ফন্ট সাইজ:
থিম:
হারিয়ে বুঝেছি কি ছিলে তুমি আমার

৪র্থ পর্ব

লেখক: আইশা নওমী

(কপিরাইট সম্পূর্ণ নিষেধ)

#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার

#আইশা_নওমী

#পর্ব_৪

🍁🍁🍁🍁🍁

★★

ওয়াসরুমে,,

আবরাহাম দেয়ালের দু দিকে হাত ঠেকিয়ে শাওয়ার

নিচ্ছে।মাথার উপরে ঝর্ণা দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।ফর্সা গায়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ছে।কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছে না।বারবার মিহিয়া ও রিভানের ওই ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের কথা মনে পড়ছে।আর হিংসায় তার মন জ্বলে পুরে খাক হয়ে যাচ্ছে।

নিজেকে শান্ত করার জন্য দু'হাতে নিজের মাথার চুল জোরে চেপে ধরে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে তবুও কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছে না।

বুকের ভিতরের প্রতিহিংসার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে।রাগে ওয়াশরুমে দেয়ালে জোরে জোরে

ঘুষি মারতে লাগলো।ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত মারতে লাগলো যতক্ষণ না পযন্ত সে পুরোপুরি ভাবে ক্লান্ত হয়ে গেলো।

যেহেতু আগে থেকে হাতে আঘাত ছিলো তাই এখন আরো জোরে ঘুষি মারার কারনে হাত পুরো থেঁতলে গেলো।পানির সাথে রক্তের ধারা বইতে লাগলো।অতিরিক্ত রক্তপাতের জন্য তার শরীর ক্লান্ত হয়ে গেলো, ক্লান্ত হয়ে সে বাথটবে নিজের শরীর ছেড়ে দিলো হাত থেকে টপটপ করে মেঝেতে রক্ত গড়িয়ে পড়লো।

ক্লান্তিতে চোখটা বুঝতেই মিহিয়ার হাস্যজ্বল চোখটি ভেসে উঠলো।একে একে সকল ঘটনা মনে পড়তেই

মুখে একটা রহস্যময় হাসি হেসে বললো,

আমার মিহুপাখি তুমি বড্ড বোকা,খুব তাড়াতাড়ি আমি আবার তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসবো আমার জান।,,

★★

🍁🍁🍁🍁

এদিকে সেই ঘটনার পর আজ ১ মাস হতে চললো মিহিয়া অতীত থেকে নিজেকে সরিয়ে এনে নিজের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত।নিজেকে সে এমন স্টং ও শক্তিশালী বানাতে চায় যে, কেউ যেন তার দিক আঙ্গুল তোলার আগে দশবারভাবে।

সেদিনের সেই ঘটনার পর সে তার বোনও একমাএ ভাগিনা ইউভানকে নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে চলে এসেছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে।তবে রিভানের সাথে প্রতি নিয়তো যোগাযোগ আছে।সে নিজেকে যতটুকু সম্ভব স্টং রাখার চেষ্টা করছে।তবে যতই সে নিজেকে অন্যদের সামনে স্টং করার চেষ্টা করুক না কেন।ভিতরে ভিতরে সেও তো একজন নারী।

তারওতো একটা নরম মন আছে।তারওতো কষ্ট হয়। তার এই কষ্টের একমাএ সাক্ষী প্রতিটি নির্ঘুম রাত ওরাতের আকাশের জ্বলজ্বল করা প্রতিটি তারা।নিজের সন্তান হারানো যন্ত্রণা যে ঠিক কতখানি কষ্টের তা একমাএ একজন মাই জানে।

আবরাহামের প্রতারণা করলেও সেতো তাকে সত্যি কারের ভালোবেসে ছিলো।

★★★

ইদানিং প্রায়শই মিহিয়ার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।

সাথে মেজাজটাও সারাক্ষণ খিটখিটে ভাব হয়ে থাকে।

অতিরিক্ত রাগতো আছেই।

খেতে মন চায়না, সবসময় বমি পায়, মুডসুইংতো আছেই এই হাসি পায় আবার এই কান্না পায়।

নিজের এই আচরণে নিজেই বেশ অবাক হয় মাঝে মাঝে। তার এই অসুস্থতা দেখে মিহিয়ার বড়বোন রিদিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে যে করেই হোক হাসপাতালে নিয়ে যাবে।মিহিয়া বারন করলেও সে শুনতে রাজি নয়।

সে মনে মনে যেটা সন্দেহ করছে তা যদি সত্যি হয় তবে তার থেকে খুশি কেউ হবে না।

কারন একমাএ সে দেখেছে এই বাচ্চাটার জন্য তার বোন দিন রাত কেমন পাগলের মতো কান্না করেছে।

★★★

আজ সকালে মিহিয়াকে একজন গাইনীকলোজিস্ট এর এপোয়েন্টমেন্ট নিয়েছে রিদিয়া।সেখানে যাওয়ার জন্য

রেডি হচ্ছে তারা।রেডি হয়ে তারা হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা দিলো।

কিছুক্ষনের মধ্যে একজন মহিলা গাইনী ডক্টর (নিলুফা ইয়াসমিন) এসে মিহিয়াকে কিছু টেস্ট দিলো।

তারপর কিছুসময় অতিক্রম হওয়ার পর মিহিয়ার হাতে রিপোর্ট আসতেই সে হতবাকে নিজের কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেললো। আনন্দে চোখের পানি চলে আসলো।পরে এক্সিডেন্টের কথা মাথায় আসতেই সে ডক্টরকে বলল,

"ডক্টর আমার মনে হচ্ছে আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে,,

মিহিয়ার এহেন কথায় ডক্টর ভ্রুরু কুঁচকে গেলো সে চোখ মুখে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো তা তোমার কেনো মনে হচ্ছে আমি ভুল।

মিহিয়া : কারন আমার একমাস আগে একটা বড় এক্সিডেন্ট হয় যেখানে বলা হয় যে আমার বাচ্চাটা

মিসক্যারেজ হয়ে গেছে।

মিহিয়ার এহেন কথায় ডক্টর মুচকি হেসে বলল, আমি একদম ঠিক বলেছি মেয়ে ওই ডক্টর মিথ্যা বলেছে তোমাকে। তবে বেবিটা কিন্তু অনেক দূর্বল তাই বাচ্চার হার্টবিট কম তাই ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খাও।যথাসম্ভব মানসিক চিন্তামুক্ত থাকো।নাহলে বেবির যেকোনো মুহূর্তে খারাপ কিছুু হয়ে যেতে পারে।

ডক্টরের কথায় মিহিয়া খুশিতে কান্না করে দিলো।

ডক্টর মুচকি হেসে বললো,

তুমি যেভাবে বললে তাতে ওই পরিস্থিতিতে প্রায় সকল মেয়েদেরই মিসক্যারেজ হয়ে থাকে কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অশেষ মহিমায় তোমার বেবির কিছু হয়নি।

তার কাছে শুকরিয়া জানাও মেয়ে, দাঁড়াও তোমার সন্দেহ হচ্ছে তাই তোমাকে বাচ্চার হার্টবিট এর আওয়াজ শুনাচ্ছি, তাহলে সন্দেহ দূর হবে।,,

তারপর ডক্টর বাচ্চার হার্ট বিট শোনার যন্ত্রটা নিয়ে এসে তাকে শোনালো।যা শুনে মিহিয়ার বুক কেপে উঠলোও সে অনেক খুশি হলো বাচ্চার হার্টবিট এর আওয়াজ শুনে।

তারপর ডক্টরের সাথে আরো বেশ কিছুক্ষন বাচ্চা সম্পর্কে কথা বলে হাসিমুখে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।🍁🍁

চলবে,

(কি কেমন লাগলো সারপ্রাইজটা তা অবশ্যই জানাবে। অনেকেই বেবিটার জন্য কষ্ট পেয়েছে নাও বেবিটাকে আবার এনে দিলাম। কি খুশি তো?। আর ২ কে রিয়েক্ট না করলে পরবর্তী পর্ব সত্যি সত্যিই দিবোনা।😏😏আর আজকের পর্ব অনেক বড় দিছি তাই যে বলবে ছোট দিয়েছো আপু তার জন্য 👨‍🌾) হ্যাপি রিডিং পাখিরা,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন