ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমায় দিও একটু খানি ছুয়ে

২৯তম পর্ব

লেখক: মিমি মুসকান

আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺

পর্ব_২৯
মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
“শুধু তোমাকেই ভালোবেসে, শুকনো জলে ডিঙ্গি ভাসিয়েছি মোহনার কাছে এসে। শুধু তোমাকেই ভালোবেসে….”
স্নিগ্ধ মধুর গানটা বাজছিলো আরমানের ফোনে। সে ফোনটা হাতে নিয়ে গানটা বন্ধ করে বলল, “আমাদের এখানেই সবকিছু শেষ করে দেওয়া উচিত।" 
আরমান হতভম্ব হয়ে ফিরে তাকাল দর্শনার দিকে। তাদের প্রেম দেড় বছরের। তবে চেনাজানা তারও আগের থেকে। আরমান তার হৃদয় দিয়েছে তারও আগে। দর্শনার হাত ধরে বলে উঠলো, “তুমি এসব কি বলছো?" 
“সবই তো বুঝতে পারছো। আমাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। এভাবে তো হচ্ছে না। গত দেড় বছর সবার থেকে লুকিয়ে তোমার সঙ্গে আছি।" 
“আমি কি লুকিয়ে রাখিনি।" 
“রেখেছো। এইজন্যই তো বলছি, কতোদিন লুকিয়ে রাখবে। আমি আমার বন্ধুদের কি জবাব দিব। এরপর রোহানের সঙ্গে যা হলো তারপর তো আর আগানো যায় না।" 
“দর্শনা!" 
“আমি কি করে মেনে নিব বলো? তুহিন কি করেছে রোহানের সঙ্গে তুমি দেখোনি। কি অবস্থায় আছে ও জানো।”
আরমান উষ্ণ গলায় বলে উঠলো, "রোহানের দোষ কি ছিলো না। বার বার বারণ করা সত্বেও অন্তুর পিছনে ওই তো যাচ্ছিল।”
দর্শনা আড়চোখে ফিরে বলল, "তুমি তুহিনের সাপোর্ট নিচ্ছ!”
"তুমিও তো রোহানের সাপোর্ট নিচ্ছ। দেখো দর্শনা, আমাদের সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্ব না টানাই ভালো। রোহানকে, অরিত্র, রিয়াজকে নিয়ে কখনো কিছু বলেছি তোমায় আমি।”
"এমনভাবে বলছো মনে হয় আমি সবসময় তোমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছি। না হয় না।” 
হাঁপিয়ে উঠল দর্শনা। আরমান তার হাতের উপর ভরসার হাতখানা রেখে বলল, শান্ত হও। সব ঠিক হয়ে যাবে।
দর্শনা হাত সরিয়ে নিল নির্দ্বিধায়। বলে উঠলো, "সম্ভব না। তুমি আমাকে ভুলে যাও।" 
“কি বলছো পাগল হয়ে গেছো? বললেই কি শেষ হয়ে যায়। সময় দাও সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমি ওদের বলব তোমার কথা।" 
“আর তোমার বন্ধুরা মেনে নিবে?" 
“তোমার বন্ধুরাও তো মানবে না। আমার তাদের মেনে নেওয়াতে কিছু যায় আসে না। আমি তোমার সঙ্গে থাকতে চাই।" 
“আমার সঙ্গে থাকতে হলে তাদের ছাড়তে হবে। পারবে তুমি?" 
আরমান চোয়াল শক্ত করে নিল। ফ্যাকাশে মুখে বলল, “তুমি পারবে!" 
দর্শনা উপহাস করে বলল, এইজন্যই তো বললাম সম্ভব না। 
গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। বলল, “আমাদের সবকিছু এইখানেই শেষ। তোমার আমার গন্তব্য এই অবধি ছিল। তবে আমাদের পথচলা দারুণ ছিল। আমি সবসময় তোমাকে মনে রাখব।" 
আরমান হতভম্ব হয়ে বলল, তুমি কবে থেকে এতো কঠোর হৃদ*য়ের হয়ে গেলে! 
দর্শনা কথার জবাব না দিয়ে ফিরে এসে বাইকের হেলমেট পড়ে নিল। আরমান তৎক্ষণাৎ গাড়ি থেকে নেমে বলল, “দর্শনা থামো। আমার কথা এখনো শেষ হয়নি।”
ততোক্ষণে বাইক স্টার্ট দিয়ে দিল দর্শনা। আরমান তার সামনেই দাঁড়িয়ে। দর্শনা বলে উঠলো, “যেখানে সম্পর্কই শেষ সেখানে আর কোনো কথা বাকি থাকতে পারে না।’
"তুমি আমায় এভাবে ছেড়ে দিতে পারো না।”
"পারি! আর আমি ছেড়ে চলে যাচ্ছি।” 
মূহূর্তে বাইক নিয়ে চলে গেল দর্শনা। মূহূর্তের মধ্যে সে অদৃশ্য হয়ে গেল চোখের সামনে। আরমানের কাছে পুরোটাই কেমন ভ্রম মনে হচ্ছে। এভাবে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে সে কল্পনা করতে পারেনি। 
গাড়ির চাবি এসে ফেরত দিল তুহিনকে। তুহিন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "এতো জলদি ডেট শেষ হয়ে গেল। এই না গেলি।”
আরমান জবাব না দিয়ে চেয়ার টেনে বসে পড়ল। নিহাম সোজা হয়ে বসে বলল, কি হয়েছে? 
"কিছু না।”
তাহিয়া আর ত্রিয়ানা কফি মগ আর কেক এনে রাখল টেবিলের সামনে। আরমান নিশ্চুপে কেক খেতে লাগল। তাহিয়া অবাক হয়ে তুহিন আর সামির কে ইশারা করল। সামিরের নজর তখন সরেছে ফোনের উপর থেকে। আধশোয়া থেকে এবার সোজা হয়ে বসে পড়ল। ব্যাপারখানা বোঝার চেষ্টা করছে। 
তারা সকলে বসে আছে ক্যাফেতে। ক্যাফেটা হচ্ছে তাহিয়ার। বেশ বড়সড়। ভালোই চলে। কয়েকজন কর্মচারীও আছে। আজ ক্যাফে বন্ধ তাই সব বন্ধু বান্ধব মিলে এখানেই আড্ডা দিচ্ছিল। তাহিয়া আর ত্রিয়ানা দুজন মিলে তাদের জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে এসেছে নিজ হাতে। তুহিন আরমানের পাশে বসে তার কাঁধে হাত রেখে বলল, 
“কি হয়েছে? মুড অফ কেন? ডেট খারাপ গেছে?" 
আরমান জবাব দিলো না। তার বেশ বির*ক্ত লাগছে। বিরক্তি*টা সবার প্রতি। তুহিন ভ্রু নাচিয়ে নিহামকে ইশারা করল। নিহাম বলল, “তাহিয়া এসি বাড়িয়ে দে। আমাদের আরমান সাহেবের মুড খারাপ।" 
সামির উঠে বলল, “ব্যাপার কি? গার্লফ্রেন্ড বকেছে নাকি?" 
ত্রিয়ানা বলল, “সম্পর্কের এতো দিন হয়ে গেল এখনো গার্লফ্রেন্ড দেখালি না। আর কবে দেখাবি আরমান? ব্রেকাপ হলে!"
ত্রিয়ানার কথায় হেসে উঠল সকলে। আরমান চোখ মুখ লাল হয়ে উঠে দাঁড়াল। বলে উঠলো, হ্যাঁ ব্রেকাপ হয়ে গেছে।”
"কি! হ্যাঁ?”
"আমি তো মজা করে বললাম। সত্যি সত্যি?” 
নিহাম বলল, আরমান, রাগারাগী সব সম্পর্কে হয়। একটু সময় দিতে হয়। দেখবি ঠিক হয়ে যাবে। বস না। রেগে থাকিস না।" 
“আমার ভালো লাগছে না। আমি যাচ্ছি।
"যাবি কিভাবে? বাইক তো আনিস নি। আমি পৌঁছে দিব। আরমান!” 
তুহিনের কথায় ও কোনো পক্ষপাত না করে আরমান বেড়িয়ে গেল। তুহিন উঠে দাঁড়াল তার পিছু নেবার জন্য। ত্রিয়ানা তৎক্ষণাৎ তার হাত ধরে থামিয়ে দিল। সামির বলে উঠলো, "দরকার নেই। থেমে যা। একটু সময় দে ঠিক হয়ে যাবে।” 
তুহিন নিহামের দিকে ফিরে তাকাল। সবার মতো নিহাম ও মাথা নাড়ল তাকে দেখে। তুহিন হার মেনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বসে পড়ল। অথচ তার মনটা ছটফট করতে লাগলো আরমানের জন্য। 
সবাই চলে গেছে। তাহিয়া বাসনপত্র যা ধোয়ার ছিল ধুয়ে নিল। অতঃপর মেঝে পরিষ্কার করে টেবিল গুলো সরিয়ে রাখছিলো। তখনি হাত থেকে চেয়ার ফসকে পড়ে যাচ্ছিল। আচমকা কেউ ধরে নিল সেটা। হতভম্ব হয়ে তাহিয়া ফিরে তাকাল দিকে। অরিত্র গাল টেনে হেসে বলল, সাবধানে ম্যাডাম!”
ভ্রু জোড়া কুঁচকে তৎক্ষণাৎ চেয়ার ছেড়ে দিল তাহিয়া। পরনে তার হাঁটু ছাড়িয়ে গোল জামা। কাঁধের দু পাশ থেকে উড়না নিয়ে টেনে গিট্টু দিয়ে রেখেছিল। চুলগুলো সব বেনুনী পাকানো কেবল সামনে ছোট ছোট কয়েকটা চুল কপালে এসে ঠেকেছে। সেগুলো সরিয়ে বলল, “তুমি এখানে।" 
“হ্যাঁ এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম ভাবলাম একটু কফি খেয়ে যাই।" 
“আজ ক্যাফে বন্ধ।" 
“বন্ধ ক্যামেতে তুমি একা কি করছিলে?" 
“এক্সকিউজ মি। এটা আমারই ক্যাফে।" 
“হুম বুঝলাম।" 
বলেই চেয়ার টেনে বসে পড়ল অরিত্র। তাহিয়া অবাক কণ্ঠে বলল, আরে বসে পড়লে যে। বললাম না ক্যাফে বন্ধ। 
“এতো দূর পর্যন্ত এলাম। এক কাপ কফি তো খেতেই পারি। জানো আমি কিন্তু রেগুলার কাস্টমার এখানকার। আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবে?" 
টানা টানা চোখগুলো পাকিয়ে নিল তাহিয়া। তার সামনে বসেই দাঁত একপাটি বের হচ্ছে আসছে অরিত্র। একদম ধান্দাবাজ একটা ছেলে। ভার্সিটির শুরু থেকেই পড়ে আছে তার পিছনে। তাহিয়া অবশ্য পাত্তা দেয়নি কখনো। তাহিয়া হাঁপিয়ে উঠে বলল, "আমার হাতে অনেক কাজ। শেষ না করে তোমাকে কিছু দিতে পারছি না।”
"কোনো অসুবিধে নেই। আমার কাছে অঢেল সময়। তুমি তোমার কাজ করো, আমি বসে রেস্ট নেই।”
তাহিয়া মপ হাতে তুলে নিয়ে মেঝে পরিষ্কার করতে শুরু করল। মিনমিনিয়ে বলল, ধান্দা*বাজ ছেলে একটা। 
তবে অরিত্র বসে রইল না। সে এগিয়ে এসে টেবিল গুলো সরিয়ে রাখছিলো যাতে করে তাহিয়ার কাজ করতে অসুবিধে না হয়। তাহিয়া বারণ করল না। এতে সে অভ্যস্ত। অরিত্র তাদের ক্যাফের রেগুলার কাস্টমার। প্রতিদিন সন্ধ্যায় যখন তাহিয়া এসে ক্যাফেতে সময় দেয় ঠিক তখনি এসে হাজির হয় অরিত্র। একাই বসে থাকে ঘণ্টাখানেক। তাহিয়া বেশ বুঝতে পারে অরিত্র কেন এরকমটা করছে। সব বুঝেও তাকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু অরিত্র কি তাতে থেমে আছে। না নেই। সে জানে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ক্যাফে বন্ধ থাকে। তখন তাহিয়া পুরো ক্যাফে ভালো করে পরিষ্কার করে। ঠিক তখনি এসে হাজির হবে সে। প্রথম প্রথম অরিত্র কে বের দিত। দু একবার এরকম করার পর দেখল সে তখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে। তখন তাহিয়া বলল, কেমন ত্যাড়া*র ত্যাড়া! যাচ্ছেই না।” 
এরপর থেকে ভেতরে বসার পারমিশন দিত। এখানে এসেও সে বসে থাকত ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেবল তাহিয়ার হাতে এক কাপ কফি খাবার জন্য। এতোসব তোড়জোড় সে কেন করে তা কি বুঝে না। অবশ্যই বুঝতে পারে। তবুও তাহিয়া পিছন ফিরে চায় না। কেন চায় না? ভালোবাসা নিয়ে তার ভালো কোনো স্মৃতি নেই। যাকে ধরে এই ক্যাফে শুরু করেছিল আজ সে নেই। এরপর থেকেই ভালোবাসা নিয়ে তার মনে বেঁধেছে তিক্ত স্মৃতি। অরিত্রকে দূরে ঢেলে দেবার কারণ কি তবে এটাই। 
কাজ শেষে তাহিয়া কফি বানাচ্ছে অরিত্রের জন্য। অরিত্র চেয়ারে বসে অপলক দৃষ্টিতে তাকে দেখতে ব্যস্ত। পুরো ক্যাফেতে তখন আলো ঝলমল করছে। বন্ধের দিনও এই ঝিলমিল আলো বাইরের মানুষের আকর্ষণ টেনে নেয়। বন্ধের দিনও কেন এতো ঝলমল আলো। 
তাহিয়া গরম কফি এনে রাখল অরিত্রের সামনে। অরিত্র তাতে চুমুক দিয়ে মৃদু হাসল। তাহিয়া উড়নার গিট্টু ছাড়িয়ে বলল, জলদি করো। আমায় বাসায় ফিরতে হবে। 
“শান্তিমতো একটু কফি খেতে দিবে না। 
"তো নিজের বাসায় বসে সারাদিন খাও।" 
“একটু সুন্দর করে তো কথা বলতে পারো তাই না।" 
ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়ল তাহিয়া। রেগে কটমট করে বলল, “প্রথমত আমি তোমার সিনিয়র তাই আপনি করে বলো। আর দ্বিতীয়ত আমার সঙ্গে একদম ফ্লার্ট করার চেষ্টা করবে না বুঝলে।" 
অরিত্র কফি মগে চুমুক দিয়ে বলল, দুঃখিত আমি কোনোটাই মানব না।
“কি বললে?" 
অরিত্র তার দিকে ঝুঁকে বলল, সুন্দরীদের রাগি*য়ে দিতে বেশ ভালো লাগে। তুমি জানো তোমায় রাগলে কি ভালো লাগে।”
অরিত্র কফি মগে চুমুক দিয়ে দিল। তাহিয়া তখন বলে উঠলো, “তুমি জানো আমি রে*গে তোমায় কোন গালে চ*ড় মারব!" 
বিষম খেলো অরিত্র। কাশতে কাশতে তার চোখ মুখ লাল হয়ে গেল। তাহিয়া বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, জলদি! 
“কাস্টমারদের সঙ্গে এরকম করলে তোমার ব্যবসার লালবাতি জ্বল*বে।
"সেসব নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। তুমি বিদায় হও। 
“যাচ্ছি যাচ্ছি। এভাবেও উঠতে হবে। হাসপাতাল যেতে হবে। 
"কেন? ওহ হ্যাঁ রোহানের জন্য। কেমন আছে এখন?
“ভালো। ডাক্তার ১ মাস বেডরেস্টে থাকতে বলেছে।
"তাই বলো। বাদড় তাহলে বাদড়ামি করার জন্য এক মাসের বিরতি পেল।
“এভাবে বলো না বেচারাকে। ও সত্যি অনেক আহ*ত। তোমার বন্ধু তো ভালোই খেল দেখিয়েছে। 
"ওহ আচ্ছা। তোমার বন্ধু বুঝি তখন বসে ছিল। কি ভাবো আমি জানি না। ওরা দুজনেই বাইক নিয়ে রেস করছিলো। যা করেছে দুজনে করেছে তাদের মধ্যে রোহান আহ*ত হয়েছে। ওর লাক খারাপ বলতে পারো। তোমার বন্ধুকে তুমি বোঝাতে পার ও যেন তুহিনকে রা*গাতে না যায়।”
"আমার মনে হয় এই কথাটা তুমি তোমার বন্ধুকেও বোঝাতে পার। 
“আমার মনে হয় তোমার এখন উঠা উচিত।" 
অরিত্র মুচকি হেসে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, হ্যাঁ। উঠা উচিত।” 
দাম মিটিয়ে সে বলে উঠলো, থ্যাংকস ফর দ্যা কফি।
"ওয়েলকাম। নেভার কাম অ্যাগেইন।
“যে বলেছে সেই হালা একটা জো*চ্চর, সুন্দরীদের মুখে কখনো মধু ফুটে না। 
জবাবে তাহিয়া দাঁত বের করে হাসল। অরিত্র বেরিয়ে এলো সেখান থেকে। এবার তার হাসপাতালে যাওয়া উচিত। 
_______
গাড়ি পার্ক করে বাড়ি ঢুকতেই তুহিন বেশ অদ্ভুত কিছু শব্দ শুনলো। শব্দ গুলো এরকম যে, “এই তুলো তুলো। হি হি হি, ইশ এরকম করো না। দেখি শুরশুরি লাগে। হি হি হি!" 
কণ্ঠস্বর অন্তুর। এরকম অদ্ভুত কথাবার্তা শুনে তার চোখ কপালে উঠে উঠল। দ্রুত পায়ে বসার ঘরে এলো। অন্তুকে দেখে সে ভিমড়ি খেয়ে উঠল। এই মেয়ে বিড়াল কোলে নিয়ে আদর করছে। ছোট খাটো একটা বিড়ালের বাচ্চা। বিড়াল তাকে আবারো জিহ্ব দিয়ে আদর করে দিচ্ছে। এসব দেখেই তুহিনের গা গুলিয়ে এলো। বিড়াল ও পছন্দ করে না। কুকুর বিড়াল কিছুই পছন্দ না করে। পছন্দ না করার বিশেষ কোনো কারণ নেই। তবে অন্তুকে বিড়াল নিয়ে আদিখ্যেতা করতে দেখে তার ভীষণ রা*গ হলো। ভাবল একটা ধ*মক দিয়ে বলবে, এখুনি বিড়াল বাইরে রেখে আয়। 
কিন্তু বলতে পারল না। তার আগেই জামাল সাহেব চলে এলেন। তিনি এসে অন্তুর আদিখ্যেতা আরো বাড়িয়ে দিল। যা দেখে মনে হলো, বিড়াল তিনিই নিয়ে এসেছেন অন্তুর জন্য। 
#চলবে….

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন