ফন্ট সাইজ:
থিম:
হারিয়ে বুঝেছি কি ছিলে তুমি আমার

২১তম পর্ব

লেখক: আইশা নওমী

#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার 

#আইশা_নওমী
#পর্বসংখ্যাঃ২৩
(কপিরাইট সম্পূর্ণ নিষেধ🗡️⚔️)
🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁
***********
আবরাহাম গোডাউনে গিয়ে তার চাচা আজিজুল ও চাচি জোহরার সামনে গিয়ে একটা চেয়ারের উপর বসে নিজের উরুর ওপর পা তুলে বসলো একদম গ্যাংস্টার ভঙ্গিতে। তারপর তার চাচার দিকে রিভলবার তাক করে খেলানোর ভঙ্গিতে বললো,
~তো আমার সোকল্ড চাচাজান বলে ফেলুন আমার 
ও আমার ভাইয়ের সাথে কি কি করেছেন। জলদি বলে ফেলুন তো লক্ষ্মী ছেলে মতোন।
~বলবো না কি করবি? তুই আমার কোনো বা** ছিঁড়তে পারবি না।
~এই মুখ সামলে কথা বল! আর কি বললি আমি তোর কিছুই করতে পারবো নাহ।দাঁড়া কিছুক্ষণ আমি তোর কি কি ছিঁড়তে পারি তা এখন তোকে দেখাবো।
বলেই পাশে থাকা গোডাউনের ছোট্ট ওয়াশরুমে গিয়ে একটা বি-প্রটেকশনাল ড্রেস পরে আর তার সকল গার্ডকে পড়তে বললো।তারপর কয়েক বোতল 
খাঁটি মধু আজিজুল ও তার স্ত্রীর গায়ে ঢেলে দিলো।
তারপর আরিফকে দিয়ে একটা মৌমাছির চাক তুলে এনে আজিজুল ও তার স্ত্রীর গায়ে উপর ছেড়ে দিলো।
 মৌমাছির গুলোতো মধুর ঘ্রাণ পেয়ে আজিজুল ও তার স্ত্রীর গায়ে ইচ্ছে মতো কামড় দিতে লাগলো।
তারা ব্যথায় জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলো 
আর যা দেখে আবরাহাম পৈশাচিক আনন্দ অনুভব করলো।আর আরিফ এককোনায় দাঁড়িয়ে বার বার শুকনো ঢোক গিলতে লাগলো। আবরাহাম যে ঠিক কতটা ভয়ানক সেটা তার চাইতে বেশি কেউ জানে না।
আবরাহাম তার চাচার সামনে আবারো পায়ের উপর পা তুলে বসে বললো~
~তোরা আমার সাথে,আমার ভাইয়ের সাথে যা যা করেছিস তার জন্য তোদেরকে আমি ছেড়ে দিতাম কিন্তু তোরা আমার অতটুকু বাচ্চার সাথে কোনো শত্রুতা করতে গেলি।ও এতসব কিছু বোঝে নাকি।
শুধুমাএ তোদের জন্য আমার ওতটুকু বাচ্চাটার আজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। তার শরীরের হাজারটা দাগ দেখে প্রতিমুহূর্তে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। আমার কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে। তাই ওর শরীরে যতগুলো দাগ তোরা দিয়েছিলি,আমি আবরাহাম দ্বিগুণ দাগ তোদের শরীরে দিয়ে দিলাম।তবে ওকে যত ঘন্টা তোরা না খাইয়ে রেখেছিলি তোরাও ততোঘন্টা না খেয়ে থাকবি।চিন্তা করিস নাহ ততঘন্টা পর তোদেরকে আমি স্পেশাল খাবার খেতে দিবো।
যা তৃপ্তি নিয়ে খাবে কেমন।তবে এখন নিজেদের শাস্তি উপভোগ করো মা'ই ডিয়ার চাচাজান এন্ড চাচি জান,বিদায় গাইচ ~
বলেই আরিফের কাছে গিয়ে বললো~
-আরিফ মৌমাছি গুলোকে আর কিছুক্ষণ ওদের কামড়াতে দিয়ে তারপর ওদের খাঁচায় বন্দী করে যেখানে থেকে নিয়ে এসেছিস ওখানে ছেড়ে দিবি,আর ওদের চিকিৎসা করার জন্য আমি কিছু নার্স পাঠাবো, ওরা এসে এদের ক্ষতে ব্যান্ডেজ করে যাবে,বুঝলি এদের কে তো এতো সহজে আমি মারবো নাহ ।তিলে,তিলে কষ্ট দিয়ে-
দিয়ে এদেরকে মারবো! আমি বুঝেছিস, তাই এদের উপর বিশেষ নজর রাখবি।~
আরিফ মাথা দুলিয়ে হ্যাসূচক সম্মতি জানালো।
********
রিদিয়া যখন ফাহাদকে জরিয়ে ধরে তখন ইউভান আর মিহিয়া ওদের দরজায় দাঁড়িয়ে সব কথা শুনে। 
ইউভান তার মামনিকে জরিয়ে ধরে কান্না করছে অনেকক্ষণ কান্না করার ফলে ওর হেঁচকি উঠে গেলো।
সে মামনির দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো~ 
মামনি ওই লোকটা যে হাসপাতালে বেডে শুয়ে আছে ওনি কি আমার পাপা, বলোনা মামনি!~
ইউভানের কথা শুনে মিহিয়া তাকে জরিয়ে ধরে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো~
~হ্যা সোনা ওটাই তোমার পাপা। আর একদম কাঁদবে নাহ তুমি না আমার স্ট্রং বাচ্চা! 
~ঠিক আছে কাঁদবো নাহ কিন্তু মাম্মাম কেনো কাঁদছে।মাম্মামের কান্না দেখে আমার ও খুব খুব কান্না পাচ্ছে। 
~আমি জানি বাচ্চা। কিন্তু দেখো তোমার মাম্মা হয়তো তোমার পাপার অসুস্থতার জন্য কাঁদছে।দেখো তোমার পাপা জলদি সুস্থ হয়ে যাবে। 
~এজন্যই কি মাম্মা কখনো আমাকে পাপার কথা বলতো নাহ।পাপা অসুস্থ বলে তাই না মামনি~
ইউভানের এহেন সহজ সরল কথায় মিহিয়া খানিকটা কষ্ট পেলো।এতটুকু বাচ্চাকে নিশ্চয়ই ওদের আসল কাহিনী শুনলে বাবার সম্পর্কে ওর মনে খারাপ ধারণা তৈরী হবে।যা ওর মানসিক বিকাশে জন্য বেশি একটা ভালো হবে না।
তাই মিহিয়া ওকে আর কিছু না বলে ওর কথায় সম্মতি জানালো।
**********
এইদিকে মিহিয়া বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে, আবরাহামের কেবিনে এসে চারিদিকে নজর বুলিয়ে দেখ,কোথাও আবরাহামের ছায়াও নেই।
হয়তো ওয়াশরুমে গেছে সেটা ভেবে সে আর একমুহূর্তেও দাঁড়িয়ে থাকলো না বাহিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে দিতেই পিছন থেকে কেউ একজন তার গা জরিয়ে ধরলো। আঁধভেজা গায়ের উষ্ণতায় মিহিয়ার পুরো কায়া শিরশিরিয়ে উঠলো।লজ্জায় গালে রক্তিম আভা ফুটে উঠলো।
আব্রাহাম মিহিয়ার লজ্জা টের পেয়ে,তাকে আরো লজ্জায় ফেলতে তার ঘাড়ে নিজের থুঁতনি রাখলো।
কামিজের তলে দিয়ে নিজের ঠান্ডা হাতটা মিহিয়ার উদরে রাখলো।
যাতে করে মেয়েটা আরো লজ্জায় কুঁকড়ে গেলো।নিঃশ্বাস ঘন হয়ে এলো।আবরাহাম মিহিয়ার লজ্জা টের পেয়ে তার কানে ফিসফিস করে হাস্কি স্বরে বললো ~
~কি হয়েছে জান এতো লজ্জা কেনো পাচ্ছো।
আমার তিন তিনটা রসগোল্লার জননী বানিয়ে ফেললাম তোমায়! তাও লজ্জা ভাঙাতে পারলাম না।ছেহ, এখনতো আমার নিজেকেই অক্ষম বলে মনে হচ্ছে।~
আবরাহামের টিটকারি মূলক কথা শুনে মিহিয়া বাস্তবতায় ফিরে এলো।সে আবরাহাম কে ধাক্কা মেরে নিজের থেকে সরিয়ে শাসানির স্বরে বললো ~
~একদম আমার আশেপাশেও আশার চেষ্টা করবেন না অসভ্য ডাক্তার। নাহলে আপনার খবর খারাপ করে ছেড়ে দিবো কিন্তু বলে দিলাম।
~ তো তোমাকে বারণ কে করছে।
করে দাও আমার খারাপ অবস্থা। যদিও আমি তোমাকে বাচ্চাদের ৬ মাস হওয়া অবধি ওসব কিছু করার কথা মাথায়ও আনাবো।তবে...তুমি চাইলে কিসমিস করতে পারো।আমি কিছু মাইন্ড করবো না।আফটার অল আ*ম এ গুড হাজবেন্ড।~
আবরাহাম বেশ ফ্লার্টিং স্টাইলে কথা গুলো বলে নিজের ভেজা চুল গুলো ঝারতে লাগলো।
তবে তার এহেন কথা শুনে মিহিয়া তাকে ভেঙ্গিয়ে ভেঙ্গিয়ে তার কথার ভেংচি কাটলো তারপর বললো:
~এ্যাহ আমি যেনো আপনার ছোঁয়া পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে আছি যওসব ফালতু কথাবার্তা। 
~হ্যা, সেইজন্যই তো আমি যখন তোমাকে ছুয়ে দেই তুমি তখন আর নিজেকে সামলাতে পারো নাহ।পাগল হয়ে যাও আমার ছোঁয়া পাওয়ার জন্য।~(আবরাহাম) 
~এই অসভ্য,নির্লজ্জ ডাক্তার, চুপ করুন। (মিহিয়া)
~ঠিক আছে তুমি যখন আমার এসব কথা শুনতে চাও না তাহলে কালকে থেকে হাসপাতালে গিয়ে সুন্দরী সুন্দরী ডাক্তার ও নার্সদের সাথে ফ্লার্ট করবো।
তখন ব্যাপারটা ভালো হবে না। 
আবরাহামের কথা শুনে মিহিয়া হতবাক হয়ে~
~কি বললেন আপনি! আমি এসব কথা না শুনতে চাইলে পরকীয়া করবেন!
মিহিয়ার কথায় আবরাহাম বেশ মজা পেলো সে মিহিয়াকে জ্বালাতে আরো বললো,,
~ হ্যা বউ যদি রোমান্টিক কথা কিংবা কাজ করতে না চায় তাহলে স্বামী তো পরকিয়ায় জরিয়ে পড়বেই।তাই আমি পরকীয়া করবো,বিকজ তুমি তো আমার এসব কথা শুনতেই চাও না!
 আবরাহামের কথায় মিহিয়া যেনো রাগে ফেটে পড়লো সে কোনোরকমে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করতে করতে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
~বেয়াদব বেডা একদবার খালি পরকিয়া জরিয়ে দেখান প্রথমে আপনার ওই পরকীয়ায় আসক্ত নারীকে খুজে বের করে ওর কারেন্ট ছাড়ায় দিবো, তারপর আপনার মেইনপয়েন্টে আগুন ধরিয়ে দিবো আমি।তারপর দেখবো কীসের জোরে আপনি পরকীয়া করেন।~
মিহিয়ার কথায় আবরাহাম যেনো কথা বলতে ভুলে 
গেলো সে বিস্ময়ে মিহিয়াকে জিজ্ঞেস করলো~
~তাই বলে তুমি আমার ভবিষ্যতের দিকে আগুন ধরিয়ে দিবে জান! কি ভয়ানক কথাবার্তা বউ!
মিহিয়া তখন রাগী গম্ভীর কন্ঠে বললো~
~আপনি যদি আপনার ভবিষ্যতের কথা না ভাবেন তাহলে আমি কেনো ভাববো।তাই ভবিষ্যতে পরকীয়া করার আগে নিজের ভবিষ্যত সম্পদের কথা ভেবে তারপর পরকীয়া করবেন কেমন!
মিহিয়া কথা শুনে আবরাহাম চোখের সামনে কিছু ঝাপসা স্মৃতি ভেসে উঠলো, যেখানে দেখা যাচ্ছে আবরাহাম মিহিয়ার অগোচরে পরকীয়া করছে আর মিহিয়া তা টের পেয়ে তার ভবিষ্যত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। মুহূর্তেই আবরাহামের ভবিষ্যতের ব্যক্তিগত সম্পত্তি আগুনে পুড়ে ছাই, সাথে আবরাহাম ও শেষ। 
এগুলো কল্পনা করতে করতে আবরাহামের ঘাম ছুটে গেলো সে বিরবির করে বললো~
~ভবিষ্যতে এই পরকীয়া নামক শব্দ নিজের মুখে নেওয়া তো দূর কোনো পরনারীর সাথে কথাও বলবো নাহ!
নাহলে আমার যে ডেঞ্জারাস বউ মাইরি মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবে আমায়,সাথে নিজের ভবিষ্যতে সম্পত্তি ও হারাতে হবে! আল্লাহ আমাকে এই ডেঞ্জারাস বউয়ের হাত থেকে রক্ষা করো! আমিন~
চলবে,
( লিখতে চাইছিলাম পূর্নতার প্রতিশোধ লিখে ফেললাম এটা আল্লাহ মোরে বাঁচাও।পূর্ণতার প্রতিশোধ অর্ধেকের বেশি লিখেছি কালকে দেই।
আমার খালি মিহি- আবরাহাম কে লিখতে মন চায় কি করবো বলো। রিচেক করার সময় নাই আটকে পড়েছি ব্যক্তিগত কাজে।একটু মানিয়ে নিও, সবাই একটু রেসপন্স করো না পাখিরা🥹🥹🥹)
সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবে ও যেনো পরকীয়ায় না জরায় না হলে আমার যে ডেঞ্জারাস বউমা মেরে ফেলবে আমার মাসুম ছেলেটাকে।😭😭😭

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন