ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমায় দিও একটু খানি ছুয়ে

৩য় পর্ব

লেখক: মিমি মুসকান

আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺

মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
পর্ব_৩
ঠিক রাত্রির ৮ টার দিকে। ত্রিয়ানা নাচের স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। তার উত্তেজিত মন ছটফট করছে। তুহিন বলেছিল সে আসবে, আসার সময় হয়ে গেছে। আসছে না কেন? অস্থি*র হয়ে যেই না এদিক থেকে ওদিক ফিরল তখনি টের পেলো দূর থেকে একটা বাইক ধে*য়ে আসছে তার দিকে। প্রথম প্রথম খুশি হলেও পরক্ষণে তার মুখটা মলিন হয়ে গেল। বাইক কাছে এসে ঘেঁষতেই বুঝে গেল এটা তুহিন নয়।
“তুই?” 
আরমান বাইকের হেলমেট খুলে বলল, তুহিন পাঠালো। তোকে নাকি বাসায় পৌঁছে দিতে হবে। আয় উঠ! 
ত্রিয়ানা চোখ মুখ শক্ত করে নিল। নাক ফুলিয়ে বলে উঠলো, “তুই কেন? তুহিন কই? ওর না আসার কথা ছিল।”
“বলল কাজ আছে তাই আমায় পাঠালো। চল!”
“না যাব না। আমি পরপুরুষের সাথে যাই না।”
“আমি পরপুরুষ!”
ত্রিয়ানা গলা উঁচিয়ে বলল, তা নয়তো কি? তুহিনকে ফোন দে। ওকে আসতে বল! 
“তুই দিয়ে ট্রাই করতে পারিস।”
ত্রিয়ানা কল করল। ফোন বন্ধ! ফট*কা বাজ ছেলে একটা। ফোনটা বন্ধ করে নিল। আরমান বলল, মা আমার উঠে বস। আমি তোকে বোনের চোখেই দেখি।
ত্রিয়ানা মুখ ভেংচি কেটে বলল, তোদের আমার বিশ্বাস হয় না। দেখলি না একজন কি করল? আসার কথা বলে তো এলোই না।”
“আসতে পারবে না বলেই তো আমায় পাঠিয়েছে। আর কসম খোদার, আমার বাচ্চারা ফুপি বানাবো তোকে।‌ তোকে ফুপি ডেকে তোর কোলে ওরা হিসু করে দিবে।”
ত্রিয়ানা ছুটে এসে পিঠে দু*ঘা দিয়ে বলল, চুপ কর শা লা। 
আরমান হেসে উঠল। ত্রিয়ানা বাইকে উঠে বসল। ত্রিয়ানা আর তাহিয়াকে ওরা তিনজন আদর করে তাহু আর ত্রিয়ু বলে ডাকে। তেমন করে ডেকে আরমান বলে উঠলো, 
“ত্রিয়ু, জানিস আজ কি হয়েছে?” 
ত্রিয়ানা তার ঘাড়ে ভর দিয়ে কাছে এগিয়ে এসে বলল, “কি?” 
আরমান বাইকের গতি কিছুটা কমিয়ে এনে বলল, “তুহিনের বাসায় একটা মেয়ে এসেছে।”
“মেয়ে? কোন মেয়ে?”
“চিনি না।” অতঃপর পুরো কাহিনী শোনাল। শোনানোর কারণ তুহিনের রাগ সম্পর্কে অবগত করা। অযথা তুহিনের এই রাগের কারণ কি হতে পারে? ত্রিয়ানা কিছুক্ষণ ভাবল। ভেবে বলল, বাদ দে। জানা যাবে ক্ষণ। তুই বল, গার্লফ্রেন্ডের নাম কি বলবি না আমাদের? আর কতোকাল লুকিয়ে রাখবি?” 
আরমান সামনের মিররে দেখে বলল, লুকিয়ে রাখলাম কই? 
“কই? হারামজাদা তোকে তো।” বলেই পিঠে আরো দু*ঘা বসাল।‌ আরমান হাসতে লাগল। বলল, সময় হলেই জানবি। অপেক্ষা কর। 
ত্রিয়ানা থেমে গেল। সঠিক সময়ের অপেক্ষা সেও তো করছে! 
—-------
দুটো বিয়ারের বোতল নিয়ে তুহিন হাজির হয়েছে নিহামের বাসায়।তুহিনের মন খুব বেশি খারাপ থাকলেই একমাত্র নিহামের কাছে আসে সে। কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিল। নাক টিস্যু চেপে দাঁড়িয়ে আছে। তুহিনকে দেখতে পেয়ে দরজা থেকে সরে দাঁড়াল। তুহিন শুধায়, জ্বর কমেনি তোর? 
“কমেছে, কিছুটা সর্দি আছে।” 
তুহিন ভেতরে চলে আসে। দরজার বন্ধ করে নিহামের কপালের চুলগুলো সরিয়ে হাত রেখে পরিক্ষা করে। বলে, হ্যাঁ জ্বর তো নেই। শরীর তো একদম ঠান্ডা।
“হ্যাঁ শুধু একটু সর্দি আছে।”
“আদা চা খাবি?” 
“তুই বানাবি?” 
তুহিন জবাব না দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল। ছোট একটা অ্যাপার্টমেন্ট। একটা বেডরুমের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট। এখানে একাই থাকে নিহাম। তার পুরো ফ্যামিলি থাকে ঢাকার বাইরে। কেবল মাত্র পড়াশোনার জন্য সে একাই আছে ঢাকাতে। নিহামের বাবা একজন ব্যবসায়ী তাই ওতোটাও অসুবিধা হয় না তার। তুহিন রান্নাঘরে ঢোকার আগে বেডরুমে একবার নজর দিল। অন্ধকার রুমে টেবিলের উপর খোলা বই আর টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে রাখা যার অর্থ নিহাম এতোক্ষণ পড়ছিলো। এই অসুস্থ শরীর নিয়েও কি পড়াশোনা করতে হবে?
তুহিন চায়ের পানি বসাল।‌ আদা চা ভালোই বানায়। নিজের মাথাব্যথা করলে প্রায়ই রহিমা খালা এই চা বানিয়ে দেন। জাদু আছে তার হাতে। নিমিষেই মাথাব্যথা সেড়ে যায়। নিহাম এসে দাঁড়াল দরজার দৌড় গোড়ায়। 
তুহিন কে চা বানাতে দেখে বলে উঠলো, 
-কি হয়েছে তোর?
- কি হবে আমার?
- তুই রে*গে আছিস তুহিন।
- না তো।
- আমি তোর মুখ দেখেই বলে দিতে পারি তুই রে*গে আছিস। কারণ কি? কি হয়েছে? আংকেল কিছু বলেছে? 
- উনার সাথে কথা হয় না আজ প্রায় অনেকদিন ‌
- তাহলে? 
তুহিন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। চা হয়ে এসেছে।‌ কাপে ঢেলে বলল, “খেয়ে নে।”
“তুই খাবি না?”
“না!” 
বলেই সে আবারো চলে এলো বসার ঘরে। মেঝেতে বসে সোফায় হেলান দিয়ে একটা বিয়ারের ক্যান খুলল। তার সামনেই চায়ের কাপ হাতে নিহাম। একটু বাদে বাদে সে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে।‌ তুহিন বিয়ারের ক্যান কয়েকবার চুমুক দিয়ে বলে উঠলো, আজকের রাতটা তোর বাসায় থাকব। 
-‌ ঠিক আছে। রাতের কিছু অর্ডার করে দে।‌ বাসায় কোনো খাবার নেই। 
- আমি না এলে তুই কি করতি? এখনো খাবার অর্ডার করিস নি যে।
- খেতাম না। এভাবেও রাতে খেতে ইচ্ছে করে না।‌তোর তো মনে হয় খাওয়া দাওয়া হয়নি 
- খাওয়ার দাওয়ার বিষয়ে এতো অনিহা কেন তোর? এভাবে চলবে কি কিরে? সারাদিন কি পড়াশোনা করলেই হবে?
তুহিনের কথা শুনে নিহাম হেসে উঠল। তুহিন রে*গে গিয়ে বলল, হাসছিস কেন? আমি হাসার মতো কি বললাম? এই এই একদম হাসবি না। আরে আশ্চর্য তো!
চায়ের কাপ শেষ করে নিহাম এসে বসল তুহিনের পাশে। একটা বিয়ারের ক্যান হাতে নিয়ে বলল,‌ ঠিক আছে।‌ আজ আর পড়াশোনা করব না।‌আড্ডা দিব তোর সাথে। খুশি তুই? 
হেসে উঠল তুহিন ও। জীবনে কিছু সমস্যা একে অপরকে না বলেও সুন্দর করে সেই সমস্যা থেকে যারা বের করিয়ে আনতে পারে তাদের বন্ধু বলে। কি কারণে মন খারাপ, কি হয়েছে? এসব জানার থেকেও জরুরি কি করলে অপর মানুষটির মন ভালো হয়ে যাবে। সঙ্গ পেলে! একটুখানি সঙ্গ! 
—-------
আজকের ওরিয়েন্টেশনে ভালোই বিপাকে পড়ে গেছে অন্তিকা। বেশি দেরি হয়ে যাবে বলে বড়মামা গাড়ি পাঠালেন। সেই গাড়ি মাঝরাস্তায় হঠাৎ খারা*প হয়ে গেল। কি একটা অবস্থা। কি করে যে রিক্সায় চড়ে এ অবধি এলো সে নিজেই জানে। রিক্সা থেকে নামবার পড়ে মনে হচ্ছে তার থেকে ভাড়াটাও বেশি নিল। আরো কম করে বলা যেত। 
ফাইনালি ভার্সিটিতে পা রাখতে পেরে অন্তিকা খুশি আর দেখে কে। ইচ্ছে করছে নেচে বেড়াতে। উফ কতো বাধাবিপ*ত্তি পেরিয়ে এসেছে সে। কিন্তু দেরি করায় প্রচুর চাপ ও ছিলো। বাকিরা কোথায়, অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেলো কি না এসব চিন্তা এসে মাথায় জেকে বসল। সে বার বার ফোনে মেসেজ করে বাকিদের জিজ্ঞেস করছে ওরা কোথায়। ক্যাম্পাস এড়িয়াতে হাঁটছে আর মেসেজ করছে। একসময় ছুটতে লাগল। এই ছুটতে গিয়ে একজনের সাথে ধা*ক্কা খেয়ে ধপাস করে পড়ে গেল সে। আহম্ম*ক হয়ে গেল অন্তিকা। হাতের ফোনটা ছিটকে দূরে সরে গেল। চোখের চশমা চোখ থেকে নেমে নাকে ঝুলছে। 
প্রতি পদে পদে নিজের এমন করুণ অবস্থা নিতে না পেরেই যেন মনটা হুট করে খারাপ হয়ে গেল। ইচ্ছে করল চিৎকা*র করে কেঁদে উঠতে। চোখে জল এসেও ভিড় করল। কিন্তু চোখের চশমা ঠিক করে যেই সামনে চাইল দেখল কেউ একজন হাত বাড়িয়ে আছে তার দিকে। অন্তিকা হা হয়ে গেল! 
নিহাম হাতটা বাড়িয়ে বলল, “ঠিক আছো তুমি? কাঁদছ কেন? খুব ব্যাথা পেয়েছ নাকি?” 
অন্তিকা কাঁদেনি কিন্তু কেঁদে কেঁদে ফেলবে ভাবটা এমনই ছিল। তবে নিহামকে দেখার পরই তার আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেল। কি সুদর্শন ছেলেটা। আবার হাত ও বাড়িয়েছে। এই অবধি যতবার পড়ে গেল কেউ তো হাত বাড়িয়ে এভাবে খোঁজ নিল না। নিতান্তই প্রথম দেখায় ভালো লেগে গেলো তার। হাত ধরে উঠতে কোনো আপত্তিই করল না। নিহাম তার ফোনটা নিচ থেকে তুলে তার হাত দিয়ে বলল, “এরপর থেকে সাবধানে হাঁটবে। ফোন দেখে ছুটতে যাবে না!” 
“হ্যাঁ!” 
নিহাম টেনে বলল, “হ্যাঁ..!”
অতঃপর সে চলে গেল। কিন্তু অন্তিকা তার মুগ্ধতা ছেড়ে বেরুতে পারছে না। ইশ কি ভদ্র ছেলেটা। তখনই তার ফোনে কল এলো। তার মতো আরো একজনও লেট করে ফেলেছে। জিজ্ঞেস করছে সে কোথায়? তাহলে একসঙ্গে যাবে। অন্তিকা এবার ফোন হাতে তাকে খুঁজতে বেরিয়েছে। 
পেয়েও গেল। অন্তিকা সিঁড়ি বেয়ে উঠে তাকে দেখেই খপ করে হাতটা ধরে বলল, “আমাদের ডিপার্টমেন্ট উপরতলায়!” 
মেয়েটা হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করল, চিনলে কি করে? 
“প্রোফাইল পিক দেখে, ছবিটা কিন্তু অনেক সুন্দর!” 
মেয়েটা তার হাত শক্ত করে ধরে হেসে উঠলো। দুজন একসাথে সিঁড়ি বেয়ে উপরে যাচ্ছে। মেয়েটা বলল, নাম কি তোমার?”
“অন্তিকা কবীর! সকলে অন্তু বলে ডাকে। তোমার?” 
“অদিতি! কিন্তু সবাই অদিতি বলেই ডাকে!” 
অন্তিকা তার দিকে ফিরে ফট করে হেসে উঠল। 
“আচ্ছা,‌ আচ্ছা এই ফ্লোর তো?” 
“না, এটা তো ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট!” 
“তাহলে আমাদের টা উপরে।”
“হ্যাঁ চলো দেখি!” 
দুজনেই পা বাড়াল উপরের দিকে। অমনি গান বাজনার সুর পেলো। বাহ ওদের অনুষ্ঠান শুরু ও হয়ে গেছে তাহলে।
অদিতি শুধাল, “কি হলো দাঁড়িয়ে পড়লে কেন?” 
অন্তিকা উপরে উঠার বদলে ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টে ঢুকে গেল। একজন তাদের দেখেই ওয়েল কাম জানানোর জন্য হাতে দুটো ফুল দিল। অদিতি ফিসফিস করে বলল, “আমরা এখানে কেন এসেছি?”
“ইশ ইশ কি সুন্দর দেখছো? ওরা তো ফাটিয়ে দিয়েছে কি সুন্দর করে সাজিয়েছে দেখছো?” 
“হ্যাঁ, তাই তো। অন্য ডিপার্টমেন্টে তো এমন দেখলাম না।”
“কে জানে আমাদের অবস্থা কি হবে?”
“তুমি এখানে এলে কেন?” 
“গান শুনতে। শুনতে পেলে? কি সুন্দর গলা শুনেছে। ওই তো গিটারের সুর।”
অন্তিকা কান খাড়া করে শুনল। 
অদিতি মাথায় হাত দিয়ে বলল, “বোকা মেয়ে তুমি গান শুনতে এলে?” 
অন্তিকা গুনগুন করে করল,‌ আরে আমার ফেভারিট গান তো। ওহ, 
       “তুমি ছুঁয়ে দেখো আমায়…
অদিতি তার হাত চেপে বলল, “পরে আবার শুনো। এখন উপরে তো চলো।” 
“হ্যাঁ, হ্যাঁ তাই তো।”
দুজনে আবারো ছুটে বেরিয়ে গেল সেখান থেকে। বের হতে হতে অন্তিকা একবার দেখে নিল। ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট! 
তার উপরের ফ্লোরেই ছিল একাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট। না, ডেকোরেশনে তারা কোনো কার্পণ্য করেনি। অদিতি ফিসফিস করে বলল, “দেখলে!”
“বাপরে! মনে হচ্ছে তারা কম্পিটিশনে নেমেছে।”
“এসব ভাবতে বলেছে কে? এগুলো তো আমাদের জন্যই। এনজয় করো। আচ্ছা অনুষ্ঠান কোথায় হচ্ছে বলো তো?” 
“জিজ্ঞেস করি কাউকে!” 
এদিক ওদিক খুঁজে একজনকে পেলো তারা। অন্তিকা ডেকে উঠল, এই যে শুনুন!” 
সামির পিছন ফিরে অন্তিকা দেখেই ভালো রকম ঝট*কা খেলো। মেয়েটাকে আগে কোথাও যেন দেখেছে বলে মনে হচ্ছে তার। তবু আগ্রহ সামলে বলল,
“কি হয়েছে?” 
অদিতি বলল,‌“অনুষ্ঠান কোন দিকে হচ্ছে?” 
“সোজা গিয়ে ডানে যাও।”
“আচ্ছা!” 
বলেই অদিতি টেনে নিয়ে গেল অন্তিকাকে। অডিটোরিয়ামের কাছে যেতেই একটা মেয়ে ফুল দিল তাদেরকে। অন্তিকা ফুল হাতে নিয়ে অদিতির কানে কানে বলতে লাগল,‌ আপুটা কি সুন্দরী‌ তাই না!” 
অদিতিও মাথা দুলাল। একজন বক্তব্য দিচ্ছে দেখে তারা চুপিসারে পিছন গিয়ে পেছন বসে পড়ল। বেঞ্চে বসে অন্তিকা মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সবাইকে দেখছে।‌ কতো মানুষ! এরা সবাই এক ডিপার্টমেন্টের। সবাইকে দেখে পিছনে ঘুরে আবার সামনে ঘুরল। কি দেখল? অবাক হয়ে আবারো চ*ট করে পিছন তাকাল সে। তার পিছনে তুহিন মির্জা কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চোখ মুখ সব কুঁচকে নিল। তুহিন ভাই তার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র! শেষ! সব শেষ! 
তুহিন তার হাতে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। সাথে সাথেই অন্তিকা মুখ ঘুরিয়ে নিল। মনে হচ্ছে সে যেন ভয় পাচ্ছে। মাথা নিচু করে রাখল যাতে তুহিন ভাই তাকে চিনতে না পারে। কিন্তু তার আগেই তুহিন তাকে চিনে ফেলেছিলো। অন্তিকার হাতে দুটো ফুল দেখে অবাক হলো সে। আরেকটা ফুল কে দিল! 
একদিকে অন্তু তুহিন ভাইয়ের থেকে নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করছে তো অন্যদিকে পরিচিত গলার স্বর পেয়ে নড়েচড়ে উঠল সে। সামনে তাকিয়ে দেখল,‌সেই! হ্যাঁ ওই ছেলেটাই তো। কি নাম বলল? শাহরিয়ার নিহাম! ইশ কি সুন্দর নাম। অদিতিকে বলতে লাগল, জানো জানো, আমি আসার পথে উনার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেছিলাম। তিনি আমায় হাত ধরে তুলেছেন!” 
“ওমা তাই নাকি! তা তুমি কি প্রেমে পড়ে গেলে নাকি!” 
“ছিঃ ছিঃ কি বলো তুমি!” 
বলেই হাসতে লাগল তারা দুজন। এদিকে তুহিন একবার অন্তিকা দেখছে তো আরেকবার শাহরিয়ার নিহাম কে দেখছে। অন্তু গালে হাত দিয়ে একনজরে দেখছে নিহাম কে। তুহিনের সাথে নিহামের চোখাচোখি হতেই নিহাম চোখ উঁচু করল। তুহিন মাথা নেড়ে না বলল। বন্ধু তো তারা! তুহিন,‌ত্রিয়ানা, আরমান,‌সামির,‌ তাহিয়া, নিহাম সেই কলেজ লাইফ তারা বন্ধু! এরমধ্যে অন্তু আবারো দেখল তাহিয়াকে। অদিতির ঘাড় চেপে বলল, “দেখো দেখো ওই সুন্দরী আপুটা!” 
অদিতি মুখ টিপে হেসে বলল, “তুমি তো দেখছি নাম ও দিয়ে ফেলেছো।”
অন্তিকা মুখ টিপে হাসল। আজ প্রথম দিন বলে সে ভীষণ এক্সাইটেড। যা দেখছে,‌যাকে দেখছে তাকেই ভালো লেগে যাচ্ছে তার। শুধুমাত্র তুহিন ভাই বাদে! আবারো তুহিন ভাইয়ের কথা মাথায় আসায় আড়চোখে পিছন ফিরে তাকাল। ওমা তুহিন ভাই তো নেই এখানে। গেলো কোথায় লোকটা! 
#চলবে…..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন