ফন্ট সাইজ:
থিম:
হারিয়ে বুঝেছি কি ছিলে তুমি আমার

২৫তম পর্ব

লেখক: আইশা নওমী

#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার 

#আইশা_নওমী
#পর্বঃ৩০
(কপিরাইট সম্পূর্ণ নিষেধ🗡️⚔️)
🍁🍁🍁🍁🍁🍁
*******
লোকটার শক্ত হাতে মুখ চেপে ধরা অবস্থায় মিহিয়ার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ যেনো আরও বেড়ে গেলো। আতঙ্কে তার পুরো শরীর কেঁপে উঠছে।
 পাশেই ছোট্ট তিনটা বাচ্চা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে, আর এই মুহূর্তে তাদের কথা ভেবেই মিহিয়ার ভয়টা কয়েকগুণ বেড়ে গেলো।
সে প্রাণপণে লোকটার হাত সরানোর চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু লোকটার শক্তির সাথে পেরে উঠছিলো না। ঠিক তখনই লোকটা খুব নিচু গলায় বললো~
~চুপ… একদম চুপ। চিৎকার করলে বাচ্চাগুলো জেগে যাবে।
কন্ঠটা শুনেই মিহিয়া থমকে গেলো। চোখ বড় বড় করে অন্ধকারে তাকিয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড।
 তারপর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে লোকটার হাতে জোরে কামড় বসিয়ে দিলো।
~আহহহহ! পাগলি মেয়ে একটা!
ব্যথায় হাত সরিয়ে নিতেই মিহিয়া দ্রুত বেডসুইচ অন করলো। আলো জ্বলে উঠতেই সামনে আবরাহামকে দেখে তার রাগ যেনো সপ্তম আকাশে উঠে গেলো।
সে বালিশ হাতে নিয়ে আব্রাহামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বললো~
~আপনার সাহস তো কম না! মাঝরাতে আমাকে এভাবে ভয় দেখান? আমি তো প্রায় হার্ট অ্যাটাক করে ফেলেছিলাম!
আব্রাহাম দুইহাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে বললো~
~আরে বউ শুনো তো… আমি রোমান্টিক সারপ্রাইজ দিতে এসেছিলাম। তুমি তো শুরুতেই আমাকে যুদ্ধবন্দী বানিয়ে ফেললে।~
~এইটাকে আপনার রোমান্স বলে? মুখ চেপে ধরেন কেন?
~কারণ তুমি এমন চিৎকার দিতে যে পুরো বাড়ির মানুষ জেগে যেতো। তখন আমার সম্মান কোথায় থাকতো বলো তো?~
মিহিয়া রাগী চোখে তাকিয়ে বললো~
~আপনার আবার মান-সম্মানও আছে নাকি?
আব্রাহাম নাটকীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো~
~দেখেছো! দিন দিন তোমার কাছে আমার মূল্যই কমে যাচ্ছে। অথচ আমি কি না আমার বউয়ের জন্য পুরো রাত জেগে সারপ্রাইজ রেডি করছি।~
~কিসের সারপ্রাইজ?
আব্রাহাম রহস্যময় হাসি দিয়ে মিহিয়ার হাত ধরে তাকে ধীরে ধীরে রুমের একপাশে নিয়ে গেলো।
 তারপর পর্দা সরাতেই মিহিয়া অবাক হয়ে গেলো।
পুরো সোফা জুড়ে অসংখ্য শপিং ব্যাগ। বিভিন্ন রঙের থ্রিপিস, শাড়ি, জুয়েলারি, জুতা— সব সুন্দর করে সাজানো।
মিহিয়া হতভম্ব হয়ে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে আবরাহামের দিকে তাকালো।
আব্রাহাম দুইহাত বুকের কাছে ভাঁজ করে বললো~
~ম্যাডামের জন্য পুরো শপিংমল তো আনতে পারিনি, তবে ছোট্ট একটা দোকান আনার চেষ্টা করেছি। এখন বলেন… আমি কি এখনও কিপ্টে?~
মিহিয়ার চোখজোড়া হঠাৎ চিকচিক করে উঠলো। সে ঠোঁট ফুলিয়ে বললো~
~আমি তো রাগের মাথায় বলেছিলাম… সত্যি সত্যি এত কিছু আনতে কে বলেছে?~
~আমার বউ মন খারাপ করেছে আর আমি কিছু করবো না, সেটা কি হয়?~
কথাটা শুনে মিহিয়ার মনটা নরম হয়ে গেলো। তবে মুখে ভাব ধরে রেখে বললো~
~হুম… ঠিক আছে। কিন্তু এত রাতে এসব দেখানোর কি দরকার ছিলো? সকালে দেখালেই পারতেন।~
আব্রাহাম হঠাৎ মিহিয়ার আরও কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বললো~
~কারণ আমি চাইছিলাম ঈদের প্রথম হাসিটা শুধু আমার জন্য হোক।~
মিহিয়া লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো। ঠিক তখনই পিছন থেকে ছোট্ট আফরা আধো ঘুমে বিড়বিড় করে বললো~
~মাম্মা… পাপা… ডুডু খাবো…
দু’জন একসাথে পিছনে তাকিয়ে হেসে ফেললো।
আব্রাহাম মাথা নাড়িয়ে হতাশার নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো~
~দেখলে? আমাদের রোমান্সের সবচেয়ে বড় ভিলেন কিন্তু আমার এই তিনটা হাঁসের ছানা।
মিহিয়া মুচকি হেসে বললো~
~আর এই হাঁসের ছানাগুলোর পাপা হচ্ছে সবচেয়ে বড় নাটুকেপনা মানুষ।
মিহিয়া আব্রাহামের কাছে গিয়ে ওর গলা জড়িয়ে ধরে গালে একটা চুমু দিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো, 
~ধন্যবাদ আমার ছানাদের পাপাকে! আমায় এতসুন্দর সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য। 
~ধন্যবাদ তোমাকে ও আমাকে এতসুন্দর তিনটা কিউট রসগোল্লা দেওয়ার জন্য... 
আমাকে এত এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ মাই লাভ, মাই ইউনিভার্স।
আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার তুমি।সৃষ্টিকর্তার নিকট অসংখ্য শুকরিয়া যে, তিনি আমাকে এতসুন্দর একজন বউ দিয়েছেন,তিনটা সুন্দর ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা র পিতা হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। ~
বলেই মিহিয়াকে জরিয়ে ধরলো।
বেশকিছুক্ষন পর মিহিয়া বিছানায় শোয়ার জন্য চলে গেলো।দেখলো আফরা ঘুমিয়ে পড়েছে,ঘুমের মধ্যে হয়তো ওই কথাগুলো বলেছে।
মিহিয়া তিনজনকে ঠিকঠাক করে শুইয়ে দিয়ে আবরাহাম কে বললো,
~জলদি করে কাজ শেষে শুয়ে পড়ুন দিনে অনেক কাজ করতে হবে।
কালকে রেস্ট নেওয়ার একদমি সুযোগ পাবেন। তাই বেশি রাত না করে শুয়ে পড়ুন। ~
মিহিয়ার কথায় আব্রাহাম হ্যাঁসূচক মা দুলিয়ে নিজের বাকি কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে গেলো।
আর মিহিয়া আবারো ঘুমিয়ে পড়লো।
*******
চাঁদরাত উপলক্ষে আহানার সাথে দেখা করতে এসেছে আরিফ।গার্ডেন সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছে তবে, এই লেট লতিফার এখনও পর্যন্ত দেখা নেই।রাগে আরিফের মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠলো। 
সে কোনরকমে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার প্রচেষ্টা করতে পায়চারি করতে লাগলো। আরো কিছুক্ষণ পরে আহানা আসলো।যা দেখে আরিফ দাঁতে দাঁত পিষে বলল, 
~এখন তোমার আসার সময় হলো,আমি প্রায় ১ঘন্টা ধরে তোমার জন্য মশার কামড় খাচ্ছি সে ব্যাপারে তোমার কোনো খেয়াল আছে...
~প্রেমিক হয়ে প্রেমিকার জন্য সামান্য মশার কামড়টাই সহ্য করতে না পারো তাহলে কীসের প্রেমিক তুমি...( আহানা)
~বা***লের প্রেমিক আমি,বা**লের প্রেম করি।একে তো দেরী করে এসেছে তার উপর আবার আমাকেই কথা শোনাচ্ছো।
~ছি, কী নোংরা তোমার মুখের ভাষা।(আহানা)
~সবি তোমার আদরের ডাক্তার ভাইয়ের কাছ থেকে শেখা।এত চাইতেও আরো সুন্দর ভাষায় কথা বলতে জানি শুনতে চাও...(আরিফ)
~এই খবরদার আমার ভাইয়ের ব্যাপারে আর একটাও বাজে কথা বলবে না।ভুলে যেও না ওর জন্যই আজ আমি তোমার বাগদত্তা হতে পেরেছি,
ভাইয়ের জন্যই আমার পরিবার আমাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছে। (আহানা)
~দুঃখিত,আমি এভাবে বলতে চাইনি।
~ইটস ওকে।কিন্তু আমি তোমায় যা যা আনতে বলেছি এনেছো তো।
~হুম।এই নাও তোমার সব জুয়েলারি এবং মেহেদী সাথে আমার পক্ষে থেকে ঈদ বোনাসও।
~এই কে ওখানে?চোর. চোর
হঠাৎ গেটের দারোয়ানের জোরে শব্দ করাতে আরিফ ভয়ে নিজের জুতোজোরা ছেড়ে জোরে দৌড়ে গেটের কাছে গিয়ে আহানার দিকে একটা ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিলো।তারপর আবারো দৌড়ে পালিয়ে গেলো।নাহলে সবাই যদি জেগে উঠলে তার মানসম্মানের চৌদ্দটা বেজে যেত।গাড়ির কাছে গিয়ে আরিফ জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে বললো~
~এজন্যই বলে, সব করো প্রেম করোনা।একথাটার মানে আজকে বুঝতে পারলাম। প্রেম করা এত প্যারা জানলে,
জীবনে ও কোনদিনও এত পথে আসতাম না।দরকার পড়লে আজীবন সিংগেল থাকতাম।আমার এক প্রেম করেই জীবন ত্যানাত্যানা হয়ে গেলো।তাহলে লোকে একসাথে চার-পাঁচটা গার্লফেরেন্ড সামলায় কীভাবে।~ 
🌹
আব্রাহামের কাজ শেষ হলো প্রায় রাত দেড় টার দিকে, ওর শোয়া জন্য প্রস্তুতি নিতেই যাচ্ছিলো তবে মিহিয়ার দুহাত খালি দেখে সে মনে মনে কিছু ভেবে মুচকি হাসলো।তারপর কাঙ্ক্ষিত জিনিস নিয়ে এসে মিহিয়ার দু'হাতে খুব সুন্দর করে গুছিয়ে ডিজাইন করে দিলো। তারপর বাঁহাতের তালুতে লিখে দিলো আব্রাহামের বউপাখি।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মিহিয়া যা দেখলো তাতে সে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠলো।মিহিয়া এত জোরে চিৎকারের ঢেলায় আবরাহাম বেচারা খাট থেকে ধারাম করে নিচে পড়ে গেলো।
চলবে… 🍁
(ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে। তবে কালকের মধ্যে আজকের পর্বে ১ কে করতে পারলে।কালকে আরেকটা পার্ট দিবো ইনশাআল্লাহ।হ্যাপি রিডিং পাখিরা 🥰🥰)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন