#আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺
#পর্ব_৩৮
#মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
( প্রাপ্তবয়স্ক ও মুক্তমানের জন্য )
রাত জেগে পড়াশোনা করত অন্তু। আজও করছে। তার ঘরে পড়ার টেবিলে আলো জ্বলছে। আচমকা ঘরের দরজায় কড়া নাড়ল কেউ। অন্তিকা প্রথমে চমকে উঠল। মামা এসেছেন? না! বুক ধুকপুক করছে। অন্তু জিজ্ঞেস করল, কে?
“আমি!"
চটপট উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে দাঁড়ালো অন্তু। তুহিন ভাই হাতে কফি মগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। জিজ্ঞেস করল, “তুই চা খাস নাকি কফি?"
অন্তু ফট করে বলল, “চা!"
“আচ্ছা আজ কফি খা। নে!”
বলেই কফি মগ এগিয়ে দিল। অন্তু খেয়াল করল ভাইয়ার হাতেও একটা কফি মগ । তিনি তাহলে তার জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে এসেছেন। লজ্জায় অন্তুর কান লাল হয়ে উঠল। তুহিন ঘুরে ঢুকে বলল, "কি করছিলি?”
"পড়ছিলাম!"
বলেই চুমুক বসিয়ে দিল কফিতে। বাহ্! বেশ হয়েছে তো। তুহিন কফি মগে চুমুক দিয়ে টেবিলের কাছে এগিয়ে এলো। বই খাতা উল্টেপাল্টে দেখছিলো সে। তখনি একটা খাতায় তার চোখ আটকে গেল। খাতার পুরো পেজ ভর্তি “তুহিন ভাই” লেখা। তুহিন চমকে উঠল। চুপচাপ সরে এলো সেখান থেকে। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে বলল, "আচ্ছা যা পড়তে বস।”
অন্তু মাথা নেড়ে আবারো এলো টেবিলের কাছে। তার মন ফুরফুরে। পেটে বোধহয় প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। কি অদ্ভুত উন্মাদনা!
ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তুহিন। অন্তুর প্রতি তার অবসেশন এখনো কমেনি। বরঞ্চ প্রতি নিয়ত তা বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু অন্তুর দিক থেকে সেটা কেমন। খাতায় ওভাবে তার নাম লিখে রাখা দেখেই একটা ধারণা হয়ে যায়। সত্যি সত্যি কি তাই! মুচকি হেসে ঘরের দিকে পা বাড়াল সে। গেস্ট রুমে এখন সে-ই থাকে। একদম অন্তর পাশের ঘরটাতে। জামাল সাহেব থাকেন নিচের ঘরে।
মামা এদিকে শুনে মা বাবা কেউই আসার তাড়া করলেন না। তাদের মনে হলো দূরে থাকাটাই মঙ্গল। মেয়ে পরীক্ষা দিবে ভালো করে। এরই মধ্যে আলাদা হবার চিন্তা ভাবনা করছেন তারা। এই বিষয় নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নূরজাহান বেগম। একটিমাত্র মেয়ে, তার ও কি না সংসার ভেঙে যাবে। না না, এসব তাকে ঠিক করতেই হবে। যদিও শেষমেষ আর কিছুই ঠিক হলো না।
অন্তুর দিন কাটছে ভালো। একটু বেশিই ভালো! মামা রোজ মজার মজার কথা বলেন। মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে আনেন। তুহিন ভাই পড়াশোনার দিকটা দেখে। পরীক্ষার সময় গাড়ি করে তাকে নিয়ে যায়। তার সব বান্ধবীরা তো তুহিন ভাইকে দেখেই চমকে গেছে। সকলের এক প্রশ্ন, হ্যান্ডসাম ছেলেটা কে অন্তু?
অন্তুও বলে দিয়েছে, তার হবু স্বামী। ভবিষ্যতে তার সঙ্গেই বিয়ে হবে তার। এতো সুদর্শন জামাইবাবু পাবে শুনে বান্ধবী গুলো হেসে কুটকুট। হ্যাঁ, তুহিন ভাই হ্যান্ডসাম বটে। তার মাথার একঝাঁক চুল, পরনে কালো টি শার্ট, কালো প্যান্ট! উফ এসব দেখলেই তো বুকে ব্যাথা উঠে যায় অন্তুর। কি দরকার এরকম সাজগোজের। আজ তো তিনি সীমাই পার করে দিয়েছেন। অন্তু এসেছিল ছাদের বাগান দেখতে। বহুদিন খোঁজখবর নেওয়া হয় না। কিন্তু এখানে এসে এরকম বিড়ম্বনায় পড়ে যাবে তা ভাবতে পারেনি।
তুহিন ভাই বাগান পরিষ্কার করছেন। পিছিয়ে দাঁড়ানো তিনি। পরনে ট্রাউজার আর হাত কাটা সাদা রঙের গেঞ্জি। পেছন থেকে তার বলিষ্ঠ দেহ আর পেশীবহুল বাহু দেখেই শুকনো ঢোক গিলল অন্তু। তুহিন এদিক ফিরতেই তার গলায় থাকা রূপালী রঙের পেনডেন্ট রোদের আলোয় চিকচিক করে উঠল। অন্তু চোখ ছোট ছোট করে নিল। রূপের কি ঝলক দিচ্ছে দেখো!
তুহিন ভাইয়ের হাতে মাটি। নির্ঘাত তিনি গাছের পরিচর্যা করছিলেন। চারদিক ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। হয়তো ঝাড়ু ও দিয়েছেন। হাতটা পরিষ্কার করে দড়িতে ঝুলিয়ে থাকা শার্টটা পরে নিলেন। তবুও বোতাম খোলা শার্টের। প্রতিটা গাছে যত্ন করে পানি দিচ্ছেন তিনি। অন্তু পাশে এসে দাঁড়াল। তুহিন ভাই একবার ফিরে তাকালেন তার দিকে। জিজ্ঞেস করলেন, “এক্সাম শেষ কবে?"
“পরশু।"
মাথা নাড়লেন তুহিন ভাই। খানিক সময় পেরুলো। মাথার উপর কবুতর ঝাঁক বেঁধে উড়ছে। গাছে পানি দেওয়া শেষ। অন্তু গোলাপ গাছের দিকে এগিয়ে গেল। ফুলের কলি এসেছে ফুল ফুটতে দেরি আছে। অন্তু সেটাই হাতড়ে দেখতে লাগল। বলে উঠলো, “এটা সুন্দর না তুহিন ভাই?"
তুহিন ওদিকে মুখ করে জিজ্ঞেস করল, “সেই
ছেলেটি আর ফুল দিয়েছিল তোকে?"
অন্তু চোখ মুখ কুঁচকে বলল, কোন ছেলে?”
তুহিন মুখ ফিরিয়ে বলল, কেউ না।
অতঃপর ছাদ থেকে বেরিয়ে গেল। সে বেরিয়ে যেতেই অন্তু চমকে উঠল। আরে মনে পড়েছে তো। তুহিন ভাইয়ের এখনো মনে আছে তার কথা। বিস্ময়ে তার চোখ দুটি গোল গোল হয়ে গেল।
খাবার টেবিলে মামা জানালেন, পরশু তার পরীক্ষা শেষ হলেই পরের দিন তারা গ্রামের বাড়িতে যাবে অন্তুর মায়ের কাছে। কথাটা শুনেই অন্তুর মন বি*ষণ্ন হয়ে উঠলো। সে আড়চোখে তুহিন ভাইয়ের দিকে ফিরে তাকাল। কিভাবে খাচ্ছে দেখো লোকটা। আশ্চর্য! সে আর খেতে পারছে না। তার গলা দিয়ে ভাত নামছে না। ওরা গ্রামে চলে যাবে, তার মানে তুহিন ভাই তো আর তাদের সঙ্গে যাবেনা। উঁহু কখনোই না। এর মানে এখানে দুদিন সে আছে তুহিন ভাইয়ের সঙ্গে। এরপর আর তার দেখা পাবে না। কবে আবার পাবে সেটাও তো অজানা!
মন খারাপ নিয়ে পরীক্ষা দিল অন্তু। ভালোই হয়েছিল। গার্হস্থ্য ছিল তো, ভালোই গেল। কিন্তু তার মন অসম্ভব খারাপ। মামা আজ গ্রামে গেছেন। বলেছিলেন তারা সবাই যাবে কিন্তু যাওয়া হলো না। বাবা নাকি ও বাড়িতে। হয়তো আবারো কোনো শালিসি বসেছে। এজন্য অন্তুকে নেওয়া হলো না। বিষয়টি গুরু*তর। তুহিন ভাইকে ছেড়ে গ্রামে না যাওয়ায় তার খুশি হওয়া উচিত। কিন্তু অন্তু খুশি হতে পারছে না। কারণ মা বাবা আসা মাত্র তুহিন ভাই চলে আসবে। তারা কাল অথবা পরশুই চলে আসবে তার মানে তুহিন ভাই ও চলে যাবে। কি অস*হ্য বেদনা! কেন এতো তাড়াতাড়ি পরীক্ষা শেষ হলো তার। মাসখানেক চলতো আরো। তুহিন ভাই যতদিন ছিলো কতোই না আনন্দে ছিলো সে। এখন আর কিছু ভালো লাগবে না, রোজ রাতে এখন তাকে আর কফি করে কেউ খাওয়াবে না।
অন্তুর মনে হচ্ছে মা বাবা কালই চলে আসব। তুহিন ভাইকে কথা বলতে শুনেছে সে। আজই কি তবে তুহিন ভাইয়ের সঙ্গে তার শেষদেখা। ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে তিনি ভোরেই চলে যাবেন। থাকবেন না এ বাড়িতে।
ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে সে। আজ রাতে আর চোখের পাতা এক হবে না তার। সারাটে দিন আজ তুহিন ভাইয়ের সঙ্গেও দেখা হলো না। আচ্ছা তার বুঝি কষ্ট হয় না। লোকটা কিভাবে পারে সামনে থেকেও না দেখে থাকতে। কই? অন্তু তো পারে না।
চুপি চুপি সে বের হলো ঘর থেকে। এসে দাঁড়াল তুহিন ভাইয়ের ঘরের সামনে। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। মাথা নিচু করে সিঁড়ি বেয়ে হেঁটে উপরে উঠে গেল ছাদে। আকাশে মেঘ করেছে তাই চাঁদটা দেখা যায় না। অন্তু অনেকক্ষণ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল। বাইরে ঠান্ডা বাতাস। হুঁ হুঁ করে হাওয়া বইছে। হঠাৎ বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। ছাদে দাঁড়িয়ে ভিজতে লাগল অন্তু। অনেকক্ষণ! অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ভিজল সে। কিন্তু বৃষ্টি থামার নাম নেই। সেটা বরঞ্চ আরো বেড়ে যাচ্ছে। বজ্রপাত পড়ছে, হাওয়া বইছে। মনে হচ্ছে ঝড় আসবে। এতোক্ষণ তো ভালোই লাগছিলো কিন্তু এবার ভয় পেতে শুরু করল সে। দ্রুত নিচে নেমে এলো সে।
ছোট দেহটা বার বার কেঁপে উঠছিল শীতের কারণে। কোথাও দিয়ে বোধহয় ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢুকছে। অন্তিকা পা টিপে টিপে তুহিন ভাইয়ের ঘর ছেড়ে যাচ্ছে। পুরোপুরি যাবার আগে আচমকা আলো সব নিভে গেল। সে ভ*য় পেয়ে গেল। চেঁচিয়ে উঠল। দেওয়ালের সাথে মিশে দাঁড়াল। কি ভ*য়ংকর! ভাবতেই গা কাঁটা দেয়। আচমকা লোডশেডিং হবার কি দরকার ছিল।
তার চিৎকার শুনে হু*মড়ি খেয়ে ঘর ছেড়ে বেরুল তুহিন মির্জা। জেগেই যেন ছিল। এতো রাতেও লোকটাকে জেগে থাকতে অন্তুর অবাক লাগল। ফোনের ফ্লাশের আলোয় দুজনের চোখাচোখি হলো। ঠান্ডা হাত পা নিয়ে শক্ত মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে অন্তু। তুহিন ভাইয়ের তী*ক্ষ্ণ চাহনি, গা হিম করে দেয় আরো। তিনি আচমকা ঝুঁকে গেলেন। বিকট গন্ধ! মদ্য*পান করেছেন নাকি! চমকে উঠল অন্তু। তাকে নেশা*ক্ত লাগছে। তিনি নে*শায় ডুব হয়ে আছেন। অন্তুর মনে হলো তিনি দুলছেন। ভারী শরীর নিয়ে দোলাও মুশকিল। সে যত কাছে এগিয়ে আসছে অন্তু ততোই দেওয়ালের সাথে মিশে যাচ্ছে। আচমকা তিনি ধরলেন। শক্ত করে তার বাহু টেনে ধরে গম্ভীর স্বরে বলেন, “কি করছিস এতো রাতে? বৃষ্টিতে ভিজেছিস নাকি? গা ভিজে কেন তোর?"
অন্তি*কা ভয়ে চুপসে গেল। কেবল মাথা নাড়ল। আদৌও নাড়তে পারল কি না বুঝতে পারছিলো না। কারণ তার পুরো শরীর কাঁপছে। লালচে চোখগুলো তখন তাকেই দেখছিলো। সেই দৃষ্টি উপেক্ষা করার শক্তি অন্তুর ছিল না। সে ভ*য়ে কুঁকড়ে গেল। তুহিন ভাই কাছে এগিয়ে আসছেন, আরো কাছে। আচমকা একটা শব্দ হলো, একটা বা*জ পড়ল। অন্তু চমকে উঠল!
পরক্ষণেই কারো উষ্ণ হৃদয়ে ঠাঁই মিলল তার। অন্তু হতবিহ্বল হয়ে গেল। তুহিন ভাই তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। কি করা উচিত তার। সেও কি জড়িয়ে ধরবে। তার তো পুরো শরীর কাঁপছে। ফোনটা নিচে পড়ে গেছে। এখন আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। অন্তু ঘনঘন শ্বাস ফেলছে। তুহিন ভাই তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, "ভয় পেয়েছিস? ভয় পাস না অন্তু। আমি আছি তো!”
অন্তু গলে গেল। ঠিক মোমের মতো। কোনো দ্বিধা ছাড়া নিঃসংকোচে সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তুহিন ভাইকে। তুহিন ভাইয়ের শার্ট ভিজে যাচ্ছে তার ভিজে জামায়। তবুও কোনো তাড়াহুড়ো নেই তার। পরিবেশ বদলে গেল। প্রেম প্রেম মূহূর্তে ভরে উঠল চারদিক। আলো ফিরে এলো আবারো। ঝলমল আলোয় দুজন দুজনকে দেখতে পাচ্ছে এবার। তুহিন মোহিত হয়ে পড়ছে। সে নিজেকে আটকে রাখতে চাইছে কিন্তু সম্ভব হয়ে উঠছে না। এই পরিস্থিতি, সময় তাকে রুখে দিতে পারছে না। আর বিশেষ করে… বিশেষ করে অন্তুর আলিঙ্গন। চুম্বকের ন্যায় কাছে টানছে তাকে। মেয়েটা কাঁদছে কিন্তু কেন?
তুহিনের বুকের মধ্যে লেপ্টে আছে সে। তুহিন জিজ্ঞেস করল, "কাঁদছিস কেন অন্তু?”
অন্তু নাক টেনে ফিসফিস কণ্ঠে বলল, "আপনি কাল চলে যাবেন তুহিন ভাই।”
"হুঁ যাবো তো। কেন?”
"আমায় ছেড়ে চলে যাবেন আপনি?”
মুচকি হেসে উঠল তুহিন। সে অন্তুকে বুকের মধ্য থেকে টেনে বের করিয়ে আনল। দুই হাতে তার গাল আঁকড়ে ধরে বলল, “যাব না বলছিস? কেন যাব না বলতে পারিস?"
অশ্রুসিক্ত নয়নে অন্তু ফিরে চাইল তার চোখের পানে। ধীর কণ্ঠে জবাব দিল, “আপনাকে ছাড়া আমি থাকব কি করে?"
“কেন? থাকতে পারবি না কেন? ভালোবাসিস আমায়?"
লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল অন্তু। শুকনো ঢোক গিলে বলল, “হুঁ! ভালোবাসি আপনাকে!"
তুহিন বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে উঠল। সে যেন স্বর্গ সুখ তার হাতের মুঠোয় পেয়ে গেল। তার চোখেতে অশ্রুকণা এসে জমা হচ্ছে। অন্তু ইতস্তত করে বলল, “এবার আপনি বলুন তুহিন ভাই? ভালোবাসবেন আপনাকে?"
বলেই চোখ মেলে তাকাল আবার। তুহিন মৃদু হেসে বলল, “বাসব! নিতে পারবি আমার ভালোবাসা? সেসবের সহ্যশক্তি আছে তোর?"
অন্তু ঘাবড়ে গেল বোধহয়। সে আঁখি জোড়া চঞ্চল হয়ে উঠল মূহূর্তে। মনে হলো কোনো কাছের একটা জিনিস সে হারিয়ে ফেলছে। তুহিন ভাই এক পা বাড়াতেই পিছিয়ে এসে দেয়ালে ঠেকল আবারো। তার হাতের মুঠোয় শক্ত করে হাত চেপে তুহিন এগিয়ে গেল তার অধরজোড়ার দিকে। দৃষ্টি নামিয়ে নিল অন্তু সঙ্গে সঙ্গে। তবে অধরজোড়া ছুঁয়ে দেখছে না তাকে। কেন? অন্তু চোখ মেলে তাকাল আবারো। অন্য হাতটা তুহিন ভাইয়ের গালে রাখল সে। তুহিন চোখ বন্ধ করে নিল। যেন এটা সম্মতির লক্ষণ। এবার কোনো সংকোচ ছাড়াই তার ওষ্ঠধর ছুঁয়ে দেখল সে। চোখ বন্ধ করে নিল অন্তু। তার জীবনের প্রথম পুরুষের ছোঁয়া ছিল এই। এখান থেকেই যেন শুরু। তুহিন ছেড়ে দিল তাকে। অন্তু কাঁপছে। তার টকটকে লাল ওষ্ঠজোড়া কাঁপছে আবারো, তুহিনের মনে হলো তার নেশা ধরে গেছে। এবার হা*মলে পড়ল তার অধরজোড়ার উপর। যত বাধা ছিল সব চুর*মার করে দিয়ে সে তার গন্তব্যে এসে পৌঁছাল যেন।
নেশা*য় বুঁদ হয়ে উঠল তুহিন। নিজের অনুভূতির প্রতি কোনো সংযম নেই তার। এর উপর অন্তুও কোনো বাঁধা দিচ্ছে না। এজন্যই যেন আরো উন্মা*দ হয়ে উঠল। তাদের উ*ন্মাদনা চূড়ান্ত হয়ে উঠল। অন্তুর মনে পড়ে না ওতো কিছু। কেবল ভাসা চোখের সামনে ভেসে উঠে, তুহিন ভাই একে একে শার্টের বোতাম খুলছে। সেই হয়তো সাহায্য করছে খুলছে। দীর্ঘ চুম্বনে ব্যস্ত তারা একজন অপরজন। কোনো দিক দিশা নেই, কোনো মানা নেই। তুহিন ভাইয়ের শরীরের ছোঁয়ায় তার ঠান্ডা হিম শরীর কিছুক্ষণের মধেই উষ্ণতা খুঁজে গেল। কোনো লজ্জা আটকে রাখতে পারছিলো না তাকে আজ। নিজের এমন আচরণের জন্য আজও ল*জ্জায় মিশে যায় সে। অপ”রাধবোধ জেগে উঠে যখন মনে পড়ে মাঝপথেই তুহিন ভাই তাকে ছেড়ে দেয়। যখনই থেমে গেল সমস্ত কিছু তখনই অন্তু ঘোর ছেড়ে ফিরে এলো। শরীরের বিধ্ব*স্ত অবস্থা নজরে এলে গায়ে চাদর টেনে বিছানার জবুথ*বু হয়ে বসে পড়ল সে। লজ্জা*য় তার সর্বাঙ্গ কাঁপছে।
কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের চশমা খুঁজতে লাগল সে। চোখের চশমাটা হারিয়ে ফেলল কখন? চোখে চশমা পরে দেখল সামনে তুহিন ভাই দাঁড়ানো। পরনে কেবল তার কালো জিন্স, উদাম শরীর। এরই মধ্যে একটা সিগারেট ধরান তিনি। অন্তু মাথা নিচু করে ঠাঁই বসে আছে। চাদর দিয়ে যতটা পারছে শরীর ডাকছে। আবারো ফিরে তাকাল সামনে। চোখাচোখি হলো। কি ছিল সেই চাহনিতে। অন্তু খুঁজে বেড়াল। অথচ বুঝতে পারল না। বুঝতে পারল না তুহিন ভাই অপরাধবো”ধে ভুগছেন। যতটা এগিয়েছে এতোটাও আগানো উচিত হয়নি তার। চুম্বন অবধি ঠিক ছিল, এরপর আগানো অবশ্যই উচিত হয়নি তার। অন্তু ছেলেমানুষ, ওর তো বয়সটাই এমন। কি বুঝে ও! যখন বুঝবে তখন তো সেই বলবে, আপনি আমার ক্ষ,তি করেছেন তুহিন ভাই! কিভাবে পারলেন আপনি এমনটা করতে? তুহিন তখন কি জবাব দিবে? না না, ও তো ভালোবাসে! ভালোবাসা নিচে নামতে পারে না। ও কিভাবে নেমে গেল। বিবেক দর্শ*নে অস্থির হয়ে উঠল তার মন। বুক ফুলিয়ে কেবল সিগারেট টানতে লাগল।
অন্তু দ্বিধা স্বরে ডেকে উঠল, তুহিন ভাই!
দৃঢ় কণ্ঠে তুহিন ভাই বলে উঠলো, “জামা পরে নে অন্তু, নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে।"
লজ্জা*য় চোখ নামিয়ে ফেলল অন্তু। তার মুখ রক্তিম হয়ে উঠল। তুহিন ভাই সিগারেট টানতে টানতে নিচ থেকে শার্টটা তুলে চলে গেল ঘর ছেড়ে। অন্তুর মন তখনো এসবের বাইরে। সে সবকিছু থেকেই অনাগত।
জামাকাপড় বদলে এসে ঘরের মধ্যে ঠাঁই বসে রইল সে। তুহিন ভাই আর আসেনি। সং*শয়ে সে আর বাইরে গেলো না। সারারাত জেগে রইল ঘোরের মধ্যে। কি কি হলো তাদের মধ্যে। ভাবলেই শরীর কাটা দেয়। ছিঃ ছিঃ! আরেকটু হলেই কি করতে যাচ্ছিল তারা। ল*জ্জায় চোখ মুখ লালচে হয়ে উঠে তার। চাদর টেনে শুয়ে পড়ল সে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মামার ডাক শুনতে পেলো সে। মামা এসেছেন। অন্তু ঘুম থেকে উঠে ছুটে বেরুলো। পাশেই তুহিন ভাইয়ের ঘরের দরজাটা খোলা। অন্তু ঘরের মধ্যে ঢুকেই বুঝতে পারল তুহিন ভাই আর নেই। চলে গেছেন। তিনি চলে গেল?
অন্তু ছুটে নিচে নামল। বসার ঘরে মামা আর বাবা বসে কথা বলছেন। মা রান্নাঘর ছেড়ে বেরুলেন। তার মাথায় হাত রেখে বললেন, “কেমন হলো পরীক্ষা?"
অন্তু মাথা নেড়ে বলল, “ভালো।"
“বসো। নাস্তা নিয়ে আসছি।"
মা চলে গেলেন। বাবা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে চুমু খেলেন। পাশে বসিয়ে কতো কতো কথা জিজ্ঞেস করলেন। অথচ অন্তু যেন নিজের মধ্যেই নেই। তুহিন ভাই কিভাবে পারল তাকে না বলে চলে যেতে। গতরাতের এতো কিছুর পরেও তিনি কিভাবে চলে গেলেন।
সবার চোখের আড়াল হয়ে মামার ফোনটা নিয়ে ছুটে উপরে ছাদে চলে এলো অন্তু। কল করল তুহিন ভাইকে। একবার বাজতেই ফোনটা রিসিভ করল সে। অন্তু সঙ্গে সঙ্গে বলল,
"তুহিন ভাই আপনি চলে গেছেন?”
"হ্যাঁ, এসে পড়েছি। কেন?”
কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক। তাই বোধহয় অন্তু থেমে গেল। কি বলবে বুঝে উঠতে পারল না। কিভাবে বলবে গতরাতের কথা। তুহিন ভাইয়ের কিছু কি মনে নেই। তিনি কি সব ভুলে গেলেন। ওপাশ থেকে তুহিন বলল, "তোকে কিছু বলেছি অন্তু? গতরাতে নে*শা করে ছিলাম। কিছু মনে নেই আমার। কিছু বলেছিলাম তোকে?”
কণ্ঠস্বর শুনে মনে হলো তার কিছুই মনে নেই। অন্তু মাথায় যেন বাজ পড়ল। অন্তু আমতা আমতা করতে লাগল। তুহিন আবারো বলল, রাখছি অন্তু!
ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে গেল। তার মানে গতরাতে যা হয়েছিল তা কি ভ্রম! স্বপ্ন! ছলনা। নাহলে তুহিন ভাইয়ের কিছু মনে নেই কেন? সবটাই কি তাহলে নে,শার ঘোরে। তিনি তবে ভালোবাসার কথা ভুলে গেলেন। ভুলে গেলেন অন্তুকে। অন্তু ছুটে ঘরে এলো। বাথরুমে ঢুকে ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে রইল সে। ঝর্ণার পানি গড়িয়ে পড়ছে তার সর্বাঙ্গে। সে হাউ*মাউ করে কেঁ*দে উঠল। তার ছোট্ট হৃদয়ে তুহিন ভাই যে ক্ষ*ত দিয়েছে তা ঠিক হবার নয়। তুহিন ভাই কিভাবে পারেন সবটা ভুলে যেতে। কিভাবে পারেন? অন্তুর বিশ্বাস হচ্ছে না। তার ছোট্ট হৃদয় এসব বিশ্বাস করতে চায় না, কিছুতেই না!
#চলবে…..