, আপনার বাবা-মা কেউ আসেননি ওনারা কোথায়,,,,,?
আইরাকে চুপ থাকতে দেখে জিল্লু ভাবলো!
হয়তো মেয়েটা ভয় পেয়ে আছে। নয়তো তার পরিবারে কেউ নেই সেই কষ্টেই কিছু বলছে না। আপাতত কিছু না জিজ্ঞেস করি,,,,
পরে সুস্থ হইলে সব কিছু জানা যাবে। আচ্ছা আপু আমার সাথে চলো। কিছু মনে কইরো না ।আমি পারমিশন না নিয়েই আপু ডেকে ফেলেছি ,,,কারণ হয়তো তুমি আমার ছোট হবে হয়তো।
আইরা তখন বলে উঠলো আরে না না কোন সমস্যা হবে না। তার থেকে ভালো আপনি আমাকে আইরা বলে ডাকবেন আমি খুশি হব।
আচ্ছা আচ্ছা ডাকবো আগে আগে চলো যায় ।
কিন্তু বলে আইরা মনে মনে ভাবে অপরিচিত কারুর সাথে এই ভাবে যাওয়াটা কী ঠিক হবে।,,,,,,,
কিন্তু সে কী করবে কই যাবে এই অসুস্থ অবস্থায়। সে তো এই অবস্থায় এখন হোস্টেল ও খুঁজতে পারবে না,,,,,,, আমার এখন এতো এনার্জি নেই। এখন না যেয়ে পড়ে কই যাবে। এতো কিছু ভাবনার ভিতরে মুখের সামনে তুরি মেরে
জিল্লু বলে,,,,,,আইরা চলো যায় এতো কী ভাবছো বলো তো ??
ভয় নেই আমি তোমাকে কোনো ক্ষতি করবো না।
Trust me আইরা আর আমি যেই বাড়িতে তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি ওই খানে তো তোমার সমস্যা হবে না।
আইরা ভাবলিসিন হয়ে প্রশ্ন করলো কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ভাইয়া আমাকে,,,? জিল্লু গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে বলতে লাগলো,,,,,,
এই শহরের টপ বিজনেস ম্যান Mr.আরিয়ান সিকদার তার বাসায় তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি।
নাম টা শুনে আইরার পরিচিত মনে হয় কোথায় যেনো নাম টা শুনেছে আইরা । কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছে না।
আইরাকে কথা না বলতে দেখে
জিল্লু আবার ডাকে আইরা আইরা আবার কী ভাবছো ,,,,,,কই না তো কিছু না,,, বলছি যে আমি যাবো ওই বাসায়। আমাকে আপার বাসায় নিয়ে চলুন ভাইয়া,,,,, কেন আইরা কী হয়েছে কেন যাবে না কোনো সমস্যা আছে,,,,,??
না কোনো সমস্যা নেই কিন্তু আমি শুনেছি মায়ের কাছে শহরের লোকেরা ভালা হয় না। তাদের নাকি চরিত্র ভালা না,,,বড় লোক দের নাকি অনেক গুলা বউ থাকে ,,,, আম্মা আরো বলেছেন শহরের লোকেদের মন নাকি খাওয়ার মতো সুন্দর হয়। এই কথা শুনে জিল্লু বলে এই ,,,,কী বললে কাওয়ার মতো সুন্দর অনেক interesting to তুমি তো অনেক মজার কথা বলো আইরা ,,,,, না ভাইয়া মজা না সত্যি বলছি। আচ্ছা আচ্ছা আমার sir যদি শুনে তুমি তাদের নিয়ে এই কথা গুলো বলছো আমার sir তোমাকে চাদের দেশে পাঠিয়ে দিবে।,,, এই বলে আবার হাসতে থাকে,,,,
আইরা ভয়ে ভয়ে বলে আচ্ছা ভাইয়া একটা কথা বলি,, হ্যাঁ বলো উনি কী খুব খারাপ লোক জিল্লু ভাই,,,,? জিল্লু দেখে আইরা ভয় পাচ্ছে তাই সিরিয়াস হয়ে বলে ,,,,,, আরে না না আমার sir অনেক রাগি কিন্তু,,, মনটা অনেক ভালো।
সে নিজের একটা business এর owner owner ,,, আরো তার বাবা চাচাদের একটা হসপিটাল আছে,,, ওই খানে সে প্রতি Friday chamber এ বসে রুগি দেখেন free,,, তে যারা অসহায় গরীব তাদের কে দেখেন ,,, এই শহরে তার অনেক নাম ডাক সবাই তাকে সম্মান করে আবার ভয় ও পান ,,,,
আবার মাঝে মাঝে যারা অসহায় কোটে যারা নেয় পায়না ,,, যাদের টাকা গরম দেখিয়ে অন্যায় কে নে য় বলে জিতে যায় তাদের বিরুদ্ধে লড়ে দেয়,,, ফ্রিতে কোন টাকা নেন না।
এই সব কথা শুনে আইরার মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে ওঠে ,,,,, কেন জানি এইসব কথা শুনে আইরার মন অনেক টা ভালো হয়ে যায়।
আইরা ভাবে পৃথিবীতে এমন মানুষও আছে অথচ আইরা এতদিন ভুল বুঝে এসেছে ,,,,,
আইরা র খুব ইচ্ছে করছে লোকটাকে একটিবার দেখার কে সেই মহৎ মানুষ যে এত ভালো,,,, এত বড়লো ক হওয়া র সত্ত্বেও কি সুন্দর গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
এইসব ভাবতে ভাবতে গাড়িটা থামলো বেশ বড় একটা গেটের সামনে। জিল্লু গাড়ি থেকে নেমে আইরার পাশের দরজাটা খুলে দেয়। আইরা গাড়ি থেকে নামতেই এক পলক ঝটকা খায়। হায় আল্লাহ এত সুন্দর বাড়ি,, আইরা গ্রামের মেয়ে সে এত বড় বাড়ি কখনো দেখেননি ,,,,,
থুক্কু এটা বাড়ি বললে ভুল হবে এটা বাড়ি না এটা যেন রাজপ্রাসাদ ,,,,,, যেখানে রাজা তার সব সম্পদ যেন এই একটি বাড়ি বানাতে লাগিয়ে দিয়েছে।
বাড়িটির সামনে বিশাল বড় একটা গেট জিল্লু কে দেখে দারোয়ান গেটটা খুলে দেয়,,,,, আইরা চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে বাড়ি সামনে বিশাল গাড়ি রাখার জায়গা ,,,,,, বাড়ি বাড়ির এক সাইডে ফুল গাছের বাগান যেখানে অনেক ফুল ধরে আছে আইরা জীবনে কখনো এত ফুল আর ফলের গাছ দেখেনি বিদেশি দেশি সব রকমের গাছে ভরা এই বাড়িটা,,,,,, দেখে মনে হচ্ছে এটাই বুঝি জান্নাত। আইরা শুনেছে জান্নাতে সব পাওয়া যায় ফুল ফল সব গাছ পাওয়া যায় ফল পাওয়া যায়। এখানে তাই তার মনে হচ্ছে সব আছে এখানে,,,,,,,
আইরাকে এভাবে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে,,,,,
জিল্লু মুখের সামনে হাতে তুরি বাজিয়ে বলে।
আরে আইরা কি দেখছো এভাবে চলো যায়। আমাকে যেতে হবে নয়তো আমার আজকে খবর আছে স্যার বকা দিবে চলো,,,,,,,
আইরা চমকে বলে হ্যাঁ হ্যাঁ চলো যাই। আবার দাঁড়িয়ে আইরা বলে কিন্তু ভাইয়া আমার না খুব ভয় করছে।
আরে চল তো কোন ভয় নেই ,,একবার চলো সব দেখতে পাবে। সবাই অনেক ভালো তোমাকে দেখে অনেক খুশি হবে,,, আইলা গুটি গুটি পায়ে বাড়ির ভিতরে যায় দরজার সামনে জিল্লুর পিছনে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আইরা।
#চলবে........
আচ্ছা আমি বুঝতেছি না আমার উপন্যাস টা কী কেউ পরছে নাকি,,, কেউ কোনো রিয়াক্ট দেয় না,, নাকি তোমাদের কাছে ভালো লাগছে না সবাই কষ্ট করে জানাবে প্লিজ ধন্যবাদ সবাইকে......