#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার
#লেখিকা: #আইশা_নওমী
#পর্ব_৫
(কপিরাইট সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ⚔️⚔️)
🍁🍁🍁🍁🍁
**************
★★
রাতে,
বাড়িতে ফিরে এসে মিহিয়া রুমের সাথে লাগানো বারান্দায় দাঁড়িয়ে, আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু কথা ভাবছে ।আগামী দিনগুলো তার কীভাবে কাটবে, তার অনাগত সন্তার এর ভবিষ্য নিয়ে খুবই চিন্তিত।
তার বাচ্চা বড় হলে যখন তাকে জিজ্ঞেস করবে তার বাবা কে তখন সে কী জবাব দিবে।
বাচ্চার কথা মনে পড়তেই তার একটা কথা মাথায় আসলো তার বাচ্চা যদি ঠিকি থাকে তাহলে হাসপাতালের ডক্টর তাকে মিথ্যা কেন বললো।
আর ওই ডক্টরকে দেখে কেনো জানি একটু সন্দেহ
হয়েছিলো,ওর চোখগুলো কেনো জানিনা খুব পরিচিত মনে হয়েছিল ।
কিন্তু তখন তার বাচ্চার চলে যাওয়ার কথা শুনে তার পুরো পৃথিবী থমকে গিয়েছিলো।যার ফলে সে আর অন্যদিকে নজর দেয় নি। এত দিন যে তার পিরিয়ড হয়নি।আর মিসক্যারেজ হলে যে কয়েকদিন প্রচুর পরিমানে ব্লিডিং হয় সেই সময় তার সেটা মাথাতেও আসিনি।
তার কেনো জানি মনে হচ্ছে তার বোনের সাথে আবরাহামের ভাইয়ের বিয়ে থেকে শুরু করে
তাদের সংসার ভেঙে যাওয়া,তার সাথে আবরাহামের সম্পর্ক থেকে শুরু বিয়ে,বিচ্ছেদ, তার সন্তানের উপর হামলা এগুলো প্রতিটি ঘটনা একে অপরের সাথে খুব গভীর ভাবে কানেক্টেড। উপর থেকে, কেউ ইচ্ছে করেই এগুলো করছে।এত কিছু ভাবতেই তার মাথা ছিড়ে যাচ্ছে।
সে আর এখন আর এত কিছু ভাবতে চায়না।
তাকে ডক্টর মানসিক চিন্তামুক্ত থাকতে চায়।তার সন্তানের জন্য হলেও তার মানসিক চিন্তামুক্ত থাকতে হবে।
🍀🍀🍀
★★★
কিছুমাস পর,
আজ রিদিয়া তার বোন মিহিয়াকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল বেবি চেকআপের জন্য, ডাক্তার তাকে জানায় সব কিছু নরমাল আছে।সে কৌতুহল বশত ডাক্তারের কাছে জানতে চায় এত বড় এক্সিডেন্টের পর তার বাচ্চাটা মারা কেনো যায়নি কেন??
ডাক্তার তাকে জানায়, দেখো মা তোমার এক্সিডেন্টটা
গুরুতর হলেও পেটে হয়তো বা আঘাত লাগেনি আর আর এক্সিডেন্টের সময় হয়তো তোমার প্রেগন্যান্সির থ্রিমান্থ পার হয়েছিল। বাচ্চা পেটে আসার প্রথম তিনমাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ জানো।এই তিনমাস এই বাচ্চা মিসক্যারেজ বেশি হয়। আর তোমার এক্সিডেন্টের সময় তোমার দ্রুত চিকিৎসা হওয়ার কারনে বেবিটা বেচে যায়,আল্লাহ হয়তোবা তোমার কাছ থেকে তোমার বেবিকে কেড়ে নিতে চায়নি।তাই বেঁচে গেছে।,,
ভাবনার মাঝেই তাদের সিএনজিটা বাসায় কাছে এসে পড়লো।তবে ফ্ল্যাটের কিছু মহিলার কথায় রিদিয়াও মিহিয়া দাঁড়িয়ে পড়লো।
তারা তাদেরকে জিজ্ঞেস করলো,
,,তা মা বাচ্চা তো পেটে ধরছো ভালোই তা তোমার সোয়ামিরে তো কোনোদিন দেখলাম না। বড়বোনটার জামাইকেও তো কোনোদিন দেখলাম না,তা জামাই কি আছে নাকি কোনো নাগরের লগে ফস্টিনষ্টি কইরাই ছাইরা দিয়েছে।,,
মহিলার এহেন কথায় মিহিয়া মনে কষ্ট পেলেও। রিদিয়া রেগে গেলোও খুব শান্ত অথচ ঠাট্টা স্বরে বলল,,তা আন্টি আপনাদের কি খেয়েদেয়ে আর কোনো কাজ নেই কাল ওর ফ্ল্যাট পরশু আরেকজনের ফ্ল্যাটের ঘুরে ঘুরে কার ছেলে কি করলো,কার মেয়ে পালিয়ে গেলো, কোন ছেলের সাথে কথা বলতে দেখা গেলো এগুলো খোঁজ খবর নেওয়া ছাড়া।
এতই যদি শখ থাকে সিআইডিতে যোগ দিতে পারেন,আমার পরিচিত একভাই আছে,আলাপ করে দিবো, নাম্বার লাগবে ।। আরেকটা কথা,কার ছেলে কার মেয়ের সাথে কথা বলছে, কার মেয়ের বিয়ে হলো, কার বাচ্চা হলো,বাচ্চার বাবা কে কোথায় থাকে সেটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। আর কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আপনি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে বাঁচার,চলাফেরা করা অধিকার আছে। আর কেউ যদি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে তাহলে সে চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্হা নিতে পারবে।তাই আপনি যদি আর একবারও আমাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন তাহলে আমি আপনাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্হা নিতে বাধ্য হবো সো মাইন্ড ইট।কিছু বলার আগে ভেবে চিন্তে বলবেন।বুঝতে পেরেছেন এখন আসতে পারেন।ধন্যবাদ আপনাদেরকে আপনার মূল্যবান বক্তব্য পেশ করার জন্য।,,
রিদিয়ার মুখে এহেন কথা শুনে মহিলাগুলো ভয় পেলো চলে যেতে যেতে বললো,আজকাল কারো ভালো করতে নাই,ভালো বুঝে খোজখবর নিতে আইলাম আর আমাদেরই কথা শুনাইলো।
🍀🍀🍀🍀
★★★
বাড়িতে এসেই মিহিয়া দৌড়ে নিজের ঘরে চলে গেলো
নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় হাঁটুগেরে বসে মাথানিচু করে কাঁদতে লাগলো। বিগত কয়েক মাস ধরে
তার এইরকম সমালোচনা শুনতে শুনতে অভ্যাস হয়ে গেছে তবুও আজকে ওর খুব খারাপ লাগছে।যার জন্য ওকে আর ওর হবু সন্তানকে এত কথা শুনতে হচ্ছে তাকে ও কোনভাবেই ক্ষমা করবেনা।
যদি সে কোনোভাবে এগুলো করার পিছনে কোনো কারনও থাকে,তবুও তাকে সে ক্ষমা করবেনা।
মিহিয়াকে দৌড়ে উপরে চলে যেতে দেখে রিদিয়া আর কোনোদিক না তাকিয়ে সেও মিহিয়ার রুমে চলে গেলো,গিয়ে দেখলো মিহিয়া বিছানায় বসে জোরে জোরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।সে মিহিয়ার পাশে বসে তাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।রিদিয়াকে জরিয়ে ধরতে দেখেই মিহিয়া যেনো একটা ভরসাস্থল একটা জায়গা পেলো, বোনকে জরিয়ে তার বুকে ছোট্ট বাচ্চাদের মতো আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো,কাঁদতে কাঁদতে তার হিচকি উঠে গেলো। রিদিয়া বোনকে কাঁদতে দিলো কাঁদলে মানুষের মনের কষ্ট গুলো হালকা হয়।বিগত,কিছু মাস ধরেই সে তার বোনকে এভাবেই সামলে আসছে।বাইরের মানুষের সামনে নিজেকে যতই স্ট্রং দেখাক না কেন একমাএ সেই জানে তার বোন ভিতরে ভিতরে ঠিক কতেটা দূর্বলও অসহায়, একসময় সে নিজেও তো এগুলো পার করে এসেছে। তাই সে ভালো করেই জানে তার বোনের এখনকার মানসিক অবস্থা ঠিক কি রকম,মাঝে মাঝে তো তার নিজেকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করতো তবে নিজের অনাগত সন্তান আর নিজের আদরের ছোট বোনের কথা ভেবে নিজেকে সামলিয়েছে। কারন বাবা ও মা মারা যাওয়ার আগে তাকে তার বোনকে দেখে রাখার দায়িত্ব দিয়ে গেছে।।তাই সে বোনতাকে বোঝানোর ভঙ্গিতেই বললো,সোনা এই সময়ে মায়েদের অনেক স্ট্রং থাকতে হয়।আশেপাশে অনেকেই তোকে নিয়ে অনেকে অনেক খারাপ কথা বলবে,সমালোচনা করবে।তবে তোকে ওদের এসব কথায় মন খারাপ করে থাকলে চলবেনা, মনে রাখবি লোকের কাজই হলো অন্যকে নিয়ে সমালোচনা করা।তবে,তাদের কথায় গাঁ ভাসিয়ে দিলে চালবে না।নিজেকে শক্তিশালী করে তৈরী করে তাদেরকে বুঝিয়ে দে তুই দূর্বল নোস। তাহলে দেখবি একসময়ে তারা সমালোচনা করতে করতে হাঁপিয়ে যাবে তোকে নিয়ে সমালোচনা করা ছেড়ে দিবে। আর একটা সসময় মাথায় রাখবি তুই মা হতে চলছিস, নিজের ভিতরে একটা নতুন প্রানধারন করছিস।তোকে এততাড়াতাড়ি হার মানলে চলবে।বিস্ট্রং মাই সোনা।
মাতৃত্ব কোনো অসুখ নয়,এটা প্রতিটি নারীকে তার নারীত্বেরই স্বাদ দেয়।সো এনজয় ইওর মাদারহুড মাই ডিয়ার।,,
রিদিয়ার এতসুন্দর ও আদুরে ভাবে বোঝানোতে মিহিয়া কান্না থেমে গেলো।রিদিয়ার কথাগুলো তাকে মনে,
আরো দ্বিগুণ সাহস জুগিয়েছে। নিজেকে সে আরো স্ট্রং বানাবে ওই বজ্জাত,খাটাশ,বেয়াদব আবরাহামকেও দেখিয়ে দেবে যে,ওর পরিচয় ছাড়াও একা একাই নিজের পরিচয়ে বাচ্চা মানুষ করা যায়।
মনে মনে আবরাহামকে আরো খানিকটা বকা দিয়ে ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে গেলো।মিহিয়াকে যেতে দেখে রিদিয়া মনে মনে দূরচিন্তামুক্ত হলো।যাক তার বোঝানো তাহলে কাজে লেগেছে।
তাই সে গেলো খাবার আনতে মিহিয়া অনেকক্ষণ ধরে না খেয়ে আছে।আর ওদিকে তার ছেলে তার ছেলে আসার সময়ও হয়ে এসেছে।মিহিয়াকে খাইয়ে দিয়ে।ছেলেকে খাওয়াতে হবে।ছেলেকে খাওয়ানোর থেকে যুদ্ধ করা তার কাছে বেশি সহজ বলে মনে হয়।
এত দুষ্টু তার ছেলে।
🍀🍀🍀🍀
★★
এদিকে হাসপাতালে ৩০৪ নাম্বার কেবিনে শুয়ে আছে
আবরাহামের বড় ভাই ফাহাদ মুখে অক্সিজেন মাস্ক পড়ানো।শ্বাস চলছে ধীরে ধীরে। পাশের যন্ত্রটা বিপবিপ আওয়াজে চলছে।
তার মধ্যে কেউ একজন ফাহাদের কেবিনে ঢুকে তার অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিলো যার ফলে তার শ্বাসকষ্টে বেড়ে গেলো।
নিজের ইনজেকশন নিয়ে কিছু একটা পুশ করতে যাবে ঠিক সেই সময়ই কেউ কেবিনে আবরাহাম প্রবেশ করে। ঠিক সেই মুহূর্তে তয় কেউ সরে গেলো।
তবে তার হাত থেকে ইনজেকশন এর সিরিঞ্জটি পরে গেলো।
আবরাহাম রুমে প্রবেশ করে সিরিঞ্জটি হাতে নিয়ে।মুখে একটা রহস্যময় হাসি টেনে বললো,, ইন্টারেস্টিং ভেরি ইটারেস্টিং।আমিও দেখতে চাই তুমিও ঠিক কতদিন এইভাবে লুকিয়ে থাকতে পারো।,,
চলবে,
(আজকে অনেক বড় পার্ট দিয়েছি, তাই বেশি বেশি রেসপন্স করুন, ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
হ্যাপি রিডিং😏😏😏😏😏😏😏)