ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমায় দিও একটু খানি ছুয়ে

৩৬তম পর্ব

লেখক: মিমি মুসকান

#আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺

#পর্ব_৩৬
#মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
অন্তিকা নতুন ফোন পেয়েছে। জেএসসি পরীক্ষায় পাশ করবার পর বাবা তাকে নতুন একটা ফোন কিনে দিয়েছে। মা ফোনের সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। এই যেমন ফোন নিয়ে সে স্কুলে যেতে পারবে না। ফোনে কোনো সিম থাকবে না, সারাক্ষণ ফোন নিয়েও বসে থাকা যাবে না, প্রয়োজন ছাড়া ধরা যাবে না। আর অবশ্যই রাতে ঘুমানোর আগে ফোন মায়ের ঘরে রেখে দিতে হবে। অন্তু সবগুলো কথা অক্ষরে অক্ষরে মান্য করছে। ফোন পাবার পর পরই সে সবার আগে একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলল। প্রথমে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো বাবাকে, এরপর মা কে ধরে পুরো চৌদ্দ গুষ্টিকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিলো। অ্যাকাউন্টের পাশে তার নাম জলজল করছে। প্রোফাইলে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখে সবাই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করে নিল কেবল মাত্র তুহিন ভাই বাদে। 
অন্তু হাত কামড়া*চ্ছে। তুহিন ভাইকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো ঠিক হলো আদৌও। পুরো একদিন অপেক্ষা করল সে। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট না করায় কেটে দিল। এরপর আবারো নতুন করে দিল। সঙ্গে একটা মেসেজ ও পাঠালো। অথচ এবারো কোনো জবাব এলো না। আবারো অপেক্ষার প্রহর শুরু হলো তার। 
স্কুল থেকে আসার পর ফ্রেশ হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে সবার প্রথমে ঢুকে তুহিন ভাইয়ের প্রোফাইলে। একটাই চাওয়া, তুহিন ভাই তার রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করছে কি না। না আজও করেনি। সে বসে বসে তার প্রোফাইল দেখতে থাকে। কতো কতো ছবি ছেড়েছে ভাই। অন্তু বসে বসে সবগুলো ছবি দেখতে থাকে। কমেন্ট সেকশন পড়ে। একবার রিয়েক্ট দেয় আবার মতিভ্রম হলে তুলে ফেলে। ভীষণ বেদনা*দায়ক অনুভূতি। সে কি করছে নিজেও জানে না। ধীরে ধীরে তার ছোট্ট মনটা তুহিন ভাইয়ের প্রতি কতোটা দুর্বল হয়ে উঠেছে এটা তার নিজের ও অজানা। 
উঠতি বয়সের মন তার। এই বয়সে মন দেওয়া নেওয়াটা যেন প্রকৃতির নিয়ম। তার কিছু কিছু বান্ধবী ইতিমধ্যে প্রেমিক জুটিয়ে ফেলেছে। অন্তুকেও জোরাজুরি করছে। অথচ অন্তুর মন তখনো অন্য জনের আকাঙ্ক্ষায় পরিপূর্ণ। সে তো অন্যের প্রেমে মত্ত। তার জীবনে প্রথম যে পুরুষকে সে ভালোবেসে মন দিয়েছে সে হচ্ছে তুহিন ভাই। তার নিজের মনের অজান্তেই। প্রোফাইল থেকে তুহিন ভাইয়ের ভালো ভালো ছবি গুলো ডাউনলোড করে রেখে দেয় গ্যালারিতে। রাতে মায়ের কাছে ফোনটা দিতে গিয়েই মনে পড়ে গ্যালারির কথা। তখনি ঢুকে সমস্ত কিছু ডিলেট করে ফেলে। সাথে সাথে ফেসবুকের সার্চ লিস্টে থাকা তুহিন ভাইয়ের আইডিও মুছে দেয়। সে জানে,‌ মা মাঝে মাঝেই ফোন চেক করে। একদিন ধরা পড়লে আর র*ক্ষে নেই। 
অন্তুর মন খুঁতখুঁত করে। তুহিন ভাই তো এখন কলেজে পড়ে। নিশ্চিত তার অনেক অনেক বন্ধু বান্ধব আছে। প্রেমিকাও কি আছে নাকি? অন্তু ভাবনায় পড়ে যায়। ভীষণ দুশ্চি*ন্তা হয় তার। তখনি তুহিন ভাইয়ের আইডিতে নতুন কিছু পোস্ট হলো। সে চট করে গিয়ে দেখে। ভিডিও আপলোড হয়েছে। ভিডিওতে তুহিন ভাই গিটার বাজিয়ে গান গাইছে। কতো কতো মানুষ কমেন্ট। বেশির ভাগই মেয়েদের কমেন্ট। তাদের সুন্দর সুন্দর কমেন্ট দেখে চোখ জ্বা*লা করে অন্তুর। সে ধপাস করে ফোনটা রেখে দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। মন বিষ*ন্ন হয়ে পড়ে। দু ফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে। কি আশ্চর্য! এমন একটা খা*রাপ লোকের জন্য কাঁদছে সে। যেখানে কেউ কখনো তাকে একটা ধম”ক ও দেয়নি সেখানে তুহিন ভাই তাকে চ*ড় মে”রেছে এরপরেও তার জন্য কান্না করা কি শোভা পায়। অন্তু চোখের জল মুছে শক্ত মনে বসে রইল। না সে কাঁদবে না। কখনো না। আবারো ফোন হাতে তুলে নেয়। ফেসবুকে ঢুকেই আবারো ঢুকে তুহিন ভাইয়ের আইডিতে। এতোক্ষণে যে দ”ম্ভ মনে রেখেছিল তা নিমিষেই গুড়িয়ে গেল। অন্তু কমেন্টগুলো পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে তুহিন ভাইয়ের গান শুনতে লাগল। তার গান শোনাতেই ব্যস্ত হয়ে উঠল তার পুরো মন। 
একদিন তার বান্ধবী তাসনিম কে সে বলে উঠলো, “আচ্ছা তাসনিম, কেউ যদি তোর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করতে না চায় তখন কি করা উচিত বল তো।" 
তাসনিম ফিরে তাকাল তার দিকে। ভ্রু উঁচিয়ে বলে উঠলো, “ইশ,‌‌ আমার বান্ধবীর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট কে করা না শুনি। প্রতিদিন তো এতো এতো ছেলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় তাও বুঝি মনে এতো ব্যাথা।" 
“ধুর বাজে বকিস না। একজন আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করছে না। দুমাস হয়ে গেল বার বার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই তবুও পাত্তা দিচ্ছে না।" 
“হয়তো ইচ্ছে করেই করছে।" 
“অবশ্যই করছে।”
"তাহলে তোর উচিত ফেইক আইডি খোলা। ফেইক আইডি খুলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দেখতে পারিস।”
"সত্যি বলছিস? তখন একসেপ্ট করবে?” 
তাসনিম মাথা নেড়ে বলল, "করতেও পারে!” 
অন্তুর মাথায় বুদ্ধি এলো। সত্যি তো, তুহিন ভাই ইচ্ছে করে তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করছিলো না। ফেইক আইডি দিয়ে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে তো দেখতে পারে। যদি একসেপ্ট করে ফেলে। ঠিক করে ফেলল মনে মনে। তখন থেকেই তার মন ছটফট করছে। ক্লাসে ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারল না সে। কখন স্কুল ছুটি হবে এই আশায় ঘড়ির দিকে নজর দিত খানিকক্ষণ পর পরই। 
অতঃপর স্কুল ছুটি হতেই হন্তদন্ত হয়ে ফিরে এলো বাসায়। বাসার কাজের মেয়ে ফুলি দরজা খুলে দিল। অন্তু ঘরে ঢুকেই জিজ্ঞেস করল, "মা কি বাসায় নেই?” 
"না, খালাম্মা বাজারে গেছে।” 
"আচ্ছা!” 
ছুটে ঘরে চলে এলো। প্রথমেই ড্রয়ার থেকে ফোনটা বের করল সে। তার হাত কাঁপছে। বুক টিপটিপ করছে। বুকে হাত দিয়ে ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলল। মাথা ঠান্ডা করে দ্রুতই একটা ফেইক আইডি খুলে ফেলল সে। আইডির নাম দিল, "অবন্তিকা নৈশী!” অন্তিকার সাথে মিল রেখেই অবন্তিকা। না না, তুহিন ভাই এতো বুঝতে পারবেন না। নায়িকা ঐশ্বরিয়ার ছবি দিল প্রোফাইলে। এরপর সর্বপ্রথম তুহিন ভাইয়ের আইডি খুঁজে তাকেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো। এরপর শুরু হলো অপেক্ষা। ঘণ্টাখানেক বসে রইল ফোন হাতে। কই? তুহিন ভাইতো এখনো একসেপ্ট করছে না কিছু। 
উচ্চস্বরে কলিং বেল বেজে উঠতেই অন্তু চমকে উঠল। পরনের স্কুল ড্রেস এখনো খুলেনি সে। ফ্রেশ ও হয়নি। চট করে ফোন রেখে জামাকাপড় নিয়ে ছুটে গেল বাথরুমে। একদম গোসল সেরেই বের হলো সে। মনে একরাশ আশা, হয়তো তুহিন ভাই এখন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করছে। কিছু না, তাও না। 
দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন ঘাটছে। তুহিন ভাইয়ের প্রোফাইলে তার সমস্ত ছবিতে রিয়েক্ট দিচ্ছে সে। কি হবে আর রিয়েক্ট দিলে। তুহিন ভাই থরি জানতে পারবে এটা অন্তু! না, এটা তো অবন্তিকা! 
রাতে পড়াশোনা শেষ করে অন্তু ফের তার ফোন চেক করল। ফেইক আইডিতে ঢুকে একটা নৌটিফিকেশন দেখেই তার চোখ মুখ জ্বলজ্বল করে উঠল। তুহিন ভাই তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেছে। জোরে চেঁচাতেগিয়েও মুখে হাত চেপে ধরল। না না, চেঁচানো যাবে না। কিন্তু খুশিতে আ*ত্মহারা সে। বিছানায় লাফিয়ে উঠে নাচানাচি করল কিছুক্ষণ। 
কিন্তু এরপর, এরপর কি হবে? ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট তো একসেপ্ট করেই ফেলল। এবার কি হবে? অন্তু খুব সা*হস জুগিয়ে তুহিন ভাইয়কে মেসেজ করল। কিন্তু যত আশা নিয়ে মেসেজ করল ওতো তাড়াতাড়ি আর জবাব এলো না। অন্তু অপেক্ষা করতে লাগল। দেখতে দেখতে ঘুমানোর সময় হয়ে গেছে। ফোনটা এবার মায়ের ঘরে রেখে আসতে হবে। ঘর থেকে বেরুতে গিয়ে অন্তুর এবার ভ*য় হচ্ছে। সে ফেসবুকে ঢুকে দেখল ম্যাসেঞ্জারে নৌটিফিকেশন এসেছে। তখনি বুকটা ধপ করে উঠল। সে জানে এটা তুহিন ভাই। কারণ আইডিতে একমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউ নেই। কিন্তু এখন! এখন তো সে আবার জবাব দিতে পারবে না। মা ডাকছে! অন্তু ফেসবুক থেকে দ্রুত তার ফেইক আইডি ডিলেট করে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। মায়ের কাছে ফোনটা রেখে দিয়ে ঘরে ফিরে এলো। বিছানায় শুয়ে শুয়ে কেবল ছটফ*ট করতে লাগল। ইশ, এতোদিন পর তুহিন ভাই তার মেসেজের জবাব দিল অথচ সে কথা বলতে পারবে না। রাত বেড়েই যাচ্ছে ক্রমশ। অন্তু মন খারাপ করে বিছানায় উল্টে পড়ে আছে। তার মন আনচান করছে। 
হঠাৎ মূহুর্তে মায়ের ঘর থেকে চেঁচামেচি শোনা গেল। বাবার সঙ্গে ঝগড়া করছে বোধহয়। অন্তু উঠে বসল। দরজায় গিয়ে আড়ি পাতল। ঝ*গড়া কতোদূর যায় এটাই তার শোনার ইচ্ছে কারণ বেশি ঝগড়া হলে মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেস্ট রুমে চলে যাবেন। সেখানেই রাত্রিযাপন করবেন। অন্তু মনে মনে দোয়া করতে লাগল। এই প্রথমবার এরকম দোয়া করতেও তার লজ্জা লাগছে। তবুও সে নিরুপায়। তার মন অস্থি*র হয়ে উঠেছে তুহিন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য। 
হঠাৎ দরজা বন্ধের শব্দ এলো। অন্তু একটু দরজা ফাঁক করে উঁকি মারল। মা ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে দেখে অন্তুর মন উৎফুল্ল হয়ে উঠলো। অতঃপর সে লজ্জা ও পেল। কিছুক্ষণ পর দেখল বাবা ও রেগে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে সে ঘর থেকে বেরিয়ে মায়ের ঘরে ঢুকল। ফোনটা ড্রয়ারের উপরই পড়ে আছে দেখে সে চট করে ফোন হাতে বেরিয়ে এলো ঘর ছেড়ে। নিজ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করতেই বুকের মধ্যে টিপ টিপ শব্দ শুনতে পেল। কি প্রবল সেই ধ্বনি। ছুটে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। ফেসবুকে ঢুকে আবারো ফেইক প্রোফাইল লগইন করল। তুহিন ভাইকে এখনো এক্টিভ দেখে তার অস্থির মন কিছুটা শান্ত হলো। তার মেসেজের জবাব এসেছে। সে মেসেজ করেছিল, 
“হ্যালো!" 
জবাব এসেছে, হুম। 
অন্তু কাঁপা কাঁপা হাতে আবারো মেসেজ করল,‌ “কেমন আছেন?" 
মেসেজ সেন্ড হতে যতখানি। এরপর থেকেই অপেক্ষা শুরু। কে জানে রিপ্লাই করতে কতোক্ষণ। কিন্তু না, এবার জবাব দ্রুত এলো। 
“ভালো, আপনি?" 
"জ্বি , আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।”
তুহিন জিজ্ঞেস করল, "আপনার নাম কি?” 
উত্তেজনায় সে লিখে ফেলল, "অন্তিকা!” 
মেসেজ সেন্ড হতেই ভ*য়ে লাফিয়ে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে চট করে সেটা মুছে ফেলল। অতঃপর লিখল, "মানে অবন্তিকা। কি বোর্ডে ব আসার আগেই মেসেজ সেন্ড হয়ে গেল।” 
জবাব দেখতে পেয়ে তুহিন মুখ টিপে হেসে উঠলো। সে ভেবেছিল এটা অন্তু। যাস্ট ১% আশা নিয়েই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এড করেছিল। এভাবে তার আশা ফলে যাবে এটা ভাবেনি। অতঃপর অন্তুর উল্টাপাল্টা কথা শুনে সে এখন শতভাগ নিশ্চিত। জবাবে কেবল "ওহ” লিখে সে অন্তুর প্রোফাইলে ঢুকল। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টে কেবল তাকেই দেখাচ্ছে। ভ্রু জোড়া কুঁচকে ফেলল সে। তার সঙ্গে কেবল কথা বলার জন্য অন্তু একটা ফেইক আইডি খুলে ফেলল। আশ্চর্য! 
অন্তু শুধালো, "আচ্ছা আপনার নাম কি?" 
তুহিন জবাব দিল, আমাকে চিনে না থাকলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন কেন? 
অন্তু জবাবে বলল, “আপনিও তো অপরিচিত মানুষের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেছেন তাই না। মানুষ চেনা জানা হতেই তো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়!" 
অন্তুর লম্বা মেসেজ দেখে তুহিনের ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেল। পাকা পাকা কথা বলছে মেয়েটা। তুহিন জবাবে বলল, হুম ঠিক বলেছেন। আমার নাম তুহিন।
“ওহ আচ্ছা। কিসে পড়েন আপনি?" 
অন্তু পুরো চেষ্টা করছে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলতে। যাতে করে তুহিন ভাই কিছু টের না পায়। তুহিন জবাবে বলল, “কলেজে ফাইনাল ইয়ারে। আপনি?" 
অন্তু টাইপ করল, মাধ্যমিক দিব! 
তুহিন জবাব দেখে বলল, মিথ্যাবাদী! অন্তু মুখ টিপে হাসছে। ওপাশ থেকে জবাব এলো, ওহ তুমি তো পিচ্চি। আমি তাহলে আপনাকে তুমি করেই বলি। 
অন্তু চোখ মুখ কুঁচকে ফেলল। মাধ্যমিক দেওয়া মেয়ে পিচ্চি হয় নাকি? তুহিন ভাই কিছু বুঝে না। অন্তু বলল, "হুম।” 
তুহিন জিজ্ঞেস করল, তা থাকো কোথায় তুমি?" 
“খুলনায়।”
"ওহ আমার ফুফাতো বোন ও থাকে সেখানে। কোন স্কুলে পড় তুমি?” 
অন্তু ইচ্ছে করে তার স্কুলের নাম বলল। তুহিন জবাবে বলল, "আমার বোন ও এখানে পড়ে। স্ট্রেইঞ্জ! তুমি চিনো নাকি তাকে? এবার বোধহয় নাইনে পড়ে সে।" 
অন্তু চোখ কপালে তুলল। সে আদৌও জানত না তুহিন ভাই তার সম্পর্কে এতো কিছু জানে। সে মাথা নেড়ে মেসেজ টাইপ করল, না তা তো চিনি না। ওর নাম কি?" 
“ওর নাম অন্তু।" 
“দেখতে কি রকম?" 
“দেখতে ভালো। মাথায় এক ঝাঁক কোঁকড়া চুল, চোখে গোল গোল চশমা পড়ে। সারাক্ষণ ব্যাঙের মতো লাফায়। স্কুলেও বোধহয় লাফালাফি করতেই থাকে।" 
অন্তু মুখটা বে*জার হয়ে গেল। তুহিন ভাই এক অপরিচিত মেয়েকে এভাবে বলছে তার কথা। ওর কি মান সম্মান নেই নাকি। অন্তু জবাবে বলল, ওহ!” 
তুহিন ভাই বললেন, "হুম অনেক রাত হয়েছে। ঘুমাও এখন।” 
বলেই সে বিদায় জানিয়ে দিল। অন্তু হতভম্ব হয়ে গেল। ইশ,‌ এইটুকু কথাবর্তা। এতো টুকু কথা বলার জন্যই কি সে এতো কষ্ট করে ফোন নিয়ে এলো। ধ্যাত! তুহিন ভাই কিছু বুঝে না। কিছু না। 
বিষ*ণ্ণ মনে আবারো মায়ের ঘরে ফোনটা রেখে এলো সে। 
#চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন