ফন্ট সাইজ:
থিম:
হারিয়ে বুঝেছি কি ছিলে তুমি আমার

২৪তম পর্ব

লেখক: আইশা নওমী

#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার 

#আইশা_নওমী
#পর্বঃ২৮+২৯
(কপিরাইট সম্পূর্ণ নিষেধ🗡️⚔️)
🍁🍁🍁🍁🍁🍁
*******
পর্ব:২৮
~পাপা ডু ডু দিউউ।~
নিচে আরো দুজনের কথা শুনে আব্রাহাম ভ্রু কুঁচকে নিচে তাকিয়ে দেখে তার আরো দুই ছানারো একি অভিযোগ। তাদের মাম্মা তাদেরকে ডুডু দিচ্ছে না।
সে আফরাকে কোলে নেওয়া অবস্থা-তেই নিচে থেকে তার দুই ছেলেকেও কোলে তুলে নিলো।তুলতুলে বাচ্চাগুলোর শরীর এতটাই সফট যে এদেরকে কোলে নিলে মনে হয় কোনো নরম বালিশকে কোলে নিচ্ছে।এ-ই কিছুদিন হলো বাচ্চাগুলো অনেকটাই শুকিয়ে গেছে। আব্রাহাম ওদেরকে কোলে তুলেই বুঝতে পারলো।
এখন যেহেতু একটু বড়ো হয়েছে তাই মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যখাবারও খাওয়ানো উচিত।
তিন-তিনটি বাচ্চার ফিডিং করাতে যে মিহিয়াকে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয় তা আব্রাহাম বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পারে তবে বাচ্চারা যদি বাহিরের খাবার খেতে না চায় তাহলে,ফিডিং করানো ছাড়া তো আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।
তার ভাবনার মাঝেই আবারো তিনটা অসহায় কন্ঠে তার গলা জরিয়ে ধরে বললো,  
~পাপা,দুত্তু খাবো,খিদু পেয়েচে,মাম্মা পুঁচা হয়ে গিচে।ডুডু দেয় না।বেত গাল। তুমি আমাদেল জুন্ন্য নুতুন মাম্মা এনে দিউউ,নুতুন মাম্মা দুত্তু দিবে।এই মাম্মা অন্নেক পুঁচা। তালি পুঁচা পুঁচা খাবাল খিতে বুলে।~
ছেলে- মেয়ের কথা শুনে আবরাহাম অসহায় চোখের 
তাদের দিকে তাকিয়ে রইলো। এদের নতুন মাম্মাম আনার কথা একবার যদি মিহিয়া শুনে তাহলে এরা তো শাস্তি পাবেই,সাথে এদের কথা শোনার জন্য তাকেও শাস্তি দিবে.. কি ভয়ানক শাস্তি রাত্রে ঘর থেকে বারান্দায় বের করে দিবে।
ফলে সারারাত মশাবিলাস করতে হবে। তবে পাশে বউ থাকলে মশা বিলাস ও তখন চন্দ্রবিলাস লাগে।তবে তার নিষ্ঠুর বউ তার পাশে বসে চন্দ্রবিলাস করাতো দূরে থাক, তাকে মশাদের সাথে একা ছেড়ে দেয় মশা বিলাস করতে।আর সে দিব্যি ঘরে গিয়ে বাচ্চাদের পাশে নিয়ে নাকডেকে ঘুমায়।
তার ভাবনার মাঝেই আবারো টিশার্টের মধ্যে তিন জোড়া ছোট্ট নরম তুলতুলে হাতের ছোয়া পেলো।
সে তড়িঘড়ি করে দাঁড়িয়ে তিনজনকেই কোলে তুলে নিলো একজনকে কাঁধে অন্যদুইজনকে দুইকোলে চাপিয়ে সাবধানে মিহিয়ার কাছে গেলো।
বেডরুমের ছোট্ট টেবিলটাতে মিহিয়া তখনও বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে পড়ছিলো।তবে একজোড়া পুরুষালী পায়ের জুতার ঘষঘষ আওয়াজে তার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো।
সে তীব্র বিরক্তি নিয়ে বই থোকে মুখ তুলে সামনের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো। চারটা অসহায় ফেস, 
সে তাদেরকে দেখে বললো,
~আবারো এখানে এসেছো,... আবার কি চাই তোমাদের? 
যা চাই পাপাকে বলো পাপা দিবে।মাম্মাম কে ডিস্টার্ব করো নাতো! মাম্মাম এর কয়েকদিন পর পরীক্ষা আছে তাই প্রচুর পড়া পড়তে হবে।~
মিহিয়া কথা শুনে আব্রাহাম মিহিয়ার কাছে গিয়ে বললো,
~বউ,, ও বউ শোনো না.. এমন করছো কেন? দেখছো না বাচ্চাগুলোর খিদে পেয়েছে দিয়ে দাও না খাবার। 
আব্রাহাম এর কথায় মিহিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই আহান ও আরিদ গুটিগুটি পায়ে তাদের মায়ের পায়ের কাছে গিয়ে তার পাজোড়া জরিয়ে ধরে খুব ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বললো~
~মাম্মা দুত্তু দিউউ, খিদু পেয়েচে।
ছোট্ট আফরারও ভাইদের দেখাদেখি সে-ও মায়ের কোমড় জড়িয়ে ধরে বললো~ 
~মাম্মা ডুডু দিউউউ না,পেতে কিত্তু নাই না-ই, দিখু দিখু কিত্তু নাই।
বলেই তিনজনি নিজেদের খালি হওয়া পেট দেখাতে লাগলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। 
যা দেখে মিহিয়ার মন গলে গেলো সে তিনজনকে একসাথে জরিয়ে ধরে তিনজনের গালে টপাটপ কয়েকটা চুমু খেয়ে বললো ~
~বেবিস খাটের কাছে যাও. মাম্মাম আসছে ডুডু দিবে কেমন কলিজারা, থাক আর নাটক করতে হবে না। 
~ও হো... সব আদর বুঝি বেবিরা পাবে আর বেবিদের পাপা কিছু পাবে না।এটা কিন্তু তুমি আমার সাথে ঠিক করছো না ওয়াইফি।তোমাকে এতো সুন্দর সুন্দর কিউটরের ডিব্বা তিনটা হাঁসের ছানা গিফট করলাম এর পরিবর্তে তোমার তো উচিত আমাকে সকাল, দুপুর, রাত একাধারে চুমুর উপর রাখা, তা না করে সারাক্ষণ দূরে দূরে কেনো থাকো বুঝি না।আমার মতো এতো সুন্দর ড্যাসিং, রোমান্টিক হাসবেন্ড পেয়ে তো তোমার গর্ব করা উচিত আর আমাকে তিনবেলা ভাত খাওয়ার পর সময় করে তিনবেলা চুমু খাওয়া উচিত। তা না করে আনরোমান্টিকের মতো দূরে দূরে থাকো। দিস ইজ নট ফেয়ার বউ। এত বড় অন্যায় তুমি আমার সাথে করতে পারো না।আমি মামলা করবো তোমার নামে।~
আব্রাহামের কথা শুনে মিহিয়া চোখমুখ কুঁচকে ভেংচি কেটে বললো~
~এ্যাহ.. কি সুন্দর তিনটা হাঁসের ছানারা দিয়েছে রেহহ সারাটাদিন জালিয়ে পুড়িয়ে জীবনটা শেষ করে দিলো। সেই বেলায় মনে হয় দুনিয়ার কোনো জাহান্নামে প্রবেশ করেছি আমি।আর এখন কি হরিদাশ পাল এলেন রেহহ ওকে নিয়ম করে আমাকে প্রতি বেলায় চুমু খেতে হবে।যত্তসব ফালতু কথাবার্তা। 
~ওকে থাকো তুমি তোমার বাচ্চাদের নিয়ে আমি আর আসবো না তোমার কাছে।
~বলেই যেই আব্রাহাম চলে যেতে প্রস্তুতি নিলো তার আগেই মিহিয়া তার কাছে গিয়ে তার গলা জরিয়ে ধরে তার গালে একটা চুমু খেয়ে জোরে একটা কামড় বসিয়ে দিয়ে আব্রাহাম কে কিছু বলার সুযোগ না ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাহিরে বের করে দিলো।
আর আব্রাহাম বউয়ের কামড় খেয়ে কথা বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলেছে। বন্ধ দরজার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তারপর গালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বিরবির করে বললো~
~আমার পার্সোনাল রাক্ষসী... রাতে এর হিসাব তুলবো আমি। প্রস্তুতি নেও বউপাখি।~
*******
ফাহাদ রাতে ফিরে এসে রিদিয়ার ঘরের সামনে অনেক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু নক করার সাহস পাচ্ছে না। রিদিয়া কাছে গেলেই তার চোখের দিকে তাকালেই নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপরাধী মনে হয়।ক্ষমা, চাওয়া তো দূর তার সামনে দাড়িয়ে থাকতেই কেমন যেনো অসস্থি হয়।
মনে হয় নিজ হাতে নিজের ভালোবাসাকে খুন করেছে।তার কোনো অধিকার নেই রিদিয়ার সাথে থাকার। রিদিয়ার মতো মেয়েকে সে ডিজার্ভ করে না।
এদিকে ইউভান রাতের পড়াশোনা শেষ করে মাম্মামের কাছে যাচ্ছিলো তবে, বাবাকে মায়ের রুমের পাশে দাঁড়ানো দেখে সে বললো~ 
~পাপা,তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন? মাম্মামের সাথে ঝগড়া হয়েছে। মাম্মাম তোমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে তাই না???? 
~ তুমি কি করে জানলে???( ফাহাদ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো) 
 ~আরে বাবাই ও মামনিকে দেখেছি, মাঝে মাঝে বাবাইয়ের সাথে ঝগড়া করে মামনি তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।আই নো তোমার সাথেও আজকে এমন কিছু একটা হয়েছে। চিন্তা করো না আমি তোমাকে মাম্মামের কাছে নিয়ে যাবো,তাকে রিকুয়েষ্ট করবো যাতে তোমাকে আর ঘর থেকে বের করে না দেয়।~
ইউভান কথাটি বলেই তার বাবার হাত টেনে জোর করে রিদিয়ার ঘরের ভিতরে নিয়ে গেলো।রিদিয়া সবেমাত্র শোয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। 
তবে,এইসময়ে বাবা ও ছেলেকে একসাথে তার রুমে ঢুকতে দেখে সে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকাতেই, ইউভান বললো~
~মাম্মাম তুমিও মামনির মতো রেগে পাপাকে ঘরের থেকে বের করে দিয়েছো, পাপার হয়ে আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি প্লিজ ক্ষমা করে দাও।~
বলেই তার পাপাকে ইশারা করলো তার মতো করার জন্য।ইউভান ও ফাহাদ দুজনেই রিদিয়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে দুকান ধরে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে ক্ষমা চাইছে। 
রিদিয়া দুজনের এই অবস্থা দেখে ফিক করে হেসে দিলো।এতবছর পর রিদিয়া প্রাণখোলা হাসি দেখে, ফাহাদ অপলক দৃষ্টিতে রিদিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।
রিদিয়া বেশ কিছুক্ষণ পর নিজের হাসি থামিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে বললো~
~এখন উঠে যাও আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিয়েছি।
মাম্মামের কথা শুনে ইউভান উঠে দাঁড়ালো আর মাম্মামকে জরিয়ে তার গালে চুমু দিয়ে বললো~
~তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মাম্মাম।আই লাভ ইউ সো মাচ মাম্মাম।
~হয়েছে.. হয়েছে... আর আমাকে পটাতে হবে না... কালকে ঈদের দিন মনে আছে তো কোরবানি দিতে হবে, নামাজ পড়তে হবে, অনেক সকালে উঠতে হবে, তাই এখন আর কথা না বলে নিজের রুমে যাও তো,আর দ্রুত ব্রাশ করে, ঘুমিয়ে পড়ো। 
মাম্মামের কথা শুনে ইউভান হ্যাসূচক মাথা দুলিয়ে চলে গেলো।
আর ফাহাদ তখনো রিদিয়া সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ছিলো।সে মাথা নিচের দিকে রেখেই বললো,
~আমি জানি... আমি যে,অপরাধ টা করেছি তা ক্ষমার যোগ্য নয়।তাও বলবো প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।না হলে আমি মরেও শান্তি পাবো না। তাই মরে যা....
আর কিছু বলতে পারলো না তার আগেই রিদিয়া তার গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মেরে দিলো।
চলবে,_______________
🍁🍁🍁🍁🍁🍁
***************
পর্ব:২৯
ফাহাদ আর কিছু বলতে পারলো না তার আগেই রিদিয়া তার গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মেরে দিলো। ওর শার্টের কলার ধরে, 
রাগান্বিত কন্ঠে বললো~ 
~মরে যাওয়া তোমার কাছে এতই সহজ তাই না,তাহলে মরে যাও।এখনে কি করছো??
সবসময় তুমি যা চাইবে তাই হবে তাই না।তুমি ইচ্ছে মতো অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দিবে,তুমি ইচ্ছে মতো আবারও কাছে টেনে নিবে আবারো দূরেও সরিয়ে দিবে। সবকিছু তোমার ইচ্ছে মতো হবে কেন... কেন?? কেন তুমি আমাকে আমাকে সেদিন অবিশ্বাস করলে? কেন আমাকে সেদিন ওই লম্পটের কথায় ভুল বুঝে বাড়ি থেকে বের করে দিলে।আর কত সইবো আমি বলোতো বলো।
ছোট বেলা থেকেই একের পর এক দুঃখ সয়েই আসছি আর পারছি না, এখনতো এতকিছু সহ্য করতে করতে আমি ও হাঁপিয়ে গেছি..এখন শুধু একটু শান্তি চাই।প্লিজ আমাকে একটু শান্তি দিবে।আমি না আর এতকষ্ট নিতে পারছি না।~
বলেই হাঁপিয়ে গেলো আর ফাহাদের কাঁধে নিজের মাথায় ঠেকিয়ে দিলো।
ফাহাদ ওর মুখটা তুলে ওর কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো~
~তুমি কি একাই কষ্ট পেয়েছো আমি বোধহয় খুব সুখে ছিলাম তাই না।তোমাকে হারিয়ে প্রতিটি ক্ষণে আমিও বুঝেছি তোমার মূল্য। 
তোমাকে #হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার
তুমি বিহনে প্রতিটা দিন-রাত যে আমার কীভাবে কাটতো তা একমাত্র আমিই জানি।তোমাকে ছাড়া যে, আমিও ভালো ছিলাম না,প্রাণ-পাখি।
তোমার স্মৃতি সর্বক্ষণ পোড়াতো আমায়।তাই তো 
  যেই আমিটা কোনো সিগারেট খাওয়া তো দূর তো 
ছুঁয়েও দেখিনি, সেই আমি রাতের পর রাত ড্রাগ নিতাম,মদ খেতাম,বারে পড়ে থাকতাম, শুধুমাএ তোমার স্মৃতিগুলোকে ভোলার জন্য কিন্তু নেশারত অবস্থাতেও তোমার স্মৃতিই যেনো আরো আমাকে বেশি করে জেঁকে ধরতো।পারিনি তোমাকে ভুলতে।
তবে তুমি যদি আমাকে না চাও বলে দাও মুক্তি দিয়ে দিবো তোমাকে এই অসুস্থ সম্পর্ক থেকে।আমি চাইনা আমার জন্য তুমি আর কোনো কষ্ট পাও।বলো কি চাও তুমি? .... 
ফাহাদের কথায় রিদিয়া নিজেকে শান্ত করে আবারো ফাহাদের দিকে তেড়ে গিয়ে আবারো একটা থাপ্পড় মেরে বললো~
~তোমার মতো গাঁধার সাথে সংসার করতে চাই।অনেক হয়েছে এবার আমার একটু শান্তি চাই।
তবে আমার কিছু শর্ত আছে যার বিনিময়ে আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারি।
~কি শর্ত.. বলো তোমার সব শর্তেই আমি রাজি।
ফাহাদের কথায় রিদিয়া একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বললো~
~ভেবে বলছেন তো।না..মানে পরে কিন্তু শর্তগুলোর কথা শুনে পিছুপা হতে পারবেন না।
~না, তোমার ক্ষমা পাওয়ার জন্য আমি সবকিছুই করতে পারি।বলো শর্তগুলো কি?
~এখন বলবো না। সময় হলেই বলবো।
রিদিয়ার কথা শুনে ফাহাদ ফ্লোর থেকে উঠে বাহিরে যাওয়া জন্য যেই পা বাড়াবে ঠিক তখনি রিদিয়া ফাহাদকে বললো~
~শোনো.. তুমি চাইলে আমার পাশে শুতে পারো।
~কি বললে? অবিশ্বাস্য কন্ঠে জানতে চাইল ফাহাদ। 
~আমি যা বলি একবারি বলি। এককথা দু'বার কথা বলতে পছন্দ করি না।তাই নাটক না শুতে মন চাইলে পাশে শুইয়ে পড়ো না হলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাও।
~না আমি শুচ্ছি। 
বলেই রিদিয়ার অপরপাশে শুইয়ে পড়লো। তবে, বেশ দূরত্ব নিয়ে ।
এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমের ঘোরে দু'জন দুজনকে জরিয়ে ধরলো।
*******
আব্রাহাম স্টাডি রুমের সোফায় বসে কাজ করছিলো।ঠিক তখনি মিহিয়া তার ল্যাপটপ টা বন্ধ করে দিয়ে, ওর কোলে গিয়ে বসলো।ওর গলা জড়িয়ে ধরে আবদারের সুরে বললো,
~এবারের ঈদে পড়ার মতো একটা ড্রেস ও নেই।কালকে ঈদ আমি কি পড়বো।
~তা ম্যাডাম পুরো আলমারীর কাভার্ড জুড়ে থ্রিপিস গুলো কি পাশের বাসার আন্টির! 
তাহলে ওই ড্রেসগুলো পাশের বাসার আন্টিকে দিয়ে আসি।
~কি লেভেলের কিপ্টে আপনি! কই উপন্যাসের নায়কদের মতো পুরো শপিং মল তুলে এনে আমার পায়ের কাছে এনে দিবেন, তা না করে আপনি আমার পুরাতন ড্রেসের উপর নজর দিচ্ছেন। চাইবো না আর কোনো দিন কোনো কিছু আপনার কাছে.... ভবিষ্যতে এগুলো জমিয়ে রাখুন আপনার পরবর্তী বউয়ের জন্য।~
বলেই মিহিয়া মন খারাপ করে আব্রাহামের কোল থেকে উঠে নিজের বেডরুমে চলে গেলো।
*********
মিহিয়া চলে যেতেই আব্রাহাম কাউকে ফোন করে মিহিয়ার জন্য পুরো শপিংমলের নতুন যত কালেকশনের জামা কাপড় আছে সব নিয়ে আসতে বললো।
মধ্য রাতে, মিহিয়া সহ বাচ্চারা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন কেউ একজন তাদের রুমে ঢুকলো।ঢুকে মিহিয়ার বেডের কাছে গিয়ে ঝুঁকে দাঁড়ালো। 
লোকটার গরম নিঃশ্বাস মিহিয়ার উপর আঁছড়ে পড়লো।হঠাৎ কারো গরম নিঃশ্বাস পড়াতে মিহিয়া ঘুম উবে গেলো।ঘুম থেকে সে ধরফরিয়ে উঠলো।
হঠাৎ করে কারো ছায়ামূর্তি দেখে যেই মিহিয়া জোরে চিৎকার করতে যাবে তার আগেই কেউ একজন তার মুখ জোর করে চেপে ধরলো।যার ফলে মিহিয়ার নিঃশ্বাস প্রায় আটকে আসলো।লোকটার হাত থেকে ছাড় পাওয়ার জন্য বেচারি হাত-পা ছোটাছুটি করতে লাগলো।
চলবে,
(আসসালামু ওয়ালাইকুম পাখিরা কেমন আছেন??? 
কারেন্ট+ ইন্টারনেট জনিত কিছু সমস্যার কারণে ফেসবুকে আসতে পারিনি,ইনশাআল্লাহ এখন থেকে পর্ব রেগুলার দেওয়ার চেষ্টা করবো,তবে রেসপন্স এত কম করলে এইভাবেই দিতে হবে।যাই হোক ঈদ মোবারক পাখিরা।আপুর পক্ষে থেকে অনেক শুভেচ্ছা রইলো।সবাই নিজেদের পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে ঈদ কাটাও। তবে ঈদ স্পেশাল একটা পার্ট আসবে! মিহিয়ার ও তার ছানাপোনা স্পেশাল।হ্যাপি রিডিং,পাখিরা 😘😘।পূর্ণতার প্রতিশোধ লিখছি আবারো নতুন করে সাজাচ্ছি,তাই একটু দেরি হচ্ছে রাগ করো না।।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন