ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার সপ্ন তুই

৩য় পর্ব

লেখক: অজান্তা আফরিন

# আমার সপ্ন তুই 

#  অজান্তা আফরিন 
# পব'সংখ্যা ৩
--------জিল্লু সবাই কে ডাক দিয়ে নিচে আসতে বলে।
সবাই যে যার রুমে কাজ করে রেস্ট নিচ্ছে আর বাড়ির পুরুষেরা তাদের কাজে গিয়েছেন।এখন শুধু বাড়িতে মহিলা গুলোই আছেন,,,,,,,,

জিল্লুর ডাকে সবাই তাড়াহুড়া করে নিচে আসে ,, সবাই ভয় পেয়ে যায় এই অসময়ে জিল্লুর ডাকে কারণ প্রায় সময়ি আরিয়ান হাসান খান এর লোক দের সাথে মার পিট করে বাড়ি আসেন ,,,,  

হাসান খান আরিয়ান এর সাথে বেপসায় পেরে উঠে না বলে আরিয়ান কে পথের কাঁটা মনে করে

এই তো বেশ কদিন আগে আরিয়ান এর অফিসে ডুকে সাধারণ  staff গের উপর আক্রমণ করে বসে ,,,, আরিয়ান বেপসার কাজে চট্টগ্রাম যাওয়ায় ওই সুযোগ টায় কাজে লাগায় হাসান খান,,,,,

অফিস এর বেশ কিছু মালা মাল নষ্ট করে সব কিছু ভাঙচুর করে চলে যায়,,,, দুপুর 12 টায় আক্রমণ করলে অফিস এরি ম্যানেজার আরিয়ান কে সব কিছু জানায় হাসান খান এর লোকদের কথা 



আরিয়ান চট্টগ্রাম এর কাজ সব শেষ করে আসতে আসতে রাত দশটা বেজে যায় ,,,,,, তখনি আরিয়ান ও জিল্লু সাথে ম্যানেজার এবং বেশ বেশ কিছু পোলাপান নিয়ে যায় হাসান দের লোকজন যেই খানে আছে,,,,,,,,

হাসান খান এর পোলাপান  প্রতি রাতে গোল্ড কিলাবে থাকে,,,,,, এই খানে একে একে 3 টা জিপ গাড়ি যায় প্রথম টায় জিল্লু আর আরিয়ান,,,, তার পড়ের টায় ম্যানেজার আর আর কিছু পোলাপান,,,,, একে একে 3 গাড়ি থামলো কিলাবের সামনে প্রথম জিপ থেকে হকিস্টিক হাতে নিয়ে লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে,,,,, গাড়ির ডেক্স এর সামনের বসে আরিয়ান চিৎকার দিয়ে বলে ওই জিল্লু,,,,,,,, জিল্লু হকিস্টিক হাতে নিয়ে দৌড় দিয়ে আরিয়ান এর কাছে এসে বলে Ji sir ওই কুত্তার বাচ্চা দের কে নিয়ে আই

জিল্লু এবং পোলাপান গুলা হই হই করতে করতে কিলাবের ভিতরে যায়,,,,, আরিয়ান এর অতি মাত্রায় রেগে যাওয়ায় পকেট থেকে সিগারেট বের করে এক সাথে 2 টা করে ধরাই টানটে থাকে,,,,,

2 মিনিট এর ভিতরে একে একে সব কইটাকে ধরে আরিয়ান এর পায়ের কাছে ফেলে ,,,,,,,
ঐ দলের যে বস সে উঠে বলে এই তোরা মার সালা রে পর পর সব পোলাপান উঠে আরিয়ান এর উপর ঝাপিয়ে পড়ে আরিয়ান হকিস্টিক দিয়ে সব গুলো কে মারতে থাকে জিল্লু সাথে সব পোলাপান একে একে সবাই হাসান খান এর পোলাপান এর মারতে থাকে,,,,,,, এক পর্যায়ে হাসান খান এর পোলাপান মাটিতে পড়ে আছে,,,, এর ভিতরে যে ওদের বস ছিল তার মুখ টা আরিয়ান এর দিকে তুলে বলে হারামির বাচ্চা জানে বাঁচতে চাস তো আজকে থেকেই সাবধান হয়ে যা নয়তো,,,,,, হাত পা ভেঙ্গে মাথায় ঝুলিয়ে দেব,,, তোদের জানে ভয় নেই আরিয়ান সিকদার এর সাথে পাংগা নিতে আসছিস

আর সোন তোদের ওই কুত্তার বাচ্চা কে বলে দিস আমার পিছনে এই সব নেরা কুকুর লেলিয়ে দিয়ে কোনো বা,,,,ল ও ছিরতে পারবে না,,,,, এই বলে জিল্লু বলে চিৎকার দিয়ে বলে এই হারামির বাচ্চা গুলো কে বাক্স ভরে হাসান খান এর বাড়িতে দিয়ে আয় ,,,,,, এই বলে আরিয়ান গাড়িতে বসে আবার সিগারেট ধরিয়ে খাইতে থাকে,,,,, জিল্লু পোলাপান দের কে বলে আরিয়ান এর পাশে বসে গাড়ি ইস্টার দেয় ।  


ভয়ে ভয়ে আরিয়ান এর দিকে তাকিয়ে দেখে আরিয়ান সিগারেট ফুকছে আর হাত দিয়ে অঝোরে রক্ত পড়ছে ,,,,, জিল্লু ভয়ে ভয়ে বললো ,,,,,sir sir আরিয়ান বললো হুম বল । আপনার হাত কেটে তো রক্ত পড়ছে হসপিটাল এ যায় sir ??


না বাড়িতে যা অনেক রাত হয়েছে,,,, জিল্লু ভয়ে আর কিছু বলে না বাড়িতে জাইতে জাইতে ঘড়ির কাঁটা রাত 2 টা বেজে গেল। আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমে জিল্লু কে বলে,,, কালকে সকাল সকাল আসতে এই বলে আরিয়ান চলে যায় বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখে মোহনা বেগম ছোপায় বসে ঝিমোচ্ছে ,,, আরিয়ান ধির পায়ে মায়ের পাশে বসতেই  

মোহনা বেগম বলে তুই চলে এসেছিস বাবা Fresh  হয়ে আয় আমি খাবার বেরে দিচ্ছি ,,,, এই বলে মোহনা বেগম উঠতেই আরিয়ান এর হাতের দিকে নজর গেলে চিৎকার দিয়ে বলে বাবা আরিয়ান কী হয়েছে তোর হাতে নিশ্চয় আবার মারা মারি করেছিস ,,,, এই বলে হাতে ব্যান্ডেজ করতে করতে বলে তুই কবে নিজের প্রতি যত্নবান হবিরে বাবা ,,,,

আরিয়ান ওর মাকে জড়িয়ে ধরে বললো যদি নিজের যত্ন নিতাম তাহলে তোমার এই যত্ন গুলো miss করে যেতাম না,,,,,, মোহনা বেগম পাগল বলে সম্বোধন করে চলে যায়,,,, বর্তমান । সেই থেকে মোহনা বেগম এবং বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা সবাই আরিয়ান কে নিয়ে আতঙ্কে থাকে ,,,,,, সবাই চিন্তিত হয়ে নিচে নামে। জিল্লুকে মোহনা বেগম বলে কী হয়েছে আবার মারপিট করিসনি তো আমার আরিয়ান কই ও ঠিক আছে তো বল ,,,, আরে সান্ত সান্ত হও ,,,, দেখো কাকে নিয়ে এসেছি এই বলে জিল্লু সামনে থেকে সরে যায়।

সবাই দেখে একটা ছোট মিষ্টি মেয়ে গুটি শুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে অনেক ভয় পাচ্ছে। আইরাকে ভয় পেতে দেখে মোহনা বেগম আইরার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে

বলে ওমা কী সুন্দর মিষ্টি মেয়ে কে রে এই টা মেয়েটা জিল্লু,,,,?? জিল্লু বলে আরে আন্টি সকালে অফিস যাচ্ছিলাম আমি আর আরিয়ান দুই রাস্তার মোড় ঘুরতেই এই মেয়েটা গাড়ির সামনে এসে পড়ে ।তার পড়েই হসপিটাল এ নিয়ে যায়।এখান থেকেই ওর বাসায় দিয়ে আসতে চায়। কিন্তু ওর নাকি কোনো পরিবার বা কোনো আত্মীয় কেউ এখানে নেই। এর জন্য এখানে নিয়ে আসলাম। আমি তো বেচারার থাকি ওই খানে তো নিয়ে জাইতে পারবো না,,, আর মেয়েটা এখন অনেক টা অসুস্থ এই শরিলে একা ছাড়তে ইচ্ছে করলো না,,,,

ঠীক করেছিস কত মিষ্টি মেয়েটা এই বলে হাত ধরে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসায় মোহনা বেগম,,, জিল্লু ভারি নিঃশ্বাস ফেলে বললো আন্টি আমি তাহলে আসি sir একা রয়েছেন,,,, আইরা বোন আমার এখানে তোমার কোনো অসুবিধা হবে না ভয় নেই আমি আবার আসবো ঠিক আছে,,,, আইরা মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়,,,  জিল্লু চলে গেলে মোহনা বেগম ফুলিকে ডেকে বলে গরম দুধ আনতে,,,,,

মোহনা বেগম,,,মারুফা বেগম,, একে একে সবাই আইরাকে নিয়ে ভির করে বসে এটা সেটা জিজ্ঞেস করে। 

এতো মানুষ এই বাড়িতে আইরাকে এই ভাবে ঘিরে থাকতে দেখে,, নিজেকে জোকার মনে হচ্ছে,,, যাকে দেখার জন্য বাড়ির সবাই ভিড় করে বসে আছে।

আইরা ভাবছে সে তো অপরিচিত লোক এরা আইরাকে নিয়ে যেভাবে কেয়ার করছে মনে হচ্ছে কত দিনের পরিচয়,,,,, এই দিকে আইরা দের গ্রামে কোনো অপরিচিত লোক আসলে বা তাদের বাড়িতে গেলে আশ্রয় দিতে ভয় পায় ,,,, আর ও শুনেছে মায়ের কাছে শহরের লোকেরা ভালা হয় না,,,,

আর এই দিকে এই বাড়ির লোকেরা কত ভালো,,,, ,আইরার মনে হচ্ছে না যে সে এই,,,,,,,,,

বাড়িটির কেউ না ,,, তাদের পরিবার এর এক জন সদস্য মনে হচ্ছে 



আইরাকে চুপ থাকতে দেখে আরিয়ান এর দাদি ms. জুলেখা সিকদার বলে ,,, ও মেয়ে এতো লজ্জা কেনো পাচ্ছো গো ,, এইটা তোমার নিজের বাড়ি মনে করে থাকতে পারো ,,, আমরা তো তোমার পরিবার এর মতোই।। 

সবার কথার ভিতরে কোন থেকে যেনো ছোট 5 বছর এর ইকরা এসে বললো বড় মা ,, বড় মা এই পুতুল টা কে?? এই পুতুল টা কী আমার আরিয়ান ভাইয়ের বউ হয়,,,,,?? উপস্থিত সবাই হো হো হো করে হেসে উঠলো ।

মোহনা বেগম ইকরাকে টেনে পায়ের উরুর উপর বসিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল,,,,,,,, না মামনি এই টা তোমার আপু মনি হয় ।
চঞ্চল ইকরা সাথে সাথে বলে উঠলো কিন্তু আমার তো মেহিরিমা আপু মনি আছে ।

এই পুতুল আপুই টাকে আমি আমার আরিয়ান ভাইয়ের বউ বানাবো ।
মোহনা বেগম মুচকি হেসে বলল আচ্ছা মামনি তোমার কথায় হবে। এখন যাও আম্মুর সাথে গোসলে যাও । এই বলে মোহনা বেগম অনুফা কে ডেকে বলে যা ইকরা মামনি কে গোসল করিয়ে দে । অনুফা বেগম ইকরাকে নিয়ে চলে যায়।


আইরা মনে মনে ভাবল আমি এই কোথায় এসে পড়লাম আল্লাহ,, আল্লাহ আমাকে ধয্য দিন। 
এরা ঐ রাগি বদমেজাজি উকিল সাহেব এর সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। সে বিয়ে করবে না,,,,ছ্যা ছ্যা তার বয়েই গিছে বিয়ে করা।


# চলবে......... 
কিন্তু আমাকে একা পেয়ে যদি সত্যি আমাকে বিয়ে করিয়ে দেয়,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন