#পথচলা
#ফারিয়া_ইসলাম_ইসপা
#পর্বসংখ্যা_০১
"বাবা তুমি এইটা কি বলছো নিজের বড় ভাইয়ের হবু বউ কে আমি কিভাবে বিয়ে করব"
বলে উঠল সামির সিকদার। আরিফুল সিকদার গম্ভীর স্বরে বললেন—
"কেনো তুমিও কি তোমার ওই কুলাঙ্গর ভাইয়ের মতো নেওয়াজ বাড়ির মান সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চায় নাকি।"
সামির বাবাকে বলল—
"না বাবা নেওয়াজ বাড়ির ক্ষতি আমি চাইবো না কিন্তু তাই বলে বড় ভাইয়ের হবু বউ কে কিভাবে আমি.."
আরিফুল সিকদার বললেন—
"আমি আর কোনো কথা শুনতে চাইছি না সামির ছোট ছেলে হিসেবে তোমার উপর আমার যথেষ্ট ভরসা আছে আশা করি টা কোনোদিন ভাঙানোর চেষ্টা করবে না।"
সামির একটা নিশ্বাস ফেলে বলল—
"জি বাবা। কিন্তু আমি একবার উনার সাথে কথা বলতে চাই।"
সামির সিকদার হলো সিকদার বাড়ির ছোট ছেলে যে এখন তাদের বাড়ির নিজস্ব ইন্ডাস্ট্রিজের সিইও।সামির সবসময়ের মতো ছোটবেলা থেকেই ভদ্র আর নম্র যার কারণে সে পরিবারের চোখের মনি।আর জুহিয়ান সিকদার হলো বাড়ির বড় ছেলে যে বর্তমানে তার প্রেমিকা কে নিয়ে পালিয়েছে এবং তা চিঠির মাধ্যমে বলে গেছে।আরিফুল সিকদার হলো তার বাবা আর আশমিন সিকদার হলো তার মা।তাদের আরেকটা মেয়ে হচ্ছে ঈশিতা সিকদার আর এই বাড়ির বড় মেয়ের সাথে তাদের বড় ছেলের বিয়ে ঠিক করছিল কিন্তু শেষে যে এই বিপত্তি টা ঘটবে টা সবার ধারণার বাহিরে।
এইদিকে বর পালিয়েছে খবর টা পুরো বিয়ে বাড়িতে ছড়িয়ে গেছে।বিয়ে বাড়ির সবার কানে কানে এই খবর পৌছে গেছে।অনেকে অনেক শান্তনাজনক মন্তব্য করলেও অধিকাংশ মানুষ পাত্রীর কপালের দোষী দিচ্ছে আসলে আমাদের সমাজের বসবাসকারী মানুষের মনমানসিকতা এই রকমই।যুগ যুগ ধরে এই রীতিই তো চলে আসছে যে কে কিছুই হয়ে যাক কিন্তু মেয়েদের দোষ দেওয়া ছাড়া যাবে না।
পরণে লাল খয়েরি মিশেলের শাড়ি যেখানে সোনালী সুতোর কাজ করা আর মাথায় লাল একটা শেরওয়ানি হালকা সাজগোজ করে আয়নার সামনে টপ টপ করে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে তাফসি।বিয়ে বাড়ির মানুষের বিভিন্ন ধরনের কথা তার কানে এসেও পৌছেছে তাই সে আয়নার সামনে নিজেকে দেখছে আর ভাবছে তার ভাগ্যটা প্রতিবার এই পর্যায়ে এসেই কেনো ধোঁকা দেই।লোকে তো তাকে অপয়া বলে আসলেই কি সে জন্ম থেকেই অপয়া।এইসব ভাবনার মাঝেই দরজা ঠেলে ঢুকলো মুসফীকা বেগম মাকে দেখে তাফসী উঠে গিয়ে কাদতে কাদতে জড়িয়ে ধরে। মুসফিকা বেগম বললেন—
"কান্না করিস না মা লোকে অনেক কথা বলবে সব কথা কানে নিতে নেই।"
মায়ের বুকে কান্না করতে করতে বলল—
"ওরা তো ঠিক বলছে মা আই নিয়ে দু দুবার আমার বিয়ে ভেঙে গেলো এইটাই কি আমার অপয়া হওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ নয়কি।"
তিনি মেয়ের চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলল—
"কে বলল তোর বিয়ে ভেঙে গেছে।তোর বিয়ে আজ আর কিছুক্ষণ এর মধ্যেই হবে।"
কান্নারত লালিত মুখোশ্রীতে তাফসী বলল—
" কি বলছো মা।"
মুসফিকা বেগম বলো—
"হুম পাত্র পালিয়ে গেছে তো কি হয়েছে। পাত্রর বাবা তোর বাবার কাছে তার ছোট ছেলের সাথে তোর বিয়ের জন্য প্রস্তাব রেখেছে আর ছোট ছেলে যেহেতু নম্র ভদ্র তাই তোর বাবা মানা করেনি।"
তাফসী বলল—
"কিন্তু মা পাত্রের ছোট ভাই কে কিভাবে.."
তিনি বললেন—
"চিন্তা করিস না পাত্রের ভাই তার বড় ভাই থেকে তিন বছরের ছোট সে অনুযায়ী তোর সাথে তার অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।এখন আর একটা কথাও বলবি না ছেলেটা তোর সাথে কথা বলতে চাচ্ছে তুই বাধ্য মেয়ের মতো হ্যাঁ বলবি।আমি আসি এখন।"
চলবে___
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠিকারা। আপনারা উপন্যাসটি কেমন হলো ভালো নাকি মন্দ মন্তব্য করে জানাবেন।অবশ্যই আমার ফেসবুক পেইজ ফলো করে আসবেন।ধন্যবাদ।
ফেসবুক পেইজ :] Fariya's Storyline— Fariya Islam Ishpa