ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমায় দিও একটু খানি ছুয়ে

৩০তম পর্ব

লেখক: মিমি মুসকান

আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺

পর্ব_৩০
মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
“কিট্টু! এই যে কিট্টু আমি এখানে। হ্যাঁ আসো আসো এদিকে আসো।” 
ছোট্ট বিড়ালছানাকে এভাবে আদর করে কাছে ডাকছে অন্তু। ডাকার মধ্যেই শুধু সীমাবদ্ধ নেই। তাকে নিয়ে ছোটাছুটি করছে। দূরে দাঁড়িয়ে তাকে ডাকতেই সে লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটছে। ওই দেখো,‌আবার কোলে তুলে আদিখ্যেতা হচ্ছে। মনে হচ্ছে আদরের চোটে মে*রেই ফেলবে। কোলের মধ্যে নিয়ে বলে উঠল, “এই‌ আমার কিট্টুসোনা। আদর সোনা। দেখি দেখি। মাছের মাথা খাবে তুমি?” 
সোহাগ ভরা কথা শুনে তুহিনের গা জ্ব*লে উঠল। কি ঢঙের কথা। মাছের মাথা খাবে! আরে বাবা দাঁত থাকলে তো খাবেই। সামনে দিয়েই দেখুক না, হাপুসহুপুস করে খাবে, সাথে তোর মাথাও খাবে। গাধির বাচ্চা! 
দাঁতে দাঁত চেপে সমস্ত আদিখ্যেতা সহ্য করে নিল তুহিন। অন্তুর বাড়াবাড়ি! সবকিছুই নিয়েই বাড়াবাড়ি। তার সঙ্গে তার বড় মামার। দুই মামা ভাগ্নি মিলে এবার রান্নাঘরে ঢুকেছে মাছ সিদ্ধ করতে। এসব দেখে তুহিনের মাথা ঘুরে গেল। সে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে মাথা ঠান্ডা করার চেষ্টা করল। 
অন্তু মামার হাত ধরে বলে উঠলো, "তোমায় এতো এতো ধন্যবাদ মামা। তুমি না এনে দিলে তো কখনোই এমন হতো না জানো। আম্মু তো বাসায় বিড়াল রাখার পারমিশনই দিত না। তুমি কি ভালো, বিড়াল এনে দিলে।”
"এনে দিয়েছি। এবার সামলে রাখতে হবে কিন্তু। ও খাওয়া দাওয়া সবকিছু দেখার দায়িত্ব কিন্তু তোর। মনে রাখিস।”
অন্তু জোরে জোরে মাথা নাড়ল। অবশ্যই সে পারবে। 
কিট্টু এখন সিদ্ধ মাছ খাচ্ছে। অন্তু তার পাশে বসে থেকে তার খাওয়া দেখছে। আশেপাশে কেউ নেই আর। তুহিন এগিয়ে গেল। জিজ্ঞেস করল, 
“এটা মেয়ে না ছেলে?”
"ছেলে!” 
বলেই তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিল। তুহিন মুখ ভেংচি কেটে বলল, "তুই কি বিয়ে শাদি করবি অন্তু?” 
অন্তু চোখের চশমা ঠিক করে মাথা তুলে হা হয়ে বলল, "কি বললেন?” 
"মানুষ বলে বাচ্চা পালার আগে বিড়াল পাললে ভালো প্র্যাকটিস হয়ে যায়। তুই কি সেসব কিছুই ভাবছিস নাকি?” 
অন্তু চোখ মুখ কুঁচকে বলল,‌ "ও তো আমার ছেলেই তুহিন ভাই। আবার বাচ্চার কথার আসছে কোথা থেকে?”
"তোর মাথা। গাধির বাচ্চা!” 
"তুমি মা কে গা*লি দিলে?” 
"হ্যাঁ দিলাম। তুই আর তোর মা দুজনেই গাধি। আর আমার নানি হচ্ছে মহাগাধি।”
"আহা ধীরে বলো। মামা শুনলে কি ভাববে?” 
"তোর মামা তো আরেক গাধা।”
অন্তু মুখ টিপে হাসল। তুহিন কাঠ কাঠ গলায় বলে উঠলো, “হাসছিস কেন?" 
"তার মানে তুমিও গাধা। হি হি!" 
“তুই আমায় গাধা বললি অন্তু।" 
“ওমা তুমিই তো বললে আমি তো…
তুহিন চট করে এসে তার মাথায় চাটি মে”রে বলল, সর আমার সামনে থেকে। ইশ গায়ে কি গন্ধ!" 
“কি আজেবাজে বলছো। কিসের আবার গন্ধ?" 
“এতোক্ষণ কোলে বিড়াল নিয়ে যেই চটকাচটকি করলি সেটার গন্ধ। বিড়ালের গন্ধ!" 
"এমন করে কেন বলছো। আমি তো কিট্টুকে একটু আদর করেছি। ধরে দেখো কি নরম শরীর ওর।”
"সর সর এখান থেকে।”
"তুমি আমার ছেলেকে এভাবে বলবে না তুহিন ভাই।”
"ম*র তুই তোর ছেলে নিয়ে। বিড়ালের মা হয়ে থাক তুই, আর আমি সন্ন্যাসী হয়ে যাই।”
"ওমা তুমি কেন সন্ন্যাসী হবে!” 
ঠোঁট চেপে অন্তুকে চোখ রাঙিয়ে সিঁড়ি দিয়ে হনহনিয়ে উপরে উঠে গেল তুহিন। অন্তু মুখ ভেংচি কাটলো আবারো মনোনিবেশ করল কিট্টুর দিকে। 
_________
কিট্টু নিয়ে তুহিন বেশ বিপা*কে পড়েছে। অন্তু সারাদিন কিট্টুকে নিয়েই থাকে। কোলে নিয়ে ডলাডলি করে। এমনকি রাতে তাকে নিয়েই ঘুমায়। ভার্সিটিতে যায় আসে। ওই মেয়ে এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিছু একটা তো করতেই হবে। বাথরুমে ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে এসবই ভাবছিলো তুহিন। অতঃপর গোসল সেরে তোয়ালে পেঁচিয়ে ঘর ছেড়ে বেরুতেই একটা বিদঘুটে গন্ধ তার নাকের ভাসতে লাগল। তুহিন চোখ মুখ কুঁচকে এদিক ওদিক ফিরে দেখল বিছানায় বালিশের উপর বসে কিট্টু তার শরীর চাটছে। বিরক্তিকর! তুহিনের মেজাজ গেলো বি*গড়ে। 
কাছে এসে বিছানার উপর ইয়ে দেখেই রাগ ৩৬০ ডিগ্রি এংগেলে ঘুরে গেল। চেঁচিয়ে ডাক পাড়ল অন্তুকে। অন্তু তৎক্ষণাৎ ছুটে প্রবেশ করল তুহিন ভাইয়ের ঘরে। উদাম শরীরে কেবল কোমরে তোয়ালে পেঁচিয়ে দাঁড়ানো তুহিন ভাইকে দেখে আবারো দরজার বাইরে গিয়ে দাঁড়াল সে। মাথা নিচু করে সেখান থেকে বলল, “কি হয়েছে?" 
“ওখানে কি করছিস? এদিকে আয়।" 
অন্তু ইতস্তত বোধ করছে ভীষণ। তুহিন ভাই এক ধম*ক দিতেই অন্তু ছুটে ভেতরে ঢুকল। তুহিন আঙুল তুলে বলল, এগুলো কি?” 
বিছানার দিকে লক্ষ্য করে অন্তু নাক মুখ সব কুঁচকে নিল। নাকে হাত দিয়ে বলল, "ছিঃ তুহিন ভাই, আপনি বিছানায় ইয়ে করে দিয়েছেন!” 
তুহিনের তখনি ইচ্ছে করল অন্তুকে কষিয়ে একটা চ*ড় মার*তে। কিন্তু পারল না। কিন্তু চুলের মু*ঠি ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল, “আমি করেছি?" 
“না মানে আমি তো…
অন্তুর মাথা ঘুরিয়ে দেখাল কিট্টুকে। সে এখনো বালিশের উপর শরীর পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। অন্তু হতবাক নয়নে চেয়ে রইল কিট্টুর দিকে। তুহিন রে*গে চৌচির হয়ে উঠল। বলে উঠলো, "এখুনি পরিষ্কার কর এসব। নাহলে তোকে আর তোর কিট্টুকে লাথি মে*রে ঘর থেকে বের করব আমি!” 
অন্তু ছুটে গিয়ে কিট্টুকে কোলে নিল। তড়তড় করে বলল, আমি এখুনি পরিষ্কার করে দিচ্ছি সব।" 
তুহিন জবাব না দিয়ে রাগে* ফুলতে ফুলতে আলমারি থেকে প্যান্ট শার্ট নিয়ে বেরিয়ে গেল। অন্তু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কিট্টুকে আগলে নিল। হতাশার সুরে বলতে লাগল, “তুই কথা কেন শুনিস না কিট্টু। তোকে কতো না বললাম এই ঘরে আসবি না তবুও এলি। কি করেছিস এসব। এই হিটলার তোকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলে কি হবে বলতে পারিস?" 
কিট্টু মিয়াও মিয়াও করে চেঁচিয়ে কেবল তার নির্দো*ষের দাবি করল। 
কিট্টু দেখতে কমলা রঙের। একদম ছোট কিন্তু বয়সের তুলনায় গায়ের লোমগুলো বেশ বড়বড়। চোখ দুটো একদম বাদামী রঙের। কিট্টু বলে ডাকলেই সে লেজ ঘুরিয়ে দৌড়ে ছুটে চলে আসে। অন্তু তার গলায় একটা ঘণ্টিও দিয়েছে। যা তুরতুর করে। কখন কোথায় চলে যায় কেউ বলতে পারে না। বেশি যায় ওই হিটলারের ঘরে। অন্তু তাকে আটকে রেখে পারে না। তার ঘরে ঢুকে বিছানায় উপর শুয়ে শুয়ে শরীর চাটতে থাকে। এমন মনে হয় তুহিনের চাইতেও এই ঘর তার বেশি প্রিয়। কিট্টুকে ও ঘরে দেখতে পেলেই অন্তুর আ*ত্মা বেরিয়ে যায় প্রাণ ছেড়ে। 
বাড়ির পিছনের দিকে তুহিন একা দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে। তখন প্রায় সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে। সারাদিনে তুহিন সিগারেট খায় কেবল দুটো। একটা দুপুরের নির্জনে আর একটা এই সন্ধ্যার সময়। মাঝে মাঝে মন বেশি খারাপ থাকলে রাতে ছাদে উঠেও দু একটা সিগারেট টানে। তবে মাঝে মাঝেই। দিনের শেষ সিগারেটে শেষ টান দিয়ে পায়ে পিষিয়ে নিল সে। তখনি তার পায়ের কাছে কেউ নাক রেখে শুকতে লাগল। তুহিন চোখ মুখ কুঁচকে তাকিয়ে রইল। এটা অন্তুর আদরের কিট্টু সোনা না! তুহিন নাম ধরে ডাকতেই কিট্টু তার দিকে মুখ ফিরে মিয়াও বলে চেঁচিয়ে উঠল। 
অতঃপর বাড়ির পিছনের গেটের সামনের গিয়ে মাথা ঘসতে লাগল। এর অর্থ সে বাইরে যেতে চায়। তুহিন বুঝতে পেরে ভ্রু জোড়া উঁচিয়ে বলল, “তুই কি বাইরে যাবি?" 
কিট্টু জবাবে মিয়াও বলে চেঁচিয়ে উঠলো। 
তুহিন ঠোঁট উল্টে বলল, “বেশ আমার কোনো দোষ নেই। 
বলেই পা দিয়ে ঢেলে সামান্য দরজা খুলে দিল। কিট্টু এদিক ওদিক ফিরে বাইরে দৌড় দিল। তুহিন গম্ভীর ভঙ্গিতে বেশ কতোক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমার কোনো দোষ নেই। ও নিজেই বাইরে গেছে!" 
এ কথা বলে সেও বাইরে বেরিয়ে গেল দরজা খোলা রেখেই! 
#চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন